সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১২:২০
Home / কওমি অঙ্গন / ওরা আমাদের কমর ভেঙ্গে দিতে চায় : আমাদের জাগতে হবে

ওরা আমাদের কমর ভেঙ্গে দিতে চায় : আমাদের জাগতে হবে

imagesফুজায়েল আহমাদ নাজমুল ::

আবুজেহেল আর ফেরাউনের উত্তরসুরীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। ইসলামকে তারা বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিদায় করে দিতে চায়। দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকুক। জাতীয় শিক্ষানীতিতে ইসলামকে প্রাধান্য দেয়া হোক। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় মসজিদ, মাদ্রসা, মক্তব গড়ে উঠুক। নতুন প্রজন্মরা ইসলামের শক্তিতে জ্বলে উঠুক। নারীরা হিজাব, বোরকা পরে চলুক। দেশে ইসলামী রাজনীতি শক্তিশালী হোক। ইসলামে বিশ্বাসী লোকেরা দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হোক এসব তারা চায় না। এসব তাদের চেতনা বিরোধী।

মোটকথা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্ধেষিরা সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে কাজ করছে। লক্ষ্যে পৌছার জন্য পরিকল্পিত ভাবে প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যবহার করছে প্রযুক্তির সব উপকরণ।

সমাজের সাধারণ একজন মানুষ, মাদ্রাসার একজন ছাত্র, শিক্ষক, মসজিদের একজন ইমাম, মুয়াজ্জিন বা ইসলামী রাজনীতি করেন এমন কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে মিডিয়ার চোখ অন্ধ হয়ে যায়। সিলাই করে দেয় তাদের দুই ঠোঁট। বিবেকের দুয়ার বন্ধ করে বিবেকহীন হয়ে পড়ে। অথচ একজন নাস্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। টকশোর ব্যবস্থা করে তথাকথিত সুশীলদের ডেকে এনে ইসলামী ভাবধারার লোকদেরকে ফাসাতে মরিয়া হয়ে উঠে।

ইসলাম বিদ্ধেষিদের এক ডজন বা দুই ডজন মানুষের একটি পথসভাকে মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে বলে রাতদিন প্রচার করা হলেও ইসলামের পক্ষের শক্তির লাখ লাখ মানুষের সমাবেশকে একমিনিটের জন্যও প্রচার করতে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্তা হয়।

একজন মুফাসসিরে কুরআন, ইসলামী সংগঠনের একজন নেতা কল্যাণের পথে, কুরআনের পথে, মুক্তির পথে মানুষকে আহবান করার কারণে সরকার যখন তাকে সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অজুহাত দেখিয়ে জেলখানায় পাঠায় তখন মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়, তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ডেকে এনে ইসলামী ব্যক্তিত্বকে অপদস্ত করার জন্য টকশোগুলো গরম হয়ে উঠে। অথচ মুক্তমনার শ্লোগান ধারণ করে নাস্তিকেরা যখন ইসলামের বিরুদ্ধে লিখে বা কথা বলে তখন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে বলে মিডিয়ায় তুলে ধরা হয় না, টকশোগুলোতে আলোচনা হয় না।

কলেজ ইউনিভার্সিটি গুলোতে যখন প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়, খুনাখুনি হয় প্রকাশ্যে, তখন জঙ্গি বা সন্ত্রাসীর ট্যাগ তাদের গায়ে লাগিয়ে দেয়া হয় না। অথচ যখন মাদ্রাসার ছাত্র বা দ্বীনি কোন সংগঠনের কর্মীরা কোন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে শান্তিপূর্ণ লাঠি মিছিল করে তখন তাদের গায়ে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীর ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়। বাশের লাঠির ছবি গুলো মিডিয়ায় জঙ্গিদের তান্ডব বলে লিড নিউজ হয়।

ইসলামকে ভালবাসে, সত্য প্রচার করে বলে দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, আমার দেশ পত্রিকা সরকার বন্ধ করে দিলে তথাকথিত মিডিয়া কর্মীরা কোন প্রতিবাদ করেনি। কারণ তারা চায় না যে, এই দেশে এমন কিছু মিডিয়া তৈরী হোক যারা ইসলাম ও মুসলমানের পক্ষে ভূমিকা রাখবে।

ইসলামকে ভালবাসেন এমন কিছু ভাইয়েরা ইদানিং মিডিয়ার জগতে এগিয়ে আসলেও মঞ্জিলে যেতে পারছেন না। আবুজেহেল আর ফেরাউনের উত্তরসূরিদের সাথে ঠেলাঠেলি করে তাদের মঞ্জিলে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। ওরা আমাদের বিরুদ্ধে লিখছে, বক্তব্য দিচ্ছে, অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। চেতনার দোহাই দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়তারা করছে। ওরা আমাদের কমর ভেঙ্গে দিতে চায়। ওদের ইসলাম বিদ্ধেষি ততপরতার বিরুদ্ধে কলম চালাতে হবে। দাতভঙ্গা জবাব দিতে হবে। সর্বপরি আমাদের জাগতে হবে। আমরা যদি না জাগি তাহলে ওদের প্রতিরোধ করবে কে?

এই যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের এক একটি বিস্ময় আমাদেরকে বিমূড় করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানেরও প্রযুক্তির ব্যবহার জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে বিস্তৃত, যা মানুষের কর্মক্ষমতাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানকে বাদ দিলে মানুষের বিশাল কর্মকান্ডের জগত এক নিমিষে স্তব্দ হয়ে পড়বে। সভ্যতার বিনির্মাণ, প্রচার ও মিডিয়া, চিকিত্সা, জ্ঞান বিজ্ঞান, আহার বিহার, পোষাক পরিচ্ছেদ, অঙ্কন বিনোদন, এমন কোন দিক নেই বিজ্ঞান যাকে বিকশিত ও বিমোহিত করেনি।

এযুগে ইসলামী সমাজ বিনির্মানের দাওয়াতকে পৃথিবীর প্রতিটি কোনে, প্রতিটি জনপদে পৌছানোর জন্য বিজ্ঞান আমাদের অফুরন্ত, অচিন্তনীয় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রযুক্তির হাজারো উপকরণ। ইন্টারনেট, সিডি, টিভি, ভিসিডি। মিডিয়া এর জগতে অকল্পনীয় বিপ্লব এনেছে।

আজ আমাদেরকে যে কোন মূল্যে এজগতে প্রবেশ করতে হবে, জয় করতে হবে। স্ব স্ব অবস্তান থেকে একঝাক মিডিয়া কর্মী তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নিয়ে অতি কম সময়ের মধ্যেই মিডিয়া জগতে এক মহা বিপ্লব ঘটাতে হবে। আবুজেহেল আর ফেরাউনের উত্তরসুরীদের হাত থেকে সব প্রযুক্তি ছিনিয়ে আনতে হবে। আল্লাহর দ্বীনের পয়গামকে আলো বাতাসের মতো সর্বসাধারণের নিকট সহজলভ্য করা আজ সময়ের দাবী। আর এ মহান দাবীকে পূরণ করতে আমাদেরকে এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...