সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১২:৪৫
Home / কওমি অঙ্গন / ঐক্যের বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমগণ যা বললেন…

ঐক্যের বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমগণ যা বললেন…

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ :

স্বকীয়তা স্বাধীনতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রণমুক্ত, কমিশন ও কতৃপক্ষ ব্যতিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদীসের সরকারী মান গ্রহণের ব্যাপারে সকল উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছন (রেজুলেশন সারাংশ)

দেশের শীর্ষ আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে, ঢাকার খিলগাও মখযানুল উলুম মাদরাসার মুহতামি মাওলানা নুরুল ইসলামের পরিচলনায় দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডসমূহের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দের এক সভা গতকাল (১০ ডিসেম্বর) শনিবার সকাল ১০টায় দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ, তানজিমুল মাদারিস আদ-দ্বীনিয়া বাংলাদেশ, গওহরডাঙ্গা বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিগণ শরীক হন। সভার শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শেষে বেফাক সভাপতির প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ। সভায় দেশের শীর্ষ আলেমদের প্রাণবন্ত আলোচনার চুম্বকায়িত অংশ নিচে তুলে ধরা হল।

আল্লামা শাহ আহমদ শফি
বৈঠকে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহ দারুল উলূম দেওবন্দের উসূল তথা নীতি-আদর্শ মতে পরিচালিত হয়। সনদের ইস্যুসহ যে কোন বিষয়ে দেওবন্দের নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে সনদের মান নিতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ যেভাবে পরিচালিত হয়, সনদের বিষয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের নীতিমালা যেরকম, আমরা সেভাবে চলতে চাই। তিনি বলেন, বেফাকসহ দেশের অন্যান্য কওমি বোর্ড ও বড় বড় মাদ্রাসা দাওরায়ে হাদীস উত্তীর্ণ ছাত্রদেরকে সনদ দিয়ে থাকে। সরকার কওমি সনদকে মান দিতে চাইলে কোন কমিশন, নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মান দিতে পারে। তবে সনদ-স্বীকৃতির নামে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কোনরূপ সরকারী নিয়ন্ত্রণ আরোপের কোন সুযোগ নেই।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী কওমী মাদ্রাসার দেওবন্দী নীতি-আদর্শ ও স্বকীয় বৈশিষ্ট বজায় রাখার বিষয়ে উপস্থিত বোর্ড প্রতিনিধিগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানন।

আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, আমি ইতিপূর্বেও বারবার বলেছি, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের পা যেখানে, আমি ফরীদ উদ্দীনের মাথাও সেখানে যেতে পারবে না। আমি সর্বাবস্থায় তাঁর নির্দেশনা মতেই চলতে চাই। স্বীকৃতি হলে তার মাধ্যমেই হবে, তিনি যেভাবে চান সবাইকে নিয়ে সেভাবেই হবে। আমরা তার নির্দেশে কেবল কাজ করে যাব আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য।

সনদের সরকারি মান দিয়ে কেউ আমাদের করুণা করবে এটা ভাবলে ভুল হবে। আমরা আমাদের মতো করে এই অধিকার বাস্তবায়ন করব। সরকার সেভাবেই দিতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আল্লামা শাহ আহমদ শফী যে চিঠি দিয়েছেন, যে নিয়মের মধ্য দিয়ে সনদের মান নেওয়ার কথা বলেছেন, তার সাথে আমিও সম্পূর্ণ একমত। হুজুরের নির্দেশনা মতে দারুল উলূম দেওবন্দের সাথে আমাদের সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে হবে।

তিনি বলেন, যে কোন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সেটা বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসা সহজ হয়। আজকের বৈঠকে আমাদের সকল বোর্ড প্রতিনিধিগণ একসাথে বসে কথা বলছি, আমি মনে করি এটা বিশাল অগ্রগতি। এই ঐক্য ধরে রাখা যে কোনভাকে বিশেষ প্রযোজন। সেজন্য ঐক্য যেন কোন কারনে কারো দ্বারা বিনিষ্ট না হয় সেইম ব্যাপারে আন্তরিকতার সাথে সর্তক থাকতে হবে।

আল্লামা সুলতান যওক নদভী
আল্লামা সুলতান যওক নদভী বলেন, ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতুভী (রাহ.) প্রণীত ৮ মূলনীতির মধ্যে ৭নং মূলনীতিতে সরকারের যেই কোন অংশীদারিত্ব কওমি মাদ্রাসার জন্যে ক্ষতিকর বলে লিখেছেন। এটা মেনে চলার ব্যাপারে আমাদের সকলকে মজবুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে সরকারের এত আগ্রহ ভাল লক্ষণ নয়। তিনি আরও বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি নয়; বরং সনদের মান গ্রহণের জন্যে হাটহাজারীর হুজুর যেসব শর্ত দিয়েছেন, তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

আল্লামা আশরাফ আলী
দেওবন্দের উসুলে হাশতেগানাকে ফলো করে যদি সরকার আমাদের সনদের মান দেয় বিনা শর্তে, তাহলে তা গ্রহণ করতে আমাদের কোন বাধা নেই। তবে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ এদেশের কোন মানুষ মেনে নিবে নে।

আমাদের উপর লক্ষ লক্ষ ছাত্র শিক্ষকের আমানত। সরকার যেহেতু আন্তরিক, তাই আমাদের দাবী মেনে স্বীকৃতি দিবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এক্ষেত্রে আমাদের আজ যে আন্তরিক ঐক্যবদ্ধ বৈঠক এটাকে ধরে রাখতে হবে। আশা করি আমরা যে রকম চাচ্ছি সেরকমই সব কিছু সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে।

আল্লামা আব্দুল হালিম বুখারী
সভায় পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আব্দুল হালিম বুখারী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর যে চিঠিটি পড়ে শোনানো হয়েছে, তার প্রতিটি শব্দ ও অক্ষরের সাথে আমি একমত পোষণ করি। হাটহাজারী হযরত অত্যন্ত সুন্দরভাবেই তাঁর বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, কোন ধরনের সরকারী কমিশন, কমিটি, কওমি শিক্ষা আইন, নিয়ন্ত্রণ ও সিলেবাসে হস্তক্ষেপ ছাড়া শুধু প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের বিদ্যমান সনদকে যদি সরকার মান দেয়, তবে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

আল্লামা আনোয়ার শাহ
আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য স্বকীয়তা স্বাধীনতা রক্ষা করে যেভাবে কওমি সনদের মান নেয়া যায় এ বিষয়ে আজ সব উলামায়ে কেরাম একমত। আল্লামা আহমদ শফি দা.বা. যে ফরমুলা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সরকারের সাথে কাজ করা প্রযোজন। এ বিষয়ে আর কারো মতপার্থক্য থাকার কথা নয়। শীর্ষ আলেমরা এ ব্যাপরে সব সময়ই একমত। এক্ষেত্রে সর্তকতার সাথে কাজ করতে হবে, যেন কোনভাবেই ঐক্য প্রক্রিয়াকে কেউ কোনভাবে বিনষ্ট না করতে পারে। সম্মিলিত বৈঠক ছাড়া কেউ এ বিষয়ে কোন মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী
আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কোন কমিশন গঠন, সিলেবাসে হস্তক্ষেপ ও সরকারী নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শুধুমাত্র কওমি সনদের সরকারী মান দিলে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আমাদের শর্ত মেনে সরকার যদি কওমি সনদের মান দেয়, তবে সেটা হবে কল্যাণকর। আমাদের কোন ভুলের জন্যে যেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষতি হয়ে না যায়, সে জন্যে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

মুফতি রুহুল আমিন
মাওলানা রূহুল আমীন বলেন, সনদের মানগ্রহণ সম্পর্কে বেফাক সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী যে রূপরেখা চিঠিতে তুলে ধরেছেন, তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। তিনি সনদের মান গ্রহণের বিষয়ে বেফাক সভাপতির নেতৃত্বে সকল বোর্ডকে এক থাকার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অন্তত প্রাথমিকভাবে সনদের মানগ্রহণের প্রশ্নে উপস্থিত সকল বোর্ড যেন ঐকবদ্ধ থাকতে হবে।
সূত্র. সভাপতির প্রেস সচীব

আমাদের প্রাণের আকুতি! আল্লাহ তুমি এই ঐক্যপ্রচাষ্টাকে কবুল ও কামিয়াব কর।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...