বুধবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৫:১৯
Home / অনুসন্ধান / প্রসঙ্গ: সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী ফতোয়ায় এক লাখ মুফতী-আলেমের স্বাক্ষর!

প্রসঙ্গ: সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী ফতোয়ায় এক লাখ মুফতী-আলেমের স্বাক্ষর!

11401407_1855462904678125_3918239690069671138_nওলী উল্লাহ আরমান:

জিহাদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ৷ পৃথিবী থেকে জুলুম, শোষণ এবং শয়তানী রাজ খতম করে মানবতার মুক্তি এবং আল্লাহর বিধান কায়েমে শরীয়ত স্বীকৃত আমীরের নির্দেশনা কিংবা নেতৃত্বে জিহাদের কোনো বিকল্প নেই৷ কিন্তু এই সময়ে জিহাদের নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা উগ্রপন্থা লালন ও সহিংসতা চালায় তাদের ঘৃণা করি মনেপ্রাণে৷ সেটা ইন্ডিয়ার মদদে প্রতিষ্ঠিত দেশী ব্রান্ড জেএমবি, পুলিশের আবিস্কার ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ এবং মাল্টিন্যাশনাল প্রোডাক্ট আইএস সবার জন্যই প্রযোজ্য৷

এক লাখ আলেমের স্বাক্ষরিত ফতোয়া:
অনেকদিন আলোচনায় থাকার পর গতকাল ১৮ জুন মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ সাহেব কর্তৃক ‘লাখো মুফতী-আলেমের’ স্বাক্ষরে প্রচারিত ফতোয়ার প্রচারণা নিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে৷ তাছাড়া লাখো আলেমে’র নামে স্বাক্ষরদাতার মধ্যে সত্যিকারার্থে ফতোয়াদানের যোগ্য আলেম কতোজন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়৷ ফতোয়ায় যেসব শীর্ষ আলেমের স্বাক্ষরের দাবী করা হচ্ছে, তারা মূলত হাদীসের মসনদ, মাদরাসা অথবা খানকা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন৷ আমরা তাদের অতুলনীয় ইলমী যোগ্যতা এবং আমলী খেদমতের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে প্রশ্ন করতে চাই যে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, ‘গ্লোবালাইজেশন’ তথা ‘বিশ্বায়নের’ নামে সাম্রাজ্যবাদী অপতৎপরতা, জিহাদের নামে ছদ্মবেশী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সম্পর্কে তাদের জানাশোনা কতোটুকু?
যদি তাদের সম্যক অবগতি না থাকে, তবে তারা কাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করবেন?

সাম্রাজ্যবাদ ও সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে অবগতি:
ইসলামের ছদ্মবেশে সন্ত্রাসী সংগঠন কিংবা সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ-সচেতনতায় সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক তৎপরতায় জড়িতরা অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকেন বলেই আমার বিশ্বাস৷ কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, চলমান ফতোয়ায় স্বাক্ষরকারীগণ কেউই সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় নন৷ এর একটা কারণ সম্ভবত এই যে, রাজনীতি সচেতন আলেমগণ মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ সাহেবের চটকদার প্রচারণায় পা দেননি৷ আর সরলমনা আলেমগণ কোন প্রক্রিয়ায় ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন বুঝতে চাইলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের বক্তব্যে আরো স্পষ্ট হবে৷

জঙ্গীবাদবিরোধী ফতোয়ায় লাভ কার?
বাংলাদেশে একটি কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট এবং প্রমাণিত সত্য হচ্ছে, সন্ত্রাস অথবা জিহাদের নামে চরমপন্থার সাথে স্বীকৃত আলেমদের ন্যুনতম সংশ্রব এবং দূরতম সংশ্লিষ্টতাও নেই৷ এ কারণে কথিত ‘জিহাদী’রা এদেশের শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে নানা সময় নানা ভ্রান্ত ফতোয়াও জারী করেছেন৷ কিন্তু ‘লাখো আলেমের ফতোয়া’ নিয়ে বিবিসি, প্রথম আলো, সমকাল, জনকণ্ঠ, সময় টিভি, ৭১ টিভির ন্যায় চিহ্নিত ইসলামবিরোধী মিডিয়ার পরোক্ষ প্রচারণায় বিষয়টি এমন দাড়াচ্ছে যে, এদেশের আলেমরা ইতোপূর্বে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাদের (ইসলামবিদ্বেষী মহলের) ‘অভিন্ন মতাবলম্বী’ ব্যক্তি মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ সাহেবের ফতোয়ায় যেনো তা থেকে আলেমরা সম্পর্কোচ্ছেদ করছেন৷
সামগ্রীকভাবে এই ফতোয়ায় ইসলামবিদ্বেষী দেশী বিদেশী চক্র ফায়েদা লুটবে৷ আর কেউ যদি পার্সোনালি লাভবান হন, তিনি মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ সাহেব এবং তার আশপাশের দুয়েকজন৷ ভারতীয় র’য়ের পাশাপাশি তার বাজারদর এখন এফবিআই, মোসাদ ছাড়িয়ে সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে৷ এমনকি তিনি জাতিসংঘের গুডবুকেও উঠে যেতে পারেন৷ তাকে অনেকে ডক্টরেট ডিগ্রীও দিতে পারে, ইসলামের অধিকতর ক্ষতি করার পুরস্কার হিসেবে৷
হজরত ফিদায়ে মিল্লাত সায়্যেদ আসআদ মাদানী রহঃ এর নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠিত মানবকল্যাণ সংস্থা ‘ইসলাহুল মুসলিমীন’কে পারিবারিক কোম্পানিতে পরিণত করার পর এখন তার ‘ইসলামী সেক্যুলারিজম’ চর্চা এবং ‘জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী’ গবেষণায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার-পাউন্ড আসতে পারে৷ যে টাকা তিনি ওলামায়ে কেরমারে বিভক্তিতে ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারবেন৷ যেভাবে ইতেপূর্বে ইসলাহুল মুসলিমীনের টাকা যথেচ্ছ ব্যয় করেছেন৷

‘হেফাজতে ইসলামকে’ হকের একমাত্র মাপকাঠি বানানো কি ঠিক:
এমন প্রশ্নের উত্তরে আমি একবাক্যে বলবো, ‘না ঠিক নয়৷’
কেউ স্রেফ হেফাজতের আন্দোলনে না থাকা কিংবা বিরোধিতার কারণে তাকে না-হক সাব্যস্ত করা সুবিবেচনার কাজ হতে পারে না৷ আর মাওলানা ফরিদউদ্দীম মাসউদ সাহেব পরিচিত অঙ্গণে দীর্ঘদিন যাবত এমন সব কাজ করে চলেছেন, যার ফলে তাকে ওলামায়ে হকের একজন বলা যায় না কোনোক্রমেই৷ শাহবাগে স্বশরীরে সংহতি জানানো তার মাঝে অন্যতম একটি বিষয়৷ সেজন্যে বলবো, হেফাজতে শামিল না থাকাটাকে হক, না-হকের মাপকাঠি না বানিয়ে বরং আরো নানা কাজের কথা বলতে পারি, যেখানে তিনি আলেমসমাজের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে নিজ স্বার্থোদ্ধার করেছেন আর লাভবান করেছেন ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীকে৷

কিন্তু কোনো ব্যক্তি তমুক শায়খ/পীরের মুরীদ নয়, তমুক রাজনৈতিক সংগঠন করে না, তমুক দ্বীনি সংগঠনে নেই, সুতরাং সে গোমরাহ, এমন ঢালাও ফতোয়া বন্ধ হওয়া উচিত৷

শেষ কথা
মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ সাহেবের এই ফতোয়া বাণিজ্য ইসলাম, মুসলমান কিংবা দেশজাতির কোনোরূপ কল্যাণে আসবে না৷ যেভাবে তার আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা এদেশের ওলামায়ে হকের কোনো কল্যাণে আসেনি৷ হ্যাঁ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সরকারের তল্পীবাহক হিসেবে লাভবান হয়েছেন৷ এখন ফতোয়া বিক্রি করে আন্তর্জাতিক মার্কেটেও পণ্য হিসেবে বিবেচনায় আসবেন৷

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...