মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১০:২২
Home / প্রতিদিন / ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না!

ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না!

রশীদ জামীল :

ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না! কলার কথা আসলো কোত্থেকে?

বিলাসী হেলিকপ্টার মাওলানা এবং আগাম দরদাম করে ওয়াজ করে বেড়ানো বাণিজ্যিক বক্তাদের নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। তাঁরা নিজেরা অথবা তাদের ভাই-বেরাদার নাখোশ হবেন, জানাই ছিল। কিন্তু এই বাইরে যারা, তাদের নাখোশ হবার কারণটি আমার কাছে এখনো স্পষ্ট নয়! তিনটি কারণের কোনো একটি হতে পারে।
১. আমি বোঝাতে পারি নি।
২. তাঁরা বুঝতে পারেন নি।
৩. তাদের সারল্য বাজারি বক্তাদের পারপাস সার্ভ করছে।
ডাল আর চাল এক করলে খিচুড়ি হত। এখন এখন ঢাল আর দেমাগ এক করে আপন কর্মযজ্ঞ হালাল করা হচ্ছে। (কর্ম’র আগে ‘সু-কু’ লাগানো যাবে, যেখানে যেটা যায়)

কথাগুলো বলব ভাবছিলাম। পেরে উঠছিলাম না। আজ একজন ফেসবুকে মূল কথাটি বলে দিয়েছে। আহমদ শফি দামাত বারাকাতুহুমকে যত্রতত্র ব্যবহারের ব্যাপারটি। এরপরে আর খুব কিছু না বললেও চলে। যে কথাগুলো বলবার জন্য মাথায় ঘুরাঘুরি করছিলো;
১.
বর্তমান সময়ে সবচে’ শক্ত ঢালটির নাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি। কিছু লোকের পূর্বপুরুষের কোন নেক আমলের কারণে জানি না, পেয়েছিলেন এক আহমদ শফিকে। যেমন ইচ্ছা নাম ভাঙালেন। যার যেমন খুশি করলেন আর সামনে তুলে ধরলেন আহমদ শফিকে। আর কত ব্যবহার করবেন এই মানুষটাকে?
২.
হেফাজত ইস্যুতে আঁতাত করলো আস্তিনের ভেতরে থাকা আততায়ীরা। নাম দিলো আহমদ শফির। বলল যা কিছু হচ্ছে, হযরতেই নির্দেশেই হচ্ছে। যদিও কেউ কসম করে বললেও আমি বিশ্বাস করব না যা কিছু হচ্ছিলো তখন, আহমদ শফির জ্ঞাতসারে এবং তার নির্দেশেই হচ্ছিলো। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আজ আর ওদিকে গেলাম না।
৩.
আজকাল হেলিকপ্টার বিলাস করে বেড়ানো নব্য বক্তাগণও আবার আহমদ শফিকে ঢাল বানিয়ে পার পেতে চাইছেন। তাদের ওয়াজ বাণিজ্য হালাল করে নিতে ব্যবহার করছেন তাঁকে। এ পর্যায়ে একটা কথাই বলি, এভাবে কি আর হয়। সেই দিন কি আর আছে? দিন বদলাইছে না!
৪.
কথায় কথায় এবং যেথায় সেথায় আল্লামা শফিকে টেনে এনে তাঁরা যে আহমদ শফিকে অপমান করছেন, দুঃখ হয় এই বিবেকটুকুও তাদের কাজ করে না দেখে। কিংবা কে জানে, জেনে বুঝেই তাঁরা এটা করেন কিনা! সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া ঠিক হবে না।

আমার সেই লেখাটি এখনো আছে। মোটামুটি পরিস্কার করেই বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল উদ্দেশ্য কারা। পরিস্কার বলাছিল,
ক)
“হেলিকপ্টারে করে গিয়ে যাদের বয়ান করার শখ, তাদের বয়ান থেকে এক পয়সার হেদায়াত আশা করাও বোকামি”।
আমার জানা নাই, এমন কেউ কি আছেন যার জানা আছে আল্লামা আহমদ শফি কোথাও বয়ানে যাবার জন্য হেলিকপ্টারের ডিমান্ড করেছেন? অথবা বলেছেন আমাকে বিশ/পঞ্চাশ হাজার টাকা হাদিয়া দিতে হবে? তাহলে নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখবার জন্য আহমদ শফিকে ঢাল বানানো কেনো?
খ)
আহমদ শফি একজন বয়ো:বৃদ্ধ মানুষ। হাঁটাচলাও করতে পারেন না। আমি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েও জেনেছি তিনি সাধারণত বাইরে কোথাও মাহফিলে যেতেও চান না। তবুও প্রায়ই যাচ্ছেন। কেনো যাচ্ছেন? হযরতের কাছের মানুষদের জিজ্ঞেস করে জানলাম যেতে বাধ্য হন। লোকজন এসে বলে, “হুজুর হেলিকপ্টার ঠিক করে ফেলেছি। আপনাকে যেতেই হবে।” কী আর করার থাকে!
গ)
যদিও আগেও অনেকবার বলেছি। আজ আবার বলি। আমি মনেকরি আল্লামা আহমদ শফিকে যত্রতত্র নিয়ে গিয়ে তাঁকে ছোটই করা হচ্ছে। আহমদ শফি বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে উলামায়ে কেরামের সরতাজ। তিনি বছরে একটা-দুইটা প্রোগ্রামে যাবেন। তাঁকে কেনো গাঁও-গেরামের সালানা জলসায় জলসায় নিয়ে যাওয়া হবে। আহমদ শফি কি গাঁও-গেরামের মাহফিলে যাওয়ার পর্যায়ের মানুষ!
বলাহবে, দোয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া?
তাহলে তো হযরতের খেদমতে গিয়ে দোয়া আনা উচিত ছিল।
এই বয়সে তাঁকে দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এবং কষ্ট দিয়ে এ কেমন দোয়া লওয়া। হযরতের যারা খাদিম বা সেক্রেটারি পর্যায়ে আছেন, তাঁদের উচিত বিষয়টির খেয়াল করা।

দুই
বন্ধুদের অনেকেই বিভিন্ন মাধমে আমাকে বললেন, আপনার লেখার টার্গেট বাজারি বক্তারা, বুঝতে পারছি। কিন্তু সুযোগ সন্ধানিরা এখানে আহমদ শফিকে টেনে এনে পানি ঘোলা করবার চেষ্টা করছে। আপনি পারতেন এক লাইন যুক্ত করে আল্লামা আহমদ শফিকে লেখার বাইরে নিয়ে যেতে। আমি তাদেরকে বললাম, আমাকে একটু দেখান তো আমার লেখার কোন লাইনে আহমদ শফিকে খুঁজে পাওয়া যায়? থাকলে তবেই না বের করার প্রশ্ন আসে।

চলুন এক নজরে দেখে নিই কার সাথে টক্কর দিচ্ছেন তাঁরা। আল্লামা আহমদ শফি কোথায় আর বাজারি কন্টাক্ট বক্তারা কোথায়।
১)
আল্লামা আহমদ শফি একশ; ছুই ছুই একজন বুযুর্গ। হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাছাড়া বিতর্কহীনভাবেই তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম। তাকে কেউ হেলিকপ্টারে নিয়ে যেতেই পারে। (যদিও বলেছি যত্রতত্র নিয়ে যাওয়ারও পক্ষে নই আমি), কিন্তু এটুর মা পেটুর মা টাইপ গলাবাজ প্রফেশনাল বক্তারা আহমদ শফির সাথে পাল্লা দিচ্ছেন? শায়খের সাথে বেয়াদবিটা আসলে কে করছে!
২)
আমি পরিস্কার করেই বলেছিলাম, ‘হেলিকপ্টারে করে গিয়ে ওয়াজ করা যাদের শখ’। এখানে আহমদ শফি আসেন কীভাবে? তিনি তো বক্তা নন। বয়ানও করেন না। যেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়, দোয়া করে চলে আসেন। মানুষ তাকে নেয়ও দোয়া করানোর জন্য। আর বাজারি যারা…কোন পর্যায়ের বুযুর্গ তাঁরা? কিসের সাথে কী আর পান্তা ভাতে ঘি আর কি!
৩)
আমি এখন পর্যন্ত কাউকে বলতে শুনিনি আল্লামা শফি কারো কাছে হাদিয়ার ডিমান্ড করেছেন। কিন্তু গলাজীবিদের কথাই তো শুরুহয় টাকার অংক দিয়ে। কারো নাম বলার দরকার হয় না। তাঁরা বাংলাদেশেই ওয়াজ করে বেড়ান। বাংলাদেশের মানুষের সাথেই তাদের দর কষাকষি চলে। তাহলে কার সাথে নিজেদের মিলাতে চান তাঁরা? বেয়াদবি কারা করে?
৪)
আমরা তো তথাকথিত জনপ্রিয় বক্তাদের আমলনামা জানি। হেলিকপ্টার এবং নিজের আজুরা বিশ-পঞ্চাশ হাজার ছাড়াও উনার ড্রাইভারকে টাকা দিতে হয়। সেক্রেটারিকে টাকা দিতে হয়। লোকাল পর্যায়েও লিয়াজো করার জন্য আরেকজন থাকেন। তাকেও আর্থিকভাবে খুশি করতে হয়। এগুলো কোন তবক্বার পরহেজগারি? আহমদ শফি কি এমন করেন? তাহলে আহমদ শফিকে টেনে এনে নিজেদের অপকর্ম কভার দেয়ার চেষ্টা কেনো?
৫)
“তারা তো জোর করে যান না। মানুষ চায় বলেই যান। মানুষ তাদের নিয়ে যায় কেনো? ”অত্যন্ত যৌক্তিক এবং বাস্তব প্রশ্ন। মানুষ তাদের নিয়ে যায় কেনো? মানুষ নিয়ে যায় কারণ, মানুষ ইমোশনাল ব্লাকমেইলিং এর শিকার! বাংলাদেশের মানুষ একটু আবেগি। আর তাদের এই আবেগকে আমরা কেউ কেউ মিস ইউজ করি। এটাই মূল কারণ।
৬)
“গায়েন এবং নর্তকীদের পেছনে লক্ষ লক্ষ ঢালা হলে সেটা দোষের হয় না। আর উলামায়ে কেরামকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে গেলে গা জ্বলা কেনো?”
এটি আরেকটি আপাতদৃষ্ট যৌক্তিক কথা। অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব আমার লেখাতেই দেয়া ছিল। বলেছিলাম
“আর ওদের সাথেই যদি তুলনা দিতে হয়, তাহলে তেমন বক্তাদেরও উচিত একটা করে আরবি ব্যান্ডের নাম দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া।(মূল্য তালিকাসহ)। মানুষ জানলো কার রেইট কত! খামাখা মূলামুলির পেছনে সময় নষ্ট হল না”।
আজ আরেকটু যোগ করি।
যেহেতু ইন্টারনেটের যুগ এখন। সুতরাং এ ক্ষেত্রে তাঁরা আরো উন্নত চিন্তা করতে পারেন। ওদের সাথেই যদি টাক্কাই দিতে চান, তাহলে এমন বক্তাদের উচিত কোন জেলায় তাদের রেইট কত এবং কী কী সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, একটা চার্ট তৈরি করে গুগোলে আপলোড করে রেখে দেওয়া। তাহলে মানুষ সার্চ দিয়ে বের করে ফেললো। সাথে মোড অব পেমেন্ট কেমন হবে, সেটাও বলা থাকলো। এতেকরে অন্তত তাদের সেক্রেটারি এবং লোকাল লিয়াজো অফিসারের খরচটাও বেঁচে যাবে।
৭)
সেনসেটিভ মেজাজের কিছু বন্ধু আমার। সেই সনাতনি ভাষায় বললেন, ‘পাবলিক প্লেসে উলামায়ে কেরামের(ওয়াজ বাণিজ্যের) কথা এভাবে তুলে আনা ঠিক হয়নি’। এখানে অনেক কথাই বলবার ছিল। সব রাখলাম। শুধু একটি প্রশ্নই করি। যারা চূক্তিবাদী বক্তা, তাঁরা কি চার দেয়ালের ভিতরে উনাদের আহলিয়া মুহতারামাদের সাথেই লেনদেনের ব্যাপারে কথা বলেন, নাকি পাবলিকের সাথে?
৮)
আরেকটি ব্যাপারও আমার মাথায় ঢুকছে না। যারা হেলিকপ্টারের বায়না ধরে আগাম চূক্তিকরে ওয়াজে যান, বললাম তাদের কথা। বাকিরা ক্ষেপলেন কেনো? ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি কলা খাই না। কলার কথা তো বলা হয়নি!
৯)
লিখলাম চিহ্নিত বাজারি বক্তাদের নিয়ে। যাদের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম। বললাম এদের কারণে আমাদের উলামায়ে কেরাম অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। হুবহু কোট করি-
“এই জীবগুলোর কারণে সত্যিকার বুযুর্গানে দ্বীন যারা, যাদের ওয়াজে সুর নাই কিন্তু আসর ছিল, যাদের ওয়াজের সাথে সাথে আমলও ছিল, সর্বোপরি যারা মধ্যরাত পর্যন্ত বাইরে ওয়াজ করে ঘরে গিয়ে শেষ রাতে কেঁদে জায়নামাজ ভেজাতেন, তাঁরা আজ কোনটাসা! আর এতে করে তাঁদের কোনো ক্ষতি না হলেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। মুসলমান আমলি বয়ানাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুতরাং এখনো সময় আছে, যদি আমরা বুঝতে চাই।”

তবুও যাদের কাছে মনেহচ্ছে এই লেখা উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে লেখা, তাদের প্রতি করুণা প্রকাশ করা ছাড়া কীইবা করার থাকে।

তিন
ফেইসবুকে দেখলাম ছোটভাই টাইপ কেউ কেউ খুব ক্ষেপেছে! তাদের উপর আমার কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ, আঁতে যাদের ঘা লেগেছে, তাদের পক্ষ থেকে এদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। লেখাটি ‘আল্লামা আহমদ শফির বিরুদ্ধে’ বলে সেন্টিমেন্টাল করা হয়েছে তাদের। আমি জানি কিছুদিনের মধ্যেই এদের ঘোর কেটে যাবে। আমি ভাবছি তখন কী হবে?

আমার দু’জন বক্তা বন্ধুও আমাকে দুইহাত নিয়েছেন। (দুইজন নিলে তো আর ‘একহাত নিয়েছেন’ বলা যায় না।) বয়সে তাঁরা আমার খুব বড় হবেন বলে মনে হয় না। তবুও তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু তাদের সম্ভোধন এবং কিছু শব্দ প্রয়োগ কষ্ট দিয়েছে আমাকে। আমি তাদের থেকে আরো ওজনদার বক্তব্য আশা করেছিলাম। একজন তো সরাসরি বিষদাঁত ভেঙে দেয়ারই হুমকি দিয়ে বসলেন। আমি এতদিন ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতাম তাঁরা বক্তা মানুষ। কিন্তু তাঁরা যে একেকজন ডেন্টিস্টও, এই তথ্য আমার জানা ছিল না।

আমি জানি উনাদের অনেক ক্ষমতা। অনেক জনবল আছে। চাইলে আমাদের মত ছাইপাশ লেখকদের বিষদাঁত তো কী, বিশদাঁত; বত্রিশ দাঁতও ভেঙে ফেলা তাদের জন্য কোনো ব্যাপার না। কিন্তু একটি কথা মনেহয় এখনো তাঁরা জানে না যে, দাঁত ভেঙে দিলেও মুখ বন্ধ করা যাবে না, যদি না বাণিজ্যিক বক্তাদের ওয়াজ বাণিজ্য বন্ধ হয়।
আমরা যখন কিছু লিখি, হয়ত ভুল লিখি, হয়ত শুদ্ধ। কিন্তু লেখার সময় কে কীভাবে নেবেন, সেটা নিয়ে ভেবে লিখি না। ভাবনায় শুধু একটি ব্যাপারই থাকে। আল্লাহপাকের কাছে স্বচ্ছ থাকতে পারছি কিনা। ওখানে জবাবদিহি করা যাবে কিনা। ব্যস। এরপরে সারা পৃথিবীর এভরি সিঙ্গেল পার্সন বিরুদ্ধে চলে গেলেও কিছু যায় আসে না।

চার
হেফাজত, বেফাক, কওমি, আলেম-উলামা, আহমদব শফি দামাত বারাকাতুহুম নিয়ে এরা সবসময়ই উলটা-পাল্টা কথা বলে। উম্মতকে আমরা আগেও এদের সম্বন্ধে সতর্ক করেছি…এটা হল আমাকে নিয়ে এক বন্ধুর উক্তি।
আমি আমার বন্ধুর প্রতি বিনম্র আহবান জানাই, প্লিজ, এবার থামুন। আগামাথাহীন জগাখুচুড়ি কথাবলে নিজেদের অবস্থানকে খাটো করবেন কেনো? আমি যদি বলি, আপনাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দিলাম। আমার লেখা একটি লাইন দেখান তো, যেখানে আল্লামা আহমদ শফিকে কটাক্য করা হয়েছে, পারবেন?
-হেফাজত একটি সংগঠন ছিল। হেফাজত নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে অনেকের। (আশাকরি আমার শব্দ প্রয়োগে লক্ষ রাখবেন। হেফাজত নিয়ে বলেছি, আহমদ শফি নিয়ে নয়। আহমদ শফি আর হেফাজত এক কথা নয়। যদিও তিনি আমিরে হেফাজত। আশাকরি হেফাজত আর হেফাজতের আমিরে হেফাজতকে এক করে হেফাজতের নামে বিভিন্নজনের আকাম-কুকামের দায়ভার উনার উপর চাপিয়ে দিয়ে উনার প্রতি আপনাদের চরিত-স্টাইলে সম্মান দেখাবেন না।) এখন আমি যদি বলি, হেফাজত নিয়ে অনৈতিক বা অমূলক কোন লাইনটি আমার কোথায় নজরে পড়েছে আপনার, দেখান, পারবেন দেখাতে?
-বেফাককেও টেনে আনলেন? আচ্ছা বেফাক কি শুধুই আপনাদের? আমরা বেফাকের নই? আমরা বেফাক থেকে পরীক্ষা দিইনি? তাহলে সবকিছুর মালিকানা নিয়ে যান কেনো?

অনেক তো হল। বাদ দিন এখন। বাচ্চারা এভাবে কথা বললে মানায়। বড়দের না। আর যদি, আসলেই যদি মনে করেন আপনার অভিযোগের ভিত্তি আছে, যেগুলো বলেছেন,
হেফাজত,
ওয়াজ বাণিজ্য,
হেলিকপ্টার বিলাস,
হিংসুকের আইডল…
কথাগুলো ডিফেন্স করতে পারবেন?
আমি তৈরি আছি। আপনার প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়, বিনয়ের সাথে আহবান, আসুন একদিন, তর্ক করি অপেন প্লাটফরমে। ওয়ান টু ওয়ান কথা হবে। তৃতীয় আর কেউ কথা বলবে না। আমার ভুল হলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। শুধরে নেব। আর আপনি বা আপনারা ভুল বুঝে থাকলে কী করবেন, সেটা আপনাদের উপরই থাকলো।
জানি আপনারা মহাব্যস্ত মানুষ। আমাকেও আমার পেটের ফিকিরে ছোটখাটো ব্যাপার নিয়ে একটু-আধটু ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরেও বলি, আপনার সুবিধামত দিন ও সময়ের কথা হতে পারে। বিভ্রান্তির অবসান হওয়া দরকার। সময় হলে জানাবেন আমাকে। আমি অপেক্ষা করব।

পাঁচ
কথা শুরু হয়েছিল আল্লামা আহমদ শফিকে দিয়ে। তাঁকে নিয়েই শেষ করি। কথায় কথায় এবং সবখানে আহমদ শফিকে টেনে নিয়ে আসা এক প্রকারের অসুখ। এমন অসুখ যাদের আছে, আল্লাহপাক তাদেরকে শিফায়ে কামিলা আযিলা দান করুন।
আর যারা তাদের স্বার্থে আঘাত পড়লেই হযরতকে টেনে আনেন আর মায়াকান্না দেখান, বলেন, “হুজুরকে নিয়ে কটাক্য করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলি, আমরা আহমদ শফিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে মন থেকে ভালোবাসি। আপনাদের মতো ব্যবহার করি না। সুতরাং শাক দিয়ে মাছ ঢাকবার চেষ্টা না করাই ভালো।

একটি কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।
এখানে যে কারো গঠনমূলক ভিন্নমত জানানোর অধিকার আছে কিন্তু অরাসঙ্গিক ত্যানা প্যাঁচানোর কোনো অধিকার কারো নেই। বিনীতভাবে মনে করিয়ে দিলাম।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...