সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ দুপুর ১:২৭
Home / আকাবির-আসলাফ / একাত্তুরের স্বাধীনতা সংগ্রামে আসআদ মাদানী (রাহ) এর ভূমিকা

একাত্তুরের স্বাধীনতা সংগ্রামে আসআদ মাদানী (রাহ) এর ভূমিকা

সুহাইল আমীন

12002363_528057607359953_8765414974367175693_o১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ‍যুদ্ধে পাকবাহিনীর গণনির্যাতনের প্রতিবাদে হযরত আস-আদ মাদানী (রহঃ)।
১৯৭১ সালে এদেশের নিরীহ জনগোষ্ঠীর উপর পাক বাহিনীর জুলূম-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হজরত ফিদায়ে মিল্লাত (রহঃ)। তাদের গণনির্যাতন বন্ধে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধের সময় বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বে কলকাতায় যে সভা ও সেমিনারগুলি অনুষ্ঠিত হয়, সে ইতিহাস আজও ভাস্বর হয়ে আছে। শরণার্থী শিবিরগুলিতে তাঁর অপরিসীম সহযোগিতা ও দেখাশোনা, গণনির্যাতন বন্ধ করার জন্য তাঁর বিরামহীন দুঃসাহসী ভূমিকা এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাধিকার প্রাপ্তিতে তাঁর অবদান স্বাভাবিকভাবে তাঁকে স্বাধীনতার অন্যতম কান্ডারী দূতের মহিমা দিয়েছে।
এই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কিছূ অদূরদর্শী বিভ্রান্ত মুসলমান ধর্মের নামে শুধু পাকবাহিনীকে সমর্থন করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাদের জুলূম নির্যাতনে মদদ যুগিয়েছে, নিজেরাও প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। স্বাধীনতার পর অধীকাংশই তাদের মুখোশ পাল্টালেও সেসব অপকর্মের কারণেই নিরীহ মুসলমান আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর নেমে আসে মহদুর্যোগ। সেই দুঃসময়েও শান্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন হজরত ফিদায়ে মিল্লাত (রহঃ)। সেইসময় তিনি এদেশে এসে এদেশের বেশ ক’জন শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম সহ রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি একথা বোঝাতে সক্ষম হন যে, অধিকাংশ আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠন মোটেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন না। বরং সরেজমিনে বহু-উলামায়ে কেরাম মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধারা তাঁদের ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছে। বিষয়টি দূরদর্শী রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করায় এদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রমান্বয়ে দুর্যোগের কালো মেঘ দূরীভূত হয়ে যায়।
অপরদিকে হজরত উলামায়ে কেরামকে সমবেত করে একবার তাদের উদ্দেশ্যে হযরত ফিদায়ে মিল্লাত (রহঃ) বলেছিলেন, এই বাংলাদেশ আপনাদের, আপনাদের এখানেই থাকতে হবে। এদেশকে ভালোবাসতে হবে। এদেশে থেকেই দীন ও ঈমানের কাজ করতে হবে। এটা যেমন আপনাদের অধিকার এবং তেমনি কর্তব্যও বটে।
স্বাধীনতা যুদ্ধের একপর্যায়ে পাক-হানাদার বাহিনীর সহায়তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এদেশে দমন-পীড়ন বৃদ্ধির লক্ষে যখন কুখ্যাত সপ্তম নৌবহর এ উপমাহাদেশে অভিমুখে যাত্রা করে, তখন ফিদায়ে মিল্লাতে (রহঃ) পঞ্চাশ হাজারের ও অধিক মুসলমানদের নিয়ে দিল্লির রাজপথে মিছিল করেন এবং নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করা হয়। বিগত ১অক্টোবর ২০১৩ই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রাখায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা (মরণোত্তর) পদক প্রদান করতঃ বিরল সম্মানে ভূষিত করা |

About Abul Kalam Azad

এটাও পড়তে পারেন

ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী

–ফরহাদ মজহার বাংলাদেশে দ্বীনি ইসলামের দেওবন্দী ধারার বর্ষীয়ান মুরুব্বি আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন। ...