সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ দুপুর ১২:৪১
Home / আকাবির-আসলাফ / স্মরণ : মাওলানা মুখলিছুর রহমান

স্মরণ : মাওলানা মুখলিছুর রহমান

মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী :

গোলাম রব্বানীমাওলানা মুখলিছুর রহমান নামে হবিগঞ্জে একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম ছিলেন, যিনি রায়ধরের চেয়ারম্যান সাহেব নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
তিঁনি ‘ইসলামি সংগ্রাম পরিষদ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংঘঠনের ব্যানারে দলমত নির্বিশেষ তৌহিদি জনতাকে একত্রিত করে সর্বপ্রকার ইসলাম ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতেন।

তারঁ ডাকে হবিগঞ্জে আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ সব মতের সব পথের মুসলিম জনতা সাড়া দিত। এমনকি যাদেরকে বিদাতী বলা হয় তারাও তারঁ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিত। তিনি হবিগঞ্জের মুসলিম সমাজের জন্য ঐক্যের প্রতিক ছিলেন।

হিংসা হানাহানিতে লিপ্ত, বিভেদ বিভক্তিপুর্ণ মুসলিম উম্মাহর এ নাজুক পরিস্থিতিতে মাওলা মুখলিছুর রহমান (র.) এর আদর্শের অনুশীলন খুবই প্রয়োজন। তাই আসুন এ কিংবদন্তিতুল্য আলেমের জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ ধারণা নিয়ে নেই।

হবিগঞ্জের ইসলামী জাগরণ ও আন্দোলন সংগ্রামের বলিষ্ট রূপকার মাওলানা মুখলিছুর রহমান (র.) এর নাম সারা বাংলায় পরিচিত। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের সফল সমাজ সংস্কারক আল্লামা আছাদুল্লাহ (র.) এর সুযোগ্যা সস্তান। হবিগঞ্জে যিনি রায়ধরের চেয়ারম্যান সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন।

বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান দারুলউলুম দেওবন্দ থেকে উচ্ছ শিক্ষা লাভ করে দেশে ফিরে তিনিও তারঁ বাবার মত তা’লিম তরবিয়তের পাশাপাশি সমাজ সংস্কার আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর সারাটি জীবন এ কাজেই ব্যয় করেন।

সামাজিক অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতন, শিরিক, বেদাত প্রভৃতির বিরুদ্ধে মাওলানা সাহেব তীব্র প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শুধু হবিগঞ্জেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশময়। তিনি হবিগঞ্জের সর্বস্তরের তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করেছিলেন ‘ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ’।

অন্যায় অত্যাচার, অবিচার, চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, জুয়া, যাত্রা, হাউজি বাম্পার, আনন্দ মেলা, প্রভৃতি অশ্লীল ও ইসলাম বিরোধী ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে তিনি ঝাপিঁয়ে পড়তেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সন্তোষজনক সমাধান হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর প্রতিরোধ চলতেই থাকত।

১৯৮৭ ইং সনে হবিগঞ্জে অশ্লীল জুয়া যাত্রা, আনন্দ মেলা বন্ধের জন্য তিনি রক্তঝরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সেই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া হবিগঞ্জেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতীয় সংসদেও একাধিকবার এ বিষয়টি উত্থাপিত ও আলোচিত হয়। বিবিসিসহ বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমে এ আন্দোলনের সংবাদ প্রচারিত হয়। কতৃপক্ষ অবশেষে হবিগঞ্জে আনন্দ মেলার প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে তিনি হবিগঞ্জ সদরের ৫৬টি গ্রাম নিয়ে গঠন করেন ‘আটাশ পঞ্চায়েত’ শালিস কমিটি। যা আজও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজে আসছে।

১৯৬০-৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি স্থানীয় উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময়কালে তিনি আদর্শ ও সত্যনিষ্ঠ চেয়ারম্যানের নজীর স্থাপন করেন। ১৯৭০ইং সনে তিনি হবিগঞ্জ থেকে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭১ সনে বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তিনি আবদান রাখেন এবং তিনি তারঁ বাড়িতে বহু মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করেন।

তিনি তারঁ বাবা সংস্কারক আছাদুল্লাহ সাহেবের প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি দরসগাহ ‘জামেয়া সা’দিয়া রায়ধর’র সুদক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন আমৃত্যু।

২০০১ ইং সনের ১২ এপ্রিল এ ক্ষণজন্মা মনীষী মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান। জামেয়া স ‘দিয়ার ইলমি কাননে বাবার পাশে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন।

মাওলানা মুখলিছুর রহমান (র.) তা’লিম তরবিয়তের পাশাপাশি বাংলার ইসলামী আন্দোলন সংগ্রামে যে অসাধারণ ভুমিকা পালন করে গেছেন, ইতিহাসে তা স্মরণীয় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

মহান আল্লাহ তারঁ প্রিয় বান্দাকে জান্নাতে আ’লা মুকাম দান করুন। আমীন।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

বেফাকের দ্বিতীয় সভাপতি আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহ.-এর বর্ণিল জীবন

কমাশিসা ডেস্ক:: আল্লামা মুহাম্মদ হারুন ইসলামাবাদী রহ.। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ- এর দ্বিতীয় সভাপতি। বাংলাদেশে ...