বুধবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৫:০৮
Home / অনুসন্ধান / যে কারণে ওরা জঙ্গি হয়

যে কারণে ওরা জঙ্গি হয়

isকেন কিছু তরুণ জঙ্গি হচ্ছে, সৃষ্টির আনন্দে শামিল না হয়ে ধ্বংসে মাতছে? কীভাবে সন্তানদের রক্ষা করা যায়? এসব বিষয়েই কথা বলেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ড. তাজুল ইসলাম৷

কিশোর বা তরুণদের একটা অংশের জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে প্রথমে তাদের বয়সগত বৈশিষ্ট্যের দিকটিই তুলে ধরেছেন ড. তাজুল ইসলাম৷ তাঁর মতে, ‘‘যে বয়সে ওরা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে, এ বয়সে জানার খুব আগ্রহ থাকে৷ তাই এ বয়সে অনেকে মাদকের মতো খারাপ জিনিসের প্রতিও না বুঝে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে৷ এই বয়সে কোনো কোনো আদর্শের প্রতিও কেউ কেউ খুব দ্রুত অনুরক্ত হয়ে পড়ে৷ এই বয়সে বিভিন্ন ফ্যাশন, বিভিন্ন মতধারার সঙ্গেও নিজেকে জড়িত করে ফেলে অনেকে৷ পৃথিবীতে সব বড় পরিবর্তনে এই বয়সের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও তরুণ প্রজন্মই বেশি অংশ নিয়েছিল৷ কিন্তু এখন কথা হচ্ছে, জঙ্গিবাদে যারা জড়াচ্ছে, তারা আসলে কোন মতাদর্শের দিকে এগোচ্ছে? এটার সঙ্গে একটু মিল আছে ড্রাগ অ্যাডিকশন, অর্থাৎ মাদকের নেশার৷ সবাই কিন্তু জেনে-বুঝে ড্রাগ নেয়া শুরু করে না৷ অনেকে কৌতূহল থেকে বা অন্যের প্রলোভনেও ওই পথে পা বাড়ায়৷”

যাদের পারিবারিক জীবনে সমস্যা আছে বা ধর্মের প্রতি যারা একটু বেশি অনুভূতিপ্রবণ, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো তাদেরই নানা ছল-চাতুরীর মাধ্যমে দলে ভেড়ায় – এমন একটি ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে ড. তাজুল ইসলামের কথায়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘তারা (জঙ্গিরা) প্রথমে মসজিদে নিয়ে যায়, অথবা কোনো বৈঠকে নিয়ে যায়৷ সেখানে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তারা ধর্মের স্বাভাবিক কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলে, যাতে মনটা নরম হয়৷ তারপর তারা শুরু করে পৃথিবীর কোথায় মুসলমানদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এসব বলে এবং এই সংক্রান্ত ভিডিও দেখিয়ে বিক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করে৷ একই সঙ্গে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য অপ্রাসঙ্গিক এবং জাল হাদিসও শোনানো হয়৷ যারা জঙ্গি হচ্ছে তারা কিন্তু পরিপূর্ণ কোরআন জানে না, ইসলামও জানে না৷ অনেকে তো নামাজ-রোজাও ঠিকমতো করে না৷ তাদের ভেতরে শুধু ইসলাম এবং মুসলিমদের প্রতি এক ধরনের মমত্ব আছে৷ জঙ্গিবাদীরা এটাকেই কাজে লাগায়৷ খেপিয়ে তোলার পর এক সময় জরা তরুণদের এটাও বলে যে, দেশ চলবে আল্লাহর আইনে, মানুষের তৈরি আইনে নয়৷”

অভিজ্ঞ এই মানসিক এবং মাদক নেশাজনিত সমস্যার বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা ড. তাজুল ইসলামের মতে, তরুণদের জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে হলে পরিবার থেকেই কাজ শুরু করতে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি গার্জিয়ানদের এ কথাই বলি যে, আপনার ছেলের মধ্যে ভালনারেবিলিটি আছে, তারুণ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে এবং আশেপাশে এমন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আছে যারা প্রলোভন দেখাবে এবং আপনার সন্তানকে নিয়ে যাবে৷ কিন্তু গুড প্যারেন্টিং থাকলে স্বার্থান্বেষী মহলও ক্ষতি করতে পারবেনা৷ সন্তানের সঙ্গে যদি বাবা-মায়ের অনেক বেশি দূরত্ব থাকে, সন্তানের মনোজগতের পরিবর্তন যদি তারা খেয়াল করতে না পারেন, তাহলে গর্ত দিয়ে তো সাপ ঢুকেই যাবে৷”

সৌজন্যে : ডয়েচে ভেলে

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে জরুরী কিছু কথা!

কমাশিসা ডেস্ক: শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বার ২০২০. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনি যখন কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির ...