শুক্রবার, ২১শে জুন, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১:১৭
Home / খোলা জানালা / তনু, তুই আমাদের কেউ না!

তনু, তুই আমাদের কেউ না!

7162_Untitled-1

…তাহলে কারা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী তনুকে প্রথমে ধর্ষণ তারপর গলা কেটে হত্যা করলো? সর্ষে ক্ষেতেই ভূত নয়তো?
কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড! তনুও থাকে সেনানিবাস এরিয়ায়! এমনকি ঘটনার দিন সে ওই এলাকার বাইরেও যায়নি। তাহলে…?
যে স্থানে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো তার আশেপাশে সিসি ক্যামেরা আছে৷ তাহলে ঐসব ফুটেজ গেলো কই?

আমাদের দেশে তো আবার CCTV থাকে মাগার ফুটেজ থাকেনা, সেনাবাহিনীর CCTV ফুটেজও মেবি ‘হ্যাক’ হয়ে থাকে। আশ্চর্য কাহিনী।
কিছুক্ষণ পরপর এমপি, এফআই, ডিজেএফআই, আরপি টহল হয় কিন্তু ওই জায়গায়!!
ঘটনাস্থলের খুব কাছেই দুইপাশে সেনা ক্যাম্প আর কোয়ার্টার আছে, তাইলে ক্যামনে কি!

সেনানিবাস এলাকায় ঢুকতে গেলে আপনার ১৪ গুষ্টির তথ্য দিয়ে ঢুকতে হবে, তাহলে ধর্ষকরা যদি বাইরে থেকে ঢুকে থাকে তবে সেনাবাহিনীর কাছে নিশ্চই সেই তথ্য থাকার কথা।
সঠিক কারণ এবং কারণের যৌক্তিক প্রমাণ দেখানো ছাড়া সেনানিবাসে ঢুকাও যায়না!
আপন ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে গোটা একদিন গেইটে কাটাতে হয়েছিলো একবার!
তবে কারা? এ প্রশ্ন আমার, আপনার, সবার। আমি বলছিনা যে, এই ঘটনায় কোনো  সেনা সদস্য জড়িত! আমাদের সেনাবাহিনী তো দুধে ধোয়া তুলশী! ওরা মানুষ না, সেনা! ওদের যৌন আকাংখা থাকতে নেই!

যদিও মাঝেমাঝে পার্বত্যাঞ্চলে বেশিরভাগ ধর্ষণে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নাম উঠে আসে…! সে সব তো আর অস্বীকার করা যায় না।
আচ্ছা, তনুকে তো একের অধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে বলে শুনা গেছে, তাও ভদ্রভাবে! I mean প্রটেকশন ইউজ করে! তারমানে এই কাজের সাথে জড়িতরা জানতো প্রটেকশন ছাড়া করলে দ্রুত ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে! (সাধারণ কারো মাথায় এত আধুনিক বুদ্ধি! ভাবা যায়?)
শুরু থেকে একটা কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু বলবার সাহস পাচ্ছি না। কারণ, উচিৎ কথায় বিড়াল বেজার। তবুও বলছি- তনুকে ইট দিয়ে আর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। একই স্টাইলে।

আচ্ছা, ৭ খুনে কারা যেন অংশ নিয়েছিলো? (কিছু কথা গোপনথাক)
ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অনেক সিভিলিয়ান থাকে কর্মচারী হিসেবে নিজেদের কাজ করে, যদি ধরে নেই তাদের দ্বারা এই কাজ হয়েছে তাহলেও তো আর্মির ভুমিকা নিয়ে একটা প্রশ্ন চলে আসে- এখন কী করা?
না, আমি কিন্তু বাবার দাপটে বাঁকা পথে চলা সেনা অফিসারের ইনোসেন্ট ছেলেদের কথা বুঝাতে চাইছিনা; পিলখানার ভেতরে আবার এসব ফ্যাশন হিসেবেই চলতো অহরহ…।

হত্যাকাণ্ডের পর তনুর বাসায় তার কোনো সহপাঠিকে নাকি সেনাবাহিনী ঢুকতে দেয়নি। তবে ৬ জন সহপাঠি অনেক কষ্টে শেষ দেখা দেখতে পরেছে, তাও সেনাদের কাছে নাকে খত দিয়ে! যদি এমন হয়, তবে এই সতর্কতা ঘটনার আগে কই ছিলো?

মানুষ মাত্রই ভুল আর যেকোনো সময় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা মানুষের মাঝে থাকে৷ সেনা-সিভিলিয়ান কেউই সন্দেহের উর্ধে নয়, অতীতে এমন অনেক নজির আছে৷
শেষ কথা-  তনু তো মরে গিয়ে বাঁচলো, আমরা বেঁচে আছি কেন? মানুষ বেঁচে আছে কেন? এভাবে বেঁচে থাকাকে কি বেঁচে থাকা বলে?  মানুষ কি এভাবে বেঁচে থাকে?
একের পর এক আমাদেরই নাকের ডগার ওপর দিয়ে এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত তনুরা! আমরা মরি না কেন?

আমাদেরও মরে যাওয়াই উচিত! এসব প্রতিরোধ/প্রতিকার করতে না পারলে আমাদের মরে যাওয়াই উচিত! বেঁচে থাকার অন্তত কোনো অধিকার আমাদের নেই।
প্রতিটা দিন, প্রতিটা ক্ষেত্রে হতাশার সংবাদ! আমরা শুধু পিছিয়ে যাচ্ছি৷ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখন স্বাভাবিক শব্দটির থেকেও বেশি অস্বাভাবিক হয়ে গেছে৷ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা একটা মেরুদণ্ডহীন জাতিতে আমরা দিন দিন অভূতপূর্ব সাফল্য দেখাচ্ছি!!
বেশিরভাগ মিডিয়াতেও এই ব্যাপারে তেমন সাড়াশব্দ নেই- কারণ কি? হয়তো “আমি জুনায়েদ” বলে কেউ ভিডিও করেনি বলে!

তনু…. বোন আমার, তুই তো বাংলাদেশের মানচিত্র। এদেশে ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হলে আন্দোলন হয়, সাঁওতাল ধর্ষিতা হলে সিনেমা হয়, পাহাড়ি ধর্ষিতা হলে আন্দোলন হয়, সংখ্যালঘু ধর্ষিতা হলে তুফান ওঠে মানবতাকর্মীদের ঠোঁটে…। বোন, তোর মত বাংলাদেশী ধর্ষিতা হলে আমরা নীরব থাকি, কারণ তুই আমাদের কেউ না…।

তোদের জন্য বিচার আগেও হয়নি, কোনদিনও হবে না। ধর্ষক জন্মদাতা এই সমাজের ধ্বংস চাই, পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন।

লেখাটি সংগ্রহ করেছেন- মানসূর আহমাদ।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...