সোমবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১১:১৫
Home / অর্থনীতি / আবু হানিফা রহ. শুধু ইমাম নন, একজন শিল্পপতিও ছিলেন

আবু হানিফা রহ. শুধু ইমাম নন, একজন শিল্পপতিও ছিলেন

goldমুহিউদ্দীন কাসেমী: পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম জনপদের মতো হিন্দুস্তানেও আটশ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিকহে হানাফি প্রতিষ্ঠিত ছিল। কেবল মুসলিম রাষ্ট্র না, দুনিয়ার তাবৎ রাষ্ট্রগুলোই ফিকহে হানাফি থেকে নিজেদের আইন প্রণয়নে সহযোগিতা নিয়েছে। হানাফি ফিকহের অধিকাংশ কিতাব ইংরেজিতে অনুবাদ করিয়েছে পশ্চিমারা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত দখল করার পরপরই ফাতাওয়া আলমগিরি ইংরেজিতে ভাষান্তর করে।

এ উপমহাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিকহে হানাফির প্রচলন হ্রাস পেলেও সাধারণ মুসলিম জাতি হানাফি মাযহাবের ব্যাখ্যানুপাতে শরিয়তের ওপর আমল করে আসছে। আমাদের বাংলাদেশেও অধিকাংশ মানুষ হানাফি। বিরাটসংখ্যক আলেম ওলামা হানাফি মাযহাবের অনুসরণ করেন। বিশেষত দেওবন্দি মাসলাকের সবাই হানাফি।

ইমামে আজম আবু হানিফা রহ. কেবল একজন মুজতাহিদ ইমাম ছিলেন না, ছিলেন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। কাপড়ের ব্যবসা ছিল তার। লোকজন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। হেকমতের কারণে হয়তো তিনি সরকারি বিচারকের পদে বসেননি সরকার থেকেও কোনোরূপ সহযোগিতা নিয়েছেন বলে জানা যায় না, তাহলে সংসার চালাতেন কী দিয়ে? ব্যবসার লাভ দিয়ে। ইমাম আবু ইউসুফসহ অসংখ্য ছাত্রকে নিজের অর্থ দিয়ে পড়ালেখা করাতেন।
মাযহাবের বেলায় হানাফি, তিজারত ও ব্যবাসয়ের ক্ষেত্রে হানাফি নয় কেন? তাহলে কি প্রকৃত হানাফি হতে পারলাম? বর্তমান ভারতের আজমল গ্রুপের প্রধান মাও. বদরুদ্দিন আজমলের মতো কোনো আলেম শিল্পপতি বাংলাদেশে হতে পারে না? ভারত ও পাকিস্তানের অনেক আলেম ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাও. তাকি সাহেবের এক মরহুম ভাই ব্যবসা করতেন।

আমাদের দেশে কোনো আলেম ব্যবসায় নামলে দুনিয়াদার হয়ে যায়! আর সুদখোরদের টাকায় মসজিদ মাদরাসা চলে। সত্যি কী দারুণ!! সব ব্যবসায়ীই সুদের সাথে জড়িত। অথবা হারাম ব্যবসা করছে। এরাই মসজিদ মাদরাসার কর্ণধার।  আমরা ফতোয়া দিচ্ছি ব্যাংক থেকে সুদী লেনদেন করা যাবে না, ব্যাংকে টাকা রাখা হারাম; পরে আমরাই আবার হেকমতের আশ্রয়ে তাদের অর্থ নিয়ে মারহাবা মারহাবা বলি! সবাই যে খারাপ, তা না। অনেকে খুবই সতর্কতার সাথে মসজিদ মাদরাসা চালায়। তাদের কথা ভিন্ন। আমরা অধিকাংশের কথা বলছি।

বাংলাদেশে আলেম-ওলামা ব্যবসায় নামলে ‘কিতাবুল বুয়ু’র চর্চা হবে। আলমদের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থীরা ব্যবসার লাগাম নিয়ন্ত্রণ করলে মানুষ ও মানবতা উপকৃত হবে। বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠাগুলো ইসলামিস্টদের হোক এটা মনেপ্রাণে কামনা করি; সে যে কোনো পথ ও মতেরই হোক।  আরএফ এল, স্কয়ার, আড়ং, গ্রামীণ, গ্রামীণফোন ইত্যাদি কোম্পানির টাকা সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে খরচ হয়। এগুলো বন্ধ করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
কয়েকটি সেক্টরে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে :
★ শিক্ষা
★ ব্যবসা
★মিডিয়া
এরপরে রাজনীতি
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী

–ফরহাদ মজহার বাংলাদেশে দ্বীনি ইসলামের দেওবন্দী ধারার বর্ষীয়ান মুরুব্বি আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন। ...