শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৯:০৩
Home / ইতিহাস ঐতিহ্য / কওমি অঙ্গনের সর্বপ্রথম ও প্রাচিনতম শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ

কওমি অঙ্গনের সর্বপ্রথম ও প্রাচিনতম শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ

জুলফিকার মাহমুদী ::

আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ হলো দারুল উলুম দেওবন্দের আর্দশ অনুস্মরণে পরিচালিত কওমি মাদ্রাসাসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষার্বোড মুলতঃ সিলেট বিভাগকেন্দ্রিক কওমি মাদ্রাসাগুলোর একটি শিক্ষার্বোড।

ভারতবর্ষের প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রাহ. ১৯২৩ সালে পূণ্যভূমি সিলেট আগমন করেন। এবং সিলেট শহরের নয়াসড়কে অবস্থিত খেলাফত বিল্ডিং-এ এক দারুল হাদীস মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি তদানীন্তন আসাম প্রদেশের মাদ্রাসাগুলোর সমন্বয়ে “আসাম প্রাদেশিক আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম” গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।।

১৯২৮ সালে মাদানী রাহ. দারুল উলুম দেওবন্দে চলে যাওয়ার পর সাময়িকভাবে এদারার অগ্রগতি স্থিমিত হয়ে আসে। পরবর্তীতে তাঁরই নির্দেশে কর্মবীর ডাক্তার মুর্তাজা চৌধুরী রাহ.’র উদ্যোগে ১৯৪১ সালের ১৬ মার্চ ডাক্তার মুর্তাজা চৌধুরীর জননী মরহুমা হুসনে আরা ভানুর ইছালে সওয়ার উপলক্ষে তাঁর বাসভবনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা সহুল উসমানী ভাগলপুরীর রাহ.’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম ও উস্তাদসহ বিশিষ্ট আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক চৌধুরী মুক্তারপুরীকে সভাপতি, তদানীন্তন আসাম প্রদেশের আইন সভার সদস্য মাওলানা ইব্রাহিম চতুলীকে সেক্রেটারী জেনারেল এবং ডাক্তার মুর্তাজা চৌধুরীকে সংগঠক করে নীতির সমর্থক মাদ্রাসাসমূহ থেকে উপযুক্ত সংখ্যক সদস্য গ্রহণে “আযাদ দ্বীনী তালীমী এদারা” নামে দ্বিতীয় পর্যায়ে উক্ত বোর্ড গঠন করা হয়। উল্লেখ্য যে, এ সময় এগারটি মাদ্রাসা নিয়ে এ বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়।

সেই এগারো প্রতিষ্ঠান হল- (১) ঢাকাউত্তর রানাপিং মাদ্রাসা (২) বাঘা মাদ্রাসা (৩) দারুল হাদীস রাজাগঞ্জ মাদ্রাসা (৪) রেংগা মাদ্রাসা (৫) বারকুট মাদ্রাসা (৬) হামছাপুর রশিদপুর মাদ্রাসা (৭) দারুল উলুম মৌলভীবাজার মাদ্রাসা (৮) রায়পুর মামরকপুর মাদ্রাসা (৯) বাহুবল মাদ্রাসা (১০) সৈয়দপুর মাদ্রাসা (১১) হাসনাবাদ মাদ্রাসা।

তখন বোর্ডের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তারা হলেন যথাক্রমে- (মাদ্রাসা ক্রমানুসারে) মাওলানা রিয়াসত আলী চৌঘরী, মাওলানা বশির আহমদ শায়খে বাঘা, মাওলানা হাফিজ আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়া, মাওলানা আরফান আলী, মাওলানা বদরুল আলম শায়খে রেংগা, মাওলানা আব্দুল লতিফ বারকুটি, মাওলানা মুকাররম আলী রশিদপুরী, মৌলভী কারী আব্দুল হামিদ হামছাপুরী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক ভানুগাছি, মাওলানা আব্দুন নুর ইন্দেশ্বরী, মাওলানা খলিলুর রহমান দাসপাড়ি, মাওলানা মুজ্জাম্মীল আলী রাজনগরী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কুমিল্লা, মাওলানা হাবীবুর রহমান শায়খে রায়পুরী, মাওলানা আবুল হাসিম বাহুবলী, মাওলানা সৈয়দ আব্দুল খালিক শায়খে সৈয়দপুরী, মাওলানা মুজাফফর হাসান হাসনাবাদী, মাওলানা সিরাজুল হক দাড়িপাতনি রাহ. প্রমুখ।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এদারার প্রথম অধিবেশন রানাপিং মাদ্রাসায় বসে, তারপর ২য় বার মিলিত হন রণকেলী গ্রামে। দেশ বিভাগের প্রায় ৪ বছর পর ১৯৫১ সন মোতাবেক ১৩৭২ হিজরী ১৭ই মহররম ডা. মুজার্তা চৌধুরী হযরত মাদানী রাহ.’এর নিকট (দেওবন্দ গমন করে) থেকে মাওলানা লুৎফুর রহমান শায়খে বর্ণভী ও বশীর আহমদ শায়খে বাঘা রাহ. বরাবরে একখানা পত্র লিখিয়ে আনেন। এ পত্রে মাদানী রাহ. সম্মিলিত শক্তি অর্জনের জন্য এদারার কাজকে বেগবান করার নির্দেশ দেন। কর্মবীর ডাক্তার মুর্তাজা চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া, শায়খে চৌঘরী ও শায়খে রেংগা প্রমুখের উদ্যোগে মোগলাবাজার (গুরুন্ড-রেংগা) পূর্ণখলা গ্রামে ১৯৫২ সালে মাওলানা মুকাররম আলী ও মাওলানা সিকন্দর আলী সাহেবের বাড়ীতে সিলেট জেলার কওমী মাদ্রাসা সমূহের উস্তাদ ও বিশিষ্ট আলেম উলামাদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শায়খুল হাদীস মাওলানা রিয়াসত আলী রাহ.।

সভায় জেলার ৩০টি মাদ্রাসা ও মক্তবের সমন্বয়ে আবার বোর্ড গঠিত হয়। উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্বাঈদুল উলামা, ছদরে জমিয়ত আল্লামা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া রাহ.কে সভাপতি নিযুক্ত করার পর মৃত্য র্পযন্ত প্রায় ৫৩ বছর স্বপদে ছিলেন। শায়খুল হাদীস রিয়াছত আলী চৌঘরী রাহ.কে সহ-সভাপতি এবং ডাক্তার মুর্তাজা চৌধুরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত করে এদারার কাজ পুনরায় চালু করা হয়। উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও শহীদ মাওলানা শামসুল ইসলাম শেরপুরী, মাওলানা বশীর উদ্দীন গৌরকরনী ও মাওলানা আব্দুল আজিজ রাহ. প্রমুখ পরিচালকবৃন্দের প্রচেষ্টায় বোর্ডটি উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়।

১৯৭১ সালে ‘বাংলাদেশ’ স্বাধীন হওয়ায় ১৯৭২ সনে বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে “আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ” নামকরণ করা হয়। মাওলানা ফখরুদ্দীন গলমুকাপনী তখন সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ক্বাঈদুল উলামা হযরত মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া রাহ. ছদর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মৃত্যু (১২ নভেম্বর ২০০১ সাল) পর্যন্ত সভাপতির পদে ছিলেন। শায়খে কৌড়িয়ার ইন্তিকালের পর সভাপতি নির্বাচিত হন হযরত মাওলানা ফখরুদ্দীন গলমুকাপনি (র)। তিনি আমৃত্য সভাপতি ছিলেন। যিনি দীর্ঘ ২৬ বছর এদারার (নাযিম) সেক্রেটারী ছিলেন। ১৪১৯ হিজরীসনে মাওলানা হুছাইন আহমদ বারকুটিকে সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরীকে সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করাহয়। ২০০৭ সালে মাওলানা হুছাইন আহমদ বারকুটিকে সভাপতি ও মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরীকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তারা বর্তমান র্পযন্ত স্বপদে আছেন৷

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...