সোমবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ বিকাল ৩:০০
Home / عربي / কথিত জঙ্গিদের দৃষ্টান্ত

কথিত জঙ্গিদের দৃষ্টান্ত

জঙ্গীআবুল হুসাইন আলে গাজী ::

০১. উর্দূ ‘জঙ্গ’ শব্দ থেকে ‘জঙ্গি’। অর্থ হলো, যোদ্ধা। বাংলায় এটি ‘অবৈধ সশস্ত্র তৎপর’র ক্ষেত্র ব্যবহ্রত হয়। এটির ইংরেজি প্রতিশব্দ militant আর আরবী مُسلَّح এবং ক্ষেত্র বিশেষে إرهابي.

উল্লেখ্য, আমাদের ভাষার জঙ্গিকে উর্দূতে ‘জঙ্গি’ جنگى বলা হয় না। ক্ষেত্র বিশেষে তাকে انتهاء پسند ‘চরমপন্থী’ আবার কোন ক্ষেত্র دهشت گرد ‘সন্ত্রাসী’ বলা হয়।

০২. এক সময় আমাদের গ্রামে এক ভদ্র লোকের ঘরে আগুন লাগে। তিনি টের পাওয়ার সাথে সাথে লাফ দিয়ে উঠে সবাইকে পানি আনার জন্য চিৎকার দিলেন। ছেলে-মেয়েসহ ঘরের সবাই পানির জন্য দিক-বিদিক ছুটে গিয়ে পানি আনতে থাকে। কিন্তু তার এক ছেলে পানি খোঁজার পরিবর্তে ঘরে কে আগুন দিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করে এবং আগুনদাতাকে গালাগালি করতে শুরু করে। ওই সময় পিতাসহ আশ-পাশের লোকজন তাকে বললো, কে আগুন দিয়েছে, তার খোঁজ পরে নিও; আগে পানি এনে আগুন নেভাও। সে বললো, না আগে ওই শত্রুকে ধরতে হবে। না হয় সে পরে আবারো আগুন দিবে।

উপরোল্লিখিত নির্বোধ ছেলেটি পিতার কথা না শুনে তথা পানির ব্যবস্থা না করে আগুনদাতাকে খুঁজলেও তার কোনো ক্ল/তথ্য পেল না। বরং তার চিল্লাচিল্লি ও গালাগালির কারণে যারা পানি এনে আগুন নিভানোর কাজ করছিল, তাদের ডিস্টার্ভ হয়েছিল। ঘরের অনেকাংশ আগুনে পুড়ে ছারখার হলেও পানি নিক্ষেপের কারণে কিছু জিনিসপত্র অক্ষত থাকা অবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পানি না এনে শত্রু খোঁজা ও তাকে গালাগালিতে ব্যস্ত থাকা ছেলেটি দুয়েকদিন পর জানতে পারে, কোন শত্রু নয়, নিজেদের ঘরের চুলা থেকেই ভয়াবহ ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

০৩. মুসলিম উম্মাহ আজ খুবই অসহায় ও ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তবে এর সূচনা গতকাল হয়নি। পাঁচশত বছর আগে নির্মম ভাবে তারা স্পেন থেকে বিতাড়িত হবার আগ থেকেই। এর পর তারা হারায় ভারতবর্ষের শাসন ক্ষমতা এবং অতঃপর নড়বড়ে উছমানী খেলাফত ব্যবস্থা।

বিগত ১৪০০ বছরে মুসলিম জাতি যদি বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ১০০০টি যুদ্ধ করে থাকে, তাহলে গৃহযুদ্ধ করেছে কমপক্ষে ২০০০টি। সেই হযরত উছমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে শুরু করে আজকের ইরাক-সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত সবখানে কাফিরের চেয়ে মুসলমানের হাতেই মুসলমানের রক্ত ঝরেছে বেশি।

ক্ষমতার জন্য এ খুনাখুনি মুসলমানদের ভাগ্যলিপির অন্তর্ভূক্ত। এ থেকে মুক্তির পথ খোলা থাকলেও ক্ষমতালোভীরা সে পথে অগ্রসর হবে না- পবিত্র বিদায় হজে এ আশঙ্কাও ব্যক্ত করে গেছেন এ উম্মাহর ওয়ালী ও মুরশিদ হযরত মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বলেছেনঃ

« لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّاراً يضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ » أخرجه البخارى (1/56 ، رقم 121) ، ومسلم (1/81 ، رقم 65) .

“তোমরা আমার পরে পরস্পরে খুনাখুনি করে কাফির (অকৃতজ্ঞ) হয়ে যেও না।” ছহীহ বুখারী ও মুসলিম

তিনি আরও বলেছেনঃ

« هَلَكَةُ أُمَّتِى عَلَى يَدَىْ غِلْمَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ » أخرجه البخارى (3/1319 ، رقم 3410) ، وأحمد (2/324 ، رقم 8287) .

“আমার উম্মতের (শাসনব্যবস্থা) ধ্বংস হবে কোরাইশের কিছু ছেলে-পেলের হাতে।” ছহীহ বুখারী ও মুসনদ আহমদ

এ হাদীছের বর্ণনাকারীদের মতে غلمة من قريش ‘কোরাইশের কিছু ছেলে-পেলে’ দ্বারা বনু উমাইয়া তথা ইয়াজিদের বংশকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

০৪. উপরের হাদীছদ্বয় থেকে এটা স্পষ্ট যে, মুসলিম উম্মাহর বিভেদ, বিকৃতি ও হানাহানির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। শত্রুরা কেবল তাদের অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের উপর মাতব্বরি করে যাচ্ছে।

এহেন পরিস্থিতে কোন স্বপ্নবিলাসী তরুণ, কোন কথাশিল্পী, কোন ডক্টর/ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/আর্মি অফিসার যদি এ কথা ভাবেন যে, ‘মুসলমানদের দুঃখ-দুর্দশার মূল কারণ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তাগুত ও কুফফারদের প্রভাব। মুসলমানদের মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে হলে আগে পৃথিবী থেকে কুফফারের প্রভাব খতম করতে হবে।’ তাহলে এ প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, মুসলমানরা যে কারণে (বিভেদ, বিকৃতি ও হানাহানি) বিশ্বনেতৃত্বের আসন থেকে লাঞ্চনার গভীর খাদে পড়ে গিয়েছে, সে কারণটা কি তাদের মাঝে আগের মত বা তার চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর আকারে বিদ্যমান নয়?

আমার মনে হয়, গৃহদাহে আক্রান্ত মুসলিম সমাজে (দুর্বল আকারে) হলেও আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও তবলীগ জামাআত প্রভৃতি দলগোষ্ঠী পানি ঢালার কাজটি করে গেলেও আলকায়েদাসহ কথিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো কল্পিত আগুনদাতার খোঁজে নেমে যারা পানি ঢালছে, তাদেরসহ পুরো উম্মাহর ডিস্টার্ব করছে। তালেবানের সরল আশ্রয়দানের সুযোগ নিয়ে আফগানিস্তানে এ সালাফিস্ট আলকায়েদা যে বিপদ ঢেকে এনেছিল, তার উপলব্ধিটুকুও তাদের মাঝে নেই। ইসরাইলেও তাদের কোন অপারেশন দৃশ্যমান নয়। উম্মাহর কল্যাণ চাইলে ওদের উচিত, প্রথমে নিজেদের আত্মাগুলোকে লোভ-ক্ষোভ ও হিংসা-গৌরব থেকে শুদ্ধ করা এবং খ্রিষ্টান মিশনারীদের মোকাবেলায় নিজেদের সময় ও অর্থ ব্যয় করে عبد الرحمن السميط ষ্টাইলে দাওয়াতী কাজ করে যাওয়া। কোন স্বপ্নবিলাসী তরুণ, কোন কথাশিল্পী, কোন ডক্টর/ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/আর্মি অফিসার প্রমুখকে আল্লাহ বা তাঁর রসূলের কেউই আত্মঘাতী জিহাদের দায়িত্ব অর্পণ করেননি। অতিভক্তি চোরের লক্ষণ।

ওদের সাথে দাীর্ঘদিন উঠাবসার আলোকে আমি হলফ করে বলতে পারবো, ওদের ৯৯% লোকই হিরোইজমে আক্রান্ত। শায়খ আবু কাতাদা ও মাকদেসীসহ ওদের কারোই দরবেশি জিন্দেগী পছন্দ নয়।। ওদের সাফ কথা, কাফিররা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে দুনিয়াতে এতো দামী গাড়ি-বাড়ি-প্রটোকল এঞ্জয় করবে অর আমরা মুসলমান হয়ে কেন তা থেকে বঞ্চিত থাকবো!

আমি এসব মিসকিনদের ওয়াজ করার যোগ্যতা রাখি না। শুধু চালাকের বড় চালাক خير الماكرين আল্লাহ তাআলার এ কথাগুলো জানিয়ে দিতে চায়ঃ

وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَٰنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ

“And were it not that all mankind would have become of one community (all disbelievers, desiring worldly life only), We would have provided for those who disbelieve in the Most Beneficent (Allah), silver roofs for their houses, and elevators (and stair-ways, etc. of silver) whereby they ascend,

وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ

And for their houses, doors (of silver), and thrones (of silver) on which they could recline,

وَزُخْرُفًا ۚ وَإِنْ كُلُّ ذَٰلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَالْآخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ

And adornments of gold. Yet all this (i.e. the roofs, doors, stairs, elevators, thrones etc. of their houses) would have been nothing but an enjoyment of this world. And the Hereafter with your Lord is only for the Muttaqun.” Surah jukhraf: 33-35

০৫. ‘ইমাম মাহদী আসার পূর্বে মুসলমানরা আত্মঘাতী বোমার ফেরারী সংগঠন আলকায়েদার নেতৃত্বে বিশ্বনেতৃত্বের আসনে আবারো সগৌরবে ফিরে যেতে সক্ষম হবে’ এ মর্মের ভবিষ্যদ্বাণী কি কোন ছহীহ হাদীছে পাওয়া যায়? নাকি উল্টো বলা হয়েছেঃ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وعبد الله بن مسعود رَضِيَ الله عنهما ، أنَّ رَسُولَ اللّهِ صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم قَالَ : « بَدَأَ الإِسْلاَمُ غَرِيبا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا ، فَطُوبىَ لِلْغُرَبَاء » حديث أبى هريرة : أخرجه مسلم (1/130 ، رقم 145) ، وابن ماجه (2/1319 ، رقم 3986) . وأبو يعلى (11/52 ، رقم 6190) . حديث ابن مسعود : أخرجه أحمد (1/398 ، رقم 3784) ، والترمذى (5/18 ، رقم 2629) وقَالَ : حسن صحيح غريب . وابن ماجه (2/1320 ، رقم 3988) . وابن أبى شيبة (7/83 ، رقم 34366) ، والدارمى (2/402 ، رقم 2755) ، والبزار (5/433 ، رقم 2069) ، والشاشى (2/170 ، رقم 729) ، وأبو يعلى (8/388 ، رقم 4975) .

“ইসলামের যাত্রা সূচিত হয়েছে (পবিত্র মক্কায়) দুর্বল অবস্থায়। (কিছুদিনের জন্য সেটি প্রভাবশালী হয়ে উঠলেও) শীঘ্রই তা যে দুর্বল অবস্থায় যাত্রা শুরু করেছিল, সে অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। তো দুর্বল غرباء মুসলমাদের জন্য রয়েছে (জান্নাতের) সুসংবাদ।” ছহীহ মুসলিমসহ ১০টি হাদীছগ্রন্থ

عن أبى أمامة الباهلى رَضِيَ اللهُ عنه ، أن رسُولَ الله صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم قَالَ : « لَيُنْقَضَنَّ عُرَى الإِسْلاَمِ عُرْوَةً عُرْوَةً فَكُلَّمَا انْتَقَضَتْ عُرْوَةٌ تَشَبَّثَ النَّاسُ بِالَّتِى تَلِيهَا وَأَوَّلُهُنَّ نَقْضاً الْحُكْمُ وَآخِرُهُنَّ الصَّلاَةُ » أخرجه أحمد (5/251 ، رقم 22214) ، وابن حبان (15/111 ، رقم 6715) ، والطبرانى (8/98 ، رقم 7486) ، والحاكم (4/104 ، رقم 7022) ، وقَالَ : صحيح . والبيهقى فى شعب الإيمان (4/326 ، رقم 5277) . والطبرانى فى الشاميين (2/411 ، رقم 1602) . قَالَ الهيثمى (7/281) : رواه أحمد ، والطبرانى ، ورجالهما رجال الصحيح .

“ইসলামের রশিগুলো এক এক করে সব ছিড়ে যাবে। সর্বপ্রথম ভেঙে পড়বে শাসন ব্যবস্থা। আর সর্বশেষে উঠে যাবে নামায।” আহমদ, হাকিম, তবরানী ও বাইহাকী

أَبِي سَعِيدٍ الْخدْرِيِّ رضي الله عنه ، عَنِ النَّبِيِّ صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم قَالَ : « لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ ، شِبْرًا بِشِبْرٍ ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ » قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى ؟ قَالَ : « فَمَنْ ؟ » أخرجه البخارى (3/1274 ، رقم 3269) ، ومسلم (4/2054 ، رقم 2669) .

“তোমরা হাতে হাতে ও বিঘতে বিঘতে তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোন গুইসাপের গর্তে ঢুকে, তাহলে তোমরাও নিঃসন্দেহে তাতে ঢুকবে।” ছাহাবীগণ বললেন, পূর্ববর্তী সম্প্রদায় বলতে কি ইয়াহুদী ও নাছারাদের বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন, “ওরা না হলে আর কারা?” ছহীহ বুখারী ও মুসলিম

যে মুসলিম জাতিকে আলকায়েদা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের মাথার উপর ছড়ি ঘুরানোর জন্য রেডি করতে চাচ্ছে, তারা কত ভয়ঙ্কর ভাবে ওদের অনুসরণ-অনুকরণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, তা কি আলকায়েদার স্বপ্নবাজরা উপলব্ধি করতে সক্ষম?

عَنْ مِرْداسٍ الأسْلَمِيِّ والمستورد بن شداد رضي اللَّه عَنْهُما ، قَالَا : قَالَ النَّبيُّ صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم : « يَذْهَبُ الصَّالحُونَ الأوَّلُ فالأولُ ، وتَبْقَى حُثَالَةٌ كحُثَالَةِ الشِّعِيرِ أوْ التَّمْرِ ، لا يُبالِيهمُ اللَّه بالَةً » حديث مرادس : أخرجه البخارى (5/2364 ، رقم 6070) ، وأحمد (4/193 ، رقم 17765) . حديث المستورد : أخرجه الطبرانى فى الكبير (20/310 ، رقم 737) ، وفى الأوسط (3/123 ، رقم 2677) قَالَ الهيثمى (7/321) : رجاله ثقات .

“ভালো লোকগুলো একজনের পূর্বে আরেকজন মারা যেতে থাকবে। আর থেকে যাবে যব ও খেজুরের খোসার ন্যায় কিছু অযোগ্য লোক। যাদের প্রতি আল্লাহর কোন টান-আগ্রহ থাকবে না; তারা কোথায় লাঞ্চিত হচ্ছে তা নিয়ে তিনি ভাববেন না।” ছহীহ বুখারী ও মুসনদ আহমদ

বর্তমান সমাজের হুজুর/শায়খ ও সাধারণ মুসলমানদের দিকে তাকালে এ হাদীছের সত্যতা অনুধাবন করা যায়। আর এ কারণেই আমি (আবুল হুসাইন আলেগাজী) দীর্ঘদিন থেকে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করি না। شُح থেকে মুক্ত মানুষের সাক্ষাত এ জীবনে খুব কম পেয়েছি।

عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ ، قَالَ : شَكَوْنَا إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ مَا نَلْقَى مِنَ الْحَجَّاجِ ، فَقَالَ : اصْبِرُوا ، فَإِنَّهُ لاَ يَأْتِي عَلَيْكُمْ عَامٌ ، أَوْ يَوْمٌ ، إِلاَّ الَّذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ ، حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ ، سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم . أخرجه البخارى (رقم 6657) .

তাবেয়ী যুবাইর বিন আদী বলেন, আমরা ছাহাবী আনাস বিন মালেকের কাছে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজের জুলুম-অত্যাচারের শেকায়ত করলাম। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হওয়া পর্যন্ত ছবর করো। কারণ, ভবিষ্যতের বছর/দিনগুলো আরো কঠিন হবে। এ কথা আমি তোমাদের নবী ছঃ এর কাছেই শুনেছি।’ ছহীহ বুখারী (৬৬৫৭)

০৬. জামায়াত-শিবির ও আলকায়েদা-আইএসের কথিত জঙ্গি ভাই-ভাতিজারা কি ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত নীচের হাদীছগুলো কি কখনো পড়েছেন? যদি পড়ে থাকেন, তাহলে তা থেকে কি বুঝেছেন, দয়া করে বলবেন? আমি নিশ্চিত, আপনারা এ হাদীছগুলোর মর্ম উপলব্ধিতো দূরের কথা, অর্থও উদ্ধার করতে পারবেন না।

عن حُذيْفَة بنِ الْيمانِ رضي اللَّه عنه ، قَالَ : حدثنا رسولُ اللَّه صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم ، حَديثْين قَدْ رَأَيْتُ أَحدهُمَا ، وَأَنَا أَنْتظرُ الآخَرَ : حدَّثَنا أَنَّ الأَمَانَة نَزلتْ في جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ، ثُمَّ نَزَلَ الْقُرآنُ فَعَلِمُوا مِنَ الْقُرْآن ، وَعلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ ، ثُمَّ حَدَّثنا عَنْ رَفْعِ الأَمانَةِ فَقَالَ : « يَنَـامُ الرَّجل النَّوْمةَ فَتُقبضُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ ، فَيظلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ الْوَكْتِ ، ثُمَّ ينامُ النَّوْمَةَ فَتُقبضُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ ، فَيظَلُّ أَثَرُهَا مِثْل أثرِ الْمَجْلِ ، كجَمْرٍ دَحْرجْتَهُ عَلَى رِجْلكَ ، فَنفطَ فتَراه مُنْتبراً وَلَيْسَ فِيهِ شَيءٌ » ثُمَّ أَخذَ حَصَاةً فَدَحْرجَهَا عَلَى رِجْلِهِ -وقَالَ :- « فَيُصْبحُ النَّاسُ يَتبايَعونَ ، فَلا يَكادُ أَحَدٌ يُؤدِّي الأَمَانَةَ حَتَّى يُقَالَ : إِنَّ في بَنِي فَلانٍ رَجُلاً أَمِيناً ، حَتَّى يُقَالَ لِلَّرجلِ : مَا أَجْلدهُ مَا أَظْرَفهُ ، مَا أَعْقلَهُ ، وَمَا في قلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلِ مِنْ إِيمانٍ » وَلَقَدْ أَتَى عَلَيَّ زَمَانٌ وَمَا أُبَالِي أَيَّكُمْ بايعْتُ ، لَئِنْ كَانَ مُسْلماً ليردُنَّهُ عَليَّ دِينُه ، ولَئِنْ كَانَ نَصْرانياً أَوْ يَهُوديًّا لَيُرُدنَّهُ عَلَيَّ سَاعِيه ، وأَمَّا الْيَوْمَ فَما كُنْتُ أُبايُعُ مِنْكمْ إِلاَّ فُلاناً وَفلاناً . أخرجه البخارى (5/2382 ، رقم 6132) ، ومسلم (1/126 ، رقم 143) ، والترمذى (4/474 ، رقم 2179) وقال : حسن صحيح . وابن ماجه (2/1346 ، رقم 4053) ، والطيالسى (ص 57 ، رقم 424) ، وأحمد (5/383 ، رقم 23303) ، وأبو عوانة (1/55 ، رقم 141) ، وابن حبان (15/164 ، رقم 6762) .

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضِى اللَّه عنه ، قَالَ : أَنَّ النَّبِى صَلَّىْ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمًا ، فَصَلَّى عَلَى أَهْلِ أُحُدٍ صَلاَتَهُ عَلَى الْمَيِّتِ ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمِنْبَرِ ، فَقَالَ : « إِنِّى فَرَطٌ لَكُمْ ، وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ ، وَإِنِّى وَاللهِ لأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِى الآنَ ، وَإِنِّى أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ ، أَوْ مَفَاتِيحَ الأَرْضِ ، وَإِنِّى وَاللهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِى ، وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا » أخرجه البخارى (1/451 ، رقم 1279) ، ومسلم (4/1795 ، رقم 2296).

« أَبْشِرُوا وأَمِّلُوا ما يَسرُّكُمْ ، فواللَّه ما الفقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ ، وَلكنّي أَخْشى أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُم كما بُسطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا ، فَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ » أخرجه البخارى (3/1152 ، رقم 2988) ، ومسلم (4/2273 ، رقم 2961) .

عن ثَوْبَانَ رَضِيَ اللهُ عنه ، قَالَ : قَالَ رسُولُ الله صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم : « إن الله زَوَى لِّىْ الأرضّ فرأيتُ مشارقَها ومغاربَها ، وإن مُلْكَ أمَّتِى سَيَبْلُغُ ما زُوىَ لِىْ مِنْهَا ، وَإنِّىْ أُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأحْمرَ والأبيضَ ، وإنى سألتُ ربِّى لأمَّتى أنْ لاَ يُهلكُوا بِسَنَةٍ عامَّة ولا يُسلِّط عليهم عدوًّا من سِوى أنفسهم ، فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ ، وإن ربِّىْ قَالَ يا مُحمَّد ! إنِّى إذَا قضيتُ قضَاءً فإنَّه لا يُرَدُّ ، وإنى أعْطيتُك لأمتك أن لا أُهلكَهم بِسَنَةٍ عامَّة وأن لا أُسَلِّطَ عليهم عدوًّا من سِوى أنفسهم فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ ، ولو اجتمع علَيهم مَنْ بين أقطَارها حتَّى يكُون بعضُهم يُفنِى بعضًا ، وإنَّما أخاف علَى أمَّتى الأئمَّة الْمُضِلِّين وإذا وُضِعَ فى أمَُّتِى السَّيف لَمْ يُرفَع عنهُم إلى يومِ القيامَة ، ولا تقُوم السَّاعة حتى تلحَق قبائلُ مِن أمَّتِى بالْمُشركِين ، وَحتى تَعبُد قبائلُ مِن أمَّتِى الأوثانَ ، وإنه سيكُون فِىْ أمَّتِّىْ كذَّابون ثلاثُون ، كلهم يزعُم أنه نبِىٌّ وأنا خاتم النبيين ، لا نبى بعدِى ، ولا تزَال طائفَة من أمَّتى علَى الحقِّ ظَاهرِين ، لاَ يضرُّهم مَن خالفَهم حتَّى يأتىَ أمرُ الله » أخرجه مسلم (4/2215 ، رقم 2889) ، وأبو داود (4/97 ، رقم 4252) ، والترمذى (4/472 ، رقم 2176).

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عنه ، قَالَ : قَالَ رسُولُ الله صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم : « تَدُورُ رَحَى الإِسْلاَمِ لِخَمْسٍ وَثَلاَثِينَ ، أَوْ سِتٍّ وَثَلاَثِينَ ، أَوْ سَبْعٍ وَثَلاَثِينَ ، فَإِنْ يَهْلِكُوا فَسَبِيلُ مَنْ قَدْ هَلَكَ ، وَإِنْ يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ يَقُمْ لَهُمْ سَبْعِينَ عَامًا » قَالَ : قُلْتُ : أَمِمَّا مَضَى أَمْ مِمَّا بَقِيَ ؟ قَالَ : « مِمَّا بَقِىَ » أخرجه أبو داود (4/98 ، رقم 4254) ، وأحمد (1/390 ، رقم 3707) ، والحاكم (3/123 ، رقم 4593) وقال : صحيح الإسناد . والطيالسى (ص 50 ، رقم 383) ، والبزار (5/366 ، رقم 1996) ، وابن حبان (15/46 ، رقم 6664) .

عَنْ عِمرَانَ بنِ حُصينٍ رَضيَ الله عنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسولُ الله صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم : « خَيرُ أمَّتِيْ قَرنِيْ ، ثُمَّ الَّذِينَ يلُونَهُم ، ثُمَّ الَّذِينَ يلُونَهُم – قَالَ عِمرَانُ : فَلاَ أدْرِي أذَكَرَ بَعدَ قَرنِه قَرنَينِ أو ثَلاثًا – ثُمَّ إنَّ بعدَكُم قَومًا يشهَدُونَ ولاَ يُسْتشْهَدُونَ ، وَيَخُوْنُوْنَ وَلاَ يُؤْتَمَنُوْنَ ، وَينْذِرُوْنَ وَلاَ يُوْفُوْنَ ، وَيَظْهُرُ فِيْهِمْ السَّمْنُ » أخرجه البخارى (2/938 ، رقم 2508) ومسلم (4/1964 ، رقم 2535) .

عن أنس رَضِيَ اللهُ عنه ، قَالَ : قَالَ رسُولُ الله صلَّى اللهُ علَيهِ وسلَّم : « لاَ يَزْدَادُ الأَمْرُ إِلاَّ شِدَّةً ، وَلاَ الدُّنْيَا إِلاَّ إِدْبَارًا ، وَلاَ النَّاسُ إِلاَّ شُحًّا ، وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ عَلَى شِرَارِ النَّاسِ » أخرجه ابن ماجه (2/1340 ، رقم 4039) ، والحاكم (4/488 ، رقم 8363) ، وأبو نعيم فى الحلية (9/161) . والخطيب (4/220) ، والقضاعى (2/68 ، رقم 898) .

০৭. জ্ঞান ও চিন্তার দূর্বলতাপ্রসূত অসার ইখওয়ানী, মওদূদী ও কায়েদী-দায়েশী ধ্যান-ধারণায় আক্রান্ত হয়ে যারা নিজেদের সময়গুলো নষ্ট করছে, তাদের জন্য আমার একটি ছোট হাদিয়া রয়েছে। নাম أضواء من السنة في كشف وهم عودة الخلافة الراشدة

কোন সুহ্রদ বইটি বঙ্গানুবাদ করে ছেপে দিলে অনেক দীনদার তরুণ কথিত ‘জঙ্গিবাদ’ থেকে মুক্ত থেকে ঠান্ডা মাথায় দীনের জন্য কিছু করার সুযোগ লাভ করতো। বইটির ডাউনলোড লিঙ্ক

আবুল হুসাইন আলে গাজী: গবেষক ও প্রাবন্ধিক
১৫. ১১. ২০১৫

About Abul Kalam Azad

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...