সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১০:৩৭
Home / আমল / একটি নববী আদর্শ : প্রাসঙ্গিক কিছু চিন্তা

একটি নববী আদর্শ : প্রাসঙ্গিক কিছু চিন্তা

nameআব্দুল্লাহ আল মাসুম : একবার নাজরান থেকে খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসে। তাঁরা মসজিদে নববীতে একত্রিত হয়।

আসরের পর তারা এসেছিল। খ্রিস্টানদের নামাযের সময় হয়। তারা মসজিদে নববীতেই তাদের নামায পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে সাহাবীগণ মসজিদে নববীতে নবীজীর উপস্থিতিতে তাদের ধর্মের নামায পড়তে দেখে তাদেরকে বাধা দিতে চাইলেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইতিহাসে এক নজীরবিহীন অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি উল্টো মুসলমানদেরকে বাধা দিয়ে বললেন, دعوهم “তোমারা তাদেরকে বাধা দিও না। ছেড়ে দাও” । এরপর তারা মসজিদে নববীতেই উল্টোদিকে নামায আদায় করল।

এই নাজরানদের খ্রিস্টানদের প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পত্রে লিখেছিলেন-
إن أكلتم الربا فلا صلح بيننا و بينكم، وكان النبي صلى الله عليه وسلم لا يصالح من يأكل الربا
“যদি তোমরা সুদী লেনদেন কর, তবে তোমাদের সাথে আমাদের কোন সুলাহ নেই। যে সুদ খেত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সুলাহ করতেন না।”
-(ইবনে আবী শাইবা, খ.১১,পৃ.৩১৯-৩২০; যাদুল মাআদ,খ.২, পৃ. ৪৭৬ (মুআসসাসাতু মালিক, কাহেরা, প্রথম প্রকাশ); মাজমুআতুল ওছায়িকুছ সিয়াসিয়্যাহ, ড.মুহাম্মদ হামীদুল্লা, পৃ. ১৭৬, ১৭৯)
চিন্তা:
১.কিছু তরুণ আমাদের দেশে বিভিন্ন মন্দির ও গীর্জায় হামলা করে। পাদ্রী বা ব্রাক্ষ্মণকে মেরে ফেলে। অমুসলিম ভিসাধারীকেও হত্যা করে। আর মনে করা হয়, এই হত্যার পরের ধাপ সোজা জান্নাত। এটি সর্ম্পূণ বিভ্রান্তি। এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। ইসলামে সাম্প্রদায়িকতা নেই। ইসলাম একটি সার্বজনীন ধর্ম। ইসলামের নবী, কুরআন শুধু মুসলমানদের নয়। পুরো মানবাতর জন্য।
ইসলামকে জানতে হবে নবীজীর সীরাত ও সালাফের ফিকহের আলোকে। মিডিয়ার খন্ডিত উপস্থাপন থেকে নয়। এখানে আরেকটি বিষয় না বললে, বিষয়টি অপূর্ণ থেকে যাবে, তা হল, অমুসলিম উপাসনালয়ে কোন মুসলিম হামলা করা যেমন শরীয়াহ সমর্থিত নয়, তেমনি মসজিদে হামলা বা শাআইরে ইসলাম নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে সেটাও অপরাধ। সরকারকে উভয়দিকে ভারসম্যতা রাখতে হবে।

২. তারা ছিল অমুসলিম। খ্রিস্টান। এরপরও কেবল সুদের প্রশ্নে তাদের প্রতি কঠোর হয়েছেন। আর আমাদের অবস্থা হল, আমরা জেনেও সুদখোর ব্যক্তির হাদিয়া গ্রহণ করি। তাকে বাড়ি ভাড়া দেই। তবে এর অর্থ এ নয় যে, তার সাথে শত্রুতা করতে হবে। বরং বন্ধু হয়ে বুঝাতে হবে।-

( আমাদের ইসলামি অর্থনীতি ও ফাইন্যন্স ক্লাসের আজকের শীট থেকে সংগৃহীত)

20-8-2016 তারিখে প্রদত্ত লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

 

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

আধ্যাত্মিকতা

ডক্টর আব্দুস সালাম আজাদী:: আধ্যাত্মিকতা **************** রুহানিয়্যাত বা আধ্যাত্মিকতা ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মূল ...