শুক্রবার, ৭ই মে, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ৬:৫৭
Home / অনুসন্ধান / দূর্গা পূজায় মুসলমানের টাকা ও সহযোগিতা!

দূর্গা পূজায় মুসলমানের টাকা ও সহযোগিতা!

ডক্টর শায়খ আবদুস সালাম আজাদি:
দূর্গা পূজায় মুসলমানের টাকা ও সহযোগিতা
আমি বৃটেইনে আছি ২০ বছর। এই দেশে আমরা মাইনরিটি। এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়, সামাজিক রীতিনীতিতে কিংবা ধর্মীয় পরিমন্ডলে অথবা প্রতিবেশিত্বে খৃস্টানিটি ও তাদের লোকাচার বিরাট অনুষঙ্গ হয়ে আসে। খ্রিস্টমাসে তো আমাদের মত দ্বীন মানা লোকদের জীবনে আসে খুব বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। আমরা এখানে নানা ভাবে তাদের ধর্মীয় বিষয়াদি থেকে দূরে থাকতে পারি, বাচ্চাদেরও দূরে রাখতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশে যে কি হতে যাচ্ছে বুঝছিনা, দূর্গাপূজাতে মুসলমানদের উচ্ছাস বাঁধ ভাঙা যোয়ারের মত উপচে পড়ছে।
গতকাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় এক ডজন অনুরোধ আসছে মুসলিমরা দূর্গা পূজায় টাকা, শ্রম, উপস্থিতি ও মনোদৈহিক সাপোর্ট দিয়ে সাহায্য করার শরীয়াতী হুকুম বলতে। একজন তো কাকুতি করে বললো হুজুর এ নিয়ে একটু লেখেন।
আমি বুঝিনা, গত হাজার দেড়েক বছর ধরে মুসলিমরা ভারতে আছে। স্ব স্ব ধর্ম তাদের নিজদের বলয়েই পালন করে যাচ্ছে। আমি আমার জীবনে কোন দিন দেখিনি হিন্দুরা আমাদের কোন ইবাদাতে অংশ গ্রহন করেছে। না সালাতে, না সিয়ামে, না হাজ্জে, না ঈদে তারা অংশ নিয়েছে। কুরবানীর ঈদে চামড়া ব্যবসায় আমাদের গ্রামের মুচিরা আমাদের বাসায় বাসায় যেতো, তাও নিতান্তই ব্যবসায়িক কাজে। কিন্তু আমাদের মুসলিমদের অনেকেই আজ হয়ে গেছে একদম ব্যক্তিত্বহীন।
এদের কাছে আল্লাহ বলে দিয়েছেন “লাকুম দীনুকুম ওয়া লিয়া দিনি” তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মাচরণ আর আমার জন্য আমার ইসলাম। সেই জাতিরই কিছু নপুংসক বা আধা মুসলিম আজ মুখ দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার”। এদের স্বজাত্যবোধে, দীনী চেতনায় এবং আল্লাহর উপর আস্থায় মারাত্মক ধ্বস নেমেছে। এরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে হিন্দুদের চেয়েও সনাতন, পোপের চেয়েও ক্যাথলিক, কিংবা বুদ্ধের চেয়েও বড় ভিক্ষু। না আছে এদের ইসলামের সঠিক আমল, না আছে তাদের আল্লাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। আর ইবাদাত? সেতো তারা মনে করে আল্লাহ যেনো তাদের দিকে হাত পেতেই আছে। যতটুকু করছে তা অনেক বেশি!!
এই মুসলমানদেরই বলা হয়েছে, “মান তাশাব্বাহা বিক্বাওমিন ফাহুওয়া মিনহুম” যে ব্যক্তি কোন জাতীর ধর্মীয় আচরণে নিজকে মিলিয়ে ফেলবে, সে প্রকারন্তরে ঐ জাতিরই গণ্য হবে। অথচ সে জাতির ই মেয়েরা তাদের সৌন্দর্য বিলিয়ে, নোংরামি দেখিয়ে, কপাল সিদুঁরে রাঙিয়ে, ছেলে মেয়েরা তা ধিন- ধিন তায় গা বা পা মিলিয়ে হই হই করে পূজা মন্ডপে যাচ্ছে, আনন্দ রথ যাত্রায় মিশছে, এবং দেদারছে ঐ সব ধর্মীয় আচরণ নিজদের জীবনের সাথে একাকার করে ফেলছে। দূর্গা পূজায়র দূর্গা আজ হিন্দুর সাথে মুসলিমদের দেখে আরো সচল হয়ে উঠছে, কূমারী পূজার বেদিতলে হিন্দু মুসলিমের সরল ঐকতান আজ আসমানকে শিরকের আভায় ফেনিল করে তুলছে। যেন আজ মুসলিম ঘরগুলোতে শয়তান শিরকের মেলা বসিয়ে লাত মানাত উজ্জার সেবাদাস বানাচ্ছে অধঃপতিত মুসলিম জাতিকে।
হবে না কেন, মুসলিম নেতারা আজ পূজায় যাওয়া দেশজ রাজনীতির অঙ্গ মনে করেছে, এদের শিরক ও লীলা খেলার বালখিল্যতায় অংশ গ্রহন নিজদের দ্বায়িত্বের অংশ মনে করেছে, এবং তাদের উপসনালয়গুলো হিফাযাতের সরকারি দ্বায়িত্বের সাথে তাদের পূজায় অংশগ্রহন করাও মনে করেছে ঈমানের অঙ্গ। ফলে জাতি স্বত্বার চিরাচরিত স্বাতন্ত্র আজ বিলুপ্তির পথে এগুচ্ছে। আর ইসলাম ও মুসলিম নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের সামনে রচিত হচ্ছে এক নবরত্নদের গোলক ধাঁ ধাঁ। যে বাদশাহ আকবর ভেজাল ধর্মের দীন ইলাহি প্রচারে এক কালে ব্যর্থ হয়েছিলেন, এখন কোন ইন্দ্রজ্বালে জানিনা মুসলিমরা হিন্দুত্বের বেদিতে সব কিছু বলিদানে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই জাতিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ বলেছেন, তাআওয়ানু আলাল বিররি ওয়াত তাক্বওয়া, ওয়া লা তাআওয়ানু আলাল ইসমি ওয়াল উদওয়ান”। তোমরা ভালো কাজ ও তাক্বওয়ার পথে একে অপরে সাহায্য করো। তবে পাপের পথে, হারাম কাজে, আল্লাহর সাথে শিরক ও তাঁর সীমানা লংঘনের কাজে একে অপরে সাহায্য করো না। অথচ আমরা কি করছি? আমরা আজ ইসলামি কাজে, কল্যানের কাজে, তাক্বওয়ার কাজে একে অপরে বাঁধার সৃষ্টি করছি। কুরআনের অনুবাদ বাসায় থাকলে বলা হচ্ছে ঐ বাসায় জঙ্গি বই আছে। কুরআন শেখার হালাক্বাহ করলে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহে কাজ করছে। কিন্তু এই সব পূজা পার্বনে টাকা দেয়া, শ্রাদ্ধ দেয়া, দেহ দেয়া, মন দেয়া, হলি বা দেওলীর রঙে ভেজা, দূর্গার স্তুতিতে প্রাণকাড়া কীর্তনে বা শ্যামায় সব কিছু বিলিয়ে দেয়াকে ভাবছি প্রগতি কিংবা উদারতা।
আমরা আর কত মার খাবো? একটা জাতি উন্নত হয় তার “খুদি”তে, তার আত্মসম্মানবোধে, তার ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যে, তার স্বাধীনতায়, তার উন্নত শীরের দ্রোহে। কিন্তু মুসলিম আবার সেই মিনমিনে নিফাক্বীর যুপকাষ্ঠে বলিদান করে যেন বেশি গর্ববোধ করছে। আর ভেসে যাচ্ছে হারামের বন্যায়, শিরকের সয়লাবে, কিংবা কুফরির অপ্রতিরোধ্য ঝঞ্ঝায়।
আমাদের নবী (সা) একদিন খুব গমগীন হয়ে বলছিলেন, এমন একদিন আসবে যেদিন সারা দুনিয়ার জাতি সমগ্র তোমাদের দিকে তেড়ে আসবে, যেমন ভাবে খাবার দস্তরখানায় ক্ষুধার্তরা ছুটে যায়। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করেন মুসলমানদের এই দূর্দশার কারণ কি তাদের সংখ্যাস্বল্পতার জন্যে হবে? মহানবী (সা) বলেছিলেন, না, বরং তাদের সংখ্যা সেদিন হবে অনেক। কিন্তু তারা হবে সাগরের ফেনার মত হালকা। বাতাস যে দিকে নেবে, ওরা সে দিকেই হবে ধাবমান।
আমার মাথায় আজো আসেনা, কোন ঈমানে একজন মুসলিম পূজায় অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে পারে? কোন চেতনায় তাদে অশ্লীলতায় ভেজা পূজামন্ডপে গা হেলাতে পারে? কাকে খুশি করতে তারা শয়তানকেও আজ তারা লজ্জা দিচ্ছে? আল্লাহ আমাদের মুসলিমদের আবার নতুন করে ইসলামের ছায়াতলে ফিরিয়ে আনুন। জাহান্নামের গহ্বর থেকে তাদের বাঁচায়ে দিন। আমীন।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...