বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৩:৪১
Home / ইতিহাস ঐতিহ্য / ‘দ্য প্যান্থার’-১

‘দ্য প্যান্থার’-১

বাস্তব ঘটনার উপর লিখিত কালজয়ী ঐতিহাসিক উপাখ্যান ‘দ্য প্যান্থার’
ইমরান আহমাদ

দ্য প্যান্থার : উপক্রমণিকা

তিনি মুসলিম বিশ্বের সিংহ শার্দুল। অনন্য সাধারণ বিরল এক সামরিক প্রতিভা। বীরত্ব ও সাহসিকতার জীবন্ত কিংবদন্তি। উন্মত্ত ক্রুসেডের মাজা ভেঙ্গে দেয়া সিংহহৃদয় ব্যক্তিত্ব। যার চওড়া বুকের টক্করেই প্রথমবারের মতো মুখ থুবড়ে পড়েছিল সর্বগ্রাসী তাতারি তুফান। দিক পাল্টেছিল কথিত ইয়াজুজ-মাজুজের মোঙ্গল ঝড়।
হ্যাঁ, তিনিই হচ্ছেন তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়া অসামান্য সমরনায়ক। তার কিলিজের (তরবারি) ডগায়ই রচিত হয়েছিল মধ্যযুগের স্বর্ণিল মুসলিম ইতিহাস। বর্ণিল বীরত্বগাঁথার অনবদ্য মহাকাব্য। বিশ্ব ইতিহাসের তিনিই একমাত্র সেনানায়ক, যার ঝুলিতেই কেবল রয়েছে শত্রু বাহিনীকে বিরামহীন সাড়ে চারশ কিলোমিটার তাড়িয়ে নেয়ার অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড। তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য বিশ্ব আতংক বাতেনী ফেদাইনদের (গুপ্তঘাতক) সাক্ষাৎ যম। নুপুংশুক গাদ্দারদের মূর্তিমান বিভীষিকা। তাই বিশ্ব ইতিহাসে তিনি আজো হয়ে আছেন অম্লান-ভাস্বর। মুসলিম ইতিহাসের বরেণ্য দিগ্বিজয়ী বীরশ্রেষ্ঠদের অন্যতম একজন।
কে তিনি?
হ্যাঁ, তিনি হচ্ছেন তুর্কী কুমান বংশদ্ভোত সেই যাযাবর যোদ্ধা—যার লৌহকঠিন হাতেই ক্রুশের নাগপাশ থেকে দ্বিতীয়বার উদ্ধার হয়েছিল পবিত্র মাসজিদুল আকসা, জেরুজালেম। নিস্কৃতি পেয়েছিল লেভান্টসহ পুরো আরব ভূখণ্ড। সমূলে উচ্ছেদ হয়েছিল হিংস্র ক্রুসেডের বিষবৃক্ষ। যার বজ্রাঘাতে আইন জালুত প্রান্তরে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল অজেয় তাতার সেনাপতি কিতবুঘার উদ্ধত শির। হিমসের মহারণে চূর্ণ হয়েছিল মোঙ্গল রাজাধিরাজ নরখাদক হালাকু খানের সব দর্প।
আমরা ক্রুসেড বলতে ইমামুদ্দিন, নূরুদ্দিন আর সালাহউদ্দিনই কেবল বুঝি! অথচ এরা ছিলেন রক্তস্নাত দ্বিশতাব্দীব্যাপি চলমান ক্রুসেডের এক একটি অধ্যায়ের নেতৃত্ব দানকারী মাত্র। জঙ্গীরা প্রথম প্রতিরোধকারী হলে, আইয়ূবী জেরুজালেমের প্রথম উদ্ধারকারী! বেশ, এটুকুই। এরপরের ক্রুসেডের সব ইতিহাস, সব উপাখ্যান তো সেই তুর্কী কুমানের নিজ হাতেই লেখা। তিনিই হলেন নারকীয় ক্রুসেডের বিষদাঁত ভাঙ্গার, মেরুদণ্ড গুড়িয়ে দেবার কেন্দ্রীয় চরিত্র। মূল মাস্টারমাইন্ড।
মোঙ্গল ঝড়ে দুনিয়া যখন ইসলামী সভ্যতার প্রায় সমাপ্তিই দেখে ফেলেছিল, বিশাল খাওয়ারিযাম সাম্রাজ্য, আদিগন্ত বিস্তৃত আব্বাসী ফিলাফাহ যখন তাসের ঘরের মতো একে একে ধ্বসে পড়েছিল, এক মিশর আর হিন্দুস্তান বাদে সমগ্র মুসলিম দুনিয়া যখন জ্বলছিল, রক্তে হাবুডুবু খাচ্ছিল, ঠিক তখনই বীরবিক্রমে রুখে দাঁড়ালেন তিনি। বাকিটা তো ইতিহাসই। আর হ্যাঁ, টানা ৫০৭ বছরের আব্বাসী খিলাফাহ’র পতন পরবর্তী মাত্র দু’বছরের মাথায় নেতৃত্বশুন্য মুসলিম উম্মাহকে ফের খিলাফাহ উপহার দেন সেই তিনিই তো।
তিনি আর কেউ নন—মামলুক সালতানাতের আক্ষরিক স্থপতি আল মালিকুয্ যাহির সুলতান রুকনুদ্দিন। বাইবার্স—চিতারাজ, দ্য প্যান্থার!
তাকে নিয়ে যে রকম আলোচনা হবার কথা ছিল—ভূগোলে, সাহিত্যে, ইতিহাসে; অজ্ঞাত কারণে এর সিকিভাগও কিন্তু হয় না, হচ্ছে না।
ভাবছি, নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের আলোকে তাকে নিয়ে কিছু লিখবো। তার বর্ণাঢ্য জীবন চরিত। থাকবে—তখনকার দুর্যোগময় বিশ্ব পরিস্থিতি। রিলেটিভ অনেক কিছু। খুব সংক্ষেপে। ক্রমান্বয়ে, ধারাবাহিক। সময়ে সুযোগে। গল্প-উপন্যাস নয়। রসকষহীন নিখাঁদ ইতিহাস। মহাকালের সিঁড়ি বেয়ে, ইতিহাসের গবাক্ষপথে লিখে যাবো বাইবার্সনামা। নিরন্তর সাথে থাকুন, মূল্যবান মতামত দিয়ে। গঠনমূলক পরামর্শ যুগিয়ে সততই পাশেই থাকুন!

আজই প্রথম পর্ব। থাকছে—কিপচাক, কুমান জনপদে মোঙ্গল থাবা। শিশু সিংহের মামলুক ইতিবৃত্ত। দাসত্বের শৃঙ্খলে দেশ থেকে মহাদেশে…!!

উৎস:
❏ আল-মুকাদ্দিমা। আবু যায়েদ আবদুর রাহ্‌মান ইবন মুহাম্মাদ ইবন খালদুন। দিব্যপ্রকাশ থেকে বাংলায় অনুদিত।
❏ ইসলামী বিশ্বকোষ, প্রথম খণ্ড। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত।
❏ সীরাত আয যাহির বাইবার্স। জামাল আল গাইতানী কর্তৃক কায়রো থেকে প্রকাশিত।
❏ তারিখুর্ রুসুল ওয়াল মুলক। মুহাম্মাদ ইবন্ জারীর আত্ তাবারী রাহ.।
❏ হুসনা আল মুহাদারা আখবার মিসর ওয়াল কাহিরাহ্‌, দ্বিতীয় খণ্ড, আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতী রাহ.
কায়রো থেকে প্রকাশিত।
❏ কাহিরাহ্ কা কাহর, প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, মোয়াজ্জাম জাবেদ বুখারি, মাকতাবা দাস্তান, লাহোর।
❏ সম-সাময়িক বিভিন্ন, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও ফিচার। তবে উইকিপিডিয়াকে সযত্নে এড়িয়ে চলা হবে।

‘দ্য প্যান্থার’ :  ১ম পর্ব

খৃস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কাল। মুসলিম দুনিয়া তখন অতিক্রম করছে নিজেদের ইতিহাসের কঠিনতম ক্রান্তিকাল। চারদিকে শুধু আগুন, রক্ত আর ধ্বংসের কলরোল। পশ্চিম থেকে বানের মতো ধেয়ে আসছে একের পর এক সিরিজ ক্রুসেড। পূর্ব দিকে কিয়ামতের বিভীষিকা নিয়ে কড়া নাড়ছে তাতারি মরুঝড়। গোবি’র বুক চিড়ে ওঠা এই ঝড়; সভ্য দুনিয়ার সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে হিংস্রগতিতে আগাচ্ছে। দানবের গ্রাসে ইনসানিয়্যাত হয়ে পড়েছে অপাংক্তেয়। কাপালিকের কৃপাণে মানবতার খাক-খুন গড়াগড়ি ছিল নৈমত্তিক। বিধ্বংসী মরু সাইমুমের এই তাণ্ডব সবচে’ বেশি কিন্তু সইতে হয়েছে মুসলিম উম্মাহকেই!
আব্বাসী খিলাফতের বাইরে মধ্য ও পূর্ব এশিয়া নিয়ে গড়ে ওঠা বিশাল মুসলিম খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য ছিল মোঙ্গল তুফানের প্রথম শিকার। মাত্র তিন বছরের মাথায় সমগ্র খাওয়ারিজম চলে গেলে মোঙ্গল সাম্রাজ্যের পেটের গভীরে।

মোঙ্গলরা ছিল লম্বা-চওড়া চেহারার মানুষ। গায়ের রঙ হলদেটে। এদের ঘোড়াগুলি খর্বকায় হলেও, ছিল ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন। এরা ছিল লক্ষ্যভেদী তিরন্দাজ। এদের দূরপাল্লার তীর-ধনুক ছিল বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম। এদের দ্রুতগতি, তীরের অপ্রতুলতা, হিংস্রতা এবং পঙ্গপালসদৃশ সংখ্যাধিক্যের কারণে মানুষ এদেরকে ইয়াজুজ-মাজুজ বলেই ভাবতো। এদের সংগঠক ছিলেন অখ্যাত এক তেমুজিন। ইতিহাস বিখ্যাত চেঙ্গিস খান।
১২২৭ সাল। বিখ্যাত মোঙ্গল সেনাপতি জেব নোইয়ন ও সুবুদাই বাহাদুর। সাম্রাজ্যহারা শাহে খাওয়ারিজম, সুলতান আলাউদ্দিন শাহ মুহাম্মদকে তাড়া করতে করতে ঢুকে পড়লেন নতুন এক ভূখণ্ডে—কিপচাক।

কিপচাক। রাশিয়ার উরাল ও ভল্গা নদীর মধ্যবর্তী ককেশাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত, বৃহত্তর সারকোসিয়ার অন্তর্গত, বর্তমান কাজাখস্তানের ছোট্ট এক ভূখণ্ড। এখানেই অন্যান্য তুর্কী গোত্রের সাথে কুমান সম্প্রদায়ের বাস। জাতিতে কিপচাকের প্রায় সবাই মুসলমান। শৈশবে বন্য নেকড়ে, কৈশোরে বাঘ আর যৌবনে সিংহের সাথে টক্কর দিয়েই এরা বেড়ে ওঠে। তাই প্রাকৃতিকভাবেই এরা দুরন্ত। দুর্ধর্ষ যুদ্ধাজাত। এই কুমান সম্প্রদায়েই ১২২৩ সালের ১৯ জুলাই জন্ম নেন দুর্ধর্ষ এক সেনানায়ক—বাইবার্স। তুর্কীতে বে অর্থ প্রধান আর বার্স মানে চিতা, সুতরাং বাইবার্সের পুরো অর্থ দাঁড়ালো প্রধান চিতা। পরবর্তীতে নামের যথার্থতা প্রমাণ করেই মুসলিম ইতিহাসে তিনি চিতারাজ আর ইউরোপীয় ইতিহাসে দ্য প্যান্থার হিসেবে অমর হয়ে আছেন।

কিপচাকবাসী দুর্ধর্ষ যোদ্ধা হলেও নিজেদের ভূখণ্ডে আচমকা নতূন এক প্রজাতির আগমন দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেসে যায় বিদ্যুৎগতির মোঙ্গল সয়লাবে। পতন ঘটে স্বাধীন কিপচাক ভ্যালির। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় কুমানসহ কিপচাকের অন্যান্য সম্প্রদায়। পুরুষরা গণহারে নিহত হয়। মেয়ে ও শিশুরা হয় বাজারের পণ্য—মামলুক, দাস। এদের মধ্যে চার বছরের শিশু বাইবার্সও ছিলেন। কে জানতো, কালক্রমে তিনিই হয়ে ওঠবেন মোঙ্গলদের জীবন্ত ত্রাস। গুপ্তঘাতকদের অভিশাপ। ক্রুসেডের সর্বনাশ! মোঙ্গলরা সবার সাথে তাকেও দাসবাজারে বিক্রি করে দেয়। শুরু হলো নতুন জীবন। মামলুক অধ্যায়। স্বাধীন হয়ে জন্মেও দেশ থেকে মহাদেশে চললো তার দাসত্বের ঘুর্ণন।

একবছর পর। পাঁচ বছরের বাইবার্স দাস ব্যবসায়ীদের সাথে ইউরোপের রাশিয়া থেকে এবার এলেন এশিয়ার দামেস্কে। মাত্র অাটশ’ দিরহামে দ্বিতীয়বার বিক্রি হলেন এক ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছে। তিন বছর পর। চোখের ছানির কারণে সে ব্যক্তি তাকে ফিরিয়ে দেন সেই ব্যবসায়ীর কাছেই। কিছুদিন পর আইতাকিন বান্দুকদার নামক একজন সেনানায়ক তৃতীয়বারের মতো তাকে কিনে নেন নামমাত্র মূল্যে! এবার তার গন্তব্য আফ্রিকার কায়রো। কারণ, আইতাকিন ছিলেন মিসরের আইয়ূবীয় সালতানাতের একজন অভিজ্ঞ জেনারেল।

এই সেই আইয়্যূবী সালতানাত।­ যার ভিত্তি গড়ে ওঠেছিল গ্রেট সালাদিন খ্যাত সুলতান সালাহউদ্দিন ইউসুফের রক্ত-ঘামে। ১১৭৪ সালে গাজী সালাহউদ্দিন তার বাবা নাজমুদ্দিন আইয়্যূবের নামানুসারে আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশ ব্যাপি এই সুবিশাল সালতানাতের গোড়াপত্তন করেন। কিন্তু গাজী সালাহউদ্দিনের গড়া বিশাল এই সালতানাতের ক্ষয় শুরু হয় তার জীবদ্দশাতেই। চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটে তার মৃত্যুর পর। সালাহউদ্দিন তার একক প্রচেষ্টাতেই ক্রুসেডারদের নাগপাশ থেকে দীর্ঘ ৮৮ বছর পর ১১৮৭ সালে বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করেন। প্রতিশোধ হিসেবে ইংল্যান্ড সম্রাট রিচার্ড দ্য লায়নহা­র্ট তুমুল যুদ্ধের পর ১১৯২ সালে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর আক্রা (আক্কা) অধিকার করে নেন। হাতিন যুদ্ধে সুলতান সালাহউদ্দিনের বিশালসংখ্যক সেনা ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় প্রাণপণ চেষ্টা করেও আক্রার পতন তিনি রোধ করতে পারেননি। এমন দুর্দিনে বারবার আবেদন করার পরও আব্বাসী খলিফাহ তাঁকে একজন সৈন্য দিয়েও সাহায্য করেননি। আক্রার অসহায় পতনে সালাহউদ্দিনের মনোবলে অনেকটাই চিড় ধরে যায়। নিদারুণ সেনা স্বল্পতায় বিজয়ী এই সেনাপতি রিচার্ডের সামনে বারবার হোঁচট খেতে থাকেন। তাই বাধ্য হয়ে ১১৯২ সালে তাকে শান্তি চুক্তিতে আসতে হয়। উম্মাহ’র অবিমৃষ্যকারিতায় আক্রা তো আগেই গেছে; এবার রমলা চুক্তির মাধ্যমে বাইতুল মুকাদ্দাস ধরে রাখতে বিসর্জন দিতে হয় পুরো লেভান্ট! উপর্যুপরি এই পরাজয় আর বিজিত ভূমির এমন সকরুণ হাতছাড়া হতে দেখে—তার মতো অজেয় সেনানায়ক সুস্থ থাকেন কী করে? এ কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি দু’বছরের মাথায় ইন্তিকাল করেন। আর হাতছাড়া হওয়া ভূমির উদ্ধারের ভার রেখে যান পরবর্তী প্রজন্মের উপর। কী আশ্চর্য! এ ভার বহনে উম্মাহ’র দীর্ঘ ৭১ টি বছর লেগে যায়! ১২৬৩ সালে এসে আক্রাসহ পুরো লেভান্ট মাত্র একটা টর্নেডো অভিযানেই উদ্ধার করেন একজন লৌহমানব। নাম তার রুকনুদ্দিন বাইবার্স!
সালাহউদ্দিন আইয়ূবীর পর আইয়ূবী বংশের অকর্মণ্যতায় ক্ষয় হতে থাকা বিশাল এ সালতানাত অবশেষে ৭৬ বছরের মাথায় ১২৫০ সালে এসে বিলীনই হয়ে যায়! আইয়ূবী সালতানাতের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে যায় নতুন ইমারাত—মামলুক সালতানাত। তবে হ্যাঁ, আইয়ূবী বংশের সকলেই যে অথর্ব ছিলেন ঢালাওভাবে এটাও কিন্তু বলা যাবে না। উজ্জ্বল ব্যতিক্রম দু’একজন অবশ্যই ছিলেন। সুলতান আস্ সালিহ আইয়ূবী তাদেরই একজন।

আইতাকিন বাইবার্সকে নিয়ে কায়রো পৌছলেন। সেখানে তখন সুলতান আস্ সালিহ ক্ষমতাসীন। আইতাকিন ছিলেন আস্ সালিহ’র অধিনস্ত আইয়ূবী সালতানাতের নামকরা জেনারেল। কায়রো এসে তিনি দেখলেন, অপরাপর কুমান ক্রীতদাস শিশুদের চেয়ে বাইবার্স অধিক তৎপর ও কর্মঠ। বিশেষ করে অস্ত্রবিদ্যার উপর তার ঝোঁকটা একটু বেশিই। তাই আইতাকিন শিশু বাইবার্সকে তলোয়ারের সাথে ধনুক ও আড়ধনু চালনার শিক্ষাও দিতে লাগলেন। আড়ধনু হচ্ছে একধরণের দূরপাল্লার বিশেষ ধনুক। এটি চালনার জন্য চাই প্রচণ্ড শক্তি ও হাতের মজবুত পেশি। যা শিশুকাল থেকে অভ্যাস না করলে গড়ে ওঠে না। তাই শিশুকাল থেকেই এ ধনুক চালনা শিখতে হয়। শিশু বাইবার্স এ কাজে এতো সাফল্য লাভ করলেন যে, আইতাকিন বুঝে নিলেন এই শিশু একদিন বড় যোদ্ধা হবেই। আইতাকিনের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই বাইবার্স পার করলেন তার সোনালি বাল্যকাল। আইতাকিনের প্রশিক্ষণে বাইবার্স ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে ওঠলেন। কিন্তু নিজের শিক্ষায় তৃপ্ত না হয়ে আইতাকিন বাইবার্সকে ভর্তি করে দিলেন নিয়মতান্ত্রিক সেনাবাহিনীতে। ১২৪২ সালে বাইবার্স পুরোদস্তুর সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে আরম্ভ করলেন—রীতিমত আইয়্যূবীয় সেনাবাহিনীতে!

চলবে

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...