বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৪:৩১
Home / কবিতা-গল্প / অধ্যয়ন

অধ্যয়ন

Stutyইব্রাহিম খলিল : নির্জন কক্ষে অধ্যয়ন করছে ছেলেটি। গভীর অভিনিবেশসহ অধ্যয়ন করছে। এমন বিস্ফারিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কিতাবের পাতার দিকে, অক্ষরগুলো যেনো লাফিয়ে উঠে যাচ্ছে চোখে। সেখান থেকে মস্তিষ্কের কোষে কোষে। ছেলের লেখাপড়া ও গতিবিধি খেয়াল রাখেন বাবা। ছেলে কী পড়ছে, কীভাবে পড়ছে, পড়াশোনায় তার আগ্রহ কেমন ইত্যকার খুঁটিনাটি বিষয় তিনি লক্ষ রাখেন।
সেদিন পড়তে পড়তে হঠাৎ তার পানির পিপাসা পেলো। কেনো যে বারবার গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছে না। আবার উঠেও যেতে পারছে না। কিতাবটি চুম্বুকের মতো আকর্ষণ করছে। তাই কাজের ছেলেটাকে ডেকে বললো— পানি দাও। বাবা উৎকর্ণ হয়ে শুনলেন ছেলের কথা। পিপাসার কথা শুনে বাবা ভ্রু কুঁচকালেন। চিন্তার বলিরেখা দেখা দিলো তাঁর কপালে। তিনি ভাবনায় পড়ে গেলেন। গভীর হতাশায় দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

হঠাৎ কী মনে করে বাবা চাকরকে বলে দিলেন— পানি নয়, রেড়ির তেল দিয়ে দাও এক গ্লাস। মনিবের নির্দেশ যেনো সে শুনতে পায়নি, তেমনি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। সে ভেবে পাচ্ছে না, তেল দিয়ে কী হবে। ভাইজানের তো পিপাসা পেয়েছে, পানি চেয়েছেন। আবার জিজ্ঞাসা করতেও সাহস হচ্ছে না। ওর জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দেখে মনিব বজ্রনির্ঘোষে বললেন— তাকিয়ে আছে কেনো, যা বলেছি তা-ই করো। রেড়ির তেল দিয়ে দাও এক গ্লাস।

মনিবের নির্দেশ অলঙ্ঘনীয়। তা লঙ্ঘন করার সাহস তার নেই। একান্ত অনিচ্ছায় এক গ্লাস তেল নিয়ে রাখলো টেবিলে। বাবা তাকিয়ে আছেন দরোজার ফাঁক গলে। উৎসুক হয়ে দেখছেন, ছেলে কী করে। ছেলে যথারীতি অধ্যয়নে আত্মমগ্ন। কিতাবের পাতায় নিবদ্ধ তার দৃষ্টি। হাত বাড়িয়ে গ্লাসটি নিলো। ঠোঁটে ঠেকিয়ে ঢকঢক করে পান করে নিলো। তারপর আগের মতোই লেগে রইলো গভীর অধ্যয়নে। হাতের চেটোয় কেবল মুখখানি মুছে নিলো। ঘুর্ণাক্ষরেও অনুভব হলো না তার, কী পান করেছেন, পানি না তেল! বাবা মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলেন। মনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হলো। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো ছেলের পড়াশোনাই হবে না। নয়তো পড়ার সময় পিপাসা লাগবে কেনো? পিপাসার কথা কীভাবে টের পেলো? মনের দুশ্চিন্তাটা দূর হলো। উদ্বেগের জগদ্দল পাথরটা সরে গেলো। এবার মনে হলো— হাঁ, কিছুটা হয়তো হবে। (তরবিয়তি অকিয়াত)

বি. দ্র. তিনি হলেন মাওলানা আব্দুল হাই ফিরিঙ্গি; পিতা মাওলানা আব্দুল হালিম ফিরিঙ্গি মহল্লি।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

৪৩ টি পতিতালয়ের মালিকের লেখা কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত?

ফেসবুকীয় মতামত-:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী রবী ঠাকুরের কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত? জাতি তা জানতে চায়…… ...