শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৪:৪২
Home / অনুসন্ধান / ইসলামি গণতন্ত্র, ইসলামি নারী নেতৃত্ব, ইসলামি গৃহপালিত ঐক্যজোট, ইসলামি মদ এবং আমাদের অভিভাবকদের প্রশ্নবিদ্ধ অগ্রযাত্রা!

ইসলামি গণতন্ত্র, ইসলামি নারী নেতৃত্ব, ইসলামি গৃহপালিত ঐক্যজোট, ইসলামি মদ এবং আমাদের অভিভাবকদের প্রশ্নবিদ্ধ অগ্রযাত্রা!

12472734_1182246718494686_2066436258998510241_nইকবাল হাসান জাহিদ ::

নারী নেতৃত্ব হারাম বা নারীর কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ এই কথাগুলো কোরআন হাদীস দ্বারা কতটুকু নির্দেশনা থাকলে পরে আমরা বিষয়গুলোকে সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করতে পারি। যখন নবী করীম সা. এর নিকট এ সংবাদ পৌছলো যে, পারস্যের জনগণ কিসরার কন্যাকে তাদের বাদশাহ মনোনিত করেছেন তখন তিনি বললেন- “সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন করতে পারে না, যে জাতি স্বীয় কাজ-কর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন নারীর হাতে সোপর্দ করে। বোখারী ও তিরিমিযী)

আমরা গৃহপালিত ইসলামী ঐক্যজোট করে ৯০ভাগ মুসলমানের এই দেশে ইসলাম কায়েমের স্বপ্নে যেভাবে বিভোর রয়েছি। তাদের জন্য কোরআন হাদীসের নির্দেশনা কতটুকু পালনীয়, এর কি কোনো সদুত্তর এদেশের বর্তমান ইসলামী আন্দোলনকারীদের কেউ দিতে পারেন?
“আর মুমিন নারীদেরকে বল, তাহারা যেন তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাহাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে, তাহারা যেন যাহা সাধারণ প্রকাশ থাকে তাহা ব্যতীত তাহাদের আবরণ প্রদর্শন না করে, তাহাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেমন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে…।

হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, তাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার”। (সূরা নূর-৩১)
নিচের যে ছবিটা আমি এখানে লোড করেছি, এর ব্যাখ্যায় বিদ্রুপকারীরা এসে যদি বলেন- কুরআনের পর্দান বিধান অনুযায়ী শাহবাগের একজন লাকি আর বিএনপির চেয়ারপার্সনের মধ্যে কতটুকু ব্যবধান? অথবা সোজা সামনের সারিতে বসা বিএনপির সুন্দরী রমনিদের ব্যাপারে লাকিদের পর্দার বিধানের কতটুকু ডিফরেন্ট? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের গৃহপালিত ইসলামী ঐক্যজোট নেতাদের কিই বা থাকবে আমার বোধগম্য নয়। আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাদের কাছে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই।

দুই : আল্লাহ পাক নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে কুরআনে বলেন- “পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল। এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেকবখত স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ তার জন্য যা রক্ষণীয় করেছেন, লোকচক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাজত করে।” (নিসা: ৩৪)
…পবিত্র কোরআন পরিষ্কার ভাষায় নারীদের কর্মপরিধি নির্ধারিত করে দিয়েছে। এর প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ আরো বলেন- “তোমরা গৃহভ্যন্তরে অবস্থান করবে, মুর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।” (সূরা আহযাব-৪)
..এ ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষায়- নবী করিম সা. বলেন- “যখন তোমাদের ধনিক শ্রেণি কৃপণ হবে, যখন তোমাদের যাবতীয় কাজের কর্তৃত্ব তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তর-ভাগ অধিক কল্যাণকর হবে।” (তিরমিযী)

12376688_1182246785161346_6968726795208684886_nতিন : ধর্মীয় কাজে ‘হিকমতে আমলী’র ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ১৯৫৮ সালে মাওলানা মওদুদী। তিনি বলেছিলেন “ইকরাহ” বা বাধ্য করার কারণে মুখে কালেমায়ে কুফর বা কুফরী শব্দ উচ্চারণ করা বৈধ এবং অপরাগগ অবসস্থায় হারাম ও জন্তুর গোশত ভক্ষণ করাও অনুমতি রয়েছে, ইত্যাদি। তৎকালিন সময়ে জামায়তে ইসলামীর মজলিশে শুরার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মিস ফাতেমা জিন্নাহকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ঘোষনা ছিলো এভাবে যে “শরীয়তে যেসব বিষয়কে হারাম হিশেবে সাব্যস্ত করা হয়, তন্মধ্যে কতকগুলোর ‘হুরমত’ বা অবৈধতা পরিবর্তিত হতে পারে না। আবার কতকগুলোর ‘হুরমত’ বা অবৈধতা এমন ধরণের যে একান্ত প্রয়োজনের সময় প্রয়োজন পরিমাণে জায়েজ বা বৈধতায় পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে একথা সুস্পষ্ট যে, কোনো নারীকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত বা মনোনীত করার নিষিদ্ধতা সে সব ‘হুরমত; বা অবৈধতামূল কাজের অন্তর্ভূক্ত নয়, যেগেুলোর অবৈধতা চিরস্থায়ী ও অকাট্য; বরং দ্বিতীয় প্রকারের অবৈধতামূলক কাজগুলোর মধ্যেই তাকে গণ্য করা যায়।”

চার : অতঃপর অবস্থা এমন হয় যে, পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর “ইলাকশানী মুজাহিদীন’ বা নির্বাচনী যোদ্ধারা এটাকে “জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ” হিশেবে অভিতিহ করে মিস মোহতারামা ফাতেমা জিন্নাহকে বিজয়ী করার জন্য অর্থ, শ্রম ও প্রাণের বিনিময়ে হলেও ময়দানে অবর্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাছাড়া যেহেতু শরয়ী এ নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছেন তখন মহান এই কাজকে কতটুক নিষ্টতার সাথে আঞ্জাম দিয়েছিলেন সেটাই চিন্তার বিষয়। (মাওলানা মওদুদীই প্রথম ঘোষণা দিয়ে নারী নেতৃত্ব বৈধ ফতোয়া দিয়েছিলেন)
অথচ: ইসলামী দলগুলোর প্রথম শ্রেনির সদস্য ও নেতৃবৃন্দের বেলায় এই নীতিই চুড়ান্ত ছিলো যে, “শরীয়তের বিধি-বিধানের পাবন্দীর ব্যাপারে তাঁদের জন্য কোনো প্রকারের প্রশ্রয় থাকবে না। তাদেরকে মুসলমানের জিন্দেগীর পুরা নমুনা পেশ করতে হবে। তাদের জন্য ‘রুখসত’ এর স্থালে ‘আযীমত’ এর নীতিই আইন বলে গণ্য হবে।
আর আল্লাহ বলেন- “যাকে ধ্বংস করার আছে তিনি দলীলের ভিত্তিতেই ধ্বংস করবেন এবং একইভাবে যাকে জিন্দা রাখার আছে জিন্দা রাখবেন।”
এই জঘণ্য কাজ এতটুকু অধঃপতন ও অবনতির কারণ নয় কি? যে, জেনে শুনেই একটি হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া, করানো, এবং গোটা দেশ ও জাতিকে এবং দেশের মুসলমানদের উক্ত হারাম কাজে লিপ্ত করার আবেদন জানানো কতটুকু বিবেকসম্পন্ন। যেটা গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য নারীর পর্দা বিধানের প্রতি উদারতা ও শরিয়ত ফরজ বিধানের প্রতি নিষ্কিৃয়তার শালিম? শরিয়তের এসব কার্যাবলীকে এভাবে আলেম-ওলামা দ্বারা নিষ্কৃীয় করতে থাকলে কোনো কালেই ইসলাম এবং মুসলমানের শীর সমুন্নত কিংবা ইসলাম প্রতিষ্ঠায় এই সকল শরিয়ত পরিপন্থী উদারতা কোনো কাজে আসবে বলে মনে হয় না।

উৎসর্গ : বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী আন্দলনের নেতাকর্মীদের জন্য।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...