সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:৪২
Home / অনুসন্ধান / আমি আরবি ভাষা বলছি – আমাকে বাঁচাও !

আমি আরবি ভাষা বলছি – আমাকে বাঁচাও !

ইউসুফ বিন তাশফিন::

আমার নাম আরবি ভাষা।মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে সম্মান দান করেছেন তা আর কাউকে দেননি। তিনি মেহেরবাণী করে আমার ভাষায় পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। তিনি সর্বশেষ রাসুলও প্রেরণ করেছেন আমার ভাষায়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমার ভাষায় কথা বলেন। জিব্রাইল বলেন। রাসুলও বলেন।তিনি এরশাদ করেছেন যে, আরবিকে আমি তিন কারণে ভালবাসি। প্রথম কারণ আমি নিজে আরবি। ২য় পবিত্র কোরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। আর ৩য় জান্নাতের ভাষা হবে আরবি।AbuTaherMisbah

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র মোবারক হাদীস আমার ভাষায়। আমাকে মুসলিম জাতি শ্রদ্ধাকরে। তারা কোরআন তিলাওয়াত করে হাদীস পাঠকরে। রাসুলের সাহাবারা আরবি ভাষায় কথা বলতেন। তারা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে আরবির বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। আফ্রিকা ইউরোপ এশিয়ায় আরবির বিস্তৃতি ঘটেছে। কুফর শক্তির ষড়যন্ত্রে ইউরোপ থেকে আরবিকে বেরকরে দিলেও আজ তারা পেট্রোডলারের লিপসায় এবং নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্টা করতে আরবি শিখছে। বিশ্বে এখন ইংরেজির পর আরবির স্থান আছে বলে মনে করাহয়। ইউরোপ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেশে এখন আরবি ভাষা শিক্ষার হিড়িক।

আমার আজ বিস্তৃতি ঘটলেও আমি যে কারণে সম্মানিত হয়েছিলাম সেই কারণের কিন্তু বিস্তৃতি ঘটছেনা।কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা আরবি। মানুষ আরবি শিখছে কিন্তু কোরআন সুন্নাহর আলো থেকে তারা অনেক দূরে চলে যাচ্ছে।

আমার মাঝে আশার আলো জাগে যে মুসলমানদের ইমামরা এখনো আমাকে জুমার খুতবায় স্মরণ করেন। তাদের দৈনন্দিন সালাতে দোয়া দুরুদে আমাকে ব্যবহার করা হয়। কারণ আমি তখন কোরআন ও হাদীস হয়ে আসি। তারপরও আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আজ শুধু পড়া হয় আমাকে বুঝা এবং অনুধাবন করার কসরত দিনের দিন কমছে। জুমার খুতবায় ইমাম পড়েন মুসল্লিরা জিমায়।

আজ দারসে কোরআন দারসে বোখারী দারসে আহাদীসের বইসমূহ তারা উর্দু করে নিয়েছেন।এখন বাংলাদেশের আলেম উলামারা আমাকে পিছনে ফেলে উর্দুর প্রতি মুহাব্বাত চলেগেছে। আমার আরবি ভাষার কিতাব তারা উর্দুতে তরজমা করেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তারা উর্দুতে করেন। উর্দুতে নাকি আমার নূর হুলুল হয়েগেছে। তারা তাদের প্রতিটি প্রতিষ্টানের নাম রাখেন আরবিতে। বোর্ডের নামও আরবি। জামাতের নামও আরবি।কিন্তু আমাকে তারা পাঠদানে নিয়ে আসেন না। আমার উপর কয়েকশত বছর খবরধারী করলো ফার্সি ভাষা। বাংলাদেশের বোকা লোকগুলো আমাকে শিখতে প্রথম ইলমে ছরফ ও নাহভেমীর ফারসিতে পড়ে।তারপর তরজমা করে উর্দুতে। এরপর নিজের ভাষায়। এইযে আমাকে নিয়ে তারা তিলিসমাতি খেলে, ফার্সি উর্দুর মাঝখানে ফেলে আমার গলাটিপে ধরা হয়। আমি আরবির ভাষা না শিখে তারা ফার্সি উর্দুর হরফ মুখস্ত করে। আরবি হরফ অবশ্য শিখে তবে তা শুধু তিলাওয়াতের জন্য ভাষা শিখার জন্য না। আর ওগুলো শিখে ভাষা শিখার জন্য। আমি আর কতদিন এই নির্যাতন সহ্য করে যাবে? যে শিশুরা আসে বুকে আশা নিয়ে আমার ভাষায় কথা বলা শিখবে। তাদের মুখস্থ কিছু শিখিয়ে ফার্সি ও উর্দুর পরোয়ানা গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। আমাকে তারা তাদের শিশুশ্রণী থেকে বঞ্চিত করেছে। পাঁচ পাঁচটি বছর শিশুটি পড়লো কিছু বাংলা ইংরেজী উর্দু ফার্সি শিখলো।কিন্তু ভুলেও তারা আমার সবক দেয়না।ওরা কোরআনের ভালবাসা নবীজীর ভালবাসা বলে মুখে ফেণা তুলে। কিন্তু কোরআন ও নবীজীর ভাষা আমি আরবিকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।আমি জানিনা তারা ইচ্ছে করে করছে নাকি তাদের অদুরদর্শিতার ফসল তা আল্লাহ তুমিই ভাল জান। আজ আমার হাত কাটা হচ্ছে পা কাটা হচ্ছে চোখ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। সকল কওমি মাদরাসায় আমি বড় অসহায় অবস্থায় আছি।

আমাকে ভালবেসে সুলতান জওক নদভী অনেক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি আরবি ভাষাটাকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমার নামের কওমির রাহবররা তাকে গ্রহন করে নিতে চায়না। তারই হাতে গড়া কৃতিসন্তান আবুতাহের মিসবাহ সাহেব। এসো আরবি শিখি সিরিজ লিখেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য কেউই তাকে পাত্তা দিতে চায়না। সেই যে দুইশ বছর আগের রওজাতুল আদব ছিলো তা নিয়ে বসে আছে ওরা।Abulhasan Ali nodovi

আমার মাঝে কতশত পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন ইসতেলাহাত এসেছে।সংযোজন হয়েছে।আমি আরো সমৃদ্ধি লাভ করেছি।কিন্তু তারা তার ধারে কাছে নেই। আমি দুঃখে কাঁদি ব্যথায় কুঁকড়িয়ে যাই যখন দেখি একজন হাদীসের উসতাজ আমার ভাষায় কথা বলতে অপারগ। যারা তরজমায়ে কোরআন পড়ায় মোটেই তারা আরবি সাহিত্যে অভিজ্ঞ নয়। যারা আরবি সাহিত্য পড়ায় তারা উর্দু নোট দেখে পড়ায়। আজকাল আমার সুনাম ইউরোপে বাড়ছে। আফ্রিকায় বাড়ছে। আমেরিকায় বাড়ছে। কিন্তু আমি পাকিস্তান ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশের কওমি মাদরাসায় এসে বিপদের সম্মুখিন। আমার জন্মস্থান আরব দেশের সাথে তাদের খয়রাতি সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোন সম্পর্ক নেই।জানা ও বোঝার সেতু বন্ধন করতে নারাজ।আমি এই গ্যাড়াকল থেকে বাঁচতে চাই। আমি আর উর্দু বাংলা ও ফার্সির শরাহ শরুহাতের ভিতর ঢুকে যেতে চাইনা।কওমির প্রতিজন শিক্ষক আমার ভাষায় কথা বলুক। প্রতিটি ছাত্র আমাকে নিয়ে চিন্তা করুক। কওমির স্বয়নে স্বপনে আমি আসতে চাই। আমাকে যখন জুমায় পড়া হবে সেই ইমাম ও খতিব যেন জেনে বুঝে বলে। তার সামনের মুসল্লিরাও যেন অবহিত হতে পারে। কেউ কি আছো তোমাদের মাঝে আমাকে স্বাগত জানাতে? আমাকে উদ্ধার করতে? আমাকে রক্ষা করতে? আমাকে বাঁচাতে? আমি তোমার প্রথম আহব্বানের অপেক্ষায় ………..!

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

প্রশ্নপত্র ফাঁস সমাচার, বেফাক ও হাইয়ার দ্বায়!

খতিব তাজুল ইসলাম: কলামের শুরু এবং শেষ নিয়ে বেশ বিব্রতে আছি। পুরাটাই আগুছালো অবস্থা। স্বকীয়তার ...