বুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৩:০৮
Home / আমল / সীমাবদ্ধ পৃথিবীর দ্বন্দ্ব এবং কোরআনিক নির্দেশনা

সীমাবদ্ধ পৃথিবীর দ্বন্দ্ব এবং কোরআনিক নির্দেশনা

0মুহাম্মাদ সাজিদ করিম । দুনিয়াই যাদের সব আর যারা দুনিয়ার সীমাবদ্ধতাকে অনুধাবন করে তারা কখনো সমান নয় বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের মাঝে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। এই সঙ্ঘাত কখনও কখনও হয় আদর্শিক-মনস্তাত্ত্বিক আবার কখনও তা গড়ায় ঢাল তলোয়ারের ঠুকোঠুকিতে। পারস্য সেনাপতি রুস্তমের কাছে প্রেরিত মুসলিম দূত রাবই’ ইবন আ’মর (রাঃ)কে যখন প্রশ্ন করা হল ‘কেন এসেছ তোমরা?’, উনার উত্তরের মাঝে ছিলঃ ‘ইন্নাল্লহাবতাআ’সানা লি নুখরিজাল ই’বাদ… মিন দি’কিদ দুনিয়া ইলা সাআ’তিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ…”; “আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন বান্দাদের ….দুনিয়ার সঙ্কীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের বিশালত্বের দিকে বের করে নিয়ে যাবার জন্য…।”

এটা ইন্টারেস্টিং যে যারা দুনিয়ার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ তারা নিজেদের প্রতিপক্ষের তুলনায় অধিক বুদ্ধিমান ও বুঝদার ভাবতে ভালোবাসেন। একটা সরকারী সুদী ব্যাঙ্কে “ভালো” চাকরি নিয়ে হয়তো কেউ ভাবছে সে দূরদর্শী, তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিন্ত (সরকার থেকে পেনশন পাবে); কিন্তু আসলেই কি সে দূরদর্শী? তাহলে তো রক্তের নদীতে একজনের সাঁতার কাটার দৃশ্য তার চোখে ভেসে উঠতো। এ দলের বাবা-মা যারা স্কুলের বাইরে বসে থাকা বাবা-মা’দের মধ্যে সন্তানদের পারফর্মেন্স নিয়ে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত থাকে, দেখা যায় রামাদানের মধ্যে পরীক্ষা পড়লে বলে- পরীক্ষার মধ্যে রোজা রাখার দরকার নাই, রেজাল্ট খারাপ হবে। তার সন্তান হয়তো স্কুলে মেধাতালিকায় প্রথম করলো, কিন্তু ইয়াওমুল কিয়ামাহয় যে সন্তানের রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে সেদিকে তার নজর দেয়ার অবকাশ কোথায়?

দুই দলের মাঝে প্রথম দলের সংখ্যা এতো বেশী যে তারা যেন সমুদ্র আর দ্বিতীয় দলের লোকেরা ছোট ছোট কাঠ আঁকড়ে ধরে যেন সে সমুদ্রে সারভাইভ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বাবা প্রায় একটা হাদীসের কথা উল্লেখ করে বলতেনঃ “এ যুগে ঈমান রাখা হাতে কয়লা রাখার মত।” এ সমুদ্র আর প্রেশারের মাঝে টিকে থাকা চাট্টিখানি কথা নয়। বিশ্বব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি তার বিরুদ্ধে, জাহেল সমাজ তার বিরুদ্ধে, সর্বোপরি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার বিরুদ্ধে। কখনও এ প্রেশার ডাইরেক্ট, কখনও ইন্ডাইরেক্ট। উমার ইবন আব্দিল আযীয (রহঃ) বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর, খলীফা হবার পরও সারাজীবন দারিদ্র্যের জিন্দেগী যাপনের পর মৃত্যুর পর তার সন্তানদের কিছুই না দেবার সিদ্ধান্ত নেন। বানু উমাইয়্যার অন্যান্য লোকেরা তাকে চাপ দিতে থাকে। এক বর্ণনায় তার ফুফুরা তার ছোট ছোট সন্তান যারা মলীন পোশাক পরিহিত ছিল তাদের তার মৃত্যুশয্যার কাছে দাঁড় করিয়ে কথা শুরু করে যাতে এ দৃশ্য পিতার মনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এ দেশেও এমন অনেক ঘটনা আছে যা রীতিমত আশ্চর্য করবার মত। আমার এক বন্ধু কয়েকবার সিগারেট খাওয়া অবস্থায়, মেয়েদের সাথে ফ্লারটিং করা অবস্থায় তার বাবার সামনে ধরা পড়েছে। তার বাবা তার সামনে এ নিয়ে কোন কথাও তুলেনি, তাকে তিরস্কারও করেনি। সেই বন্ধুকে আল্লাহ হেদায়াত দেন, নমিন্যাল থেকে সে প্রাক্টিসিং হয়; টাখনুর উপর কাপড় পরা, দাড়ি রাখতে আরম্ভ করে। কিছুদিনের মধ্যেই তার বাবা তাকে দাড়ি কাটার আল্টিমেটাম দেন। সে আল্টিমেটাম অগ্রাহ্য করলে বাবা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লহ! মেয়েদের সাথে ফ্লারটিং এর জন্য কোন তিরস্কার করলোনা, দাড়ি রাখার জন্য বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো!

প্রথম দলের মধ্য থেকে যেমন অনেকে আলহামদুলিল্লাহ ভেসে ওঠে, তেমনি ভেসে থাকা অনেকেও প্রেশার হ্যান্ডেল না করতে পেরে ডুবে যায়। ওয়া নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক। আল্লাহর সুন্নাহ সম্পর্কে কেউ অবগত থাকলে সে এটা জানে যে দেশের প্রেক্ষাপটে ইসলাম পুরোপুরিভাবে (in its entirety) পালন করতে চাওয়া ব্যক্তিদের উপর বর্তমানে আপতিত বিপদের সাথে ভবিষ্যতে আগত বিপদের যদি তুলনা করা হয় তবে এক ছেলে খেলা মনে হবে। একটার পর একটা বিপদ, একটার পর একটা বিপদ দিগন্তে দেখা দিবে যতক্ষণ না সকলে ডেস্পারেট হয়ে যায়।

“তোমরা কি বিবেচনা করো যে তোমরা বেহেশতে দাখিল হতে পারবে যতক্ষণ না তোমাদের উপরেও তোমাদের আগে যারা গত হয়েছে তাদের ন্যায় না বর্তায়? তাদের আক্রমণ করেছিল দারুণ বিপর্যয় এবং চরম দুর্দশা, আর তারা কেঁপেছিল, শেষ পর্যন্ত রসূল ও তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তারা বলল –“আল্লাহ্‌র সাহায্য কখন?’’ আল্লাহ্‌র সাহায্য অবশ্যই নিকটবর্তী নয় কি?” {আল বাকারা- ২১৪}

ফাতুবা লিল গুরাবা।

১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে প্রদত্ত লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...