সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ৬:১৮
Home / দেশ-বিদেশ / অসহায়ত্বের দিনলিপি

অসহায়ত্বের দিনলিপি

রফিকুজ্জামান রুমান::

3d6c3d019c1855326d1592732e76ed02-5703e11e7af81ক্ষমতার কাছে অসহায় হয়ে যাওয়ার ইতিহাস পৃথিবী-বিস্তীর্ণ। বাংলাদেশেও এটি নতুন নয়। তবে এমন ভয়ানক রূপে আগে এর দেখা মেলেনি। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়, যেখানে বলা হয়- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, সেখানে জনগণেরই এমন অসহায়ত্ব কবে কোথায় কে দেখেছে! প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরা অশেষ সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে সবই আছে। তবু এই বাংলাদেশের এখনকার প্রাত্যহিক দিনলিপি যেন অসহায়ত্বেরই দিনলিপি। সব কিছুই চলছে, তবু দিনশেষে থাকে ক্ষমতার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণেরই নির্যাস। ক্ষমতাবানরা অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে একটা মরীচিকা নির্মাণ করতে পেরেছেন (বলা যেতে পারে এটিই তাদের বড় সফলতা), যেখানে সবকিছুকে ‘ঠিক’ মনে হবে; আসলে কোন কিছুই ঠিক নেই। ১৫০ এরও বেশি সংসদের আসনে কোন নির্বাচন না হওয়ার মতো সীমাহীন অস্বস্তিও কেমন ‘সহনীয়’ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে গণতন্ত্রের এ বাংলাদেশে! তাতে আবার কী বিবেকহীনভাবেই না ‘বিরোধী দল’ নামক একটি পাপেট সৃষ্টি করা হয়েছে! গণতন্ত্রের এই স্বর্ণ যুগে গণতন্ত্রের নামে এমন উপহাস জাতি হিসেবে আমাদের অসহায়ত্বেরই বয়ান। অসহায়ত্ব কোথায় নেই?
জনগণের টাকায় পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জনগণের অসহায়ত্বের দীর্ঘশ্বাস চলছে সেই কবে থেকে। চোখের পলকে গুম হয়ে যায় অনেকেই। কারও কারও মৃতদেহ ভেসে ওঠে শীতলক্ষ্যা বা অন্য কোথাও। কারও  কারও কপালে জোটে না সেই ‘সৌভাগ্যটুকুও’। স্বজনহারাদের চোখের পানি শুকিয়ে যায়; ফিরে আসে না প্রিয় মানুষটি কিংবা তার লাশ। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হলো, তার তো গেল সব। অসহায়ত্ব, এই বুকফাটা হাহাকারের কী প্রতিবিধান আছে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বইয়ের পাতায়? রাজনীতির সম্পূর্ণ বাইরে থেকেও অনেকেই পুলিশের হয়রানির শিকার হয়ে জেল খাটছেন। পুলিশকে টাকা দিলে মুক্তি, না হয় দিনের পর দিন জেলবাস। স্বজনরা অসহায়। হয়ত তার ভোটেই আপনি ক্ষমতায় গিয়েছেন। তার ট্যাক্সের টাকায়ই পুলিশের বেতন হয়। এই অসহায়ত্ব রাখবার জায়গা কোথায়? মনে পড়ে গেল বিশ্বজিতের কথা। চাপাতির কোপে তার শরীরের সমস্ত রক্ত একসময় শেষ হয়ে গেলেও মায়ের কান্নার শেষ কোথায়? বিশ্বজিতের মায়ের প্রতি ফোটা কান্না অসহায়ত্বের এক একটি মহাকাব্য ছাড়া আর কী! কিশোরী ফেলানি। সে তো মরে গিয়ে বেঁচেই গেল! বাবা-মায়ের অসায়ত্ব তাকে দেখতে হলো না। বোন ফেলানি, তোমার মৃত্যুতে এই ঢাকা শহরে কোন মিছিল হতে দেখিনি। কোন মানববন্ধন হয়নি। কোন হরতাল হয়নি। তুমি মরোনি ফেলানি! মরে গেছে বিবেক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে ছাত্রী অসহায়। শিক্ষক অসহায় রাজনীতির কাছে। সব যোগ্যতা থাকার পরেও শিক্ষক অধ্যাপক হতে পারবেন না দলীয় আনুগত্য আরও বেশি দেখাতে না পারার ‘অপরাধে’। ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ফ্লোরে মাদুর বিছিয়ে ঘুমাতেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হটডগ খান! কোন প্রটোকল লাগে না। দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরি ডুবিতে শতাধিক মানুষ নিহত হলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, প্রেসিডেন্ট জাতির কাছে ক্ষমা চান। লাটভিয়ার রাজধানী রিগা শহরের একটি ভবন ধসের ঘটনায় ৫৪ জন মারা গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভালদিস দমভ্রোস্কিস এর  ঘোষণা, “আমি এই দুর্ঘটনার রাজনৈতিক দায়ভার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি।” ফেরিটি প্রধানমন্ত্রী চালাননি। ভবন ধসের ঘটনায় কোন ভাবেই লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী দায়ী নন। তবু তারা পদত্যাগ করেন। এই হলো জবাবদিহিতার অনুভূতি, এই হলো বিবেকবোধের অনুবাদ।

সুত্র-মানবজমিন

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...