বুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১২:২৪
Home / অনুসন্ধান / গরুর গোশত কি তাহলে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে?

গরুর গোশত কি তাহলে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে?

ইউসুফ বিন তাশফিন:

ঢাকা চারুকলা আমাদের চোখ খুলে দেয়। গরুর গোশতের তেহারির অভিযোগে বাবুর্চিকে বেধম মারপিঠ করা হয়। তারপর তলের বিড়াল আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসেত থাকে। হোটেলে হোটেলে নো বীফ’র সাইনবোর্ড গোটা জাতিকে হতবাক করে দেয়। হিন্দুরা গরুর গোশত খায় না। না খেতে পারে, তাতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। গরুর গোশত হিন্দু ছাড়া দুনিয়ার সকল মানুষ তৃপ্তি ভরে খায়। কথা হলো হিন্দুরা গরুর গোশত খায় না তাই আর কেহ খেতে পারবে না? হ্যাঁ খ্রিস্টান, ইহুদী, নাস্তিক, অধার্মিক যে কেউ খেতে পারে শুধু হিন্দুদের প্রতিবেশি কোনো মুসলমান হলে সে আর গরু খেতে পারবে না। আসামে ভারতের জংগী দল বিজেপে বলেছে যে, তারা ওখানে গরু খাওয়া নিষিদ্ধ করবে না। কারণ সেখানের অধিকাংশ খ্রিস্টান। কিন্তু ইউ.পিসহ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গরু জবাই শুধু নিষিদ্ধ নয় মৃত্যুদণ্ডও বটে। কেন তাহলে এমন আচরণ শুধু মুসলমানদের সাথে?

ধর্মনিরপেক্ষতার মানে কি শুধু মুসলমানদের অধিকার হরণ? ভারত যতই মুখে দাবী করুক যে তারা গণতন্ত্রকামী, কিন্তু বাস্তবে সেখানে হিন্দুত্ববাদ তথা হিন্দু জংগীবাদ তারা কায়েম করে রেখেছে। আসলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কোনঠাসা করে রাখার এটিও একটি প্লান। দিন কিন্তু সমান যায় না। সামনে আরো দিন আছে। হিন্দুরা শক্তির পুঁজা করে। একদিন পুঁজা তোরা করেছিলি, ইনশাআল্লাহ আরো কিছুদিন পর মুসলমানদেরও পুঁজা তোমরা শুরু করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ভারতে মুসলমানরা হলো হিন্দুর প্রতিবেশি। আর বাংলাদেশে হিন্দুরা মুসলমানদের প্রতিবেশি। তাহলে এখানে মুসলমানরা কি তাদের জন্য গরু খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে? কেন? কার স্বার্থে? বৃটিশ আমলে বেনিয়ারা জোর করে মুসলমানদের শুকরের গোশত খাওয়াতো, যা ইসলামে মুসলমানদের জন্য হারাম। কিন্তু কোনো মুসলমান কি কোনো হিন্দুকে জোর করে গরুর গোশত খাইতে বাধ্য করেছে? না, করার কি দরকার? সে খাবে না, এটা তার বিশ্বাসের বিষয় নাকি প্রথা আর যাই হউক সে তার মতো থাকুক। কিন্তু কেন ওরা মুসলমানদের নিজেদের মতো থাকতে দিতে চায় না?

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। ধর্মনিরপেক্ষতার দেশ। বলা হয় যার তার ধর্ম পালনের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে এখানে মুসলমানদের হালাল গোশত কেন হারাম করে দেয়া হবে? কেন তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে? এই বিষয়টা আমাদের এখন ভাবিয়ে তুলেছে।

হিন্দুরা এতো হিংস্র কেন? কেন তারা পরমত সহিঞ্চু নয়? কেন তারা জোর করে নিজের ধর্ম বিশ্বাস অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়?

একটি মুসলিম দেশের প্রধান বিচারপতি হলেন হিন্দু। তিনি ইউরোপে কিছু দেশের সুপ্রিমকোর্টর আদলে বাংলাদেশের বিচারালায়ের সামনে গ্রিকমূর্তির ভাস্কর্য স্থাপন করেন। একবারও ভাবলেন না যে, এটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান দেশের জন্য বেমানান। তিনি ইউরোপীয় দেবতার মূর্তিকে শাড়ি পরিয়ে দিয়ে বাঙালী বানানোর অপচেষ্টা করতেও ক্রটি করেননি।

আমরা শোনেছি যে, ঢাকা সুপ্রিমকোর্টর আশেপাশে গরুর গোশত হারাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে? কেন তাহলে? এটা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিকে জোর করে হিন্দু বানানোর ষড়যন্ত্র? এখন কদিন পর যদি এখানে কোনো খ্রিস্টান বিচারপতি বসেন! তাহলে তিনি সকলকে মদপানসহ শুকর খেতে হয়তো প্রভাবিত করবেন? আবার মুসলমান কোন বিচারপতি হলে হিন্দুদের গরুর গোশত খাওয়াবেন? সভ্য সমাজের জন্য এর চেয়ে খারাপ ‍উদাহরণ আর কি হতে পারে?

আমরা মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাই, সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে অবিলম্বে গ্রিক মূর্তি অপসারণ করুন। আদালতপাড়ায় গরুর গোশতের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আমরা সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানরা আপনার পদত্যাগ চাইতে বাধ্য হব। কারণ আপনি সুপ্রিমকোর্টে গ্রিক মূর্তি স্থাপন করে, আদালতপাড়ায় গরুর গোশত নিষিদ্ধ করে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

আল্লামা আহমদ শফীকে কি আসলেই তিলে তিলে হত্যা করা হয়ছে?

আল্লামা শফী সাহেবের মৃত্যু নিয়ে ওনার খাদেম  শফীর সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ...