সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ দুপুর ১:৫২
Home / দেশ-বিদেশ / মাওলানা সাদ কান্ধলভী হাফিজাহুল্লাহ কীভাবে আমীর হলেন!

মাওলানা সাদ কান্ধলভী হাফিজাহুল্লাহ কীভাবে আমীর হলেন!

মুহাম্মদ মাসিহ উল্লাহ :

হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুন্নাতে ফারুকী অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। তাকে এ পরামর্শ দিয়েছেন মাওলানা ওবাইদুল্লাহ সাহেব রহঃ। তাই আমীর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি তাই করলেন, যেমনটি খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে করেছেন দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক রাঃ। হজরত ওমর রাঃ ছয়জনের এক শুরা বানিয়েছিলেন পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য। সেই শুরাই পরামর্শ করে হজরত ওসমান গনি রাঃকে তৃতীয় খলিফা নির্বাচন করে। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃও ঠিক সেভাবে পরবর্তী আমীর নির্ধারণ করার জন্য দশজনের শুরা বানিয়ে যান। তাঁর সেই শুরার সদস্য ছিলেন হজরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান সাহেব রহঃ, হজরত ইজহারুল হাসান সাহেব রহঃ, হজরত জোবায়রুল হাসান রহঃ, হজরত মিয়াজি মেহরাব সাহেব রহঃ, হজরত মোহাম্মদ সাহেব রহঃ, হজরত সাদ সাহেব, হজরত আজহার সাহেব রহঃ, ইঞ্জিনিয়ার হাজী আব্দুল মুকিত সাহেব রহঃ, ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেব দামাত বারাকাতুহু তাঁরা সবাই হজরতজীর ইন্তিকালের পর তিনদিন নিজামুদ্দীনে অবস্থান করেন। কিন্তু একক আমীর নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন। অবশেষে তাঁরা তিনজন ফায়সাল নির্বাচন করেন, যারা পালাক্রমে পরামর্শে আমীরে ফয়সাল হিসেবে ফায়সালা দেবেন।

লক্ষণীয় বিষয়, হজরতজী রহঃ কিন্তু শুরা বানিয়েছিলেন একজন আমীর নিযুক্ত করার জন্য, কিন্তু তাঁরা তা করতে সক্ষম হন নি। একজনের পরিবর্তে তিন আমীর বা ফয়সাল নির্বাচন করা নিঃসন্দেহে একটা বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। যা হজরত আল্লামা ত্বকী ওসমানী হাফিজাহুল্লাহ মাওলানা মুসা সাহেবকে লিখা পত্রে উল্লেখ করেছেন। যাই হোক, তাঁরা মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ, মাওলানা জোবায়রুল হাসান রহঃ ও মাওলানা সাদ হাফিজাহুল্লাহকে তিন ফয়সাল নির্ধারণ করে যান। হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ কর্তৃক বানানো শুরাই এই তিনজনকে আমীরে ফয়সাল হিসেবে নির্ধারণ করে গিয়েছেন। আর সেভাবেই ধারাবাহিকভাবে তারা ফয়সাল হিসেবে ফয়সালা করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হজরত মাওলানা ইজহারুল হাসান রহঃ ইন্তিকাল করেন। এরপর হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেব ও হজরত সাদ সাহেব পালাক্রমে ফয়সালা দিতে থাকেন। এভাবে ফয়সাল বানানোর পর থেকে আটারো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। যারা হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেব রহঃ এর জীবদ্দশায় বিশ্ব ইজতিমার সময়ে মুশাওয়ারায় উপস্থিত ছিলেন, তারা নিশ্চয় দেখেছেন, সেখানে কিভাবে ফয়সালা হতো।

একবার এক প্রত্যক্ষদর্শী হজরত (আমাদের চট্টগ্রামের মাওলানা মহিউদ্দীন সাহেব) ইজতিমার মাঠেই তা দেখে এসে শুনিয়েছিলেন। পরামর্শে মধ্যে দু’জন দুদিকে বসতেন। হজরত সাদ সাহেব তাকাজা ঢালতেন, সাথীরা রায় দিতেন। হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেব ফয়সালা দিতেন। এরপর হজরত জোবায়ের সাহেব রহঃ তাকাজা ঢালতেন, সাথীরা রায় দিতেন। এ প্রান্ত থেকে মাওলানা সাদ সাহেব ফায়সালা দিয়ে দিতেন। নিজামুদ্দীন মারকাজে পুরো রমজান মাস হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের অনুপস্থিতিতে হজরত সাদ সাহেব ফয়সালা করতেন। হজরত জোবায়রুল হাসান সাহেবের ইন্তিকালের পর থেকে শুধু একজনই আমীরে ফয়সাল বেঁচে আছেন, তিনি মাওলানা সাদ সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। তিনি নিজে নিজে আমীর হন নি। বরং হজরতজী ইনায়মুল হাসান সাহেব রহঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত তিন ফয়সালের একজন। স্বাভাবিকভাবেই ওখানে কোন আলমি শুরা ছিলো না। বরং পরামর্শক্রমে বানানো ফয়সাল বর্তমান থাকায় তিনিই শরঈ দৃষ্টিকোন থেকে বর্তমান আমীর। হজরত ওসমান রাঃকে বিদ্রোহীরা খেলাফতের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেছিলো, কিন্ত তিনি তা ছাড়েন নি। কারণ তিনি তো ছিলেন হজরত ওমর রাঃ এর বানানো শুরার নির্ধারিত খলিফা। এখানেও বিষয়টি অনুরূপ। আর নিজামুদ্দীনে ঠিক ঐভাবে শুরা আছে, যেভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনেরও শুরা থাকতো। এই শুরার সাথে পরামর্শ করেই খলিফা সিদ্ধান্ত দিতেন। নিজামুদ্দীনের নয়জনের শুরা যা গতবছরের শেষ দিকে তাকমিল করা হয়েছে, সে শুরাও এমনই। কিন্তু ফয়সাল তো সাদ সাহেবই। এখন যে আলমি শুরার নামে নতুন শুরা তাসলিম করার জন্যে তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে, তা তাসলিম না করার এটিই কারণ। কারণ আগে থেকেও কোন আলমি শুরা ছিলো না, বরং তিন ফয়সালের একজন এখনও জীবিত থাকা অবস্থায় এর কোন যৌক্তিকতাও নেই। তাকে এজন্যই চাপ দেয়া হচ্ছে, যেন প্রস্তাবিত আলমি শুরা থেকে পালাক্রমে আমীর বানানো হয়, অথচ ফয়সাল তো হজরতজী রহঃ কর্তৃক বানানো শুরার নির্ধারিত তিনজনের একজন এখনও জীবিত আছেন। আর এই যে আলমি শুরা তাসলিমের জন্য তাকে চাপ দেয়া হচ্ছে তাও তিনি এবং ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের অনুপস্থিতিতে বানানো হয়েছে এবং তা ভাই আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের সামনে পেশ করার পর একশতবার আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি বলে তিনি তাতে সাক্ষর করেছেন, কিন্তু আমীরে ফয়সাল তা এই বলে গ্রহন করেন নি, আমাদের এখানে তো আলমি শুরা ছিলো না, আর হজরতজীর বানানো শুরার নির্ধারিত ফয়সাল তো এখনও জীবিত আছেন। নীচের ভিডিওতে বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। সবার প্রতি কথাগুলো নিজ কানে শুনে নেয়ার অনুরোধ। https://m.youtube.com/watch?v=UOKppsQ6OfY

একই বিষয়ে শায়খুল হাদীস দারুল উলুম আফ্রিকার বক্তব্য শুনুন।

https://m.youtube.com/watch…

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

ইদলিবের মাধ্যমেই সিরিয়ার বিজয় সুচিত হবে ইনশাআল্লাহ!

ইদলিবে শিয়া মুনাফেক রুশ কাফেরদের এক কথায় তুলাধুনা চলবে……. প্রস্তুত তুরস্কের নৌবাহিনী সেনাবাহিনী বিমানবাহিনী। ইতিমধ্যেই ...