মঙ্গলবার, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১২:২২
Home / কবিতা-গল্প / শোভাযাত্রা

শোভাযাত্রা

Kings‘কী ব্যাপার, তুমি এখানে কেনো?’ বজ্রকণ্ঠে হাঁক দিলেন বাদশা। ছেলেটি চমকে তাকালো। কয়েক পলক স্তব্ধ হয়ে রইলো। নিজেকে বাদশার খাস কামরায় দেখতে পেয়ে যারপরনাই সে বিস্মিত হলো! ভেবে পাচ্ছে না  সে এখানে কীভাবে এলো! সে তো ছিলো শোভাযাত্রার সঙ্গে। তেলের অভাবে পড়তে পারছিলো না। নিদারুণ নৈরাশ্যে মাথা কুটছিলো। হতাশায় ভেঙ্গে পড়ছিলো। ইতিমধ্যে দেখলো বাদশার শোভাযাত্রা যাচ্ছে। বিপুল সৈন্য-সামন্ত, ঢোল-তবলাসহ শোভাযাত্রা। সবার হাতে আলোর মশাল। কিতাবহাতে ছেলেটি শোভাযাত্রার পিছু নিলো। মশালের আলোয় পড়ছে আর হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে।

শোভাযাত্রা একসময় শাহীমহলে পৌঁছে গেলো। সেও ঢুকে গেলো শাহীমহলে। সৈন্যরা বাধা দিতে চাইলে বাদশা ইশারায় বারণ করলেন। প্রথম থেকেই তিনি লক্ষ করছিলেন ব্যাপারটা। ফুলের মতো নিষ্পাপ একটি ছেলে মশালের আলোয় পড়ছে। মায়াবী চেহারা। চেহারায় দারিদ্রের ছাপ সুস্পষ্ট। বাদশা মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখছেন আর মনে মনে লজ্জিত হচ্ছেন। নিদারুণ অনুশোচনায় হচ্ছেন দগ্ধ। তাঁরই রাজ্যে অনেকে তেলের অভাবে পড়তে পারে না, অথচ তিনি বিপুল তেলের অপচয় করে শোভাযাত্রা বের করেন। অনুশোচনায় মনটা তাঁর বিগলিত হলো। নিজেকে তিনি ধিক্কার দিলেন। ভবিষ্যতের জন্য প্রতিজ্ঞা করলেন—প্রজাদের প্রতি এবার মনোযোগী হবেন; তাদের সুখে-দুঃখে হবেন সমান অংশীদার।

মশালের সঙ্গে ছেলেটি ঢুকে গেলো বাদশার খাস কামরায়। তখনো সে গভীর অধ্যয়নে মগ্ন। বাদশার হাঁক শুনে ধাতস্থ হলো। সম্বিত ফিরে পেয়েই মনে হলো, বড়ো অন্যায় সে করে ফেলেছে। একেবারে বাদশার খাস কামরায় ঢুকে গেছে। এই তো রাজার কারুকার্যখচিত খাট; রাণীর সাজ-সরঞ্জাম, প্রসাধনী। দামী কার্পেটে মোড়া মেঝে। দেয়ালে আঁটা অজিন, গজদন্তের ব্যবহার্য সামগ্রী, নৈসর্গিক দৃশ্যের চিত্রপট। জানালায় ঝুলছে মখমলের সুদৃশ্য পর্দা। ছেলেটি একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলো।

বাদশা কপট রাগতস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এখানে কেনো? নিশ্চয় কোনো বদমতলব আছে তোমার? হতভম্ব ছেলেটির মুখে কোনো কথা ফুটলো না। পরে ইতস্তত করে বললো—বাদশা মহোদয়! আমি আসলে মশালের আলোয় পড়ছিলাম। কখন এখানে ঢুকে পড়েছি টের পাইনি। আমাকে মাফ করবেন। ‘মাফ কিসের, এতোবড়ো অন্যায় মাফ হয় না’ বলে বাদশা হুংকার দিলেন। রাগে ক্রোধে কটমট করে তাকালেন। ছেলেটি আরো ঘাবড়ে গেলো; ভয়ে একদম কুঁকরে গেলো। অনুনয় করে বললো—মহামান্য বাদশা! সত্যি, আমার কোনো বদমতলব নেই। মশালের আলোয় পড়তে পড়তে কখন চলে এসেছি, খেয়াল করিনি। আমাকে মাফ করবেন। করজোড় মাফ চাইলো ছেলেটি।

বাদশা এবার হেসে উঠলেন। ছেলেটির আত্মায় পানি এলো। কোমলকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মশালের আলোয় পড়ছো কেনো, তোমার কি তেলের পয়সা নেই?’ ‘না হুজুর, আমার কিছুই নেই; একেবারে রিক্তহস্ত আমি’ ছেলেটির কণ্ঠস্বর কান্নার মতো শোনালো। শুনে বাদশা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ব্যথিত করুণ চোখে তাকালেন অসহায় ছেলেটির দিকে। তখনি প্রধান উজিরকে ডেকে বলে দিলেন—ওর জন্য তেল বরাদ্দ করে দাও। ছেলেটি সবিনয় আরজ করলো, মহামান্য বাদশা! আমার একটা অনুরোধ, রাজকোষ থেকে তেল উত্তোলন খুবই ঝামেলার ব্যাপার। এরচে’ কোনো তেলওয়ালাকে বলে দিন আমাকে তেল দিতে। আমি প্রয়োজনমতো নিয়ে নেবো। মাস শেষে মূল্য দিয়ে দেবেন। ছেলেটির প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে বাদশা খুশি হলেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় তেল বরাদ্দ দিলেন। (তরবিয়তি অকিয়াত)

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

৪৩ টি পতিতালয়ের মালিকের লেখা কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত?

ফেসবুকীয় মতামত-:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী রবী ঠাকুরের কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত? জাতি তা জানতে চায়…… ...