রবিবার, ২৯শে মে, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:৩১
Home / শিক্ষাঙ্গন / কওমি মাদরাসা সংস্কার: ‎মৌলিক না আংশিক?‎ (৬)

কওমি মাদরাসা সংস্কার: ‎মৌলিক না আংশিক?‎ (৬)

Potia-Madrasahহাফিয মাওলানা ফখরুযযামান :আমাদের পাঠ্যসূচি কি যুগ চাহিদা পূরণে সক্ষম?‎

আমরা যদি আমাদের সিলেবাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব যে, তা বর্তমান যুগ চাহিদার প্রেক্ষিতে দ্বীনকে ‎সার্বিকভাবে উপস্থাপনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। তা হয়ত অনেকের কাছে কটুবাক্য বলে মনে হতে পারে। তবুও তা বাস্তব। আর ‎এ কথা আমার নয় বরং তা পূর্বের যুগশ্রেষ্ঠ অনেক মনীষীগণ-যারা আমাদের সবার কাছে স্মরণীয় বরণীয় এবং অনুস্মরণীয় ‎তাদেরই উক্তি- যাদের বিচরণ বর্তমান বিশ্বের সর্বত্র। যাদের চিন্তা-চেতনা ব্যাপৃত বিশ্বব্যাপী। আমি এ সম্পর্কে নিম্নে ‎কয়েকটি উক্তি উল্লেখ করছি। ‎

ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফোরাম লণ্ডন এর চেয়ারম্যান ঈসা মানসূরী মাদাসায়ে দারুর রাশাদ এর নতুন বিভাগ সায়্যিদ আবুল ‎হাসান আলী নদবির রাহ. এডুকেশন সেন্টার এর উদ্বোধন উপলক্ষে ১লা জানুয়ারি ২০০৪ ঈসায়ী, রোজ বৃহস্পতিবার ‎সকাল ৯টায় ইসলামিক ফাউণ্ডেশন মিলনায়তনে নতুন শতাব্দীর চাহিদা ও উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব শীর্ষক সেমিনারে ‎পাশ্চাত্যের বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও ইসলামের ওপর তাদের সাঁড়াশী আক্রমণে আমরা যে শুধু অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখছি ‎‎কোনো ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি না, এ প্রসঙ্গে বলেন, “কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সময়ের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আঞ্জাম দেওয়ার ‎পরিবর্তে আমাদের উলামায়ে কেরামের একটি শ্রেণী দেড়শত বছর পূর্বের পুরাতন ও বিলুপ্ত,চিন্তু-চেতনা ও দর্শন সংক্রান্ত ‎অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত। ইসলাম ধর্ম আত্মপ্রকাশের সময় যেমন খ্রিস্টান আলিমগণ গ্রীক দর্শন চর্চার অনর্থক কাজে লিপ্ত ‎ছিল।”

আমাদের পশ্চাদ্ধাবনকে আবুল হাসান আলী নদবি রাহ. দেওবন্দের উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক ভাষণে এভাবে ‎উল্লেখ করেন “আপনাদের নিকট গ্রীক দর্শনের প্রাণী বিদ্যা, রসায়ন ও জ্যোতির্বিদ্যার নির্দিষ্ট বুলি সম্বলিত যে কয়েকটি ‎পাতা রয়েছে তার বিপরীত পশ্চিমাদের নিকট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ দর্শনের এক বিরাট জগত ‎রয়েছে। ফলে আজ আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষ পশ্চিমাদের দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এর আসল কারণ ‎আমাদেরই দুর্বলতা। আজ যেখানে আমরা ইসলামের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করে শ্রেষ্ঠ হিসাবে গড়ে ওঠে ইসলাম ‎সম্পর্কে সর্বশ্রেণীর মানুষের সন্দেহ-সংশয়ের অপনোদন করে ইসলামকে কার্যকরী ও শক্তিশালী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ‎করার কথা ছিল।‎

আমরা সেখানে আজ ফেকাহের মুস্তাহাব-সুন্নাত সম্পর্কিত, শাফেয়ী-হানফিদের মধ্যে বিতর্কিত কিছু বিষয়কে সর্বাধিক ‎গুরুত্ব প্রদান করে এগুলোকে প্রমাণাদিসহ উপস্থাপন করে এর পেছনে নিজেদের মেধাকে ব্যয় করাকে সর্বাধিক প্রয়োজনীয় ‎বলেন মনে করছি এবং তা করতে পেরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি।অথচ হাজার হাজার লক্ষ-লক্ষ বনী আদম আজ ঈমান ‎হারাচ্ছে, সন্দেহ-সংশয় তাদের নিত্যসঙ্গী।তাদেরকে সঠিক পথে আনার আমাদের কোন ফিকির নেই। ‎

এ সম্পর্কে আমাদের সবার মধ্যমণি যার জ্ঞান গরীমা সবার কাছে স্বীকৃত, যার বাণীকে কেউ বিনা বাক্যে মেনে নিতে ‎দ্বিধাবোধ করেনা- সেই মহান ব্যক্তিত্ব আল্লামা কাশমিরী রাহ.র কথাটিই আমি এখানে উল্লেখ করছি “আল্লামা কাশমিরী ‎রাহ. একবার লাহোরের আমরোদ শাহ সফর করেন। তাঁর নাম শুনে সাধারণ, ছাত্র-শিক্ষক প্রফেসর সকল ধরনের লোক ‎সমবেত হয়ে সাক্ষাৎ করতে আসে। তারা তাঁর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের মনে যত প্রকার খটকা ‎ছিল, প্রশ্ন ছিল, সবই মাওলানার সামনে পেশ করলেন। এগুলো শুনে মাওলানা কাশ্মিরির অন্তরে এমন ব্যথা জাগল, মুফতি‎শফী সাহেব বর্ণনা করেন, তাঁর সফর সঙ্গী আমিও ছিলাম। সকালে আমি সাক্ষাতে গেলে তিনি একটি বাক্য বার বার ‎বলছিলেন; যিন্দেগী বরবাদ গায়ে, যিন্দেগী বরবাদ গায়ে”। (আমার জীবন বৃথা গেল,আমার জীবন বৃথা গেল।) মাওলানা ‎শফী সাহেব তখন বললেন, হযরত! আপনি কি বলছেন? আপনি তো গোটা জীবন হাদিসের খেদমত করেছেন, আপনার ‎লাখ লাখ ছাত্র রয়েছে। তাঁদের কেউ মুফাসসির,কেউ মুহাদ্দিস, মুফতি, লেখক, গবেষক ইত্যাদি। দেশে-বিদেশে সর্বত্র ‎তাঁরা ছড়িয়ে রয়েছেন। এইতো আপনার কর্মসূচি। তো আপনার জীবন কী করে বৃথা গেল? প্রত্যুত্তরে আল্লামা কাশ্মীরী ‎বলেন; আমরা হাদিস পড়াচ্ছি, কিতাব পড়াচ্ছি। এ মাসআলার মধ্যে হানফিদের পক্ষে এ দলীল আছে, শাফেয়ীদের পক্ষে ‎এই দলীল রয়েছে। প্রত্যেক মাযহাবের দলীল পেশ করে হানফি মাযহাবের প্রাধন্য প্রমাণ করি অথচ এসব মাসআলা সুন্নাত ‎ও মুস্তাহাব পর্যায়ের। কিন্তু আমি আজ বাইরে বের হয়ে জনসাধারণের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে বুঝতে পারলাম। তাঁদের ‎‎কেউ আল্লাহকে অস্বীকার করছে, নবীকে অস্বীকার করছে, শিরক করছে, কেউ কুরআনকে অস্বীকার করছে। তাদের মধ্যে ‎সুন্নাত-মুস্তাহাব মাসআলার বিরোধ নিয়ে আলোচনা চলছে না। তাঁরা সমাজের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ‎পড়েছে,তাদের জন্যে আমি কি কর্মসূচি দিয়েছি? তাদের সন্দেহ নিরসনের জন্যে কী কী ধারা বর্ণনা করেছি?আল্লাহকে ‎অস্বীকার না করার জন্যে আমি কী মূলনীতি উপস্থাপন করেছি? বর্তমানে আমাদের জরুরি বিষয় হল- জনসাধারণের প্রশ্নের ‎সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা। তাদেরকে দ্বীনের প্রতি ফিরিয়ে আনার জন্যে মূলনীতি, কর্মসূচি ও কর্মধারা প্রণয়ন করে ‎তাদেরকে এহেন কাজ থেকে সরিয়ে এনে ইসলামের গণ্ডির ভেতরে প্রবেশ করাতে হবে। ‎

এ ছিল আল্লামা কাশ্মীরীর তাঁর সময়কালের অনুভূতি। আমরা বর্তমান সময়ে অবস্থান করে কি এতটুকু বুঝছি বা বুঝার ‎‎চেষ্টা করছি। সেই বাস্তব অবস্থাকে অস্বীকার করে, বর্তমানের সমস্যবলির সমাধানকল্পে এগিয়ে না এলে বাংলাদেশে ‎ইসলামি শিক্ষার ভবিষ্যৎ কুয়াশাচ্ছন্ন। আর এসবের বাস্তবতা স্বীকার করে কর্মসূচি প্রণয়ন করে ওই আঙ্গীকে সিলেবাস ‎প্রণয়ন করে আগামী প্রজন্মকে এর উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের ইসলামি শিক্ষার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। ‎এতে কোনো সন্দেহ নেই। ‎

আজ যেখানে আমরা ইসলামের প্রতিটি বিভাগে গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার কথা ছিল। ‎‎সেখানে দেখা যায় পাশ্চাত্যবিদরা, অভিশপ্ত ইহুদিরা ইসলামের নামে গবেষণা ইনষ্টিটিউট খুলছে। তারা তাদের ‎ইউনিভার্সিটিগুলোতে ইসলামি স্টাডিজ নামে আলাদা বিভাগ খুলছে এবং তাতে মুসলমানের সন্তানদের পাঠদান করছে। কী ‎আশ্চর্যের কথা! মুসলিম সন্তানরা ইসলাম শিখছে ইহুদি-খ্রিস্টানদের কাছ থেকে। এরা তাদেরকে কী শিখাচ্ছে? ইসলামের ‎নামে গোমরাহী বৈ কী? ‎

এখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কানাডাতে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। তা হচ্ছে মেকেগাল ‎ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম ও এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে পাকিস্তানের প্রাক্তন চিফ জাস্টিজ মুফতি তাকী ‎উসমানি তাঁর ঐতিহাসিক সফরনামা জাহানে দীদা তে উল্লেখ করেছেন যে,এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ‎সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। বর্তমান যুগের অনেক প্রসিদ্ধ“মুসতাশ্রিক” (প্রাচ্য বিশারদ) এখান থেকেই ডিগ্রি লাভ করেছে। ‎অনেক মুসলমান পণ্ডিতও এখান থেকে ইসলামিয়াতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে গর্ববোধ করে। সুতরাং মুসলিম বিশ্বের ‎অনেক আধুনিকমনা লেখক যারা মুসতাশরিকদের ন্যায় চিন্তাধারার অধিকারী তারা এই প্রতিষ্ঠানের ফসল। ‎

এখানে শিক্ষা দেওয়া হয়-‎

‎১. মধ্যপ্রচ্যের ইতিহাস।‎

‎২. বিংশ শতাব্দীর আরবদের চিন্তাধারা।‎

‎৩. মুসলিম ভারতের ইতিহাস।‎

‎৪. ইতিহাস-ঐতিহ্য। এতে পবিত্র কুরআন, পবিত্র সীরাত, আকাঈদ এবং বিভিন্ন সংস্থার ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত।‎

‎৫. ইসলামি সভ্যতার আদর্শ যুগের ইতিহাস।‎

‎৬. ফাতেমিদের ইতিহাস।‎

‎৭. মধ্যযুগীয় ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস।‎

‎৮. ইসলামি চিন্তাধারার উত্থানের নিরীক্ষা।‎

এ ছাড়া তাফসির, ইসলামি দর্শন, উসূলে ফিকাহ, তাসাউফ, শিয়া মতাদর্শ, ইসমাঈলী চিন্তাধারা, ইরান ও পাকিস্তানে ‎ইসলামের উত্থানের, ইসলামের পুনর্জাগরনের আন্দোলনসমূহ, মৌলবাদের আন্দোলন।মুসলিম দেশসমূহের সামাজিক ও ‎অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মতো বিষয়বস্তু ও বিভিন্ন শ্রেণীতে পাঠ্যক্রমের     অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।‎

মুফতি সাহেব বলেন, এ বিষয়তো পরিস্কার যে, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ইসলামকে সত্য ধর্ম মনে করে তার ‎হিদায়াত ও শিক্ষানির্দেশ দ্বারা উপকৃত হওয়া নয়। এখানকার বেশিরভাগ অমুসলিম।যারা নিজেদের গবেষণা ও সন্ধানের ‎বিষয়বস্তু ইসলাম ও মুসলমানকে বানিয়েছে। এখন যদি আমরা একটু অনুসন্ধিৎসু নয়নে চিন্তা করি যে, তাদের সুবিন্যস্ত ‎এসব কার্যক্রমের বিপরীত আমাদের কতটুকু প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের আজ অসহায়ের মতো তাকানো ছাড়া আর কি ‎আছে। বিধর্মীদের বুদ্ধিভিত্তিক এসব সাঁড়াশি আক্রমণের বিপরীত আমরা সেই কবেকার পরিত্যক্ত বিষয়াবলিকে আঁকড়িয়ে ‎ধরে নিজেদেরকে দ্বীনের মহান রক্ষক ও সেবক ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি আর নিশ্চিন্তে আরামে ইসলামি শিক্ষার ভবিষ্যৎ ‎উজ্জ্বল হওয়ার নীল ও রঙ্গীন স্বপ্ন দেখছি। আমাদের সেই স্বপ্নীল মোহ কখন যে ভঙ্গ হবে। তা আল্লাহ মালুম।‎

আমাদের চিন্তা-গবেষণা, আকিদা আমল ইত্যাদি শিক্ষা ক্ষেত্রে যে দৈন্যতা রয়েছে তা কি অস্বীকার করতে পারব? এছাড়া ‎ইসলামি অর্থনীতি শিক্ষার ব্যাপারে যদি আমরা একটু খেয়াল দিয়ে তাকাই তাহলে আমাদের অসহায়ত্ব কত নগ্নভাবে ‎প্রকাশ পাবে; তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একেতো আধুনিক অর্থনীতির বিষয়াবলি- শেয়ারবাজার, কোম্পানি ব্যবসা, ‎বীমা, ব্যাঙ্কিং ইত্যাদির ওপর যেমন আমাদের পাঠ্যসূচিতে কোনো বই নেই। তেমনি পুরাতন ধাঁচের কিতাবাদিতে এ ‎সম্পর্কে যেসব আলোচনা রয়েছে,এর প্রতিও আমাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। হেদায়া ও মুসলিম শরিফের ব্যাবসা-বাণিজ্য ‎সংক্রান্ত অধ্যায় পড়ানোর সময় আমাদের কী ভূমিকা থাকে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ছাড়া সমাজনীতি,রাষ্ট্রনীতি ‎ইত্যাদি বিষয় যেন অন্য জগতের কোনো কিছু। আর ইসলামি রাজনীতিতো আজকাল নির্ধারিত কিছু ফ্যাশন ও কর্মসূচির ‎মধ্যে সীমাবদ্ধ। শরহে আকাঈদ ও হেদায়ার আদাবুল কাযী তে এ সম্পর্কিত যা কিছু রয়েছে তা বৎসরের শেষে পৃষ্ঠা ‎উল্টানোর মাধ্যমে আঞ্জাম দেওয়া হয়। আর অনেক মাদরাসায় তো পৃষ্ঠা উল্টানোরও সুযোগ হয় না। তাইতো আজ ‎ইসলামি রাজনীতির নামে কত রকম নোংরা খেলা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে।‎

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

জাগতিক ও ইসলামী শিক্ষা

#জাগতিক_ও_ইসলামী_শিক্ষা মানুষের খুদি বা রূহকে উন্নতিসাধনের প্রচেষ্টার নামই হলো শিক্ষা, কথাটি আল্লামা ইকবালের। রবীন্দ্রনাথের মতে, ...