শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ ভোর ৫:১৭
Home / কবিতা-গল্প / অগ্নিপরীক্ষা

অগ্নিপরীক্ষা

hand_of_fireস্বর্ণপ্রসবিনী বাগদাদ কিছুটা উন্নাসিক প্রকৃতির। সহজে কারো শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে রাজি নয়। নিজের বুকে যেহেতু ধারণ করেছে বিশ্বসেরা মনীষীদের, তাই উন্নাসিকতা তাকে সাজে। কতো কবি সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, ঐতিহাসিক জন্ম নিয়েছেন বাগদাদে! কতো হাফেয, আলেম, মুহাদ্দিস ও মুফাস্সিরের জন্মভূমি এই বাগদাদ! তাই হঠাৎ করে ইমাম বুখারির নামডাক শুনে বাগদাদবাসী কিছুটা ক্ষুণœ হলো। কে এই বুখারি যিনি আহলে বাগদাদকে ছাড়িয়ে যাবেন?! মানুষগুলো হয়তো বোকা, তাই মেতেছে বুখারিকে নিয়ে। বাগদাদে এলে বোঝা যাবে—কতো ধানে কতো চাল।
বাগদাদের আলেমগণ মানতে পারছেন না ইমাম বুখারির শ্রেষ্ঠত্ব। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর একক নেতৃত্ব। বাগদাদে এতো বড়ো বড়ো আলেম থাকতে মানুষ কেনো মেতেছে বুখারিকে নিয়ে, তাদের বিস্ময়ের অবধি নেই। লোকদের তাই তারা বোকা ঠাওরাচ্ছে, নিতান্ত নির্বোধ ভাবছে। তাদের মনোভাব হলো—বাগদাদের আলেমগণ হলেন যোগ্যতার মাপকাঠি। তাদের স্বীকৃতি না পেলে কেউ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এমনই এক বিক্ষুব্ধ সময়ে ইমাম বুখারি বাগদাদে এলেন। বাগদাদবাসী যেনো সেই প্রতীক্ষায় ছিলেন। ইমাম বুখারিকে বাজিয়ে দেখার মোক্ষম সুযোগ। এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। পরামর্শ করে তাঁরা এক কৌশল বের করলেন। একশত হাদিসের সনদ মতন উলট পালট করে দশজনের হাতে দিলেন। সনদ মতন এমনভাবে এলোমেলো করা হলো যে, বোঝার উপায় নেই।
একদিন ইমাম বুখারিকে নিয়ে তাঁরা বসলো। প্রথমে একজন দশটি হাদিস পেশ করলো। ইমাম বুখারি বিস্ময়ে বিমূঢ়। নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললেন— আমি জানি না। এমন হাদিস শুনিনি কখনো। এমনতরো সনদও শুনিনি। ব্যাপারটা যারা জানে না তারা উৎফুল্ল হলো। ভাবলো—আসল জায়গায় এসে ফাঁদে পড়েছেন বুখারি। এবার টের পাবেন কাকে বলে বাগদাদ! দ্বিতীয়জন শোনালো আরো দশটি হাদিস। এবারও তাঁর নির্বিকার জবাব, জানি না, শুনিনি কখনো এমন অদ্ভুত হাদিস। এরপর তৃতীয়জন, চতুর্থজন, পঞ্চমজন এভাবে মোট দশজন একশটি হাদিস পেশ করলো। ইমাম বুখারি কেবল মাথা নাড়েন।
ব্যাপারটা যারা জানেন তারা পরস্পর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। বুঝলেন—পারা গেলো না। অনেক আশা ছিলো আটকাতে পারবেন। কিন্তু ইমাম বুখারি তাদের চক্রান্তের জাল ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। পরে একে একে প্রত্যেকের ভুল সনদে বলা হাদিসগুলো শুধরে দিলেন। সনদের গড়মিলও ধরিয়ে দিলেন। উপস্থিত লোকেরা বিস্ময়ে হতবাক। এটাও কি সম্ভব? একবারমাত্র শুনে এতগুলো ভুল হাদিস হুবহু মনে রাখা! আবার সেগুলোর সনদ মতন ঠিক করে দেয়া! আপনাতে নুইয়ে এলো তাদের মাথা। তখন অসংকোচে তারা মেনে নিলেন ইমাম বুখারির শ্রেষ্ঠত্ব। (উলুওউল হিম্মাহ : ১৮৩)

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

৪৩ টি পতিতালয়ের মালিকের লেখা কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত?

ফেসবুকীয় মতামত-:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী রবী ঠাকুরের কবিতা কেন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত? জাতি তা জানতে চায়…… ...