মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ৮:০২
Home / অনুসন্ধান / সিলেটে ইলমি পরিবেশ ক্রমাগত ধ্বংসমুখি! এর জন্য দায়ী কে বা কারা?

সিলেটে ইলমি পরিবেশ ক্রমাগত ধ্বংসমুখি! এর জন্য দায়ী কে বা কারা?

শামসীর হারুনুর রশীদ::

জেনারেল শিক্ষার পরিবশকে একটি কথা বলে বিদায় জানাব, তা হচ্ছে, যাঁরা স্কুল-কলেজে আট ঘন্টা পড়াইয়ে ছাত্রছাত্রীদের পাশের উপযোগী করাতে পারেনা, আবার তাঁরা টিউশনি এক ঘন্টা পড়াইলে ঐ ছাত্রছাত্রীরা প্লাস-মায়নাস পায়, তাহলে লম্বা বেতনের এই চাকরগুলো বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে না অন্য কিছু?  শিক্ষার্থীরা কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষার পরিবেশ না পাইলে নারীবাজি আর অশ্রবাজি করবেনা তো কি করবে?

যাহোক আজকের প্রসঙ্গ কিন্তু কওমি মাদরাসা । তাই এ প্রসঙ্গে আলোচনার পূর্বে একটি কথা স্নরণ রাখা দরকার যে, ‘অনুর্বর জমিতে উর্বর জমির ফসল ফলানো যেমন অসম্ভব, তেমনই অযোগ্য শিক্ষকের পক্ষে যোগ্য ছাত্র গড়াও অসম্ভব’ । সিলেটে লেখাপড়ার মান ধ্বংসমুখি মূলত এই সূত্রধরে । উস্তাদ নিয়োগ তো এখন চ্যানেল ভিত্তিক, যোগ্যতা মূখ্য নয়, গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়ছে অনেক আগ থেকেই! শিক্ষকতার লোভ দেখিয়ে মাদরাসায় ছাত্র আটকে রাখা বা ক্লাস চালু রাখার নজির তো আমার পকেট ভর্তি!  ইসলামি শিক্ষার মানন্নোয়নে কাজ করি হেতু নির্দ্বিধায় কথাগুলো আমাকে বলতে হচ্ছে । কে কিভাবে বিবেচনা করবে তা আমার দেখার বিষয় নয়! কারণ কথাগুলো আমি না বল্লে অন্য কেউ বলবে অন্যভাবে?

যোগ্যদের অনেকেই শিক্ষকতার উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় কেউ বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন, কেউ শিক্ষকতা ছেড়ে ইমামতি, কেউ অন্যান্য পেশার দিকে জুকে পড়ছেন! তবে অন্যান্য কারণ থাকলেও তা গৌণ কিন্তু মূখ্য নয়? কারণ যোগ্যরা কিছু স্বাধীনতা চাইবে । আর অযোগ্যরা তৈলমূর্ধন আর জি হুজুর জি হুজুর বলেই চাকুরি টিকিয়ে রাখেন?  মূলত মুহতামিম-নাজিমগণের অধিকাংশেরই কামনা এটা থাকে! ভাল শিক্ষক তো সার্বক্ষণিক শাইখুল হিন্দ-মদানি- থানবির মতো ছাত্র গড়ায় মনোযোগী থাকবে, জি হুজুর আর তৈল মারার সময় কই? সোজাকথা প্রাচীনতম শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনি এদ্বারা এবং বেফাক বোর্ডেও পরীক্ষা দিয়ে মোমতাজ-বৃত্তি সহ বোর্ডে শীর্ষস্থান লাভ কারি এমন শতাধিক আলেমের লিষ্ট আমার কাছে আছে, যাঁরা উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় কওমি মাদরাসা থেকে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছেন বা ভিনদেশে পাড়ি জমিয়েছেন । যেমন এদ্বারা বোর্ড খুব না হলেও সিনিয়র দু’জন ভাল মানের শিক্ষক তৈরি করেছিল । একজন মাওলানা মাহমুদ হুসেন আর অপরজন আমার উস্তাদ মাওলানা আব্দুর রহমান মনুহরপুরী । দু’জন-ই সিলেটে উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় বিলেতে পাড়ি জমিয়েছেন দু:খভরে! নিজেও ঈদানিং দুশ্চিন্তায়!

কি বলব আর কি ছাড়ব! আগত মাহে রমজান শিক্ষকতার এক যুগ পূর্ণ করবে । ক্ষুদ্র এই সময়ে সঞ্চিত হয়েগেছে তিক্ত-মিষ্ট অনেক অভিজ্ঞতা । গত 2012 সালের রমজান মাসে শিক্ষকতার সুযোগ জুটে মানুষ গড়ার কারিগর নূর হুসাইন কাসিমী প্রতিষ্ঠিত জামেআ সুবহানিয়া ধউর, তুরাগ, ঢাকায়। সুযোগে ঘোরাঘুরি করেছি নানা মাদরাসায়, ঢাকার বর্তমান ইলমি পরিবেশে আমি মুগ্ধ হয়ে সিলেটের ইলমি পরিবেশের প্রতি যে নাবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, তা বুঝানোর ভাষা আমার কাছে এই মুহূর্তে নাই? সিলেট-মৌলভি বাজারের অনেক মাদরাসায় গিয়ে মুহতামিম-নাজিম বা সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে হালপূর্সি করে যখন সন্তানদের খোঁজ নেই, তিন খুশি হয়ে বলেন, এক ছেলে অমুক মাদরাসায়, আরেক ছেলে তমুক প্রতিষ্ঠানে! যখন জিজ্ঞাসা করি আপনার মাদরাসায় কি হইছে? নির্লজ্জের মতো যখন বলেন এখানের পরিবেশ সুবিধা না, লেখাপড়ার মান ভাল না কিংবা ছেলেকে মানাতে পারছি না! তখন মন চায় গাড়ধরে বলতাম
আপনার ছেলের জন্য এই প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত নয় তো মানুষের বাচ্চাগুলোকে এখানে ভর্তি করছেন কেন? আপনি আলিম আর অন্যরা তো জাহিল, তাদের বাচ্চাগুলো কি আপনার কাছে আমানত নয়? উত্তর আসে হে হে হে হে! যাঁরা নিজের সন্তান আর নিজের ছাত্রকে ভিন্ন চোখে দেখে, তাঁরদের প্রতিষ্ঠান আর্থিক টানাপোড়নে পড়বে না তো কিয়ে পড়বে? জামেয়া রেঙ্গার কল্যাণে তিরমিজি শরিফ 2য় খণ্ড দিয়ে  শিক্ষকতা শুরু করে দরসে নেজামির বোখারি শরিফ 1ম খণ্ড, তিরমিজি 1ম খণ্ড আর বায়জাবি শরিফ পড়ানো ছাড়া বাকি কিতাবগুলো বিভিন্ন মাদরাসার কল্যাণে নেসাবে আসায় কিছু ফায়দামন্দ হই। কিন্তু শিক্ষকতার প্রায় সবখানেই নানা অসঙ্গতি আমাকে ভাবিয়ে তুলছে! এ শিক্ষার ভবিষ্যত নিয়ে খুবই চিন্তিত অথচ শত্রুরা ধেয়ে আসছে চৌদিক থেকে!  সিলেটের কোন কোন জায়গায় বর্তমান শিক্ষার পরিবেশ এমন নোংরা হয়েছে যে, কোন শিক্ষক যদি আড্ডা না দিয়ে মোতালায় বা একনিষ্ঠভাবে ছাত্রগড়ায় কাজ করেন তো কর্তৃপক্ষ সহ বাকিরা খুব সন্দেহের চোখে দেখেন?
কিছু লেখালেখি করি বিধায় মুতালা একটু বেশি করলেই কত ফাল্তু কথা যে সহ্যকরে আসছি তা বলারও ভাষা আমার কাছে নেই!
সিলেটের অধিকাংশ মাদরাসায় এমন পরিবেশ গড়ে উঠেছে যে, ক্লাস টাইম শেষে ছাত্র-উস্তাদের আড্ডা একই বাজারে! না হয় কোন এক শিক্ষকের রুমে সম্মিলিত গিবত চর্চা বা গ্রুপ সৃষ্টি করে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখা! কখনও জুর করে আমাকেও এসব আড্ডায় বসানো হয়েছে, যা স্নরণ হলে মুখে থু থু জমা হয়!  এসব আড্ডার ফসল ছাত্রদের উপর এমনভাবে পড়ছে যে তাঁরাও মূল ধারার এ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সন্দিহান হয়ে গিয়েছিল?  স্বীকৃতি ঘোষণায় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে, দায়িত্ব বাড়ছে মাদরাসাওয়ালার। এমন দায়িত্ব যে সামনে শুধু সূড়ঙ্গপথ অথচ এর মাঝে আবার হারজিত?
06/ 05/ 17

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

এরদোগান পর্ব শেষ করতে আমেরিকার ছিলো চুড়ান্ত প্রস্তুতি!

হাফিজ আব্দুল্লাহ::   সেদিন পাকিস্তানের সহোযোগিতায় বেঁচে গেলেন তুরস্কের কারিশমাটিক নেতা এরদোগান! ________________________________________ ১৫ জুলাই ...