রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৮:৪৮
Home / অনুসন্ধান / মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিন খুন

মসজিদের ভেতর মুয়াজ্জিন খুন

moajjin-1অনলাইন ডেস্ক :: আকস্মিক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া রাজধানীর ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বিল্লাল হোসেন (৫০) নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এর নয় মাসের মাথায় মসজিদের ভেতরেই খুন হলেন তিনি। গতকাল সোমবার সকালে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল। হত্যাকারীরা হয়তো নিহত মুয়াজ্জিনের পরিচিত।
পুরান ঢাকার ২৪ নম্বর ইসলামপুর রোডের চারতলা একটি ভবনের ওপরের তিনতলাজুড়ে ঝব্বু খানম মসজিদ, নিচতলায় মার্কেট। মসজিদের তৃতীয় তলার একপাশে তিনটি কক্ষ। এর পশ্চিম পাশের কক্ষটিতে থাকতেন বিল্লাল। প্রায় ৩২ বছর যাবৎ এই মসজিদে মুয়াজ্জিন ছিলেন তিনি।
গত রোববার রাতে এশার নামাজ শেষে বিল্লাল মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। ওই রাতে কোনো এক সময় তিনি মসজিদে ফেরেন। গতকাল ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে সারোয়ার নামে স্থানীয় এক মুসল্লি বিল্লালকে রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়ির ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার মাধ্যমে অন্যরা খবর পান।
সকাল পৌনে নয়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিল্লালের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিদ্দিকনগরের দাসুরাপাড়ায়। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি ঢাকায় থাকেন। পড়ালেখা করেছেন তাঁতীবাজারের একটি কওমি মাদ্রাসায়। তাঁর এক ছেলে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় পড়েন। আর মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী থাকেন মানিকগঞ্জে।

নিহত বিল্লালের ছেলে মো. ইয়াসিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। প্রথম আলোকে ইয়াসিন বলেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তারপরও গত রমজান মাসে কয়েকজন তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।’ তিনি বলেন, ১৭তম রমজানের রাতে তাঁর বাবা চতুর্থ তলায় মসজিদের কার্যালয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে কয়েকজন মসজিদে ঢুকে প্রথমে সব লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর বিল্লালের বুকের ওপর উঠে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। সেদিন বিল্লাল প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরদিন এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল।
ওই হামলা সম্পর্কে ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি ও মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আমরা কয়েকবার মুয়াজ্জিন বিল্লালের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাউকে সন্দেহও করতে পারেননি।
৬৫ হাজার টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, মসজিদের কোনো কমিটি নেই। নবাব পরিবারের একজনকে ‘মোতোওয়াল্লি (ব্যবস্থাপক)’ করে মসজিদটি পরিচালিত হয়। মসজিদের সব আয়ের টাকা বিল্লাল হোসেনের কাছে জমা থাকত। পরে তিনি সেই টাকা ব্যাংকে জমা দিতেন।
বিল্লালের সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের হামলায়ও বিল্লালকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পেট, বুক, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে পেট ও বুকের ক্ষত ছিল সবচেয়ে বেশি।
পুলিশ এ ঘটনায় মো. মোশাররফ (১৮) নামের আরেক মুয়াজ্জিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। বিল্লালের পাশের কক্ষেই থাকতেন তিনি।

কোতোয়ালি থানায় মোশাররফ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিয়মিত জোহর ও জুমার নামাজের আজান দেন। অন্য সময় আজান দিতেন বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘রোববার রাতে এশার নামাজ শেষে আমরা দুজন একসঙ্গেই রাতের খাবার খাই। এরপর মুয়াজ্জিন সাহেব ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতে জিন্দাবাহারের ইসলাম খান মসজিদে যান। এরপর আমি ঘুমিয়ে যাই। ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে মসজিদের ইমাম হাফেজ তাজুল ইসলামের ডাকে ঘুম ভাঙে। পরে ইমাম সাহেবের সঙ্গে গিয়ে দেখি মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির ওপর মুয়াজ্জিনের লাশ পড়ে আছে।’
তাজুল ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। তাজুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, মসজিদের পাশেই তাঁদের বাসা। গতকাল ফজরের নামাজের আজান শুনতে না পেয়ে সোয়া পাঁচটার দিকে মসজিদে যান তাজুল ইসলাম। এরপর বাসায় ফিরে স্ত্রীকে বলেন, কে বা কারা মুয়াজ্জিনকে খুন করেছে।
ঘটনাস্থল: গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদের মূল ফটক আটকে দেওয়া হয়েছে। পাহারা দিচ্ছেন কোতোয়ালি থানার পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করছেন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার আলামত দেখে মনে হয়েছে হত্যাকারীদের সঙ্গে বিল্লালের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং হত্যায় একাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছে। তবে তাদের পেশাদার খুনি মনে হয়নি। বিল্লালের পরিচতদেরই কেউ তাঁকে হত্যা করেছে বলে মনে হয়।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মফিজউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিল্লাল হোসেনের ওপর আগের হামলাসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে। উপকমিশনার বলেন, ‘এ ঘটনায় জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
থানায় বিল্লালের শ্যালক মাওলানা মোহাম্মদ ফেরদাউস বলেন, আমার ভগ্নিপতির সঙ্গে কারও ধর্মীয় বিরোধ ছিল না। তিনি চরমোনাই পীরের অনুসারী মানিকগঞ্জের মরহুম আজহারুল ইসলাম সিদ্দিকীর ভক্ত ছিলেন। তবে এসব নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যার আলামত হিসেবে কিছু পাওয়া যায়নি। প্রখম আলো।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...