শুক্রবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৫:৫৮
Home / কওমি অঙ্গন / কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি নিয়ে মেয়েদের চমকপ্রদ তথ্য

কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি নিয়ে মেয়েদের চমকপ্রদ তথ্য

এ এস এম মাহমুদ হাসান:

mohila-mad-500x265সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোচিত ইস্যু কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতি। এ নিয়ে সাধারণ থেকে অসাধারণ সবার মাঝেই আলোচনা চলছে। প্রতিদিন টিভি টকশোতে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ কওমী মাদরাসার সরকারী স্বীকৃতির পক্ষে থকলেও আরেকটি অংশ স্বীকৃতির বিপক্ষে। তাদের মতে, এতে কওমী মাদরাসা তার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়বে। শৃঙ্খলিত হবে সরকারী নিয়ন্ত্রণের জালে।

এ বিষয়ে স্বীকৃতির কওমী মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেষ্টা করেছে আওয়ার ইসলাম। রাজধানীর কয়েকটি মাদরাসার ছাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সরকারী স্বীকৃতির উদ্দেশ্য নিয়ে। স্বীকৃতির লাভ-ক্ষতি কি হতে পারে এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল তাদের কাছে। ছাত্রীরা বর্তমান স্বীকৃতির ব্যপারে বিস্তারিতভাবে অবগত না হলেও তাদের কাছে পাওয়া যায় ভিন্নধর্মী মতামত।

মিরপুর-১৩ নাম্বার দারুল উলুম মহিলা মাদরাসার ছাত্রী মাহবুবা আক্তার জানান, সম্পূর্ণ কওমী মাদরাসার স্বকীয়তা ও দেওবন্দের নীতিমালা অনুসারে স্বীকৃতির পক্ষে তারা। তাতে কোন সরকার বা কোন ব্যক্তি অথবা সংগঠনের মাধ্যমে এ স্বীকৃতি অর্জিত হলো, তা নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করলে কওমীদের ব্যপারে খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে সাধারণ জনগনের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

স্বীকৃতির সুফল-কুফল নিয়ে বি-বাড়িয়ার সদরে অবস্থিত একটি মহিলা মাদরাসার ছাত্রী আমাতুল্লাহ তাসনিম নুসাইফার মত হলো, স্বীকৃতি অর্থ সরকারী অফিস আদালতে চাকুরী নয়। গণ পরিবহনে হাফভাড়া দেওয়া নয়। বরং কওমী শিক্ষা ব্যবস্থায় কয়েকটি ধাপে কলেজ-ভার্সিটির মান নিয়ে আসা। যাতে করে সমাজ ব্যবস্থার সহায়ক বা অপরিহার্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, দাওয়াতী প্রোগ্রাম, মিটিং বা যে কোনো সামাজিক কর্মকান্ডে আলেম সমাজ সমমর্যাদা ভোগ করতে পারেন এবং সরকার কতৃক স্বীকৃত ডিগ্রী নিয়ে সসস্মানে সমাজে নিজ নিজ গৃহীত কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। যাতে করে আলেম সমাজকে অজ্ঞ বা পশ্চাৎপদ বা সেকেলে বলার মত ধৃষ্টতা না দেখায়।

মিরপুর-২ নাম্বার জামিয়া সিদ্দিকিয়া নূরানী মহিলা মাদরাসার ছাত্রী ফাতেমা নাজনিন এর মতে, আমরা সমাজে একজন বিজ্ঞজন ও শিক্ষিত- এতটুকুর উপর সরকারী স্বীকৃতি দিলেই যথেষ্ট। কোনো আলেম আজ পর্যন্ত স্বীকৃতির অভাবে অভুক্ত থাকেন নাই। কোনো আলেম আয় রোজগারের জন্য স্বীকৃতির অভাব অনুধাবন করেন নাই। স্বীকৃতি না থাকায় শুধু মাত্র সমাজে সন্মানসূচক আসনের কিছুটা অভাব রয়েছে। আমরা সেই সন্মানসূচক আসনটিই কামনা করি।

একই মাদরাসার মেশকাত জামাতের ছাত্রী হুমায়রা জানান, চলমান সময়ে স্বীকৃতি বিষয়ে তাদের মাদরাসার কোনো ছাত্রীদের জানা নেই। এ ব্যপারে শিক্ষকগন ছাত্রীদের সামনে স্বীকৃতি নিয়ে কখনো আলোচনা করেন নাই, অপর দিকে সরকারী স্বীকৃতি পাওয়া-না পাওয়ার বিষয়ে ছাত্রীদের বাড়তি কোনো চাহিদা নেই। তার মতে, স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর তাদের কি প্রাপ্তি ঘটবে তা তারা জানে না।

গোপালগঞ্জ গওহরডাঙ্গা মহিলা মাদরাসার হেদায়ার ছাত্রী মারিয়াম জানান, যেই স্বীকিৃতি ঐক্যবদ্ধ আলেম সমাজকে দ্বিখন্ডিত করে, এক পক্ষ আরেক পক্ষের দোষ ত্রুটি জনসম্মুখে বলার পরিস্থিতি তৈরী করে। সেই স্বীকৃতি পাবার কিছু দিনের মধ্যেই কওমী মাদরাসা গুলোর মধ্যে বিশাল ফাটল দেখা দিতে পারে। বোর্ডে ক্ষমতা ভাগাভাগির লড়াই শুরু হতে পারে। এতে কওমীদের সুনাম মারাত্বকভাবে নষ্ট হবে ও সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হবে। তাই আমার মতে, নিজেদের ঐক্যের স্বাথের্, বিজাতীয়দের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকতে স্বীকৃতি না নেওয়াই ভালো। এতে আমাদেরই কল্যাণ রয়েছে। কারণ বিভক্ত জাতি কখনো সুফল ভোগ করতে পারে না।

লেখিকা জান্নাতুন নাঈম মণি বলেন, নারীদের স্বীকৃতি প্রয়োজন নেই। এমন স্বীকৃতির কি প্রয়োজন যখন আলিয়া মাদরাসার মতো কওমী মাদরাসার মেয়েদের দেখতে হবে। স্বীকৃতির মাধ্যমে এলেম শূন্য শিক্ষাব্যবস্থা হোক এ আমি চাইনা।

সিলেটের মাদরাসাতুল বানাত এর শিক্ষার্থী উখতি আফফান বলেন, ‘আমি একজন কাওমী মাদরাসার ছাত্রী হিসাবে অবশ্যই ‘কাওমী পুরুষ ও মহিলা উভয় মাদ্রাসার সরকারী স্বীকৃতি চাই! সরকারী তালিকায় আমরা ক্বাওমীর ছাত্র-ছাত্রী দেরকে শিক্ষিত হিসাবে পূর্ণ মর্যাদা দেয়া হোক। আমি চাই ক্বাওমী মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ও সবক্ষেত্রে সবধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হোক। তবে স্বীকৃতি টা হতে হবে বিনা শর্তে, আমাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে। স্বীকৃতির নামে যদি আমাদের সিলেবাস উলট পালট করা হয়, অনৈসলামিক কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়,পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ করা হয়, তাহলে এমন স্বীকৃতি আমি চাই না!

রূপনগর আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদরাসার দায়িত্বশীল উম্মে তাকীর মতে আমাদের আকাবিরগন যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্যেশ্যকে ঠিক রেখে এবং মূল লক্ষ্যে যেন কখনোই ব্যঘাত না ঘটে, এমন যে কোনো স্বীকৃতি নেওয়া যেতে পারে। তবে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে যদি সরকারী স্বীকৃতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেই স্বীকৃতির কোনো প্রয়োজন নেই । এ ব্যপারে অবশ্যই কওমী কর্তাব্যাক্তিদের ধীরে সুস্থ্যে সু চিন্তিতভাবে এগোতে হবে। কারণ আমরা ততটা দূরদর্শী চিন্তা করি না, যতটা দূরদর্শী ও সুদূর প্রসারী চিন্তা করে মুসলমানদের শত্রুরা।

এ বিষয়ে কয়েকটি কওমী মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপালদের কাছে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা বলেন, সরকার কর্তৃক কওমী স্বীকৃতি প্রদানের মূল উদ্যেশ্যই হলো কওমীদের মাঝের ঐক্যকে বিনষ্ট করা। জনগনের সামনে ঘৃণ্য পদ্ধতিতে কওমী আলেমদের ইমেজ নষ্ট করা। নতুবা জামায়াতে ইসলামি তো দূরের কথা, বিএনপির মত সুবিধাবাদী অনৈসলামিক দলকে যে সরকার সহ্য করতে চাইছে না, তাদের মাধ্যমে কওমী মাদরাসার লাভজনক কোনো কিছু আশা করাটা মারাত্বক ভূল। নতুবা সরকার একজন বিতর্কিত আলেমের মাধ্যমে বেফাক ও বড় বড় সন্মানিত আলেমদের পাশ কাটিয়ে কেন স্বীকৃতি দেওয়ার কমিটি ঘোষনা করলেন ? কেন বড় বড় আলেমগন একে অপরকে দোষারোপ শুরু করেছেন। সরকার যদি আসলেই কওমী জনতার মঙ্গল চাইতেন, তাহলে কওমী মাদরাসার শর্ত অনুযায়ী বৃহত্তর বোর্ডের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়ে আঞ্চলিক বোর্ডগুলোকে বৃহত্তর বোর্ডে নিয়ে আসতে পারতেন। কেন তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো ?

খুব শীঘ্রই সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকারী স্বীকৃতির সুফল নিয়ে সঠিক মানদন্ড নির্ধারন হবে এমনটিই আশা কওমী ছাত্র/ছাত্রীদের। কওমী মাদরাসার মূল লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য অক্ষুন্ন রেখে সরকারী স্বীকৃতির ব্যপারে আগামী ১৭ অক্টোবর বেফাকের নেতৃবৃন্দ সঠিক দিকনির্দেশা দিবেন এমন অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন গোটা কওমী সমাজ।

সুত্র- আওয়ারইসলাম

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...