সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৪:৪০
Home / আকাবির-আসলাফ / কুরআনী মোহনায় শূন্যতার ছায়া : শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিক প্রেরণার উজ্জল এক নমুনা

কুরআনী মোহনায় শূন্যতার ছায়া : শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিক প্রেরণার উজ্জল এক নমুনা

আকাবির-আসলাফ (২১)

12832437_1708689346051091_6227751677234885124_nইলিয়াস মশহুদ ::

ভূমিকা : জীবন প্রবাহে মৃত্যু এক অনিবার্য বিষয়। মৃত্যু আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। মানুষ বেঁচে থাকার আশা করতেই পারে। তাই বলে কি কেউ যুগ-যুগান্ত বেঁচে থাকতে পেরেছেন? মৃত্যু নামক পাষাণ দানবটার নিশ্চিত আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন? না! বরং এই মৃত্যু নামক দানবটিই ছোবল বসিয়েছে প্রত্যেক মানুষের জীবনে। তিনি যেই হোন না কেনো! যত ক্ষমতাই তার থাকুক না কেনো! কেউ কোনদিন রেহাই পায়নি এবং পাবেও না মৃত্যুর ভয়ানক হস্তক্ষেপ থেকে। আর এটাই সৃষ্টিকর্তা মহান মাওলার এক অমোঘ বিধান।
মানুষ মরণশীল জীব। তাকে মরতেই হবে। মৃত্যু মানুষকে হারিয়ে ফেললেও অনেকেই আবার নিজ কর্মগুণে সবার হৃদয় মন্দিরে চির স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকেন। ইতিহাসে হয়ে থাকেন অমর।
কর্মই মানুষের জীবন। যারা এই ধরাধম থেকে চলে যায় না ফেরার দেশে, তারা কেউই আর ফিরে আসতে পারে নি। কিন্তু বেঁচে থাকে তাঁর সুমহান কর্মগুলো। জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী সংক্ষিপ্ত এই সময়ে যদি ব্যক্তি, মানব সভ্যতার উন্নয়ন ও উজ্জ্বল কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, তখন তা দিয়েই মূল্যায়ণ করা হয় তাঁকে। তাঁর অতীত জীবনকে।
জন্মিলে মরিতে হয়- কথাটা সর্বজন স্বীকৃত। ‘মৃত্যু’ কথাটা চির বাস্তব সত্য। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা বিধিবদ্ধ নিয়মে চলছে এবং চলবে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মৃত্যু বরণ করছে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকভাবে। কিন্তু এসবের মধ্যে কিছু মৃত্যু এমন; যা মানব সমাজকে অপুরণীয় ক্ষতির সম্মুখিন করে। এসব মৃত্যুকে মানুষ সহজে মেনে নিতে পারে না। হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে স্মরণ করতে থাকে আজীবন।
যে সকল পীর বুযূর্গের আবির্ভাবে ধন্য হয়েছে বাংলার ভূমি, যারা নিজেদের সর্বস্ব মানব কল্যাণে উৎসর্গ করে স্মরণীয় হয়ে আছেন, আধ্যাত্মিক জগতে যারা অমর আসন দখল করে নিয়েছেন, তা’লীম-তায়াল্লুমে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদায় করে সর্বমহলে স্বীকৃত ও সমাদৃত হয়েছেন- উস্তাযুল কুররা হযরত শায়খে ভানুগাছী হুজুর রাহ. নিঃসন্দেহে তাদেরই একজন।
তিনি ছিলেন নববী চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আকাবির-আসলাফের পদাঙ্ক অনুসারী। সাহাবী আদর্শের উজ্জ্বল নমুনা। সরল-সঠিক পথের গগণচুম্বি মিনারা। দৃঢ় সংকল্প আর হিম্মতের উপর পর্বতসম অটল। ভ্রষ্টতার আঁধারে আচ্ছন্ন সমাজে প্রদীপ্ত মশাল। তাক্বওয়া ও আত্মশুদ্ধির মূর্তপ্রতীক। কুরআনুল করিমের একনিষ্ঠ খেদমতগার, কুরআনের বিশুদ্ধ পঠন-পাঠনে, কুরআনকেন্দ্রিক চিন্তার জাগরণে অত্যুজ্জ্বল, নিভৃতচারী কুরআনের সাধক, আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জামিয়া তা’লীমুল কুরআন গোটাটিকর সিলেট, সরইবাড়ী ইসলামিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা এবং ভানুগাছ জামিয়া তাজবীদুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিমসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ। মোটকথা, তিনি ছিলেন আলিম সমাজের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।
শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিকী রাহ.। তাঁর শূন্যতা অনুভব করছে দেশের আপামর জনতা। লক্ষ লক্ষ কুরআনপ্রেমিক ছাত্র-উস্তায। হৃদয়ের পরতে পরতে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি উছলে পড়ছে। কলজে চিরে বেরিয়ে আসছে- আহ! শায়খে ভানুগাছী হুজুর রাহ.!
“এসেছিলে যেদিন হেসেছিলো সবে
মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে সবে”
শ্লোকটির স্বার্থকতা শায়খে ভানুগাছী হুজুর নিজেই। পৃথিবীর বুকে তাঁর আগমন যেদিন হয়েছিলো, তখন ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই যেন হেসে হেসে তাঁকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়েছিলো। আরশ অধিপতিও হয়ত সেদিন তাঁর মাখলুকের এমন খোশ মেজাজ দেখে মুচকি হেসেছিলেন।
“হারানো দিনগুলো মনে পড়ে যায়
পুরনো স্মৃতিগুলো আমাকে কাঁদায়,
কেন হায়! হায়!! হায়!!!
অতীতের কাছে মন ফিরে যেতে চায়।”

জন্ম : ১৯৪৬ সালের ৫ জুন চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার অন্তর্গত বাখরপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে পিতা-মাতা মৌলভীবাজার জেলাধীন কমলগঞ্জ থানার ভানুগাছ সরইবাড়ী গ্রামে হিজরত করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর সম্মানিত পিতা মরহুম মাওলানা রহীম উদ্দীন পাটওয়ারী রাহ., দাদা মরহুম মুহাম্মদ মুলাম গাজী পাঠওয়ারী রাহ.। মাতা মরহুমা বেগম আলতাফুন্নেছা।

শিক্ষা : তিনি তাঁর জন্মস্থান চাঁদপুরেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরে সরইবাড়ী মক্তবে আরবী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৬০ সালে বি-বাড়ীয়া জেলার কসবা থানার ধজনগর গ্রামের ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলার মিরপুর জামিয়া হুসাইনিয়া মাদরাসায় অত্যন্ত সুনামরে সাথে আলিয়া চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করেন। উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৬৯ সালে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর সিলেটে ভর্তি হয়ে ১৯৭১ সালে কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পাশ করেন। তিনি কয়েকজন বিখ্যাত ক্বারী সাহেবের নিকট উচ্চতর ইলমুল কেরাতের শিক্ষা গ্রহণ ও সনদ লাভ করেন। তন্মধ্যে ১৯৬৪ সালে দেশের স্বনামধন্য ক্বারী হযরত ইব্রাহীম চাঁদপুরী রাহ. ’র নিকট পূর্ণাঙ্গ (কেরাতে হাফস) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দারুল উলুম দেওবন্দের কেরাাত বিভাগীয় প্রধাণ আল্লামা আবুল হাসান আ’জমীর কাছ থেকে কেরাতে “সাবআ আশারার” বিশেষ সনদ লাভ করেন।

অধ্যাপনা : ফারিগ হওয়ার পর নিজ এলাকায় ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সরইবাড়ী ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদরাসা। পরবর্তিতে মৌলভীবাজার সদর থানার ভাদগাঁও ইমদাদুল উলুম মাদরাসার শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বালাগঞ্জ ফিরোজাবাগ মাদরাসার শিক্ষা সচিব, জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। মৌলভীবাজার সদর থানার দামিয়া বাজার জামে মসজিদেও কিছুদিন ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যু অবধি তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিলেট নগরীর গোটাটিকরস্থ জামিয়া তা’লীমুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্টার সাথে পালন করে গেঝেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা : তিনি বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনার কাজ অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি : আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশ।
আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশ।
মহা-পরিচালক : আদর্শ ফুরক্বানিয়া মক্তব এসোসিয়েশন বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম : জামিয়া তা’লীমুল কুরআন গোটাটিকর সিলেট।
প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম : সরইবাড়ী ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদরাসা কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার।
প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম : জামিয়া তাজবিদুল কুরআন, ভানুগাছ, মৌলভীবাজার।
মুহতামিম : হাফিজিয়া মাদরাসা, টেবলাই বাজার, দোয়ারা, সুনামগঞ্জ।
প্রধান উপদেষ্ঠা : আঞ্জুমানে জাকেরীন বাংলাদেশ। (তাসাউফ ভিত্তিক সংগঠন)।
সাবেক সভাপতি : আশরাফুল মাদারিস, ফেনিবিল, সুনামগঞ্জ।
উপদেষ্ঠা : ইত্তেহাদ সমাজকল্যাণ পরিষদ সরইবাড়ী, ভানুগাছ।
সাবেক পরিক্ষক: বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (ইলমুল ক্বিরাআত)
সদস্য, শুরা ও আমেলা: তানজীমুল মাদারিস মৌলভীবাজার।
সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সাবেক সভাপতি : জাতীয় ইমাম সমিতি, কমলগঞ্জ থানা শাখা, মৌলভীবাজার।

আধ্যাত্বিকতা : তিনি ছাত্র থাকা অবস্থায়ই ইলমে তাসাউফের উপর গভীর চর্চা শুরু করেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইলমে তাসাউফ অর্জনের লক্ষ্যে কুতবে জামান শায়খে বর্ণভী রাহ..’র নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। শায়খের ইন্তেকালের পর তার বিশিষ্ট মুজাজ হযরত মাওলানা শায়খ আব্দুর রহমান শাওক্বীর কাছ থেকে ইজাযত লাভ করেন।
কুতবে জামান শায়খুল মাশাইখ হযরত মাওলানা লুৎফুর রহমান শায়খে বর্ণভী রাহ.’র খেদমতে অনেক দিন কাটিয়েছেন। তিনি তাঁর অনেক সফরের একান্ত সাথী ছিলেন। তৎসময়ে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম একটি গতিশীল ও মজবুত সংগঠন ছিল। ধারাবাহিকভাবে তিনি ইউনিয়ন, থানা ও জেলা শাখার দায়িত্ব পালন করেন। এক সময়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। এতে শায়খের সাহচর্য আরো বেশী লাভ করেন। বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক প্রোগ্রাম ও ওয়াজ-মাহফিলে শায়খের সফর সঙ্গী ছিলেন।
আঞ্জুমান প্রতিষ্ঠা : মাওলানা ক্বারী আলী আকবর সিদ্দীক ছাত্র অবস্থায়ই ইলমুল কেরাতের প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন। মুসলিম উম্মাহ’র অশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত দেখে তাঁর মনে এক অশান্তির দাবানল সৃষ্টি হয়। মুসলিম উম্মাহকে কিভাবে সীমাবদ্ধতার জাল ছিন্ন করে সহীহ কুরআনের তা’লীম দেয়া যায়, সেই ফিকিরে তিনি রাত দিন ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এমনি একদিন বালাগঞ্জ জামে মসজিদে তাঁর স্বীয় উস্তায আল্লামা নূর উদ্দীন আহমদ গহরপুরী রাহ.’র নিকট যেয়ে তাঁর পরামর্শ ও দোয়া নিয়ে কুরআনের সহীহ তা’লীম শুরু করলেন। প্রতিষ্ঠা হল “আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন বাংলাদেশ”।
১৪০২ হিজরির ৫ জুমাদাল উলা, ২৬ ফাল্গুন ১৩৮৮ বাংলা, ১০ মার্চ ১৯৮২ ইংরেজি। দেশ বরেণ্য উলামা-মাশায়েখ ও সুধী মহলের সু-পরামর্শে হাটি হাটি পা পা করে আঞ্জুমান আজ সফলতার চূড়ান্ত সীমায়।

উল্লেখযোগ্য শাগরিদ : এ পর্যন্দ প্রায় দশ হাজার পুরুষ/মহিলা তাঁর মারকাজ থেকে ইলমে কেরাতের সনদ লাভ করেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর কৃতী ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক’জন হলেন- মাওলানা ক্বারী আবুল বাশার, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা ক্বারী আব্দুর রহমান বিন মুশাহিদ রাহ., মাওলানা ক্বারী শাহ নজরুল ইসলাম, মাওলানা ক্বারী মুফতি আজীজুল হক, মাওলানা ক্বারী হারুনুর রশীদ, মাওলানা ক্বারী আশরাফ আলী মিয়াজানী, মাওলানা ক্বারী জালালুদ্দী, মাওলানা ক্বারী ফয়জুর রহমান, মাওলানা ক্বারী আব্দুর রহীম, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মরহুম রমিজ উদ্দীন রাহ., লন্ডন প্রবাসী ক্বারী আব্দুল মুকিত আজাদ, মুফতি তাজুল ইসলাম প্রিন্সিপাল দারুস সুন্নাহ বার্মিংহাম ইউকে, মাওলানা ক্বারী শাহ নূর লন্ডন, মুফতী সেলিম আহমদ লন্ডন, ক্বারী আব্দুল জলিল লন্ডন প্রমূখ। সৌদীআরব প্রবাসী মাওলানা ক্বারী নজির আহমদ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মৌলভী মুশাহিদ আলী, ক্বারী হোসাইন আহমদ, ইন্ডিয়া প্রবাসী মাওলানা ক্বারী মুখলিছুর রহমান, মাওলানা ক্বারী হারুনুর রশীদ, মাওলানা ক্বারী ইমদাদুল হক নোমানী প্রমূখ।

বিদেশ সফর : পবিত্র হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে তিনি একাধিকবার সৌদি আরব সফর করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত, দুবাই ও কাতার সফর করেন।

লেখালেখি : ইলমে কেরাত বিষয়ের উপর তা’লীমুস সিবইয়ান, তা’লীমুল ক্বিরাআত, তাজবীদুল কুরআনসহ বিভিন্ন কিতাব রচনা করেন। এছাড়াও তাঁর সম্পাদিত জামালুল কুরআন, হাদইয়াতুল ওয়াহিদ, ফাওয়াইদে মাক্কিয়্যাহ এবং ইলমে তাসাউফের উপর প্রণীত মুনাজাতে মাক্ববুল (একটি শাজারাহ) নামীয় পুস্তিকা রয়েছে। এছাড়াও বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও দারস বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। একসময়ে তরূণ লেখক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি মাসিক হেফাজতে ইসলামে নিয়মিত লেখালেখি করতেন।

বিবাহ : ১৯৭৫ সালে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানাধীন যশমঙ্গল (মুন্সিবাড়ী) নিবাসী মরহুম ওয়াছিল আলী চৌধুরীর ৪র্থ মেয়ে শামসুন নাহার চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মৃত্যুকালে তিনি ৪ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

সম্মাননা : ২০০১৫ সালে পবিত্র কুরআন শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের সেরা তিনজন গুণিজনকে সম্মাননা স্মারক ২০১৫ প্রদান করে “তাহসীনুল কুরআন ফাউন্ডেশন” হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। তন্মধ্যে সিলেটের আঞ্জুমানে তা’লীমুল কুরআন’র প্রতিষ্ঠাতা শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক অন্যতম।

অবস্থান : তাঁর স্থায়ী নিবাস ভানুগাছ মৌলভীবাজার হলেও তিনি আমৃত্যু তাঁর স্বপ্নের ফসল আঞ্জুমান কমপ্লেক্সে বসবাস করেছেন।

ইন্তেকাল : ৮ মার্চ ২০১৬ ভোর ৬.৩০ মিনিটের সময় সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি ৪ছেলে, ৪মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।  মাওলানা আলী আকবর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি ভানুগাছী হুজুর হিসেবেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁকে নর্থইষ্ট মেডিকেল হসপিটালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার সকালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়।
হুজুর আর এখন আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কিন্তু বেঁচে আছে ৭০ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনেতিহাস। আমাদের জন্য রেখে গেছেন তাঁর কর্মময় আল্লাহওয়ালা জীবনের সোনালী ইতিহাস। আজ এর সব কিছুই শুধু স্মৃতি। স্মৃতি আর স্মৃতি। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের ছাপ, মহব্বতের অনুপম লক্ষণ। আজীবন খেদমত করে গেছেন দ্বীনের তরে। ইলমে কেরাতের পিছনে। তাঁর এসব মহান কীর্তি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- তিনি মরেও অমর। তিনি দুনিয়াতে বেঁচে নেই কিন্তু বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ের অন্দরে। স্মৃতির বন্দরে।
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে যেনো জান্নাতের আ’লা মাক্বাম দান করেন। আমীন।

তথ্য সূত্র : মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী [হযরতের বড় সাহেবজাদা], মাওলানা ইনাম বিন সিদ্দিক [হযরতের ২য় ছেলে], মাওলানা ইবাদ বিন সিদ্দিক [হযরতের ৩য় ছেলে], মাওলানা ক্বারী হারুনুর রশীদ [হযরতের বড় জামাতা], জীবদ্দশায় হযরতের সাথে লেখকের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, মামুন মাসুম [হযরতের নাতি], মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা শামছুল হক শ্রীমঙ্গলী, মাসিক দাওয়াতুল কুরআনের বিভিন্ন সংখ্যা।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...