সোমবার, ২৭শে মে, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৪:৩৮
Home / অনুসন্ধান / বিজয়ের মাস ডিসেম্বর (০৯)

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর (০৯)

imagesইলিয়াস মশহুদ ::

আজ বুধবার। ৯ ডিসেম্বর ২০১৫। লড়াকু মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীকে সাথে নিযে় তুমুল বেগে এগিযে় যেতে থাকে। এ এক অন্যরকম দৃশ্য। অন্যরকম অভিজ্ঞতা। প্রতি মুহূর্তেই রচিত হতে থাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ জযে়র অমর গাঁথা।
১৯৭১ সালের এদিন চারদিকে শুধু পাক হানাদারদের পতনের খবর। ঢাকা থেকে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বেরোবার সব পথ বন্ধ। বন্ধ হয়ে যায় তাদের ঢাকায় প্রবেশও। সর্বত্র মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অগ্রাভিযান। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ঢাকা দখল। মুক্তিপাগল বীর বাঙালির কাছে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে প্রশিক্ষিত পাক সেনারা। মাত্র একদিন আগেই বেতারসহ বিমানে হাজার হাজার লিফলেট ছড়িয়ে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় মিত্রবাহিনী। মিত্র ও মুক্তিবাহিনী তখন বীরদর্পে দেশের অধিকাংশ জেলায় বিজয় কেতন উড়িয়ে ঢাকা দখলের জন্য মরিয়া। একটাই লক্ষ্য হানাদার ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয়। তাই চারদিক থেকে ঘিরে ঢাকামুখী মিত্রবাহিনী।
একাত্তরের ডিসেম্বরের এদিন চারদিক থেকে মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হলো। তখন তাদের চোখের সামনে শুধু ঢাকা। এর আগেই তাদের প্রথম লক্ষ্যটা পূরণ হয়ে গেছে। অর্থাৎ মিত্রবাহিনী দেশের ভেতর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে বেশ ভালোভাবেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাদের ঢাকায় ফেরা বা পালানোর প্রায় সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এবার দ্বিতীয় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেলো মিত্রবাহিনী। দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানো এবং সেখানে থাকা পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে জেনারেল নিয়াজীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। সবদিক থেকেই মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হলো। মিত্রবাহিনী প্রথমে পৌঁছল আশুগঞ্জ, দাউদকান্দি এবং চাঁদপুরে। পশ্চিমে একটি বাহিনী পৌঁছল মধুমতি নদীর তীরে। অন্য আরেক বাহিনী কুষ্টিয়াকে মুক্ত করে চললো গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে। হালুয়াঘাট থেকে এগিয়ে আসা বাহিনীও পৌঁছে গেলো ময়মনসিংহের কাছাকাছি। নৌবাহিনীর গানবোটগুলোও ততোক্ষণে নানা দিক থেকে এগোচ্ছে ঢাকার দিকে এবং বিমানবাহিনীর আক্রমণও পুরোদমেই চলছে।
এদিন বিকালে মিত্রবাহিনীর প্রধান জেনারেল অরোরা কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এখন ঢাকা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন, পাকিস্তানিরা যদি মাটি কামড়ে লড়াই চালাতে চায় তাহলে আপনি কি করবেন? জেনারেল অরোরা জবাব দিলেন, ওরা (পাকিস্তানি বাহিনী) কি করবে জানি না। তবে আমরা বড় ধরনের লড়াইয়ের জন্যই প্রস্তুত। এদিকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রচ- আক্রমণের মুখে দাঁড়াতেই পারছিল না পাক হানাদাররা। আত্মরক্ষার জন্য প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনীর কমান্ডের কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরা বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী দুদিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক অংশ রয়েছে হিলির উত্তরে, আরেকাংশ রয়েছে দক্ষিণে। দুই অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের আক্রমণ মিত্রবাহিনীর আক্রমণের গতিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।
একাত্তরের এই দিন আরো হানাদারমুক্ত হয় কুমারখালী (কুষ্টিয়া), তিতাস (কুমিল্লা), পাইকগাছা (খুলনা), গাইবান্ধা, নকলা (শেরপুর), অভয়নগর (যশোর), ঈশ্বরগঞ্জ, গফরগাঁও ও ত্রিশাল (মোমেনশাহী), নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকা।

তথ্য সহায়তা. উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

সিলেটের পবিত্র মাটি আবারও কলংকিত হলো রায়হানের রক্তে!

পুলিশ ফাড়িতে যুবক হত্যা: সিলেটজোড়ে চলছে রহস্য! এলাকাবাসীর প্রতিবাদ!! সিলেট নগরীতে রায়হান নামক এক যুবকের ...