সোমবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১:৫৪
Home / অনুসন্ধান / আবুলহাসান আলী নদভী, মুফতী শফী ও তাক্বী উসমানী থেকে আমরা বেশি বুঝি ?

আবুলহাসান আলী নদভী, মুফতী শফী ও তাক্বী উসমানী থেকে আমরা বেশি বুঝি ?

Abulhasan Ali nodovi
আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহ

কমাশিসা অনুসন্ধান:: ১৯৮৪’র কথা। আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রাহঃ হোটেল পুর্বাণীতে বয়ান রাখলেন। বাংলাদেশের আলেম উলামাদের  উদ্দেশ্য বললেন গুরুত্বপুর্ণ অনেক কথা । তিনি আফসুস করে বলেন যে, আমি শোনেছি আপনাদের অনেকেই নাকি বাংলা ভাল করে জানেন না। মনে রাখবেন বাংলা আপনাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা মায়ের ভাষা এই জনপদের ভাষা এই জাতির ভাষা।এই দেশের কৃষ্টি কালচার আদর্শ আখলাক সমপর্কে আপনাদের ভাল করে ধারণা থাকতে হবে।আর এই জাতির কাছে ইসলামের শিক্ষা পৌছাতে বাংলার কোন বিকল্প  নেই। উর্দু শিখে আপনাদের কি লাভ হচ্ছে? এক সময়তো ফার্সির ধকল ছিলো । বাংলা ভাষার প্রতিটি শাখাতে যোগ্যতার সাথে আপনাদের দাপিয়ে বেড়াতে হবে।এই বিষয়ে যদি কোন অবহেলা করেন তাহলে তা হবে ঐতিহাসিক ভুল এবং আত্মহত্যার শামিল।   – বিশিষ্ঠ্য ইসলামী চিন্তাবিদ হাফিজ মাওলানা নাজির উদ্দীন,লন্ডন।

taqi usmani
আল্লামা তাক্বী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম

আল্লামা রাফী উসমানী মুহতামিম৷ তিনি পাকিস্তানের গ্রান্ড মুফতী৷ টিভি আলোচক৷ দেশে দেশে পর্যটক৷ লেখক৷ চিন্তক৷ দারুল উলুম করাচী মাদরাসার শাইখুল হাদীস হলেন মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী৷ তিনি শাইখুল হাদীস৷ আন্তর্জাতিক দীনী ব্যক্তিত্ব৷ লেখক৷ ফকীহ৷ অর্থনীতিবিদ৷ এই দুই হযরতের ছেলেরা মাওলানা এবং ডক্টর৷ অর্থনীতিতে ডক্টরেট করেছেন৷ তকী উসমানী 1960 সালে দাওরা শেষ করে কলেজে ভর্তি হয়ে নিয়মিত এল এল বি করেছেন৷ আরবী ভাষা ও সাহিত্যে ইউনিভার্সিটি থেকে সার্টিফেকেট অর্জন করেছেন৷
এই দুই জনের পিতা মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ৷ মুফাসসির৷ দারুল উলূম দেওবন্দের মুফতীয়ে আযম৷ দাদা দেওবন্দের মুহাদ্দিস৷ জন্ম দেওবন্দে৷ 1947 সালে মুফতী শফী রহ পাকিস্থানে হিজরত করেন৷ নতুন দেশে তিনি নতুন আঙ্গিকে শিক্ষার কথা বলেন৷ সরকারকে বোঝাতে চেষ্টা করেন৷ সে শিক্ষাব্যবস্থাটি দেওবন্দ, আলীগড় বা নদওয়ার মতো নয়৷ তিনি মনে করতেন ইসলামের প্রথম শতাব্দির আদলে হবে পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা৷ দীন দুনিয়ার সমন্বয় থাকবে৷ বিজ্ঞানকে দীনী শিক্ষার আবহাওয়ায় শিক্ষা দেওয়া হবে৷ মুসলিমরা শিক্ষাকে বিভাজন করবে না৷ সরকার তা মানে নি৷ তিনি নিজেই উদ্যোগ নেন৷ প্রতিষ্টা করেন দারুল উলূম দেওবন্দের আদলে দারুল উলুম করাচী৷ সাথে এস এস সি লেভেলের স্কুল৷ মেয়েদের জন্য বালিকা মাদরাসা৷ এইসবগুলো একই সীমানায়৷ বিশাল আয়তনে৷

চলতি মাসে দারুল উলূম করাচীর স্কুল শাখা থেকে 21 স্টুডেন্টকে হাফেযে কুরআনের পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান হয়েছে৷ আল্লামা তাকী উসমানী ছিলেন স্কুলের ছাত্রদের হিফজুল কুরআন শেষ করার পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে আলোচক৷ তিনি তাঁর আব্বার শিক্ষাভাবনার কথাগুলো বলেন৷ মুফতী শফি রহ ছিলেন থানুবী রহ এর খলীফা৷ হাকীমুল উম্মতের খলীফা, দেওবন্দের মুফতী হয়েও ছেলে তকীকে কেন কলেজে পডতে দিলেন? কেন সরকারী সনদের প্রয়োজন মনে করলেন? তাকী সাহেব আল্লামা হয়েও কেন ছেলেকে ডক্টর বানালেন? প্রশ্নগুলো মাথায় রাখি আমরা৷– বিশিষ্ঠ্য ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক গবেষক লাবীব আব্দুল্লাহ।

দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন মুসলমান রাষ্ট্রের জন্য ছিলনা। একটি কুফর রাষ্ট্র। দারুল হরব ঘোষিত যুদ্ধ কবলিত জনপদের মানুষের ঈমান আক্বীদা ধর্ম বিশ্বাস  রক্ষার জন্য ছিলো এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। প্রতিষ্ঠান তার লক্ষ উদ্দেশ্য সফল এবং বিজয়ী। কিন্তু মুসলিম জাতির জন্য তাদের রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা হবে পুর্ণাংগ ও পরিপুর্ণ।যাকে আমরা ইসলামী শিক্ষা বলে আখ্যায়িত করতে পারি। অথচ আমরা সেই আপতকালীন সময়ের সাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে ধর্ম ও জাগতিক শিক্ষাকে আলাদা আরে ইসলামি শিক্ষাকে খন্ডিত করে ফেলি। আমাদের অনেকে বলেন-দুনিয়ার গন্ধ পাচ্ছি ! কেউ যদি জাগতিক শিক্ষার কথা বলে তখন তাকে দুনিয়াদার বলে তিরস্কার করা হয়। তিরস্কার যদি করতে হয় তাহলে আগে কোরআনকে করুন ! হাদীসকে করুন ! রাসুলকে করুন ! যারা ধর্ম শিক্ষা আর জাগতিক শিক্ষা বলে সীমারেখা টানেন তারা প্রকৃত পক্ষে ইসলামের আংশিক অংশের বিশ্বাসী। কোরআন কেন বলছে ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি  আর হারাম করেছি সুদকে’ হাদীসে কেন বলা হলো ‘ হালাল উপার্জন ও একটি ফরজ অন্যান্য ফরজের পর’ কেন তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমান-‘শ্রমিকের পাওনা তার ঘাম শুকিয়ে যাবার আগে বুঝিয়ে দাও’ নামাজ কায়েম করো যাকাত আদায় করো ! আল্লাহর রাস্তায় খরছ করো ! হে নবী আপনাকে তারা জিজ্ঞেস করবে যে তারা কি খরছ করবে ? বলেদিন- তাদের কামাই থেকে যা বাকি থাকে সবই’।

এখানে বিরাট একটা প্রশ্ন ! দুনিয়া যদি সে কামাই না করে তাহলে খরছ করবে কোথা থেকে?  আল্লাহর রাস্তায় জেহাদে ইসলামের জন্য সম্পদ ব্যয় কেমনে হবে? কে দেবে কোত্থেকে দেবে? যারা বলে জাগতিক শিক্ষায় দুনিয়ার গন্ধ তারা যে কাপড় পরিধান করে যে মোবাইলে কথা বলে ফেবু চালায় গাড়ি চড়ে লাংগল চালায় জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরে জমিতে শাক সবজি ফলায় যে ঘরে বসবাস করে সবই তো দুনিয়ার কাজ ? সেই মুর্খ জাহেল লোকটি যখন উপার্জনের শিক্ষাকে উপেক্ষা করে শুধু ইবাদতের শিক্ষাকে দ্বীনের শিক্ষা বলে চালিয়ে দিতে চায় তাকে আমরা কি বলি? আমরা বলবো তুমি মুসলমান হও। পুর্ণ ইসলামের অনুসারী হও আর পড়- ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দুনিয়ার কল্যাণ দাও আর দাও আখেরাতের কল্যাণ।এবং জাহান্নামের কঠিন ্আজাব থেকে আমাদের মুক্তি দও।’ তাই বলি আমরা আমাদের জীবনকে ইসলামের মতো চালাবো। দুনিয়াকে দ্বীনের মতো করে দ্বীনকে দুনিয়ার মতো করে নয়। যখন দুনিয়াটা দ্বীনের মতো হয়ে আসবে তখন হবে ইবাদত। আর যখন দ্বীনটা দুনিয়া হয়ে আসবে তখন হবে শুধুই দুনিয়া। আর এই দুনিয়া থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...