নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামেয়া মাদানিয়ার মজলিসে শুরা সংক্রান্ত আদালতের আদেশ নিয়ে ধুম্রজালের সুযোগ নাই
প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসা নিয়ে কিছুদিন থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সিলেট তথা দেশবাসীর কাছে পরিস্কার। জামেয়া মাদানিয়া নিয়ে একটি চক্র কিছুদিন থেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে যা সত্যিই দুঃখজনক। অনেক কিছু বলার থাকলেও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কারণে নিরব থাকতে হচ্ছে। জামেয়ার ফুজালা-আবনা এবং মুহিব্বিনদের কাছে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরার জন্য শুধুমাত্র একটি বিষয়ে কথা বলতে চাই। নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে একটুখানি চিন্তা করে বাস্তবতা এবং সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।
১, মাদ্রাসার সংবিধানে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে মজলিসে শুরার মিটিং এর অন্ততপক্ষে ৭ দিন আগে শুরার সদস্যদের কাছে চিঠি দিতে হবে। কিন্তু সেখানে মাত্র ৩ দিন আগে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে যা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত থেকে করা হয়েছে।
২, শুরার চিঠিতে অনেক সদস্যদের কাছে তারিখবিহীন চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। এর পেঁছনে অবশ্যই ষড়যন্ত্র বা অদৃশ্য কোনো কারণ রয়েছে । তাছাড়াও এটি মারাত্মক ত্রুটি বলা যেতে পারে।
৩, বিগত শুরায় মাওলানা সামীউর রহমান মুসাকে ও-এস-ডি করে তার উপর আনিত অভিযোগের বিষয়ে রিভিউ করার জন্য অনুমতি এবং নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়। মাওলানা মুসা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাদ্রাসার মুহতামীম সাহেবের নিকট হিসাব জমা দেন এবং আনিত অভিযোগের বিষয়ে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান । কিন্তু অদৃশ্য কারণে বা একটি চক্রের চাপে মুহতামীম সাহেব সেটা স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।আশ্চর্যের কথা হলো; বিষয়টি রিভিউ করার জন্য দেয়া হলো এবং মুসা সাহেবও নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সেখানে মুসা সাহেব প্রদত্ত চিঠির জবাব না দিয়ে একটি অমীমাংসিত বিষয়কে মজলিসে শুরার এজেন্ডা সাব্যস্ত করা হলো। তাও এভাবে যে এত টাকা পাওনা এবং এজেন্ডায় সুনির্দিষ্ট করে অন্তর্ভুক্ত করা হলো টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গ। এই বানোয়াট এবং মিথ্যা এজেন্ডার মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা যায় যে মাওলানা মুসা একটি পক্ষ কর্তৃক মারাত্মক ষড়যন্ত্রের শিকার।
৪, এ অসংগতি নজরে আসার পর মাওলানা মুসা শুরার সভাপতির কাছে জানালে শুরা সভাপতি মুহতামীম মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবকে ফোনে সংবিধানের বিধি-বহির্ভূত শুরা স্থগিত করার অনুরোধ করেন। কিন্তু মুহতামীম সাহেব শুরা স্থগিত করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে আমি একা চাইলেও কিছু করতে পারবোনা। ওরা মানবেনা।
তখন মাওলানা মুসা এবং কয়েকজন শুরা সদস্য মিলে নিরুপায় হয়ে আদালতের দারস্থ হতে বাধ্য হন।। এবং আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করে অসাংবিধানিক শুরা মিটিং স্থগিত করে আদেশ জারি করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে যেহেতু মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা আব্দুস সোবহান সাহেবের স্বাক্ষরে শুরার চিঠি ইস্যু হয়েছে, সেহেতু সংগত কারণে আদালতের আইন অনুযায়ী উনার নামে আদেশ জারি হয়েছে।
তবে সুপারিন্টেন্ডেন্ট হুজুর আমাদের সকলের প্রিয় এবং শ্রদ্ধার পাত্র।কিন্তু উনাকে ফ্রন্টে রেখে একটি চক্র বরাবরের ন্যায় এবারও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত।
প্রিয় ভায়েরা। জামেয়ার প্রতি আপনাদের অফুরন্ত ভালোবাসা এবং আবেগ জড়িত। কিন্তু সেই আবেগকে বিভিন্ন মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে একটি পক্ষ তাঁদের স্বার্থে কাজে লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করতে চায়।সুতরাং সঠিক এবং বাস্তবতা অনুধাবন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবারও অনুরোধ রইলো।