শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ ভোর ৫:৫৭
Home / কওমি অঙ্গন / কওমি শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহব্বান এবং আমাদের অবস্থান

কওমি শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহব্বান এবং আমাদের অবস্থান

সার্বজনীন শিক্ষার মাধ্যমে চিন্তার ঐক্য গড়ে না তুললে আমরা পরাজিতই থেকে যাবো। কথনো বিশ্বের দরবারে মাথা উচুঁ করে আর দাঁড়াতে পারবো না

14011730_514143685463312_502751152_nখতিব তাজুল ইসলাম:
সরকারি স্কুল আলিয়া ও কওমি। একই দেশে তিন ধারার তিনটি বোর্ড তিনটি শিক্ষাপদ্ধতি! তিন প্রকারের মানসিকতা! তিনটি সমান্তরাল দেয়াল! একটি জাতির বিপর্যয়ের জন্য আর কী দরকার আছে বলুন ?
তাই সচেতন মহলের কাছে আমাদের প্রস্তাবনা-
যেহেতু এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোকে বিলুপ্ত করা যাবে না। তাই সবকটিকে একটা গাঁথুনিতে নিয়ে আসা প্রয়োজন।
(ক) বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস-ভুগোল, বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ, অংক, ইংরেজি এই ছয়টি বিষয়কে কমন সাবজেক্ট ধরে ৫ম থেকে ক্লাস ৮ম তারপর ১০ম তথা এইচএসসি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করে দেয়া ।
(খ) আলিয়া হোক কিংবা কওমি অথবা প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম যে কোন প্রতিষ্ঠান এই মেইন সাবজেক্টগুলো ফলো করতে হবে।
(গ) আলিয়া আবশ্যিক হিসাবে তাদের অন্যান্য আরবি ইসলামি সাবজেক্ট গুলো পড়াবে।
তদ্রুপ কওমি মাদরাসাগুলোও তারা তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নিজস্ব পরিসরে সরকারি কমন সাবজেক্টের পাশাপাশি নিজস্ব আরবি ইসলামি ফিকহি সাবজেক্ট পড়াবে।
(ঘ) সরকারিভাবে ৫ম ৮ম ও ১০মে কেবল মেইন বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে।
(চ) সরকার নিজস্ব অফিসার্স নিয়োগ দিয়ে বিষয়গুলো তদারকি করবে। নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী রাষ্ট্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
(ছ) নিবন্ধন হবে এরই আলোকে। সরাকর জানতে পারবে কোথায় কটি প্রাইমারি মাধ্যমিক সরকারি প্রাইভেট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে।
(জ) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিটি ধর্মের লোকদের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষা থাকতে হবে। বিশেষ করে মুসলমানদের শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক।
(ঝ) উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা তথা কোরআন হাদীসের শিক্ষার জন্য আলিম ফাজিল কামিল যেভাবে চলছে চলুক। কওমি মাদরাসা গুলোতেও ৬ বছর ব্যাপী কোরআন হাদীস তাফসির ফিক্বহর উপর উচ্চতর লেখপড়া হোক। সরকার যেন আলিম ফাজিল কামিলের মানের মতো ফজিলত ১ম ২য় ৩য় বর্ষগুলোকে স্বীকৃতি দেয় ইসলামী স্টাডির উপর। এটাই আমাদের কাছে উত্তম পথ ও পন্থা মনে হচ্ছে।
(ঞ) কওমি মাদরাসাগুলো বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস-ভুগোল, বিজ্ঞান, সমাজ পাঠ, অংক, ইংরেজি ইত্যাদি নিয়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই। আর ইহা বিরাট ব্যয় সাপেক্ষ বিষয়। তাই কওমি কর্তৃপক্ষ আরবি ইসলামিক স্টাডি উচ্চতর কোরআন ও হাদীসের গবেষণা নিয়ে ব্যস্থ থাকুক। ১ম-১০ম পর্যন্ত পর্যাপ্ত দ্বীনী বাংলা আরবি বইর দিকে মনোনিবেশ করা জরুরী।
(ট) ১০মের পর কওমি কর্তৃপক্ষ বাছাই করা ছাত্রদের উচ্চতর আলিমী কোর্সে ভর্তি করবেন। যারা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় তারা কলেজ ভার্সিটিতে যাক। কোন ক্রমেই ফেল করা ছাত্রদের নিয়ে হাতুড়ে আলেম বানানোর দিকে যাওয়া যাবেনা। প্রয়োজনীয় দ্বীনী শিক্ষা ১০মের ভিতর হয়ে যায় সেদিকে সকলের নজর রাখতে হবে।
(ঠ) আর এইসমস্ত কাজ তদারকির জন্য ‘বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড’ নামে একটি বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। স্কুল বোর্ড আলিয়া বোর্ড তেমনি কওমি বোর্ড হউক।
(ড) স্বীকৃতির নামে দয়া করে কওমিকে আলিয়ার পরিণতির দিকে নিয়ে যাবেন না।
(ঢ) এই বিষয় গুলো সামনে নিয়ে এগুলে আমাদের মাঝে জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগরিত হবে। স্কুল কলেজ আলিয়া কওমির ভিতর জানাশোনা ও সমঝোতার মনোভাব সৃষ্টি হবে। জাতি হিসাবে আমরা একে অপরকে নিয়ে গর্ব করতে পারবো। মিস্টার আর হুজুরের মাঝে দুরুত্ব কমে আসবে।
সার্বজনীন শিক্ষার মাধ্যমে চিন্তার ঐক্য গড়ে না উঠলে আমরা পরাজিতই থেকে যাবো। কথনো বিশ্বের দরবারে মাথা উচুঁ করে আর দাঁড়াতে পারবোনা।
১১ আগষ্ট ২০১৬ বৃহস্পতিবার, রাত ১০টা লন্ডন।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির ...