সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সন্ধ্যা ৬:৫১
Home / আন্তর্জাতিক / কানাডায় মসজিদে ঢুকে গুলি, ছয় মুসল্লি নিহত

কানাডায় মসজিদে ঢুকে গুলি, ছয় মুসল্লি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কানাডার কুইবেক সিটির একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় সময় গত রোববার মাগরিবের নামাজের সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ছয়জন মুসল্লি নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তবে কোনো পক্ষ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

হামলার পর দুই বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। পরে জানানো হয়, এদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন; অন্যজন প্রত্যক্ষদর্শী, যে প্রথম পুলিশকে খবর দিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার পরিচয় জানানো হয়নি। শুধু এটুকু জানা গেছে যে তার বয়স ২০-এর কোঠায়।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের জন্য তাঁর দেশের দরজা সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে। এরপর কানাডা ঘোষণা দেয়, ট্রাম্পের বিধিনিষেধে আটকে পড়া মুসলিম ও শরণার্থীদের সাময়িকভাবে কানাডায় আশ্রয় দেবে তারা। এমন ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে কানাডায় মুসলিমদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোকে ফোন করে শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কানাডার পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র ক্রিস্টিন কলম্বা বলেন, ব্যস্ত কুইবেক সিটির ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মসজিদে এ হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যখন এ ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি ছিলেন। মাগরিবের নামাজ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে তাঁদের ওপর গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। হামলার কয়েক মিনিট পর পুলিশ ওই নগরীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে অফিস ও দোকানপাট-বহুল ব্যস্ত সেইন্ট-ফয় এলাকায় অভিযান চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি রেডিও কানাডাকে বলেন, হামলাকারী ছিল দুজন। তাদের পরনে ছিল মাথা ঢেকে রাখার টুপিসহ কালো লম্বা জ্যাকেট। তাদের একজনের চালচলনের ধরন ছিল অনেকটাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এই মসজিদ ঘিরে হিংসাত্মক তৎপরতা চালায় দুর্বৃত্তরা। কানাডার আরও কিছু মসজিদের দেয়ালে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্ণবাদী লেখা ও ছবি আঁকার ঘটনা ঘটে।

হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মসজিদে মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে, এটা সন্ত্রাসীদের কাজ। কানাডার মুসলিমরা আমাদের জাতীয় সত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের কমিউনিটি, নগর ও দেশে নির্বোধের মতো এমন কর্মকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ রকম সহিংসতা হৃদয়বিদারক। বহুত্ববাদ-বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা আমাদের মূল্যবোধ, যা আমরা কানাডাবাসী লালন করি।’

হামলার পর কুইবেক নগরীর তত্ত্বাবধায়ক ফিলিপ কলার্ড একাধিক টুইটার বার্তায় বলেন, কুইবেকের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, ‘এই বর্বরোচিত হামলা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে কুইবেকবাসী। মুসলিমদের বিশ্বাসের প্রতি সংহতি জানায় কুইবেকবাসী।’

হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। তিনি বলেন, কুইবেকের বাসিন্দাদের শান্তি ও উদারনৈতিক চেতনাকে আক্রমণ করতে চায় সন্ত্রাসীরা।

এদিকে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই মসজিদের কাছাকাছি স্থানে পুলিশ মোতায়েন করেছে কানাডা কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বলছে, সারা বিশ্বেই যেভাবে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, তাতে এখানেও এমনটা ঘটার আশঙ্কায় ছিল তারা।

রোববার এই হামলার দিনই কানাডার অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিধিনিষেধের ফলে আটকে পড়া মুসলিম ও শরণার্থীদের কানাডায় সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কানাডার সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির নাগরিকদের প্রতি পাঁচজনের একজন বিদেশি বংশোদ্ভূত। এ ছাড়া ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটি প্রায় ৪০ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।

কানাডায় এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও তাঁর শহরের মসজিদগুলোর বাড়তি নিরাপত্তা বিধানে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

সীমান্তে অভিবাসী শিশুদের তাড়াতেও কাঁদানে গ্যাস!

কমাশিসা: কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারদিক। আতঙ্কে ছুটোছুটি করছে অনেকগুলি পরিবার। শিশুদের জাপটে ধরেছেন ...