বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৪:১৫
Home / কওমি অঙ্গন / বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাদরাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাদরাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

Madrasa_Mir-i_Arabআলী হাসান তৈয়ব : বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উৎকর্ষের এ যুগে মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্ব পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের যখন যা প্রয়োজন বিজ্ঞান মুহূর্তেই তার সামনে হাজির করছে। আজ মানুষ সব পাচ্ছে। যখন যা দরকার মুহূর্তেই তা পেয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের স্বস্তি হয়তো এসেছে কিন্তু তার মূল আরাধ্য তথা আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক পরিতৃপ্তি হারিয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য চোরাবালিতে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আল্লাহরই নেয়ামত। এর ভালো ও মন্দ উভয় দিক রয়েছে। সৎ ব্যবহার কল্যাণ বয়ে আনে। অসৎ ব্যবহার অশান্তি ডেকে আনে। দিন দিন প্রযুক্তির দান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে ততধিক বেড়ে চলেছে এর নেতি ও অপ ব্যবহার। মানুষের কল্যাণে যে পারমাণবিক শক্তির আবিষ্কার; তা আজ সমগ্র মানব জাতির শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধা ও সমৃদ্ধিতে যে বিমানের আবিষ্কার তা দিয়ে বোমা ফেলে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশে আজ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে অস্ত্র কেনার। সেরা জীব মানুষের খাদ্য ও প্রয়োজন না মিটিয়ে বাজেটে সমরাস্ত্র কেনার প্রতিই দেয়া হচ্ছে অধিক গুরুত্ব। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও আদান-প্রদান সহজের জন্য যে তথ্য প্রযুক্তির আবিষ্কার তা আজ সাইবার ক্রাইমের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাই দেখা যায় উন্নত বিশ্বের নাগরিকরা সব পেয়েও আজ শান্তির জন্য হাহাকার করছে। আত্মিক প্রশান্তির অন্বেষায় দিগ্বিদিগ ছোটাছুটি করছে।

বাস্তবতা হলো, মানুষকে মানুষ বানাতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং পৃথিবীতে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী বা নৈতিক তথা মাদরাসা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এর প্রমাণ হিসেবে বর্তমান যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের সাম্প্রতিক কিছু টিত্র তুলে ধরাই যথেষ্ট মনে করি। সরকারের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান আমাদের সামনে নৈতিকতাহীন শিক্ষার কুফল তুলে ধরেছে। বহুল আলোচিত মাদক বড়ি ইয়াবা ও আইসপিলের ক্রেতা ও ভোক্তা কারা? তারা কি গোমূর্খ নাকি অভদ্র ঘরের সন্তান? মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী জেনেছেন, তারা সম্ভ্রান্ত পরিবার পথভ্রান্ত শিক্ষিত সন্তান। কিন্তু কোন হীন কাজটাই আছে যা তারা করে নি বলুন? র্যা বের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মারফত জানা যায়, এদের ঘরে যা পাওয়া যাচ্ছে তা মিডিয়ার সামনে আনা তো দূরের কথা এর আলোচনাও করার মত নয়।

পত্রিকা মারফত সবাই জেনেছেন, হাজার হাজার কলেজ-পড়ুয়া আলট্রা মডার্ন শিক্ষিতা সুন্দরীরা অভিযাত হোটেলগুলোয় গিয়ে কী করে? কাগজে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধনীর দুলাল-দুলালীরা কাদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে? শিক্ষা, প্রাচুর্য, বংশকৌলীণ্য- কোনটার অভাব এদের? কোনোটারই অভাব নেই। অভাব শুধু নৈতিক শিক্ষার। নৈতিক শিক্ষা ছাড়া মানুষ আর সব হলেও পারে না শুধু মানুষ হতে। বলাবাহুল্য, আমাদের নৈতিক শিক্ষার সর্বোৎকৃষ্ট উৎস ইলমে ওহী যা এ দেশের মাদরাসাগুলোয় শেখানো হয়।

শেষ কথা

সমাজের এই অবক্ষয় দেখে আজ দেশবাসী চমকে ওঠেছেন। এদের প্রতিরোধে সরকারও চালিয়ে যাচ্ছে সক্রিয় তৎপরতা। মাদক রোধে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় বুদ্ধিজীবী কলামিষ্টরাও সরকারকে অনেক উপদেশ দিচ্ছেন। তারা বলছেন না শুধু আসল কথাটিই। বলছেন না, নৈতিকতার চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটানো হোক।

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলে আসছে অনেক আগে থেকেই কিন্তু এর রেজাল্ট কী? রেজাল্ট কি এই নয়, যা আমরা দেখতে পাচ্ছি? মাদকের বিরুদ্ধে যারা শ্লোগান দেন তারাই তো ধূমপান করেন। অনেকে একধাপ এগিয়ে বিভিন্ন তারকা বিশিষ্ট হোটেলে গিয়ে গঞ্জিকা সেবন না করলেও বিয়ার, শ্যাম্পেন বা এর চেয়েও দামীগুলো সেবন করেন। কিছু বুদ্ধিজীবী কলামিষ্ট আছেন এক পেগ মদ না গিললে যাদের কলম থেকে লেখাই বেরোয় না। এদের মধ্যে নিষিদ্ধ পল্লীর বিরল প্রজাতি খদ্দের একেবারেই যে দুর্লভ; তাও কিন্তু নয়। আজকের মিডিয়াগুলো মাদককে না বলা এসব স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতাকে কত মহৎ হিসেবে প্রচার ও উপস্থাপন করে। অথচ সত্যিকার অর্থেই যারা মাদক থেকে যোজন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে, মাদকের কালো হাত যাদের কখনো স্পর্শ করতে পারে না সেই নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আলয় তথা মাদরাসা শিক্ষার কথা মিডিগুলোয় গুরুত্ব পায় না।

ধর্মীয় বা মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত বিশাল জনগোষ্ঠীর দিকে তাকিয়ে দেখুন এদের কয়জন মাদকাসক্ত? ক’জন তথাকথিত অভিজাত হোটেলগুলোর সদস্য? এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের জন্য স্ত্রী নির্যাতন, পরকীয়ার টানে ঘরের বৌ খুনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কয়টি এদের হাতে সংঘটিত হয়? এসব অপরাধের বিরুদ্ধে এদেরকে আলাদাভাবে সচেতন করতে হয় না। অপরাধ যে অপরাধ তা বুঝানোর জন্য এত সেমিনার ও প্রচারাভিযানের প্রয়োজন হয় না। এর কারণ কী? কারণ, ওহী তথা আসমানী শিক্ষার আদ্যোপান্তই মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও বলীয়ান করে তোলে।

অতএব দেশ ও জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে, সকলের ইহ ও পরকালের শান্তি ও সাফল্য নিশ্চিত করতে আসুন মাদরাসা তথা ইসলামী শিক্ষাকে বেগবান করি। নিজেরা এ শিক্ষায় আলোকিত হবার পাশাপাশি সবাই আমরা ইসলামী শিক্ষা প্রসারে সাহায্য ও সহযোগিতা করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

 

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে জরুরী কিছু কথা!

কমাশিসা ডেস্ক: শুক্রবার ২৫সেপ্টেম্বার ২০২০. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনি যখন কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির ...