শুক্রবার, ১৪ই জুন, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১০:১৩
Home / অনুসন্ধান / খৃস্টান মিশনারি ও ভ্রান্তদের তৎপরতা : আমাদের করণীয়
মুফতি রেজাউল কারীম আবরার

খৃস্টান মিশনারি ও ভ্রান্তদের তৎপরতা : আমাদের করণীয়

মুফতি রেজাউল কারীম আবরার :

পার্বত্য চট্রগ্রামে গেলে আপনি চমকে উঠবেন! গ্রামের পর গ্রাম মানুষ খৃস্টান মিশনারীদের কবলে পড়ে মূল্যবান ঈমান হারাচ্ছে!

শুভ্র দাড়িওয়ালা মুরব্বী। পুরো জীবন ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি মাসীহের ধর্ম গ্রহণ করেছেন! কাফের হয়ে যাওয়া মুরব্বীদের দেখে চোখের পিানি আটকে রাখতে পারবেন না! দরিদ্রতার কষাঠাতে পিষ্ট হয়ে মাত্র কয়েকটা টাকার বিনিময় বিক্রি করে দিচ্ছে ঈমানকে! ঠাকুরগাঁওয়ে বিশাল এলাকার সকলেই খৃস্টান হয়ে গেছে! এমনভাবে পুরো বাংলাদেশের অজঁপাড়া গায়ে প্রতিনিয়ত ঈমান হারাচ্ছে মুসলমানরা!

মারকাযে আমাদের বড় ভাই হুসাইন আহমদ। দাওয়াতি কাজে কয়েক বছর ছিলেন রাঙামাটির পাহাড়ী এলাকায়। যেখানে সফলভাবে কাজ চালাচ্ছে কাদিয়ানিরা। লংগধুসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের সকলেই কাদিয়ানি হয়ে যায়! বাংলাদেশের আরো বহু জায়গা এমন আছে, কাদিয়ানিরা ধীরে ধীরে মুসলমানদের মূল্যবান ঈমান লুটে নিয়ে তাদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথে তুলে দিচ্ছে! হুসাইন ভাই যেদিন আমাদের কারকুজারী শুনিয়েছিলেন, বিশ্বাস কর ভাই, মরাকাযের সকলেই সেদিন কেঁদেছিল!

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গজিয়ে উঠা মাজার সমূহ। দিনদুয়েক আগে চাঁদপুরের লেংটা শাহ বাবার মাজারের উরসের চিত্র দেখে চোখে পানি চলে আসে! মানুষ কত সহজে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়ে লেংটা বাবার দরবারে নিজের মূল্যবান ঈমান রেখে রিক্তহস্তে ফিরছে!

দেওয়ানবাগী, রাজারবাগী, কুতুববাগী, আটরশী, চন্দ্রপাড়া, মাইজভান্ডারসহ শতশত দরবার শরীফ! সুকৌশলে মুসলমানদের ঈমান লুটে নিচ্ছে! সাথে সাথে তাদের মাল, সম্পত্তি সব কিছুই ছিনিয়ে নিচ্ছে!লক্ষ লক্ষ মুসলমান, যারা আমার ভাই, জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য অশ্বের গতির মত তীব্রবেগে ছুটে চলছে দরবার নামক জাহান্নামের কাউন্টার গুলোর দিকে!

রেজভী, বেরলভীসহ বেদয়াতিরাও কত মুসলমানকে প্রতিনিয়ত পথভ্রষ্ট করছে!শরীয়তে গর্হিত কত কাজ তারা সুকৌশলে মুসলমানদের মাঝে বিস্তার ঘটিয়েছে! আমাদের বিরুদ্ধে তাদের অপপ্রচার চলছে মরু-সাইমুমের মত!

অপরদিকে চিন্তাগত দিক থেকে মুসলমানদের তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলা হচ্ছে নাস্তিকরুপে। তাদের চিন্তা শক্তিকে এতটা বিকৃত করা হচ্ছে যে, বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠছে নামে মাত্র মুসলমান হিসাবে! কিন্তু ফিকিরের দিক দিয়ে তারা নাস্তিক!

বর্তমান যুগে ইলমের নামে শুরু হয়েছে নতুন আরেক ফিতনা। লা মাযহাবী ফিতনা। উম্মতের প্রত্যেক সদস্যের হাতে ইজতিহাদের কঠিন দায়িত্ব চাপিয়ে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সাধারণ মুসলমানদেরকে! সালাফে সালেহীন সম্পর্কে কৌশলে সাধারণ মুসলমানের অন্তরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মারাত্বক বিদ্বেষ! একজন খেয়া নৌকার মাঝিও এখন ইমাম আবু হানিফার সমালোচনা করতে আল্লাহর ভয়ে কেঁপে উঠেনা!

বাতিলের এই ভয়াল স্রোতের সামনে হকের নিভু নিভু প্রদীপটির গুরু দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের হাতে সোপর্দ করেছেন! কিন্তু আমরা কি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারছি? খৃষ্টান হয়ে যাওয়া ভাইয়ের জন্য কি কখনো আমার চোখের পাতা ভিজেছে? জীবনের শেষ বয়সে মূল্যবান ঈমান হারিয়ে কাদিয়ানি হয়ে যাওয়া আমার পিতার জন্য কি কখনো আফসোস করে আমার অন্তর? তাঁকে বাঁচানোর কোন ফিকির কি আমি করেছি? মাজারে গিয়ে আমাদের যে সমস্ত ভাইয়েরা ঈমানের মত মহামূল্যবান সম্পদ হারিয়ে আসছেন, তাদের নিকট কি আমি পৌছাতে পেরেছি ইসলামের সঠিক দাওয়াত? ভণ্ড পীরের খপ্পরে পড়ে পথ হারিয়ে অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের কাছে আমি কি নিয়ে গেছি হেরা গুহার আলোর মশাল? নাস্তিকতার দীক্ষা পাওয়া তরুণ প্রজন্মের কাছে কি আমি পৌছাতে পেরেছি ইসলামের সৌন্দর্যতা?? লা মাযহাবী শায়খদের লেকচার শুনে যারা বিভান্ত হচ্ছে, তাদের নিকট কি আমি তুলে ধরতে পেরেছি মুজতাহিদ না হলে মাযহাব না মানার ভয়াবহতা?? আমি কি পেরেছি আমাদের সহীহ দলীল তার সমানে পেশ করতে??

বাস্তবতা হল, আমরা কলম আছে! কলমে খুন আছে! তেজ আছে! কিন্তু আমার কলম অগ্নিমুর্তির আকার ধারণ করে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে! আমার কলম বর্শা হয়ে এফোড়- উফোড় করে আমার ভাইয়ের বক্ষকে ! আমার কলম তরবারী হয়ে আঘাত হানে আমার ভাইয়ের ঘাড়ে! আমি অপেক্ষায থাকি! কখন সুযোগ আসবে! ঝাপিয়ে পড়ব ভাইয়ের বিরুদ্ধে! কেই কাউকে ছেড়ে কথা বলবোনা! ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত রণভঙ্গ দিবেনা! আমার শক্তি-সামর্থ পুরোটা ব্যয় হচ্ছে আমার ভাইয়ের কিরুদ্ধে। অথচ আমি হলফ করে বলতে পারি, সে সঠিক পথের পথিক! কিন্তু তার সাথে আমার মতভিন্নতা হল শুধুমাত্র রাজনৈতিক দিক থেকে! রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে কেন্দ্র করে আমরা গালিগালাজের ঝড় বইয়ে দেই! নেতৃত্বে থাকেন আমাদের মুহতারাম বড় ভাইরা! অথচ তাদের উচিৎ ছিল আমরা কখনো ভুলে ঝগড়া লাগলে তারা বুঝিয়ে আমাদের থামাবেন! কিন্তু দুঃখজনক হল যে, তারা রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন। বাশিতে ফুঁক দিয়ে খেলা শুরু করেন!
অথচ দাবি আমাদের আমরা নবীর ওয়ারিছ! পিতা ইন্তেকালের সময় একটা সুই রেখে গেলে সেটাতেও ওয়ারিছরা অংশ পায়! নবীর ওয়ারিছরা! রাসূলের রক্তমাখা দ্বীনকে কিভাবে বিকৃত করছে মাজারপন্থীরা! রাসূলের মায়ার উম্মতকে কিভাবে জাহান্নামমুখি করছে খৃস্টান মিশনারী এবং কাদিয়ানিরা! রাসূলের ইয়াতিম উম্মাতকে কিভাবে পথভ্রষ্ট করছে লা মাযহাবীরা? রাসূলের ওয়ারিছ হয়ে কখনো কি তাদের চিন্তা করেছেন? আপনার কলম কি কখনো কি গর্জে উঠে খৃস্টান মিশনারি, কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে! লাম মাযহাবীদের বিরুদ্ধে লেখলে আপনি নসীহত করেন, কেন খামাখা উম্মতকে বিভক্ত করছ? আপনার কলম কি কখনো বর্শা হয়ে আঘাত হেনেছে নাস্তিকদের হৃদপিণ্ডে? আপনার কলম কি কখনো ঝড় তুলেছে ধর্মনিরপেক্ষতার দুর্গে! আপনার কলম কি কখনো তরবারী হয়ে রক্ত ঝরিয়েছে ভণ্ড পীরদের??

মালিক, আমাদের মাফ করে দাও! আমরা পাপী! পাপের ভারে খেই হারিয়ে ফেলে নিজের ভাইকে শত্রু বানিয়ে ফেলেছি! এই ফাঁকে শত্রুরা খোলা ময়দানে রণপ্রস্তুতি নিয়ে রীতিমত মহড়া প্রদর্শন করছে! আমাদেরকে মাফ কর মালিক। দ্বীনের সঠিক বুঝ দান কর।

লেখক : সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া আবু বকর রা., ঢাকা

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...