বুধবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ দুপুর ১:৩৫
Home / সমকালীন / ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় হোমিও

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় হোমিও

ডেঙ্গুজ্বরঢাকায় ধানমণ্ডি লেকপাড়ে ছিমছাম একটি বাড়িতে বাস করেন রহমান সাহেব। তার দুই সন্তান- এক ছেলে ও এক মেয়ে। কয়েকদিন ধরে ছেলেটির জ্বর। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা; পেটব্যথাও। দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বাড়ে। মাংসপেশি ও হাড়েও ব্যথা, বিশেষ করে শিরদাঁড়ায়। বমি বমি ভাব। ৪-৫ দিন পর শরীরে হামের মতো দানা দেখা যায়। চেম্বারে এলে পরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে মনে হলো ডেঙ্গু হয়েছে। অনুসন্ধানের পর দেখা যায়, বাড়ির বারান্দায় টবে বিভিন্ন গাছ। টবের প্লেটে জমে থাকে পানি। বুঝতে বাকি থাকল না এসিড মশার বংশবিস্তারের সুবর্ণ ব্যবস্থা। এ মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এ জ্বর দু’ভাগে ভাগ করা যায়-সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর ও হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর।
হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর : ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, ত্বক ছুলে আঁঠালো ও শীতল অনুভূত হয়। সার্বক্ষণিক ভীষণ পেটব্যথা থাকে। প্রথম দিকে মাড়ি, নাক, মুখ বা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ত্বকের নিচে কালো বর্ণের চাকা চাকা দাগ হতে পারে। শিশুরা অনবরত কাঁদতে থাকে। খুব পিপাসা পায়। শ্বাসকষ্ট হতে পারে, মাঝে মধ্যে বমিও হয়। বমিতে রক্ত নাও থাকতে পারে। কালো বর্ণের পায়খানা হতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের জটিল অবস্থাকে বলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। এ  অবস্থায় হৃৎকম্পন বেড়ে যায়। ব্লাডপ্রেসার কমে যায়। হাত-পাসহ সারা শরীর বরফের মতো শীতল হয়ে যায়। একপর্যায়ে রোগী মূর্ছা যেতে পারে। রোগীর খুব অস্থিরতাবোধ, একই সঙ্গে ঘুম ঘুম ভাব দেখা যায়।
করণীয় : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে উচ্চ তাপমাত্রা রোধ করতে শরীর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে। শরীর বেশি ঠাণ্ডা মনে হলে খাবার স্যালাইন দিতে হবে। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। তাকে পূর্ণ বিশ্রামে রেখে বেশি করে পানি খেতে দিতে হবে। অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের লক্ষণে একোনাইট, বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, রাসটক্স, ইউপেটেরিয়াম পার্ফ, আর্সেনিক এলবাম, কার্বোভেজ, ইপিকাক ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করা যায়। ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হলে অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শক্রমে প্রতিরোধ হিসেবে ইউপিটোরিয়াম পার্ফ-২০০ সকালে খালি পেটে দিনে একবার করে ৩-৫ দিন সেবন করা যেতে পারে। এছাড়া লিডামপাল ও রাসটক্স প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

লেখক : উপদেষ্টা, আইডিয়াল ডক্টর্স ফোরাম অব হোমিওপ্যাথি
চেম্বার : আল-আজিজ হেলথ সেন্টার, ৫৩ পুরানা পল্টন, বায়তুল আবেদ
(লিফটের ৫)-সি, ঢাকা। ০১৭১০২৯৮২৮৭

About Abul Kalam Azad

এটাও পড়তে পারেন

প্যান্ডেলের বাইরে সাউন্ড ব্যবহার করা নাজায়েয!

মুহিউদ্দীন কাসেমী: কিছুদিন আগে কী এক কাজে যেন ঢাকায় গেলাম। এশার সময় ট্রেনে ফিরলাম। স্টেশনে ...