মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৩:০১
Home / আমল / কুরআন ও হাদিসে ওয়াজ মাহফিল: প্রেক্ষিত সমাজ

কুরআন ও হাদিসে ওয়াজ মাহফিল: প্রেক্ষিত সমাজ

Ehsan Bin _Komashishaএহসান বিন মুজাহির ::
ওয়াজ-মাহফিল যেহেতু একটি দ্বীনি বিষয়, তাই দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও রাসুল সা. সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহীনের অনুকরণ করা জরুরি। মানুষের ব্যক্তি জীবনের পরিশুদ্ধি ও আকিদা-বিশ্বাসের সংশোধনের ক্ষেত্রে ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়াজ-মাহফিল নতুন কোন বিষয় নয়। যুগ যুগ ধরে তা নিজস্ব গতি ও নিয়মে চলে আসছে। তবে ইদানিং নিয়ম-নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান যুগের ওয়াজ-মাহফিল, সভা-সম্মেলনগুলো নিছক একটি প্রথা ও বার্ষিক অনুষ্ঠান পালনের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। সেকালের মাহফিলগুলো সাধারণত মাদরাসাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠিত হতো। যেখানে মাদরাসা ছিল না, সেখানে এলাকার ধর্মপ্রাণ লোকদের উদ্যোগে এ ধরণের মাহফিলের আয়োজন করা হতো। আর একালে শুধু মাদরাসা নয়, প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা ও প্রতিটি রোডে রোডে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যুবসংঘ/সংস্থাা/পরিষদ ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সেকালে মাদরাসার মাহফিলগুলো জনসাধারণের স্বতস্ফুর্ত আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হত। কোন কোন দ্বীনি মাদরাসার মাহফিল কয়েক দিনব্যাপী হতো। দেশ-বিদেশের সমকালীন খ্যাতিসম্পন্ন ওলামায়ে কেরাম তাতে উপস্থিত থেকে কুরআন হাদিসের আলোকে সারগর্ভ নসিহত পেশ করতেন। মুসলমানদের ইমান-আকাইদ ও আমলী সংশোধন. আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং যুগসচেতন হওয়ার আহব্বান করতেন। তৎকালীন ওলামা ও বুযূর্গানে দ্বীনদের কাছে ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতের কোন ঘাটতি ছিল না।

বর্তমানে সামাজিক সংগঠন, ব্যক্তি উদ্যোগের আয়োজিত মাহফিলের ইতিবাচক দিক কিন্তু একেবারে কম নয় । মদ-জোয়া, যাত্রা, নর্তকী ও গানের বিপরীতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন অবশ্যই প্রশসংসার দাবি রাখে। তবে মাহফিলগুলো যাতে করে রেওয়াজ ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। ইলম এবং আমলওয়ালা উলামা ও বুযূর্গানে কেরামকে মাহফিলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে । সুন্দর সূর-কন্ঠ, মাঠ কাঁপানো ও কন্টাক্টওয়ালা বক্তাদের দিয়ে আজীবন ওয়াজ করালে একজন মানুষেরও হিদায়াত হবে না। এটা অযথা টাকা খরচ ও সময় নষ্ট এবং বিনোদন বৈকি। একথা স্বীকার করতে বাধ্য, বর্তমানের মাহফিলগুলো আগের মতো সেই প্রভাবময় নয়। আগে বক্তাদের যেরকম ইলম ছিল, ছিল সেরকম আমলও। ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতেরও কোন ঘাটতি ছিল না। এককালে মুজাহিদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী, খতীবে আযম মাওলানা সিদ্দিক আহমদ, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, খতীব মাওলানা উবায়দুল হক, মাওলানা নুর উদ্দীন আহমদ শায়খে গহরপুরী, ফখরে বাঙাল মাওলানা তাজুল ইসলাম, কুতুবে দাওরান শায়খ লূৎফুর রহমান বর্ণভী, মাওলানা আবদুর রহমান শায়খে দিঘলবাগী, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন শায়খে বালিয়া, কুতবে বাঙাল মাওলানা আমিন উদ্দিন শায়খে কাতিয়া, আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া, মাওলানা আব্দুর রহমান শায়খে মাধবপুরী, মাওলানা ফজলুল করিম চরমোনাই, মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, আব্দুল হক শায়খে গাজিনগরী, দরগার ইমাম আরিফ বিল্লাহ মাওলানা আকবর আলী, শায়খ আব্দুল্লাহ হরিপুরী, মাওলানা আব্দুল গাফফার মামরখানী, মাওলানা মুশাহিদ আহমদ বায়মপুরী, মাওলানা আব্দুল হাই দিনারপুরী (রাহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা) প্রমুখ বুযূর্গানে দ্বীন নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে দেশের আনাচে-কানাচে সফর করতেন। বাংলার মানুষদেরকে দ্বীনের পথে আনার জন্য খেয়ে না খেয়ে (পারিশ্রমিক-হাদিয়া ছাড়া) মাহফিলগুলোতে হাজির হয়ে গুরুত্বপূণ নসিহত করতেন।

সে যুগের মাহফিলগুলোর প্রভাব এখনকার মাহফিলোতে আর নেই। তাদের প্রতিটি কথা ধর্মপ্রণ মুসলমান লুফে নিয়ে আমলে পরিণত করতেন। সাদামাটা সহজ-সরল লৌকিকতাহীন সে ওয়াজগুলো দ্বীন শিখার পরিবেশ এবং আমলের স্পৃহার স্ফুরণ ঘটতো। তখনকার মাহফিলগুলো চটে বসে জান্নাতি আবহে মোগ্ধ হতেন শ্রোতারা। আজ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এখনকার ওয়াজ মাহফিলগুলোতে বিশেষ অপচয়। শ্রুতাদের নিবেদন রক্ষার্থে বেশিরভাগ মাহফিলগুলোতে কন্টাক্টওয়ালা বক্তাদের অমন্ত্রণ। আসলে এটা সমাজেরই দোষ। সমাজ যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনি মানুষের ভেতরের খুলুসিয়াত ও লিল্লাহিয়াতের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ওয়াজের উদ্যেশ্য কি হবে, ওয়াজ কি ও কেন- এটা অনেকেইর অজানা। বক্ষমান নিবন্ধে ওয়াজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও বর্তমান প্রেক্ষিত নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। হাদিসের আলোকে বলা যায় যে, ওয়াজের উদ্দেশ্য হবে মানুষকে ইহ-পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শুধুই ঐ আমল কবুল করেন, যা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয় । [বাইহাকী শরীফ] হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. ইরশাদ করেন, যে ভাষার প্রাঞ্জলতা শিখে মানুষের অন্তরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরজ ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না’ । [মিশকাত- ৪১০] ইমাম গাজালী রাহ. তার লিখিত গ্রন্থ “আইয়্যুহাল ওয়ালাদ” নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ওয়াজকারীদের ওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য যেন হয় মানুষকে দুনিয়া হতে আখেরাতের প্রতি, গোনাহ থেকে নেকির প্রতি, লোভ থেকে পরিতুষ্টির প্রতি আহবান করা । এরই ভিত্তিতে বক্তাগণ শ্রুতাদেরকে পরকালমুখী ও দুনিয়াবিমুখ করে গড়ে তোলার প্রয়াস করা, ইবাদত-বন্দেগী ও তাকওয়ার দীক্ষা দান করা, সর্বোপরি অত্মিক অবস্থা পরিবর্তন সাধনা করা। এটাই হলো প্রকৃত ওয়াজ। আর যে বক্তা এরুপ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে ওয়াজ করবে, তার ওয়াজ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। দ্বীনদার মুসলমানগণ যেন এ রকম বক্তা ও ওয়াজ সম্পূর্ণরুপে পরিহার করে। [মাজালিসূল আবরার- ৪৮২] বক্তাদের জন্য পাঁচটি জিনিস অত্যাবশ্যক। সেগুলো হলো:

১. ইলম, কেননা ইলমহীন ব্যক্তি সঠিক ও বিশুদ্ধ বয়ান করতে অক্ষম।
২. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্য।
৩. যা বয়ান করবেন তা আমল করা।
৪.বক্তা শ্রুতাদের ওপর দয়াদ্র ও বিনম্র হয়ে কথা বলা।
৫. বক্তা ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল হওয়া। [ফাতওয়ায়ে আলমগীরি ৪/১১০] উপরুক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি, দ্বীনের দাওয়াত ও মানুষের হিদায়াতকে লক্ষ্য না বানিয়ে যতই ওয়াজ হোক, তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না এবং এর দ্বারা মানুষের কোন উপকারও সাধন হয় না । অর্থকড়ি,যশ-খ্যাতি ও দুনিয়াবী কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য যারা ওয়াজ করে বা ওয়াজের আয়োজন করে, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়াজকারী ব্যক্তির জন্য দুটি গুণ থাকা অপরিহার্য । যদি এই দুটি গুণ না থাকে, তাহলে মানুষের হিদায়াত হবে না। কুরআনুল কারীমে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তাদেরকে অনুসরণ করো, যারা দ্বীনি বিষয়ে কোন পারিশ্রমিক চায় না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত।” [সূরা ইয়াসিন- ২১] ওয়াজকারীর দুই গুণের প্রথমটি হল, সে অপরকে যে পথের উপদেশ দিবে, সে নিজে সেই পথে চলবে। অর্থাৎ অপরকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার পূর্বে প্রথমে নিজে দ্বীনের পথে চলা।
দ্বিতীয় গুণ, ওয়াজ করবে নিঃস্বার্থে। অর্থাৎ দাওয়াত দিবে মানুষকে কোন বিনিময় ব্যতিত।
মানুষের উপকারের জন্য, নিজের স্বার্থে রজন্য নয়। যদি কোন বক্তা এরকম বলেন যে, ওয়াজ করবো এত সময়, এত টাকা দিতে হবে। অগ্রিম কত দিবেন বলুন, তাহলে তার ওয়াজ দ্বারা কোন মানুষের হিদায়াত আসবে না। কারণ সে দ্বীনের দাওয়াত বা ইসলাম প্রচারের জন্য সে ওয়াজ করে না, যা করে টাকার লোভে। আর আল্লাহ বলেছেন যদি ওয়াজকারীর উপরোক্ত দুটি গুণ থাকে, তাহলে তাকে অনুসরণ করবে। তার ওয়াজে তোমাদের হিদায়াত আসবে।
তাফসিরে মাআরিফুল কুরআনে আল্লামা মুফতি শফী রাহ. লিখেছেন, ‘দুই শ্রেণীর বক্তার বক্তৃতায় মানুষের কোন হিদায়াত হয় না। এক. যারা মানুষকে আমলের কথা বলে, ভাল পথে চলার কথা বলে আর নিজেই এর আমল করে না। ২. আরেক শ্রেণী হল, যারা ওয়াজ করে মানুষের কাছে টাকা চায়। এই দুই প্রকার বক্তাদের বক্তব্যে মানুষের হিদায়াত ও কোন উপকার হবে না।
যে ওয়াজের মুল উদ্দেশ্য হয় লোক দেখানো ও প্রসিদ্ধি লাভ, সে ওয়াজ যতই চমকপ্রদ হোক না কেন, মানুষ এর থেকে কোন হেদায়াত পাবে না। যুগ যুগ ধরে জাতির রাহবার উলামায়ে কেরাম উম্মতের হিদায়াতের লক্ষে দ্বীনের অন্যান্য খিদমাতের পাশাপাশি একনিষ্টতার সাথে ওয়াজে মাহফিলের কাজ চালিয়ে গেছেন। খেয়ে না খেয়ে, দেশ দেশান্তরে সফর করে দ্বীন প্রচার করেছেন হযরত উলামায়ে কেরাম। তথ্যনির্ভর ইখলাস ও নিষ্ঠাপূর্ণ নসিহতের মাধ্যমে কুরআন-হাদিসের কথাগুলো পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। আওয়াম মানুষও তাদের বয়ান শুনে ইতিবাচকগুলো গ্রহণ ও নেতিবাচগুলো বর্জন করে খুঁজে নিয়েছেন ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির পথ।
বর্তমান যামানায় দাওয়াতী কার্যক্রম (ওয়াজ মাহফিল) বহুগুণে বড়েছে। মাদরাসা, মসজিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘ কর্তৃক অনুষ্ঠিত হচ্ছে সভা সম্মেলন। এগুলো খুব মহৎ উদ্যোগ। যারা এগুলোর আয়োজন করেছেন, আল্লাহর দরবারে ছহিহ নিয়তের কারণে অবশ্যই এর প্রতিদান পাবেন, পূণ্যের অধিকারী হবেন । তবে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, এ যুগে এত এত ওয়াজ মাহফিল প্রতিনিয়ত হচ্ছে মানুষের মধ্যে সে অনুপাতে খুব একটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কারণগুলো খতিয়ে দেখা দরকার! তবে এর অন্যতম কারণ বোধয় ইখলাস ও নিষ্ঠার ঘাটতি। হিদায়াত ও আত্মশুদ্ধি পরিবর্তে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার মানসিকতা আর সঠিক ও তথ্যনির্ভর কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বয়ান বাদ দিয়ে কিচ্ছাকাহিনী মাধ্যমে টাইমপাস বৈকি!
‪‎আল্লামা‬ ইবনুল জওযী রাহ. তার লিখিত গ্রন্থ “তালবীসে ইবলীস” নামক কিতাবে বক্তাদের হাল-হকীকত বর্ণনার অধ্যায়ে লিখেছেন, আগেকার যুগে বক্তাগণ আমলওয়ালা আলেম ছিলেন । এখনকার সময়ে আমলওয়ালা আলেমর খুবই অভাব। এখনকার সময়ে এই কাজটিকে জাহিলরা তাদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে । তারা জরুরুতে দ্বীন ও আমলের আলোচনা বাদ দিয়ে মূর্খ আওয়ামের পছন্দসই বিভিন্ন কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনায় প্রবৃত্ত হয়েছে। [তালবিসুল ইবলীস-১৬৮] ‎মুফতিয়ে‬ আজম ফয়জুল্লাহ রাহ. রাসায়েলে মুফতি আজম নামক কিতাবে লিখেছেন, ওয়াজ হল ‘ইনজার’ তথা মানুষকে গোনাহ থেকে ভয় দেখানো ও সতর্ক করার নাম। ওয়াজে কোকিল কণ্ঠে, টেনে টেনে বয়ান করা এবং গানের সূরে শে’র কবিতা গাওয়া ঠিক নয়।
আল্লামা ইবনুল জাওযী রাহ. বলেন, এই যুগে অধিকাংশ বক্তারাই ওয়াজে বিভিন্ন কিচ্ছা-কাহিনী ঘটনা বলে সময় অতিবাহিত করে দেন । জরুরি ফারায়েয ও আমলের আলোচনা তাতে খুব অল্পই হয়ে থাকে ।
তাদের ওয়াজ সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণরুপে অসম্পূর্ণ থাকে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকে। কিচ্ছা কাহিনী শুনে শ্রুতারা আর কতটুকী উপকৃত হতে পারেন? [তালবিসুল ইবলিস- ১৭১])
মুফতি ফয়জুল্লাহ রাহ. বলেন, বর্তমান যুগে ওয়াজ মাহফিল খুব কম লোকই সহীহ নিয়ত নিয়ে আসে এবং বক্তারাও দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন না। পার্থিব স্বার্থের জন্য বক্তারা মাহফিল করে থাকেন। শ্রুতারাও সুন্দর কণ্ঠওয়ালা বক্তাদের নাম শুনলে তার ওয়াজ শুনতে আসেন । আর এ কারণেই হিদায়াত না নিয়ে বঞ্চিত হয়ে বাড়ি ফিরে যান। [ইজহারুল মুনকারাত- ৫]

শেষ কথা: সম্মানিত ওয়াজকারী ব্যক্তিগণ ওয়াজ করবেন আখেরাত অর্জনের জন্য, দুনিয়ার সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের অভিলাষে নয়। চুক্তিভিত্তিক টাকা নিয়ে কিছু বক্তা ওয়াজ করেন, তাদের কথায় মানুষের হিদায়াত কতটুকু হতে পারে, সে নিয়ে হক্কানি উলামায়ে কেরাম সবসময়ই সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন। বক্তাদের পথ খরচ বা তার অমূল্য সময়ের জন্য যে হাদিয়া দেয়া হয়, তা অবশ্যই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং সন্তুষ্টচিত্তে হওয়া উচিৎ। আয়োজকদেরও উচিৎ যে বিজ্ঞ আলেমকে তারা অতিথি ও আলোচক হিসেবে দাওয়াত করছেন, তাঁর যথাযথ সম্মান করা।

লেখক: সাংবাদিক, কলাম লেখক ও তরুণ আলেম

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...