বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১:২২
Home / কওমি অঙ্গন / ওয়েবসাইটে বেফাকের ফলাফল প্রকাশ : দিনভর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

ওয়েবসাইটে বেফাকের ফলাফল প্রকাশ : দিনভর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

BEFAQকওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদাসিরিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর ৩৯ তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ। এবার প্রথমবারের মতো মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় রেজাল্ট শিট না পাঠিয়ে বেফাকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে । আর তাতেই প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

পরীক্ষার ফলাফল

এবারের বেফাকের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। মুমতায (স্টার মার্ক) হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ২৭৭ জন। জায়্য়িদ জিদ্দান (প্রথম বিভাগে পাস) হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ক্লাস তাকমিলে (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ছাত্রদের ৭৪ শতাংশ, ছাত্রীদের ৬৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

তাকমিলে মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকা জেলার বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসার মুহাম্মদ কামরুল হাসান। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন নারায়নগঞ্জের জামিয়া রাব্বানিয়া আরাবিয়া’র মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। তাকমীলে বালিকা শাখায় মেধাতালিকার শীর্ষে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার রাবিবা হুসাইন বুশরা। মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন বগুড়া আল জামিয়াতুল আরাবিয়া লিল বানাত মাদরাসার মোচ্ছামত সুমাইয়া তাছনীম।

ফযিলত (স্নাতক ডিগ্রি) ছাত্রদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ফযিলতে মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া বাইতূন নূর মাদরাসা  মুহাম্মদ জাওয়াদ আহমাদ। ফযিলতে দ্বিতীয় ঢাকার বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসা মুহাম্মদ আদনান। বালিকা শাখায় মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকার রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার মাহিরা। দ্বিতীয় হয়েছেন জামিয়া সাহাবানিয়া দারুল উলুম ঢাকার জান্নাতুন নাঈম সাদিয়া ।

সানাবিয়্যাহ (উচ্চমাধ্যমিক) ছাত্রদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মেধাতালিকার শীর্ষে খুলনার ওমর বিন খাত্তাব (রা.)  মাদরাসার সাইয়্যেদ আবু সাঈদ। দ্বিতীয় হয়েছেন কুমিল্লার রাজাপুর জামিয়া ইসলামিয়া মোহাম্মদিয়া মাদরসার মুহাম্মদ কামরুল হাসান। সানাবিয়্যাহর বালিকা শাখায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মিরপুর মহিলা মাদরাসার মারইয়াম মুবাশশিরা এবং দ্বিতীয় হয়েছেন বরিশালের চরমোনাই জামিয়া রশীদিয়া আহসানাবিদ মহিলা মাদরাসার মোসাম্মত রুকাইয়া।

মুতাওয়াসসিতাহ (নিম্নমাধ্যমিক) ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ, ছাত্রীদের ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। যৌথভাবে মেধাতালিকার শীর্ষে তিন জন হলেন- গাজীপুরের আল জামিয়াতুল উসমানিয়া দারুল উলুম সাতাইশ মাদরাসার মোজাম্মেল হক, কুষ্টিয়ার আসরাফুল উলুম মাদরাসার হাবীবুর রাহমান এবং মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ঢাকার জামিয়া রহমানীয়া আরাবিয়া মাদরাসার খালেদ সাইফুল্লাহ এবয কুষ্টিয়ার আশরাফুল উলুম মাদরাসার  মুহাম্মদ ইমতিয়াজ মাহমূদ আনাস। বালিকা শাখায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার দারুল উলুম মহিলা মাদরাসার নাজিয়া সুলতানা। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) মাদরাসার নুসরাত জাহান।

ইবতিদাইয়্যাহ (প্রাইমারি) ছাত্রদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ছাত্রীদের ৬১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেধাতালিকার শীর্ষে কুমিল্লা রাজাপুর জামিয়া ইসলামিয়া মুহাম্মাদিয়ার মুহাম্মাদ মাহাদী হাসান । দ্বিতীয় হয়েছেন একই মাদরাসার সানাউল্লাহ। বালিকা শাখার মেধাতালিকার শীর্ষে ময়মনসিংয়ের মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার নুসরাত জান্নাত জারীন। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন কিশোরগঞ্জের হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদরসার উম্মে কুলসুম এবং কুমিল্লার আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদরাসার সিরাজাম মুনিরা।

এছাড়া হিফজ ও ক্বিরাআত বিভাগের পাসের হার যথাক্রমে ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং হিফজের ৪২ টি ও ক্বিরাআতের ২টি গ্রুপে পৃথক পৃথকভাবে মেধাতালিকার শীর্ষে রয়েছে অনেকেই।

আজ বুধবার বেলা ১২টায় রাজধানীর কাজলায় বেফাক কার্যালয়ে বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জব্বার এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। এর আগে তার কাছে ফলাফলের ফাইল হস্তান্তর করেন বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি আবু ইউসুফ। ফলাফল প্রকাশের সময় বেফাক মহাসচিব বলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলে সফলতার নজির স্থাপন করেছেন।তারা জাতির আশা পূরণ করতে সক্ষম হবেন। যোগ্য আলেম হিসেবে সমাজে ইসলামের সঠিক কথা তুলে ধরবেন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।

বেফাক কর্তৃপক্ষ জানান, ফলাফলের সকল তথ্য বেফাকের ওয়েব সাইড www.befaqbd.com-এ পাওয়া যাবে। ফলাফলে কারো অসন্তুষ্টি বা পূনরায় বিবেচনা করতে চাইলে ফল প্রকাশের পর থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করা যাবে।

ভোগান্তির শেষ নেই

তথ্যটি মিডিয়ায় প্রকাশ হলে অনেক শিক্ষার্থীই বেফাকের ওয়েব সাইট (www.wifaqbd.org) ভিজিট করেছেন। তবে অধিকাংশ জনকেই বিফল হতে হয়েছে। কারণ অনেক চেষ্টা করেও কোনোভাবেই ওয়েব সাইটে ঢোকা যাচ্ছিল না। এ নিয়ে গতকাল দুপুর থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় শিক্ষার্থীরা নানারকম স্ট্যাটাস দিয়েছেন। কেউ কেউ এ ধরনের উদ্যোগেরও প্রচণ্ড বিরোধিতা করে বলেছেন, যেহেতু একটি ওয়েবসাইট পরিচালনার সক্ষমতা তাদের নেই, সুতরাং পূর্বের মতো রেজাল্টশিট মাদরাসায় পাঠিয়ে দিলেই হতো ।

৩৯ তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার তথ্য জানতে কমাশিসার পক্ষ থেকেও গতকাল দুপুর থেকে একাধিকবার ভিজিট করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও কোনোভাবেই সাইটে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। বারবারই ‘দিস সাইট ক্যাননট বি রিসড’ দেখাচ্ছে। কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আগে ওয়েব সাইটের এমন ত্রুটি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে অনেককে। ব্যক্তিগতভাবে আওয়ার ইসলামের কাছে অনেক শিক্ষার্থীও বিষয়টি নিয়ে তাদের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন। অনেকে আজ রাতে েএসে তাদের রেজাল্ট উদ্ধার করতে পেরেছেন । এ ক্ষেত্রে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা ভোগান্তিতে পড়েছেন বেশি । কেননা, রেজাল্টের ক্ষেত্রে বারংবারই নারীদের রেজাল্ট চলে আসছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

রেজাল্ট সংক্রান্ত সাইটগুলো ফল প্রকাশের পর থেকে একসঙ্গে অধিক মানুষ সাইট ভিজিটের কারণে অনেক সময় সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। তবে ফল প্রকাশের আগেই সাইট ডাউন হওয়ার ঘটনা বিরল। এ ব্যাপারে বেফাকের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, সাইটে ভিজিট করা যায়। তারা কোনো রকম সমস্যা দেখছেন না।

উল্লেখ্য, বেফাকের ওয়েব সাইট নিয়ে সমস্যা পুরনো। এর আগে (befaqbd.com) নামের ডোমেইন বাৎসরিক রিনিউ না করার কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

ইদলিবের মাধ্যমেই সিরিয়ার বিজয় সুচিত হবে ইনশাআল্লাহ!

ইদলিবে শিয়া মুনাফেক রুশ কাফেরদের এক কথায় তুলাধুনা চলবে……. প্রস্তুত তুরস্কের নৌবাহিনী সেনাবাহিনী বিমানবাহিনী। ইতিমধ্যেই ...