সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ ভোর ৫:৩৭
Home / অনুসন্ধান / ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম এর বাহিরে লেখালেখিতে পথ হারানোর সম্ভাবনা বেশি। : সৈয়দ আব্দুল্লাহ

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম এর বাহিরে লেখালেখিতে পথ হারানোর সম্ভাবনা বেশি। : সৈয়দ আব্দুল্লাহ

সম্প্রতি গণমাধ্যম কর্মীরা সৈয়দ আব্দুল্লাহ’র উত্তরসুরস্থ বাড়িতে হাজির হন। প্রচারবিমুখ এ গবেষক সচরাচর ছবি তোলা এবং সাক্ষাতকার প্রদানে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। অনেক অনুরোধের পর এবার কথা বলতে রাজি হন। আলাপচারিতায় নানা বিষয়ের অবতারণা করলেন এ গুণী সাহিত্যিক। তার অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য তোলে ধরেছে কমাশিসা…

কমাশিসা : স্যার, আপনি কেমন আছেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আলহামদুল্লিাহ; আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা দুর্বল। তবুও বই আর কলম নিয়ে সময় কাটাতে চেষ্টা করি।
কমাশিসা : আপনার সবচেয়ে সুখের দিন কোনটি? সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আমার নতুন বই প্রকাশের দিনগুলি।
কমাশিসা : আপনি কী কোন কিছুর অভাববোধ করেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : মুল্যবোধের অভাব। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সুস্থ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ চর্চা বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
কমাশিসা : আপনি কতটা সুখী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আল্লাহ আমাকে যে ইজ্জত-সম্মান দিয়েছেন, তাতে আমি সুখী। এখন পরকালে সুখী হবার চিন্তা করছি।
কমাশিসা : কোন বিষয়টি আপনাকে আনন্দ দেয়?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আমার পরবর্তী প্রজন্মকে আমার আজীবন লালিত স্বপ্নের পথে রেখে যাওয়া। আমার মতো আমার একমাত্র সন্তানেরও একের পর এক গ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে, যা আমাকে আনন্দ দেয়।
কমাশিসা : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখকদের লেখালেখির প্রধান উদ্দেশ্য কি হওয়া উচিত?
12596117_1669830749971891_445717219_nসৈয়দ আব্দুল্লাহ : ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম। এর বাহিরে লেখালেখিতে পথ হারানোর সম্ভাবনা বেশি।
কমাশিসা : আপনার দৃষ্টিতে সবচেয়ে সফল কারা?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : লেখক। কাগজের বুকে যে আচর লেগেছে তাই থাকবে? বাকী সব হারিয়ে যাবে। মানুষ ভুলে যাবে।
কমাশিসা : একজন লেখক কখন সফল?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : তার রচনা যখন জাতির প্রেরণার উৎস হয়। উজ্জীবিত করে মানুষকে। তখন সে লেখক নিজেকে সফল মনে করেন।
কমাশিসা : আপনি লেখালেখিতে কীভাবে এলেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আসলে আমারা বংশগত ভাবেই লেখালেখির সাথে জড়িত। প্রায় ২শত বৎসর ধরে বাংলা সাহিত্যকে লালন-বিকাশে এ পরিবারে ক্ষণজন্মা মানুষেরা কাজ করে আসছেন। ইতিহাসবিদ সৈয়দ মুরতাজা আলীর অনুপ্রেরণাই আমাকে সাহিত্যের পথ দেখিয়েছে।
কমাশিসা : আপনার পরিবারে অতীত ও বর্তমানে কে কে লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আছেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : তুমি তো অনেকের নামই জানো। আমাদের পরিবারে সাহিত্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র বহু ভাষাবিদ পন্ডিত কালজয়ী লেখক আন্তর্জাতিক পরিভ্রাজক, বাংলা রম্য গদ্যের স্বার্থক নির্মাতা ড. সৈয়দ মুজতবা আলী। তুমি যেখানে আছো এর উত্তর অংশতেই ছিলেন আমার আব্বার দাদা মাওলানা মুশাররফ আলী। কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন করেন। বাংলা, উর্দু, ফার্সি সাহিত্যে তার ছিল অসম্ভব দখল। এ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন অন্যতম সমাজ হৈতিষী সাহিত্য রতœ খান বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী। তিনি যখন তার আত্মজীবনী লিখেন তখন বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য আর কোন আত্মজীবনী ছিল বলে জানা যায়নি। ১৯২৭ সালে আমাদের পরিবারে খ্যাতিমান লেখিকা সৈয়দা হবিবুন্নেছা খাতুন “জীবনের সাথী” কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ করেন। তখনতো বাংলার মুসলমান সমাজে পুরুষদের মধ্যেও বিদ্যা শিক্ষা বিশেষ করে বাংলা ভাষা চর্চা ছিল না। জীবনের সাথী দ্বিতীয় সংস্করণ বেশ কিছুদিন পূর্বে ঢাকার উৎস প্রকাশন প্রকাশ করেছে। দেখতে পারো, চমৎকার বই। জাতীয় ইতিহাসবিদ সৈয়দ মর্তুজা আলী বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন। এশিয়াটিক সোসাইটি তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ‘আমাদের কালের কথা’ তার বিখ্যাত আত্মজীবনী গ্রন্থে আমাদের পরিবার উত্তরসুর ও বাহুবল এর বহু বর্ণনা রয়েছে। তিনি লিখেছেন বহু ঐতিহাসিক বই। সাংবাদিক, কলামিষ্ট সৈয়দ মুস্তফা আলী ছিলেন আমাদের পরিবারের আরেক আলোকোজ্জ্বল মনিষী। তার লেখা চমৎকার একটি গ্রন্থ ‘আত্মকথা’। তাতে তুমি উত্তরসুরের বহু বর্ণনা পাবে। তার সুযোগ্য পুত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার খ্যাতিমান সাংবাদিক এশিয়া প্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী। যিনি এস.এম.আলী নামে খ্যাত। এছাড়া আরো বহু প্রতিভার জন্ম হয়েছে এ পরিবারে। বর্তমানে আমার পুত্র হাকীম সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহও ইতিমধ্যে লেখক, গবেষক, উপন্যাসিক ও কবি হিসেবে বুদ্ধামহলে পরিচিত পেয়েছে।
কমাশিসা : সৈয়দ মুজতবা আলীর পরিচিতি আমরা স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে পাই ভারতের করিমগঞ্জে। এর কারণ কী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : এটা শিক্ষা বোর্ডের দৈন্যতা। তাদের উপস্থাপনায় বুঝা যায় মুজতবা আলী বাংলাদেশের লোকই নন। করিমগঞ্জ ছিল তার বাবার চাকরীস্থল। আর সেখানে তার জন্ম হয়। কিন্তু তার বাড়ি তো এই বাহুবলে। তার লেখা রচনাসমগ্র ১১ খণ্ডে তিনি তার পরিচয়ে উত্তরসুরের কথা লিখেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জ্ঞানকোষ, বাংলা পিডিয়ায় তার পরিচয় বাহুবলের উত্তরসুরের কথাই লিখা আছে। বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমীসহ দেশ-বিদেশে প্রকাশিত তার জীবনীতে উত্তরসুরের কথা পাওয়া যায়। তার পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এহেন উপস্থাপনা দুঃখজনক। কমাশিসা : আপনিতো সাহিত্যের কঠিনতম শাখা গবেষণাঙ্গনে কাজ করেন। পল্লীর নিভৃত কোণ থেকে তথ্য উপাত্ত কিভাবে সংগ্রহ করেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আজকে তো অনেক সহজ যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম। মোবাইল, ইন্টারনেট ছাড়াও হাতের কাছে পাওয়া যায় পত্র-পত্রিকা। আমাদের তারুণ বয়সে তো এসব ছিল না। তখন অনেক বেগ পেতে হয়েছে তথ্য সংগ্রহে। এ জন্য আমাকে বহু কষ্ট ও সময় নষ্ট করতে হয়েছে। দূর দূরান্তে বহু তথ্য ও দু®প্রাপ্য উপাত্তের জন্য গিয়েছি। সে সব বহু স্মৃতির। এতে লাভও হয়েছে। সংগ্রহে এসেছে বহু পুরাতন গ্রন্থ। পুরাতত্বের বেশ কিছু সংগ্রহ। তুমি ঠিকই বলছো পল্লীর নিভৃত কোণ। বাহুবল সদরের পাশে হলেও আমার বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই। নেই রাস্তা-ঘাটের সুযোগ-সুবিধা। তবুও বহু গবেষক পিএইচডি ও এমপিল গবেষণা সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য আমার এই গরিবালয়ে ছুটে আসেন। এইতো ক’দিন আগে এসেছিলেন কানাডার গবেষক আয়েশা ইরানী।12647944_1669830783305221_1924274374_n
কমাশিসা : গবেষণাঙ্গনে তো পাঠক কম, জনপ্রিয়তাও বেশি হয় না, লেখালেখির আয়ও কম; তারপরও আপনি দীর্ঘ সময় ধরে এই পথে কেন হাটছেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আমার এই গবেষণা ও সাহিত্য চর্চাতো কোন প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার জন্য নয়। এটা জীবনের তাগিদে, বিবেকের তাড়নায়। আত্মভোলা জাতি ও সমাজকে জাগাতে আমার এক নিরব আন্দোলন। প্রমথ চৌধুরীর ভাষায় বলব, “পয়সা পাইনি, পাইনি খেতাব, পাঠকের মুখ চেয়ে লেখিনি কেতাব, গবেষণা ও ইতিহাস চর্চা, টাকা আর সস্তা জনপ্রিয়তা নেই ঠিক কিন্তু সম্মান ভালবাসা ও বুদ্ধাপাঠকদের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। যারা লেখালেখিতে জনপ্রিয়তা লাভ করে টাকা কামান তাদের যশ আর প্রভাব সাময়িক। আর ইতিহাসবিদদের স্থান স্থায়ী। যত দিন যাবে এর গ্রহণযোগ্যতার বিস্মৃতি বাড়বে। আর টাকার কথা বলছো, আমিতো নিজের পেনশনের টাকা দিয়ে ধন-সম্পদ, জায়গা-জমি কিছুই করিনি, বই ছাপিয়েই বিলিয়েছি।
কমাশিসা : আপনি তো খেতাব পেয়েছেন তরফরতœ। পুরস্কারও পেয়েছেন দেশী-বিদেশী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : এটা আমার শুভাকাঙ্খীদের ভালবাসা হয়তো। অথবা কর্মের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু আমি পুরস্কার বা খেতাব পাওয়ার জন্য কোন কাজ করিনি।
কমাশিসা : বই ছাপালেন পেনসনের সমস্ত টাকা দিয়ে; এটা কেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : মানুষ সন্তানের জন্য সম্পদ করে। আমি করিনি। তার রিযিকের মালিক আল্লাহ। সন্তান অনেক সময় পিতাকে ভুলে যায় কিন্তু কাগুজে সন্তানগুলো কখনো জন্মদাতাকে ভোলে না। সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষায় ‘বই চির যৌবনা। অমর এবং অনন্ত। বই হাজার বছর পরও তার জন্মদাতাকে স্মরণ রাখে। ’
কমাশিসা : আপনি তো ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার দক্ষ সংগঠক- এ সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : যৌবন বয়স থেকেই সংগঠন আর সাহিত্য চর্চায় জড়িয়ে আছি। এতটাই জড়িত হই যে, এসব থেকে আর বের হয়ে আসতে পারিনি। বই, কাগজ-কলম; সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বহু প্রতিষ্ঠান আমার জীবনের অঙ্গ। আমার সীমিত প্রচেষ্ঠা ও চিন্তা চেতনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইতিহাসখ্যাত বহু সংগঠন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য গবেষণা পরিষদ, হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদ, বাহুবল পাবলিক লাইব্রেরী, বাহুবল প্রেস ক্লাব, তরফ সাহিত্য পরিষদ, ঐতিহ্যবাহী বাহুবল একুশে বইমেলা, খান বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী ফাউন্ডেশন, পুরাতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, জামিয়া মাহমুদিয়া হামিদনগর, উত্তর মাদরাসাসহ বহু প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠায় আমার সঙ্গে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন সচেতন অনেক ব্যক্তিবর্গ ও বহু নিবেদিত প্রাণ সহকর্মী।
কমাশিসা : আপনি সবচেয়ে বেশি ভালবাসা পেয়েছেন কোথায়?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : আমার সম সাময়িক লেখকগণের নিকট থেকে।
কমাশিসা : আপনার সাহিত্য চর্চার উল্লেখযোগ্য কর্ম কী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : সবকিছুইতো উল্লেখযোগ্য। তবে বিশেষ করে মহাকবি সৈয়দ সুলতান ও কুরাইশ মাগন ঠাকুর বিষয়ক মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের উপর আমার উপস্থাপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃত। আর “গবেষণার আলোকে তরফ বিজয়” গ্রন্থটি আমার একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসের আঁকড়। যা আমাকে খ্যাতি, যশ ও গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।
কমাশিসা : আপনার কোন গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে?
12666257_1669830786638554_2093241065_nসৈয়দ আব্দুল্লাহ : ‘রক্তস্নাত পলাশী’ যা উভয় বাংলায় সমাদৃত একটি পাঠকপ্রিয় গ্রন্থ।
কমাশিসা: ইতিহাসবিদদের কাছে আপনার কোন গ্রন্থটি সবচেয়ে বেশি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : ‘মুসলিম মনিষা ১ম ও ২য়’ খন্ড।
কমাশিসা : আপনার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কয়টি?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : পিতামহ ও উত্তরাধিকার, স্মৃতির পাতা থেকে ও পত্র সাহিত্য।
কমাশিসা : ‘পত্র সাহিত্য’ গ্রন্থে কোন দিকটি এসেছে?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : এখনতো মোবাইল ও ইন্টারনেটের যুগ। মোবাইল ও ই-মেইলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়ে গেছে। আমাদের সময়ে চিঠি-পত্রই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। পত্র সাহিত্যে আমার কাছে বিভিন্ন গবেষণামূলক বিষয়ে লেখা জাতীয় মনিষাদের পত্রাবলি স্থান পেয়েছে। যা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কমাশিসা : আপনি দেশের বাহিরের কোন বিষয় নিয়ে কী কাজ করেছেন?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : ‘আরকানের মুসলমান’ নামে আমার একটি গ্রন্থ আছে। যাতে বার্মার মুসলমানদের কথা উঠে এসেছে।
কমাশিসা : মহাকবি সৈয়দ সুলতান সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : নবী বংশের মহাকাব্য প্রণেতা সৈয়দ সুলতান ছিলেন তরফ অঞ্চলের লোক। ড. আহমদ শরীফ এ নিয়ে গবেষণা করে জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। আমি এ ব্যাপারে প্রচুর লেখালেখি করেছি। আমরা তার জবাব দিয়েছি। তা জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। আমরা তার নিজ বাড়ি সুলতানশীতে ২৫ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠা করেছি মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত আমি ওই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট সেক্রেটারী। এই সংগঠনটি প্রকাশ করেছে- ‘অধ্যাপক আছদ্দর আলীর বিখ্যাত মহাকবি সৈয়দ সুলতান’ নামক গ্রন্থ। এছাড়া ‘বাংলা সাহিত্যের নির্মাণ যুগের অন্যতম স্থপতি মহাকবি সৈয়দ সুলতান’ আমার দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল একটি প্রকাশিতব্য গ্রন্থ।
কমাশিসা : এখন আপনার সময় কীভাবে কাটে?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : এখন বয়স হয়েছে, অসুস্থতায় আক্রান্ত, আগের মতো আর সভা-সমিতিতে সময় দিতে পারি না। তবুও প্রতি মাসে তরফ সাহিত্য পরিষদের একটি সভা করতে হয়। বাকী সময় বাড়িতেই কাটে। দুই নাতি ও নাতনী আমার ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে। তবুও বই পড়ে আর লিখে সময় কাটাই। বিকেল বেলা বাহুবল বাজার থেকে একটু ঘুরে আসি। সেখানে আমার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা ‘হামদর্দ’ নামে পরিচিত।
কমাশিসা : মৃত্যু নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
সৈয়দ আব্দুল্লাহ : মৃত্যু চরম সত্য। এ সত্যকে উপলব্ধি করে প্রত্যেকেরই মৃত্যুর জন্য প্রতিক্ষণ প্রস্তুত থাকা উচিত। সব সময় ভাল কাজে সময় কাটাতে হবে। মনে করতে হবে এই মুহূর্তের কাজটি আমার জীবনের শেষ কাজ। যখন ডাক আসবে ‘লাব্বায়েক’ বলে মাওলার দরবারে উপস্থিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...