বৃহস্পতিবার, ১৭ই জুন, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১২:১৭
Home / অনুসন্ধান / আওনুল মুগীস : হাদিসের অনুবাদে অসঙ্গতি

আওনুল মুগীস : হাদিসের অনুবাদে অসঙ্গতি

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ::

দাওরার বোর্ড পরীক্ষার বিগত প্রশ্নপত্রের সমাধান বিষয়ে লিখিত গাইডবই ‘আওনুল মুগীস’ এর আবু দাউদ শরীফের অংশ খুলে বসলাম পড়ার জন্য। ভাবলাম, সময় যেহেতু কম ঝটপট বাংলাটাই দেখি। ২০১১ সালের তৃতীয় প্রশ্নের হাদিসের যে অনুবাদ দেওয়া হয়েছে তার শুরুর দিকের একটা অংশটা পুরাই উলটপালট। সেখানে লেখা, “তিনি বললেন, সে যা বলেছে যে, আপনি তাকে বিবাহ করুন। আমি তা করলাম। কিন্তু তিনি বললেন, আমি কি তোমার বোনকে বিবাহ করবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ…” (পৃষ্ঠা-১১১৮) কী বলা হল যিনি অনুবাদ করেছেন তিনি নিজেও বোধহয় বুঝেন নি।

অথচ এই অংশটার সঠিক অনুবাদ হবে এমন, “তিনি বললেন, আমি কী করবো? সে বলল, তাকে আপনি বিবাহ করবেন। তিনি বললেন, তোমার বোনকে? সে বলল, হ্যা…”
যাক, এটা নিয়া আমার তেমন ক্ষোভ নাই। কিন্তু এর ঠিক দুই পৃষ্ঠা পরেই পঞ্চম প্রশ্নের উত্তরে প্রথম যে হাদিসের অনুবাদ দেওয়া হয়েছে তা এতোটাই অশুদ্ধ যে, এতে করে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় বাদ পড়ে যায়। হাদিটি হল, كُنَّا نُكْرِي الْأَرْضَ بِمَا عَلَى السَّوَاقِي مِنَ الزَّرْعِ وَمَا سَعِدَ بِالْمَاءِ مِنْهَا
এর অনুবাদ সেখানে দেওয়া হয়েছে এভাবে, “আমরা নালার পাশের সকল উৎপন্নযোগ্য জমি এবং যেই ভূমিতে নিজে নিজেই পানি উঠতো সেটা বর্গা দিতাম।”

যারা আরবি জানেন একটু খেয়াল করলেই বুঝবেন, এখানে কী বিশাল ভুল হয়েছে। এখানে জমির ধরন উল্লেখ করে তা বর্গা দেবার কথা বলা হয়েছে। কোন বিনিময়-চুক্তির কথা নাই। এবার বিশুদ্ধ অনুবাদটা দেখুন, “নালার পাশের ফসল ও যেই ভূমিতে নিজে নিজেই পানি উঠে- সেই ভূমির ফসলের বিনিময়ে আমরা জমি বর্গা দিতাম।”
দুই কথার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যাবধান। মূল আরবি বাক্যটাতে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে জমি বর্গার কথা বলা হচ্ছে। যা আওনুল মুগীসের অনুবাদে অনুপস্থিত।

বিষয়টা নিয়ে আরেকটু ঘাঁটতে গিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আবু দাউদের সংশ্লিষ্ট জায়গা খুঁজে দেখি ঘটনা যা ভেবেছি তা-ই। এখানেও একই ভুল করা হয়েছে। নিশ্চিত করে না বলা গেলেও ধারণা হয় যে, আওনুল মুগীসের এই অনুবাদে ফাউন্ডেশনের আবু দাউদের সহায়তা নেয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের অনুবাদ দেখুন, “আমরা নালার নিকটবর্তী কৃষি উপযোগী জমি এবং যেখানে আপনা আপনি পানি উঠতো, তা বর্গা দিতাম।” (হাদিস; ৩৩৫৮)
অনেকেই ফাউন্ডেশনের অনুবাদ অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই না করেই। ফলে ফাউন্ডেশনের অনুবাদে যে ভুলগুলো আছে সেগুলো অটোম্যাটিকলি অন্যত্রও স্থানান্তরিত হয়। এরপর আমি ফাউন্ডেশনের অনুবাদ-নির্ভর করে তৈরি করা একটা মোবাইল এপস ‘বাংলা হাদিস’ খুঁজে দেখি সেখানেও এই ভুল।

গত বছর দেখেছিলাম, আবু দাউদের উর্দু ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আদ দুররুল মানদুদ’ এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে যে প্রকাশনী, তাতে প্রত্যেকটা হাদিসের আনুবাদ ফাউন্ডেশনের আবু দাউদের অনুবাদ থেকে হুবহু কপি করা। ফলে ফাউন্ডেশনের ভুলগুলোও চলে এসেছে তাদের গ্রন্থে।
মোটকথা, ফাউন্ডেশনের এসব ভুল সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ এটা বড় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মানুষ এর উপর আস্থা রাখে খুব বেশি।ফাউন্ডেশনের আবু দাউদের অনুবাদে এমন ভুল একটা না, আমার কাছে নোট করা আছে অনেকগুলো। ব্যস্ততা কমলে সেগুলো তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ।

এখন কথা হল, দোষটা কাকে দিব? ফাউন্ডেশনকে না “আওনুল মুগীস” প্রকাশককে? যে বই রচনা করা হয়েছে এই উদ্দেশ্যে যে, ছাত্ররা তা পড়ে পরিক্ষা দিবে সেটার অবস্থা যদি হয় এমন তবে তো সেটা খুবই কষ্টের কথা। যে গাইডবই বিক্রি করে তারা লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছে সেটা কি দক্ষ কাওকে দিয়ে ভালোভাবে সম্পাদনা করিয়ে নেওয়া যেত না? এমন ভুল একটা না, আরও অনেক আছে এই গাইডবইটিতে। এখানে শুধু একটা নমুনা দেখানো হল। বিষয়গুলো খুবই মর্মাহত করছে আমাকে।

সুতরাং যারা দাওরার বোর্ড পরীক্ষায় চোখকান বন্ধ করে ‘আওনুল মুগীস’ গিলছেন তারা চোখকান খোলা রাখুন। গিলার সময় দেখে দেখে গিলুন।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

সিলেটের পবিত্র মাটি আবারও কলংকিত হলো রায়হানের রক্তে!

পুলিশ ফাড়িতে যুবক হত্যা: সিলেটজোড়ে চলছে রহস্য! এলাকাবাসীর প্রতিবাদ!! সিলেট নগরীতে রায়হান নামক এক যুবকের ...