বৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:১৮
Home / অনুসন্ধান / চ্যারিটির টাকায় প্রতিষ্ঠিত বেয়ানিবাজার কেন্সার হাসপাতাল এখন কসাইখানা!

চ্যারিটির টাকায় প্রতিষ্ঠিত বেয়ানিবাজার কেন্সার হাসপাতাল এখন কসাইখানা!

cancer-hospital-beanibazarকমাশিসা নিউজ ডেস্ক: সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিনামূল্যে চিকিৎসার আশা দেখানো, প্রবাসীদের টাকায় প্রতিষ্ঠিত বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতাল এখন পরিণত হয়েছে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টানে । উপজেলার অন্যান্য প্রাইভেট ক্লিনিকের মত এখানেও টাকার বিনিময়ে দেখা হচ্ছে রোগী। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে ফান্ড রাইজিং ও চ্যারেটির মাধ্যমে কোটি  কোটি টাকা আদায় করেন রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য। কিন্তু সাধারণ রোগীরা এখানে পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ঘোষণা দিলেও এখানে ঘটছে ভিন্ন কারবার। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখানে টাকা ছাড়া কোন রোগী দেখার নিয়ম নেই। টাকার বিনিময়ে রোগীকে সেবা দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন টেস্ট বাধ্যতামূলক করে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ক্যান্সার রোগীদের সেবা করার নাম নিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হলেও এখানে নেই পর্যাপ্ত পরিমান সুযোগ সুবিধা। একজন চিকিৎসক মাঝে মধ্যে এসে টাকার বিনিময়ে রোগী দেখে গেলেও রোগীরা এই সেবা নিয়ে অসন্তুষ প্রকাশ করেছেন। অনেক রোগীকে সেবার মান দেখে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে অনেক যুক্তরাজ্য প্রবাসীও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর ক্যান্সার চিকিৎসায় তেমন সাফল্য আসবে না মনে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালকে জেনারেল হাসপাতালে রুপান্তর করে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে থাকেন। সিলেট থেকে প্রতি মাসে কিংবা ১৫ দিন পর একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এখানে এসে রোগীদের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। মধ্যখানে একজন রোগীকে এখানে ক্যামোথেরাপি প্রদান করা হয়। শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের কাছ থেকে সদস্য ফি হিসেবে ১০ টাকা এবং চিকিৎসা ফি হিসেবে ৫০ টাকা গ্রহণ করে। তবে ক্যামোথেরাপি ফি অন্যান্য হাসপাতালের ন্যায় গ্রহণ করে। এছাড়াও নরমাল ডেলিভারী রোগীসহ ভর্তি হওয়া সব রোগীর কাছ থেকেও কেবিন ভাড়াসহ সকল ধরনের ফি আদায় করা হয়। একাধিক রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেছেন, লন্ডন থেকে তাদের নিকটাত্মীয় ফোন করে তাদেরকে বলে দেন ক্যান্সার হাসপাতালে দেশের উন্নত হাসপাতালের ন্যায় চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে। তাদের তাড়নায় এখানে এসে দেখি ভিন্ন চিত্র। হাসপতালে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সামান্য সেবার নামে নেয়া হচ্ছে টাকা। আতাউর রহমান নামে জনৈক এক শিক্ষক বলেন, আমি আমার ভাইকে নিয়ে এসেছি। একদিন থাকার পর পরদিন বিকেল তিন ঘটিকার দিকে চলে যেতে চাইলে তারা আমাকে দু’দিনের কেবিন ভাড়া দিতে বলেন। আমি এর কারণ জানতে চাইলে, এটা কর্তৃপক্ষের নিয়ম বলে জানিয়ে তারা বলেন, দুপুর ১২টার পর থেকে অন্য আরেকটি দিনের হিসাব চলে আসে। তবে এবিষয়ে কেবিনে কোন নির্দেশনা খুজে পান নি বলে জানান আতাউর রহমান।সম্প্রতি ছাতক থেকে এখানে চিকিৎসা সেবার গুনগান শুনে তার ক্যান্সার আক্রান্ত ভাইকে নিয়ে আসেন একজন সাংবাদিক। এখানে এসে কোন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের দেখা পাননি তিনি। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আসার কথা থাকলেও আসবেন না। তাই অনেক কষ্ট ও টাকা খরচ করে এসে এখানে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা নিয়ে ফিরেন ওই সাংবাদিক। তিনি বলেন, দেশে বিদেশে প্রচারনা চালিয়ে চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্য থেকে টাকা উঠিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি ওই সাংবাদিক হাসপাতালের সিও সাহাব উদ্দিনের কানে দিয়েছেন বলে জানান।এদিকে গত সাপ্তাহে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জহুরুল ইসলাম স্ব-পরিবারে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতাল পরিদর্শন করার সময় তাদের চোঁখে রোগীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের বিষয়টি তার চোখে পড়ে। তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। তিনি জানান, প্রতি বছর তিনিসহ প্রবাসীরা এলাকার রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ প্রদান করে থাকেন। প্রতি রমজান মাসে প্রায় কোটি টাকা ফান্ড রাইজিং এর মাধ্যমে উত্তোলন করে থাকেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এতো টাকা আদায় করার পরও কেন এখানে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এরকম অভিযোগ অনেক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর।সূত্র মতে,  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রচারণার পর হাসপাতালে ক্যান্সারসহ সাধারণ রোগীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। অনেক রোগী ৬০ টাকা চিকিৎসা পাচ্ছেন ভেবে এখানে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য আসতে শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবার ফি চিকিৎসক ভেদে বৃদ্ধি করেছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ক্যান্সার রোগীদের জন্য ৪১০ টাকা, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ৩১০ টাকা, সাধারণ রোগীদের জন্য ১১০ টাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ এখান থেকে কোন ধরণের ফি না নেওয়ার পরও প্রতি রোগীর কাছ থেকে ২১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ল্যাব টেস্টে অন্যান্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মতো ফি তারা আদায় করছেন। লন্ডন থেকে একাধিক সূত্র এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে বলেছে, লন্ডনে একটি টেলিভিশনের মাধ্যমে ফান্ড রাইজিং’র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা গরীব রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য উত্তোলন করা হয়। তারা প্রশ্ন রাখেন, এখানের ক্যান্সার কিংবা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে যদি টাকা আদায় করা হয় তাহলে সেখানে উত্তোলন করা টাকা কোন কাজে লাগছে?এদিকে খসির এলাকার এক ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলার স্বামী অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত । তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ক্যান্সার হাসপাতালে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে পরবর্তীতে তারা ক্যামোথেরাপি দেয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা দাবী করে। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা আর ওই রোগীর কোন খোঁজ খবর নেন নাই।

বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গেলে, হাসপাতালের ম্যানেজার সাহেদুর রহমান ও সহকারী ম্যানেজার ফাতেমাতুজ জোহরা রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা উভয়েই জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসেন শুক্রবারে। নাক কান গলা ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দু’জন ডাক্তার আসেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে ৩১০ টাকা ও নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ দেখাতে ২১০ টাকা আদায় করা হয়। শনিবার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সাদ উদ্দিন জায়গীরদার রোগী দেখেন। অন্যান্য দিনে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক রোগী এখানে এলেও শনিবার মাত্র ৪জন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী দেখেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে এখানে ৪১০ টাকা নেয়া হয়। তাই রোগীরা এখানে না দেখিয়ে শহরে গিয়ে একই খরচে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন। তাই এখানে এসে লাভ কি?হাসপাতালের ম্যানেজারের সাথে কথা বলার ফাঁকে শরিক হন হাসপাতালের সিইও সাহাব উদ্দিনের শ্যালক পরিচয়দানকারী জাকির হোসেন বলেন, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে। সব রোগী এখানে টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। এমনকি হাসপাতালের চেয়ারম্যান সামসউদ্দিন খান এলেও টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে।  তবে কোন গরীব রোগী আমাদের কাছে তাঁর অসহায়ত্বের কথা বললে, আমরা তাঁর কাছ থেকে ফি কম নেই। তার কাছে পদবী জানতে চাইলে তিনি কোন পদে নেই জানিয়ে বলেন, হাসপাতালের সবকিছুই তিনি দেখাশুনা করেন।

সুত্র: sylheterkantho24.com

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...