রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৮:২১
Home / অনুসন্ধান / বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদরাসা শিক্ষা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদরাসা শিক্ষা

madrasa_mainআলী হাসান তৈয়ব : আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামত পর্যন্ত এ ওহী-জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে নাযিল করেছেন পবিত্র কুরআন। এ কুরআনের বাস্তব ব্যাখা হিসেবে সুরক্ষিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস ভাণ্ডার। আর কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন এবং এ উৎসদ্বয় থেকে সর্ব যুগের সব মানুষের জীবনদিশা দিতেই গড়ে ওঠেছে ইসলামী শিক্ষার বাকি সব শাখা-প্রশাখা। মানুষের জাগতিক চাহিদা পূরণে যেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ নানা বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ সম্প্রদায়ের প্রয়োজন, তাদের ইহ ও পরকালীন দীনী প্রয়োজন মেটাতেও দরকার তেমন ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ শ্রেণীর। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর হুকুম ও সঠিক নির্দেশনা পেতে যাদের কাছে ছুটে যাবেন আল্লাহর অনুগত দীনদার মুসলিমগণ।
এ কারণেই অধিকাংশ মুসলিম দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখার পাঠদান করা হয় গুরুত্বের সঙ্গে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিমের এ বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা সন্তোষজনক নয়। বলা যায় দায়সাড়া গোছের। স্কুল-কলেজগুলোতে জাগতিক শিক্ষাগুলোর প্রতিই যত সব মনোযোগ ও গুরুত্ব প্রদান করা হয়। ‘ইসলাম শিক্ষা’ নামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে একটি অপর্যাপ্ত ও চির অবহেলিত সাবজেক্ট রয়েছে, যা বড় অনাদর ও অযত্নে পড়ানো হয়। এমতাবস্থায় এ দেশের মাদরাসাগুলোই কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় পিপাসা মেটাতে কম-বেশি সেবা করে যাচ্ছে।

বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলের ‘ধর্মবিহীন কর্মশিক্ষা’র মোকাবেলায় তাই ধর্ম ও কর্মমুখী ইসলামী শিক্ষা বেগবান করা দরকার। রাষ্ট্র ও জনগণ সবারই এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। সরকারকে যেমন পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে জনগণকেও তেমন ইসলামী শিক্ষার প্রতি তাদের ভালোবাসা ও গুরুত্ব প্রমাণ করতে হবে। জীবিকার প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার প্রতি সব গুরুত্ব ন্যস্ত করে শুধু কোনোমতে ‘কালেমা ও নামাজ শিখে নিজের দীনী প্রয়োজন মিটে গেছে’ এমন হঠকারি মনোভাব পরিহার করতে হবে।
মাদরাসা শিক্ষার দুই ধারা : উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার দু’টি ধারা রয়েছে। কওমী তথা বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষা এবং আলিয়া তথা সরকারি মাদরাসা শিক্ষা। কওমী শিক্ষাধারায় নৈতিকতা ও হাতে-কলমে ইলম অনুযায়ী আমলে অভ্যস্ত করার প্রতি অধিক মনযোগ ও গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে বিশেষ প্রেক্ষাপটে তথা মুসলিমদের শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত হবার পর ইংরেজদের ইসলামী শিক্ষা নির্মূলের চক্রান্তের প্রেক্ষাপটে এ ধারার শিক্ষা প্রবর্তিত হওয়ায় তাতে সে সময়ের আবেদন ও প্রয়োজনের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব বর্তমান। সঙ্গত কারণেই এতে পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক প্রয়োজনীয় শাখা যথাযথ গুরুত্ব পায় নি।

তাই এর সিলেবাসকে যুগোপযোগী করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন খোদ এ ধারার অভিজ্ঞ শিক্ষকমহল পর্যন্ত। তাছাড়া এ ধারার মাদরাসাগুলোর সিলেবাসের মৌলিক কিতাবাদিতে মোটামুটি মিল থাকলেও বুনিয়াদি অনেক বিষয়ে বিভিন্ন মাদরাসার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। একই সিলেবাসের অধীনে সবগুলো বোর্ডের যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন তাই সময়ের দাবি। তবে এ ধারার প্রতি সরকারের স্বীকৃতি বা পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় কওমী মাদরাসা থেকে বেরিয়ে আসা হাজার হাজার যোগ্য ব্যক্তিরাও ইসলাম ও সমাজের জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিসরে অবদান রাখতে পারছেন না।

পক্ষান্তরে আলিয়া ধারায় যুগচাহিদা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানকে উদারভাবে আত্মীকরণ করা হলেও ইলম অনুযায়ী আমলের দিকটি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। হাতে গোনা কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসা ছাড়া অধিকাংশতেই স্কুল-কলেজের সঙ্গে প্রতিযোগিতার দিকটিই বেশি গুরুত্ব পায়। কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানে পারঙ্গমতার বদলে সাধারণ শিক্ষার মতো এখানেও কেবল রেজাল্ট ভালো করে ভালো চাকরির জন্য সব রকমের চেষ্টার প্রবণতা দিনদিন প্রবল হচ্ছে। এই মানসিকতায় পরিবর্তন এনে সবার উচিত ইসলামী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সজাগ হওয়া। তেমনি রাষ্ট্রেরও কর্তব্য এ ধারায় শিক্ষিতদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পথ অবাধ ও সুগম করা।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কমাশিসার ২১ দফা

কমাশিসা ডেস্ক: ১. একক কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাস্তবায়ন করুন। ২. আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় সাধন ...