রবিবার, ২৬শে জুন, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৫:৩৪
Home / অনুসন্ধান / মাওলানা জাকারিয়া বেকসুর খালাস : প্রসঙ্গ কিছু কথা
লুতফুর রহমান যাকারিয়া

মাওলানা জাকারিয়া বেকসুর খালাস : প্রসঙ্গ কিছু কথা

লেখক
লেখক

এহসান বিন মুজাহির :: 

পবিত্র কুরআন কারীমের সূরায়ে ইসরার ৮১ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যখন সত্য এসে মিথ্যার সামনে দাঁডায় তখন মিথ্যা বিলুপ্ত হয়। মিথ্যা তাঁর প্রকৃতগত কারণইে বিলুপ্ত হয়ে যাযয়’। সত্যের জয় সবসময় অনির্বায এবিষয়টি আদালতের রায়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। কওমী অঙ্গনে মৌলভীবাজারের খুব পরিচিত মুখ, তারুণ্যের অহঙ্কার, আপোসহীন আলেম, ফেসবুকে অনেকেরই পরিচিত মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়া । তিনি বরুণা টাইটেল মাদরাসার সাবেক শিক্ষক ও মাসিক হেফাজতে ইসলামের সার্কুলেশন ম্যানেজার ছিলেন। বর্তমানে মৌলভীবাজারের জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর উম্মাহাতুল মুমিনীন ক্যাডেট মাদরাসার শিক্ষা প্রধানের দায়িত্বরত। সহজ সরল, প্রাঞ্জল ও সংগ্রামী তরুণ আলেম মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়া। সুন্দরও র্আতমানবতার কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে এক ঝাক তরুণদের নিয়ে গঠন করেন কমলগঞ্জ সমাজকল্যাণ পরিষদ। কমলগঞ্জ সমাজকল্যাণমুলক কাজে তার অবদান অনস্বীকর্য। সদা হাস্যরসে কথা বলা, যে কাউকে খুব সহজইে বুকে টেনে নেয়া এসব তার অন্যতম গুণাবলী। ছাত্রযমানা থেকেই ছিলেন আন্দোলনমুখি। সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদরাসায় মাদরাসায় পড়াকালীন সময় থেকে তিনি জালিমের বিরুদ্,ধে ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন করে গুরুতর জঘমের শিকার হয়েছিলেন! ।এখন ছাত্রআন্দোলন নয়; গণআন্দোলনে তার স্পৃহা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে তিনি লড়ে যাচ্ছেন, অনলাইন-অফলাইন, মাঠে- ময়দানে! সত্যের পক্ষে লড়াই করার অপরাধে বারবার মুখোমুখি হয়েছেন বিপদের! জেলে গিয়েছেন, মিথ্যে মামলার জালে পড়েছেন! রাজনৈতিক কারণে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে ২০১৩ সালে তার উপর উদ্দেশপ্রণোদিত হয়ানিমুলক মিথ্যে মামলা দেয়া হয়েছিলে। আজ সে মিথ্যে মামলার রায়ে তার বিজয় হয়েছে।

গত ৩০ নভেম্বর লুৎফুর রহমান জাকারিয়ার উপর শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি মিথ্রে মামলা দায়ের করা হয়েছিলা। ১মাস ২১ দিন দিন মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে বন্দি । এসময় তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় পুলিশ। টানা ৫১ পরে জামিনে মুক্তি পান মাওলানা জাকারিয়া। রেললাইন চুরী, ট্রেনে আগুণ লাগানোর মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করার কারনেই বিনা অপরাধে সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বন্দিসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছিলো।

দায়েরকৃত এ মিথ্যে মামলা আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) অবসান হয়েছে। আসামী মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়াকে আদালত সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত করে মামলা থেকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে। আসামী পক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ গ্রহণ করেন সম্মানিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুনিম ও অ্যাডভোকেট নাজমুল হুসেন বুলবুল। শুনানী শেষে মাননীয় দায়রা জজ আদালত লুৎফুর রহমান জাকারিয়া ও তারেকুল ইসলামকেব নির্দোষ ঘোষনা করে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। মামলার এই রায়সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর রাত্র ২টায় রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় থেকে তুলে নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় আটতক দেখান কমলগঞ্জ থানার ওসি নীহার রঞ্জন নাথ। আটকের পর ওসির বক্তব্য ছিলো মাওলানা লুৎফুর রহমান ওরফে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় নাশকতা পরিকল্পনাকারী। সন্দেহ করা হচ্ছে তিনি জঙ্গী সংগঠনের সাথেও জড়িত। এ জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লুতফুর রহমান যাকারিয়া
লুৎফুর রহমান যাকারিয়া

মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো সম্পুর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে! ২০১২ সনে মুন্সীবাজার ইউনিয়নে সার্কাসের নামে বেহায়াপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব, নাস্তিক ব্লগার বিরোধী আন্দোলনে হেফাজতে ইসলামে ব্যানারে জেলাসহ উপজেলায় মিছিল মিটিং সমাবেশে অগ্রণী ভূমিকা, ১৮ দলীয় জোটের সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচী পালনের তার সর্বাত্মক ভূমিকা পালনে নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে সরকারি বাহিনী পুলিশ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল তাকে গ্রেফতার করায়। অগণিত শোকর আল্লাহর, মজলুম আলেমে দ্বীনের বিজয় হয়েছে, নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন তিনি । মৌলভীবাজার দায়রা জজ আদালত আজ (রবিবার. ১১ অক্টোবর) তাকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছেনন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অল্লাহর সাহায্য করেছেন। এ রায় সত্যের জয়! মজলুমের বিজয়! ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, হয়রানি করে সত্যকে মিথ্যা বানানো যায়নি! সত্যের বিজয় অনিবার্য!

এহসান বিন মুজাহির

সাাংবাদিক, কলামিস্ট

About Abul Kalam Azad

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...