বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১:০৩
Home / অনুসন্ধান / ফিলিস্তিনের ইতিহাস আঘাত করে হৃদপিণ্ডে

ফিলিস্তিনের ইতিহাস আঘাত করে হৃদপিণ্ডে

imageরsতাজ উদ্দীন হানাফী ::
ফিলিস্তিন এই নামটিই আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি মনে এক রক্তাক্ত ভূমি, অবৈধ ইসরাইলিদের কালো থাবায় নিষ্পেষিত প্রতিটি হৃদ ,শিশুদের সাহসের স্পর্ধা দেখলে মনে ভয়ের স্ফুলিঙ্গ রেখাপাত করে,তৃতীয় সারির মুসলমানদের,হিংস্র ইসরাইলীদের নৃত্য হামলা লাশের বুকে দাঁড়িয়ে হাসি নামক একেমন নৃত্য, যা দেখলেন মনে হয় ইহুদীবাদরাই এমন কর্ম পারে করতে,ফিলিস্তিনি সেই ভাইয়ের মুচকি হাসি আজও পৃথিবীর বুক ধারণ করে রেখেছে,ইসরাইলী আদালত যখন থাকে দু’শ বছরের কারাদণ্ড দিলে হেসে আনন্দ চিত্তে কাটগড়ায় দাঁড়িয়ে ইসরাইলী বিচারককে, হায়! হায়!! আপনি কি মনে করেন, ইসরাইল আরো দু’শ বছর পৃথিবীর মানচিত্রে থাকবে? এ কেমন প্রশ্ন! একেমন দুঃসাহস!!
আজও সেই ছোট ভাইটির কথা মনে পড়ে যে বলেছিল আমিতো মরে যাব, কিন্তু আল্লাহর কাছে তাদের (সৌদিআরব) ব্যাপারে অবশ্যই বিচার দায়ের করব, কি ধরণের ক্ষোভ একেমন বিদ্বেষী মনোভাব, ফিলিস্তিনে অকালেই বিধবা, জন্মের পূর্বেই বাবার চলে যাওয়া,মায়ের জঠরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আসার আগেই চলে যাওয়া শিশু, ভাইয়ের কুলে ভাইয়ের লাশ আবার মুক্তি স্লোগানের সারিতে, পৃথিবীর শ্রেষ্ট সম্পদ ছেলের লাশ ফেলে তাগুদি ইহুদীবাদের উপর মায়ের প্রতিবাদ,অপ্রাপ্ত কন্যার বিবাহের আহাজারি যেন তার সন্তান হয়ে ফিলিস্তিন মুক্তির আন্দোলনে শরিক হতে পারে, একেমন দাবি!
এসকল বিষয় ফিলিস্তিনিদের কাছে যেন এক নিত্য নতুন বিষয়, যদি ও আমাদের কাছে সেই কথা গুলা যেন এক অচিন স্বপ্নপুরির কথা,কেননা আজ আমরা মানব জীবনে বিলাসিতার চাদর খুলে সর্বোচ্চ আয়েশে ব্যস্ত, আরব ভূখণ্ডের রাজাদের  আতর ব্যবহারে কয়েক কোটি বাজেটের সুন্নত পালনের স্পর্ধা, তাদের জীবন চরিত্রের  কিছুটাই উল্লেখ করতে প্রয়োজন পড়বে আরব্যোপন্যাস রচিত করণ। কিন্তু এখানে এটি উদ্দেশ্য নয়। শুধু ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ইতিহাস কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব।
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনের আকাশে আসে কালো মেঘেরডাক, কেননা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিন ছিল তুরস্কের ওসমানীয় খেলাফতের অধীনে এক শান্ত আদর্শীয় আকর্ষণে অভয়ারণ্য এক ভূখণ্ড। যার মানচিত্রের আবরণ ছিল শ্যামল আর ফসলাদি যেন আল্লাহর নেয়ামতের এক জ্বলন্ত দানের প্রতিমার স্তুপ ছিল, আজকের যুদ্ধবাজ ফিলিস্তিনের বাসিন্দারাও দৈহিক সৌন্দর্য ও কমনীয়তার প্রতীক। আয়তন দশ হাজার চার’শ ঊনত্রিশ বর্গমাইল। (১০৪২৯) মধ্যপ্রাচ্যের ‘উর্বর চন্দ্র’ (Fertile Crescent) নামে খ্যাত এলাকার  উত্তরে ফিলিস্তিন। পশ্চিম এশিয়ার একবারেই পশ্চিম অঞ্চল থেকেই  প্রধান তিনটি দলের সূচনা হয়।

ফিলিস্তিন-02-310x159ফিলিস্তিন যার মধ্যে ছিল ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের নিকটবর্তী হিজায হতে ইসলামের আবির্ভাব। ফিলিস্তিন প্রথম মুসলমানদের হস্তগত হয় হজরত ওমর ফারুকের খেলাফতকালে ১৮ হিজরিতে। ক্রুসেডের আক্রোশি থাবায় ফের কারাত্ব বরণ করে ১০৯৬ সালে। ফিলিস্তিন, দীর্ঘ ৯০বছর থাকে খ্রিস্টানদের কালো আঁচলে,পথ পরিক্রমায় ফের ফিলিস্তিন বন্ধীত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়ে হেসেছিল, মুসলিম মিল্লাতের বীর সিপাহী কালজয়ী সালাহুদ্দীন আইয়ুবির মাধ্যমে। এর পর  ফিলিস্তিন ১৯১৭ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে মুসলমানদের আধিপত্যই ছিল। যার সংখ্যা গত মান দাড় করালে প্রায় ১২৫০ বছর মুসলমানদের অধীনেই ছিল ফিলিস্তিন ভূমি।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকেই ইঙ্গ মার্কিনিদের মদদে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদীরা শক্তি সঞ্চয় করতে থাকলে এক পর্যায় ফিলিস্তিন বাসিদের উৎখাত করে সেখানে একটি ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করে। এই রাষ্ট্র কায়েমের পিছনে অনেক দিনের সুক্ষ্মদর্শী পতারণার আশ্রয়ে স্বপ্নময়ী ছিল ইহুদীরা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছু দিন আগে কর্নেল লরেন্স দৃশ্যত মুসলমান হয়ে আরবদের প্রতারিত করে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে আরব জাতীয়তাবাদের শ্লোগান তোলে ও প্রচারণা চালায়। আরব তরুণরা তার মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে যায়। ফল দাঁড়ায় তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ মরক্কোর সমুদ্রবন্দর কাসাব্লাঙ্কায় হামলা চালায়। সেখানে ছিল তুর্কি যুদ্ধজাহাজ।  ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে ৬’শ সৈন্য ছিল। তুর্কি মোকাবেলায় ব্রিটিশ জাহাজ ডুবে যায়। ঘটে যায় এক করুণ ইতিহাস, মরক্কো তখন তুর্কি খেলাফত থেকে আলাদা হয়ে যায়। ইতিহাস বলে  ১৯১১-এ তুর্কি খেলাফত এক এক করে মরক্কো, সেনেগাল, আলজিরিয়া, তিউনিস, লিবিয়া, মিসর, সুদান, মধ্য আফ্রিকা ও অন্য সব আফ্রিকান প্রদেশ থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে ও এশিয়ার প্রদেশগুলোর ওপর কর্তৃত্ব রাখতে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তুর্কিদের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদের প্রচারণা চালানোর কারণে মরক্কো থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিদ্রোহ দেখা দেয়।

image_90073_0অন্যভাবে বলা যায়, আটলান্টিক থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত আরব জাতীয়তাবাদের ঢেউ চলতে থাকে। তুর্কি খলিফারা আরবদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালান এবং যুদ্ধে তুর্কিদের পক্ষে কাজ করতে অনুরোধ জানান। যুদ্ধের পর আরবদের স্বাধীনতা কিংবা ক্ষমতার ভাগ দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আরবরা কিছুতেই শান্ত হয়নি। আফ্রিকার প্রদেশগুলো হাতছাড়া হয়ে গেলেও ইয়েমেন, আরব, ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন অর্থাৎ এশিয়ার এসব অঞ্চল তুর্কিরা ছাড়তে রাজি ছিল না। ফলে এখানে তুমুল লড়াই হয়। ত্রিপক্ষীয় শক্তি একজোট হয় তুর্কিদের বিরুদ্ধে এক দিকে ব্রিটিশ, আরেক দিকে ফরাসি আর অপর দিকে আরব শক্তি সম্মিলিতভাবে তুর্কি শক্তির মোকাবেলা করতে থাকে।
তুরস্কের ওসমানি খেলাফতের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। আরবরা তখন ব্রিটিশ ও ফরাসি সৈন্যদের চলে যেতে বলল। কিন্তু তারা যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে না নেয়া পর্যন্ত চলে যেতে অস্বীকার করল। ইউরোপীয় বাহিনী এভাবে জবরদখলকারী হিসেবে রয়ে গেল। এখন আরবরা না পারে সইতে, না পারে কিছু বলতে। অবশ্য প্রতিবাদ ও সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়। ওদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত গোষ্ঠীও তৈরি হয়ে যায়। তাদেরই হাতে এক সময়ে এসব অঞ্চলের শাসনভার ছেড়ে দিয়ে দখলদার বাহিনী আস্তে আস্তে চলে যায়। তবে এজন্য স্থানীয় জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রাম চালাতে হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। সিরিয়া ৩৫ বছর পর স্বাধীনতা লাভ করলেও দখলদার শক্তি এটাকে ভাগ করে সিরিয়া ও লেবানন দু’টি রাষ্ট্রে পরিণত করে। কোনো কোনো অঞ্চল চল্লিশ পঞ্চাশ বছরের রক্তক্ষয়ী ত্যাগ স্বীকারের পর স্বাধীন হয়। ফ্রান্স বলে বসে আলজিরিয়া আমাদেরই দক্ষিণ অংশ। আমরা তা ছাড়ব না। ফ্রান্সের জবর দখলের প্রতিবাদে গড়ে ওঠে গেরিলা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন আহমদ বেনবিল্লাহ। শুরু হয় সব শহর ও গ্রামে গেরিলা যুদ্ধ । ফলে ৭৫ বছর পর শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ড লড়াই ও বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে আলজিরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে জনগণ।
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের কালে (১৯১৪-১৯১৯) ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে থাকে কয়েক হাজার ইহুদী তাদের প্রায়ই ছিলেন নিজ রূপে ব্যবসায়ী, আর বিশাল সমাহার ছিল মুসলমান, এদের মধ্যে ছিল উচ্চবিত্ত জমিদার, কৃষক, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকুরে, বিশাল জলপাই বাগানের মালিক, কারখানা মালিক ইত্যাদি।

imageপ্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর আদম শুমারিনুযায়ী ফিলিস্তিনে মুসলমানদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ লাখ জীবন ছিল তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘে সচ্চল ও ছিল প্রতিটি মুসলিম অন্তর।কে জানত ভাবী হবে ওদের জন্য এক কংকাল কংক্রিটের, আঘাত করবে দরিদ্রতার গ্লানি, শরণার্থী শিবিরের পরিচয়ে পৃথিবী করবে ওদের।
কলঙ্কিত জাতি ইহুদীরা তখন ব্রিটেন রাজার সাথে চুক্তি করে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সব ব্যয় বহন করে তা প্রতিশোধ করবে।যদি ব্রিটেন তাদের কাংখিত ইহুদীবাদের একটি রাষ্ট্র গঠন করে দেয়,চুক্তিটি করে ২ নভেম্বর ১৯১৭, বৃটেনের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর এ উপলক্ষ্যে যে ঘোষণা দেন এরই নাম বেলফোর ঘোষণা। যেহেতু তখন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ফিলিস্তিন ভূখণ্ডটি,তাই কৌশলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ইহুদীদের পরামর্শ দেয় তারা যেন ইউরোপ থেকে অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে ফিলিস্তিনে, এ যেন আগাম কোন কালো মেঘেরডাক। ১৯১৮ পর্যন্ত ইহুদিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০হাজারে। কিন্তু মুসলমানদের সংখ্যা থাকে সেই ৭লাখেই।
ইহুদিরা পূর্ব ইউরোপ, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও বাল্টিক এলাকাগুলো থেকে আসতে থাকে এবং ফিলিস্তিনে তাদের বসতি করে দিতে থাকে প্রতিশ্রুত ব্রিটেন। ১৯২৭ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ছোট বড় ২২০ বসতি গড়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন তাদের সুদূরপ্রসারী কালো পথ চলনে হাইফা থেকে জাফা এলাকা পর্যন্ত এসব বস্তি নির্মাণ করে, তার ফলে প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ করে ইহুদি আসতে থাকে ফিলিস্তিনে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে লিগ অব নেশন্সের ম্যান্ডেট ছিল। সেমতে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের ন্যায়-অন্যায় সব রকমের সুবিধা দিতে থাকে এবং আরবদের উপকূলীয় এলাকা থেকে জেরুজালেমের দিকে ঠেলে দিতে থাকে।
স্বল্প পথ চলনে ফিলিস্তিনে ১৯৩১ পর্যন্ত  জনসংখ্যার হার দাঁড়ায় এ রকম নিরেট আরব মুসলমান সাড়ে ৭ লাখ বা শতকরা ৭৩ ভাগ, ইহুদি পৌনে ২ লাখ বা ১৭ শতাংশ, খ্রিষ্টান ৯১ হাজার বা ৯ শতাংশ অন্যান্য ৯ হাজার বা ১ শতাংশ। প্রথম দিকে অনেক নবাগত গোষ্ঠী আরবদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে, আবার অনেকেই অনাবাদী জমি বিনামূল্য দখল করে বসতি স্থাপন করে, ইংরেজ লালরা তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রলয়ে কিছু জমি অ্যাকোয়ার করে ইহুদিদের বসতি স্থাপন করে দেয়, অবশেষে সেই কালো তারিখ যা ছিল ১৪ মে ১৯৪৮ ইংরেজি।
দিখণ্ডিত করে দেয় ফিলিস্তিনকে, ইহুদীদের জন্য বরাদ্দকৃত হয় কিছু অংশ যার পরিমাণ হয় ৭ হাজার ৯৯৩ বর্গমাইল।আরবদের প্রতি অবিচার করে দেয়া হয় মাত্র ২ হাজার ৪৩৬ বর্গমাইল। সেই সিদ্ধান্তে ইহুদীরা তাদের প্রতারিত আশ্রয়ে পাওয়া ভূখণ্ড থেকে বের করে দিতে লাগে আরবদের,নিস্টুর সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ করে আরবরা তাদের ভূমি ইহুদিকরণ করতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আশ্রয় নেয় শুধু প্রতিবাদের। সেই প্রতিবাদ অবশেষে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিয়ে যায়।

১৯৪৮ থেকে  ১৯৪৯ পর্যন্ত মিসর, সিরিয়া, লেবানন ও জর্দান ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ায়  সহায়তার হাত প্রসারিত করে ফিলিস্তিনিদের জন্য, কোনো কোনো জায়গায় ইহুদিদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়।কিছুটা যুদ্ধ বিরতি হলেও শেষ পর্যন্ত  ইহুদিরা ৬ লাখ মুসলমানকে তাদের পাওনা এলাকা থেকে বের করে দেয়। গাজায় সঙ্কীর্ণ একটি ফালি বাদ দিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা বরাদ্দ দেয়া হয় ইহুদিদের। পবিত্র নগর জেরুসালেমও ভাগ করা হয়। আরবদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তুতে পরিণত করা হয়। আর মুসলমানদের পবিত্র নগরী জেরুসালেমে আস্ফালন করতে থাকে ইহুদিরা। বিশ্বের ইতিহাসে এমন বিশ্বাসঘাতকতা, বর্বরতা, প্রতারণা ইসরাইল নাম করে আরবদের বুকে বসানো করাঘাতি ছুরি।

ইসরাইলে ইহুদি জনসংখ্যা ১৯১৪-এর আগে কয়েক হাজার, ১৯১৮-এ ৫০ হাজার, ১৯৩১-এ ১ লাখ ৭৫ হাজার, ১৯৩৫-এ ৩ লাখ, ১৯৪৮-এ সাড়ে ৮ লাখ, ১৯৫৮-এ ২০ লাখ, ২০০০-এ ৬২ লাখ এবং ২০০৭-এ দাঁড়িয়েছে ৭৫ লাখ। আরবরা যদি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের ওসমানি খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করত, তাহলে হয়তো তাদের এ দুর্দিন পোহাতে হতো না।

indexইসরাইল রাষ্ট্রটি ব্রিটেন সরকারের রাজকীয় দান ছিল না। বরং ইহুদি ধনকুবেররা পয়সা দিয়ে কিনে নিয়েছিল ফিলিস্তিনিদের পবিত্র এই ভূমিটি,তার পর নিজেদের মত করে সাজিয়েছে পৃথিবীর মানচিত্রে নীরিহ মুসলমানদের অবস্থান কোথায় হবে এব্যাপারে তাদের মাথা ব্যাথা ছিলনা একটুও।একটি জাতির নাম নিশানা মুছে ফেলতে সকল উপকরণ থাকলেও প্রতিবাদের সময় তাদের আখ্যায়িত করা হয় সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ও অসহিষ্ণু বলে।
সত্যিই যদি ইহুদিদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র কায়েম করার উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রচুর খালি জায়গা পড়ে ছিল। সেখানে তাদের জন্য একটি বিশাল বিস্তীর্ণ রাষ্ট্র কায়েম করা যেত। আরবদের বুকচিরে এক ফালি জমি বের করতে হতো না। বা শত শত বছর ধরে বাস করতে থাকা লোকদের উচ্ছেদ করতে হতো না।
আরবরা যে এলাকাটুকু পেয়েছে তাও দুই ভাগে বিভক্ত। এভাবে আরবদের আরো দুর্বল করে ফেলা হয়। ফিলিস্তিনিরা যেন দু’টি দ্বীপে অবস্থান করছে। এদের তিন দিকে ইহুদিরা। আর সাগরেও রয়েছে ইসরাইলের দখল। এক অংশ জর্দান নদীর পশ্চিম তীর। এটার গড় প্রস্থ ৩০ মাইল ও দৈর্ঘ্য ৮০ মাইল। এই অংশের মাঝখানে পড়েছে জেরুসালেম নগরী, কিন্তু এটাকেও আরব ও ইসরাইলের মধ্যে ভাগ করে বায়তুল মুকাদ্দাসকেও দুই ভাগ করা হয়েছে। নগরীর পূর্ব দিকটা পেয়েছে আরবরা, আর পশ্চিম দিকটা দেয়া হয়েছে ইসরাইলকে। এভাবে বিবাদের একটি স্থায়ী বীজ বপন করে দেয় সাম্রাজ্যবাদিরা। অথচ লিগ অব নেশন্স এ ব্যাপারে নির্বাক। সুতরাং একটি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়েই যে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তা আজ দিবালোকে দিপ্তমান।

প্রতারিত ফিলিস্তিনিরা
ফিলিস্তিনিদের সাথে পশ্চিম সভ্যরা (!) প্রতিনিয়ত প্রতারণা করেই যাচ্ছে, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারেনি ইসরাইলের হঠকারিতার কারণে। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০০১-এ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। তারপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন রোডম্যাপ দিলে। ইসরাইল সরকার তার ও কোনো মূল্য দিলো না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচেষ্টাও অবশেষ সফল হলো না। এভাবেই চলছে দীর্ঘ  ৬০ বছরের রক্তাক্ত সংগ্রাম।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান
কত কয়েক বছরের ইসরাইলি বর্বর হামলায় ফিলিস্তিনিদের আকাশে যে নির্মম  ইতিহাস রচনা হয় বিশ্ববাসী অতীতে কুফার কাসেম, দির ইয়াসিন, সাবরা ও শাতিলা’র মত ভয়াবহ গণহত্যা দেখেছে। আর সাম্প্রতিক কালে ইহুদীবাদীরা জেনিন, বেথেলহাম, গাজা ও কানায় হামলা চালানোর নগ্ন দৃস্টতা দেখেছে, তার উপর দিয়ে অবৈধ ইসরাইলিদের ৬০ বছরের উৎসব পালন করা, যা নিতান্তই মাজলুম নীরিহ মুসলমানদের সাথে নির্লজ্জ কৌতুক ছাড়া  ছাড়া কি বা হতে পারে, খোদ  তাদেরই শুভাকাঙ্ক্ষী জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইসরাইলী সেনাদের হামলায় গত ৭ বছরে ৬ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৫০ জন হচ্ছে ফিলিস্তিনী শিশু ও কিশোর। একই সময়ে ইহুদীবাদীদের বর্বরোচিত হামলায় আহত হয়েছেন ৫৫ হাজারেরও বেশী ফিলিস্তিনী। এছাড়া গত সাত বছরে ইসরাইলী সেনারা প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনীকে বন্দী করেছে। এদের মধ্যে ৬ হাজার ৫০০ জন শিশু এবং ৭০০ জন নারী। ফিলিস্তিনী এলাকাগুলো থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ৬০ হাজার ফিলিস্তিনীর মধ্যে এখনো প্রায় ১১ হাজার জন ইসরাইলী বন্দী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এখনো ইসরাইলী কারাগারে আটক ফিলিস্তিনী বন্দীর মধ্যে ১১০ জন নারী এবং ৪০০ জন শিশু।

বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইসরাইলী কারাগারগুলোতে গত ২০ বছরেরও বেশী সময় ধরে বন্দী ফিলিস্তিনীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৫০০ জন। এদের সাথে গত ৭ বছরে গ্রেফতারকৃত ফিলিস্তিনীর সংখ্যা যোগ করলে ইহুদীবাদী বন্দী শিবিরগুলোতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকা ফিলিস্তিনী বন্দীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ জন। ইসরাইলী কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনী বন্দীদের সাথে চরম অমানবিক আচরণ ও নির্দয় অত্যাচার করা হয়। গত প্রায় ৪ দশকে ইসরাইলী কারাগারগুলোতে ১৯৭ জন বন্দী ইহুদীবাদীদের অকথ্য নির্যাতনের কারণে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া এসব নির্যাতনের শিকার শত শত ফিলিস্তিনী পঙ্গু হয়ে গেছেন এবং অনেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৪ দশকে প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনীকে ইসরাইলী সেনারা ধরে নিয়ে তাদের বন্দী শিবিরগুলোতে নিপে করেছে। ফলে এসব ফিলিস্তিনীকে তাদের জীবনের একটি সময়কে ইহুদীবাদী নির্যাতন ক্যাম্পে অতিবাহিত করার দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ইসরাইলী কারাগারগুলোতে এমন সময় ফিলিস্তিনী বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যখন, আন্তর্জাতিক সকল আইনে বন্দীদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণসহ এ ধরনের অন্যান্য অমানবিক আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যুদ্ধ বা যুদ্ধের হুমকি, কোন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা অন্য যে কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বন্দীদের ওপর নির্যাতনকে নিষিদ্ধ ও ব্যাখ্যার অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসরাইলী কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয়, সেজন্য বিগত বহু বছর ধরে অধিকাংশ ফিলিস্তিনী বন্দীর সাথে তাদের পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক রেডক্রস এক বিবৃতিতে বলেছে, তেলআবিব ইসরাইলী বন্দীশিবিরগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেণ করার জন্য ঐ সংস্থার কর্মীদের ইসরাইল সফরের অনুমতি দিচ্ছে না। কূখ্যাত গুয়ান্টানামো বন্দী শিবিরের ভয়াবহ নির্যাতনের কথা বিশ্বের কোন মানুষের অজানা নয়। কিন্তু ইসরাইলী বন্দী শিবিরগুলোর পরিস্থিতি গুয়ান্টানামোর চেয়ে ভয়াবহ।
ইহুদীবাদী সরকার যে ফিলিস্তিনীদের ধরে এনে কারাগারে নিপে করছে তাই নয়, সেই সাথে প্রায় সব সময়ই ফিলিস্তিনী এলাকাগুলো অবরোধ করে সেখানকার বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদেরকে খাদ্য, পানীয় ও চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখছে। ফলে অধিকৃত এলাকাগুলো ফিলিস্তিনীদের জন্য একটি বৃহৎ বন্দীশালায় পরিণত হয়েছে। গাজা উপত্যকায় গত কয়েক মাসের ইসরাইলী অবরোধের কারণে বিনা চিকিৎসায় ১৪৫ জন ফিলিস্তিনীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা গাজার বর্তমান দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে ঐ উপত্যকাকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জেলখানা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনী শরণার্থী বিষয়ক জরুরী সাহায্য প্রদানকারী সংস্থার পরিচালক জন জিং এ সম্পর্কে বলেছে, ইসরাইলী অবরোধের কারণে গাজা এখনো একটি বৃহৎ জেলখানা হয়ে রয়েছে এবং এখানকার অধিবাসীরা অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ইসরাইলী সেনারা গত এক দশকে ফিলিস্তিনীদের দশ হাজারেরও বেশী বাড়িঘর ধ্বংস করেছে। এ সময়ে তারা ফিলিস্তিনীদের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে। ইহুদীবাদীদের এই ভয়াবহ অমানবিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে আরব দেশগুলো সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। এমনকি কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে। আরবদের এই ঘৃন্য আচরণের কারণে ইহুদীবাদী সরকার আরো বেশী ধৃষ্ঠতার সাথে ফিলিস্তিনীদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের আরব জনগোষ্ঠির ওপর ইসরাইলীদের অমানবিক আচরণের ব্যাপারে পশ্চিমাদের পদলেহী আরব সরকারগুলোর নীরবতার ব্যাপারে এসব দেশের জনগণ ুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ১৯৫১ সালে আরব লীগ ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিল। কথা ছিল সকল আরব দেশ এই দপ্তরের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখে ইসরাইলের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক এড়িয়ে চলবে। কিন্তু বর্তমানে বহু আরব দেশ ঐ দপ্তরকে সহযোগিতা না করে বরং তেলআবিব ও তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক মার্কিন সরকারের সাথে দহরম মহরম চালিয়ে যাচ্ছে”। এ কেমন ফতওয়া!

ফিলিস্তিন ও গাজার জনগণের সমর্থনে মিছিল করা নিষিদ্ধ!
শায়খ আব্দুল আযিয তার অপর এক উদ্ভট ফতওয়াতে, ফিলিস্তিন ও গাজার অবরুদ্ধ মুসলমানদের সমর্থন ও তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণায় মিছিলের পদক্ষেপকে একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ এবং বৃথা ও গোলযোগ সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
তথ্য সূত্র: http://www.moroccoworldnews.com/2014/08/135880/saudi-grand-mufti-issues-fatwa-against-solidarity-marches-with-gaza/
এ কেমন দৃস্টতা! ইসরাইলি বংশে নবীদের আগমন বেশি তাই ওরা সম্মানী ওদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সময়োচিত না, এমন বিবেক বর্জিত কাজ কি কোন সুহৃদ ব্যক্তি সমর্থন করতে পারে, কি এমন দৈন্যতা যার জন্য এমন আচরণ, এমন ঘৃন্য বিকৃত বিক্রিত বিবেকের কথা মুসলিম বিশ্ব মেনে নিতে পারেনা। কেননা ইসরাইল জন্মের সূচনাই হয় ফিলিস্তিনিদের নির্মম অত্যাচার দ্বারাই, এই জন্য ফিলিস্তিনের বিখ্যাত লেখক এডওয়ার্ড সাঈদ বলেছেন, “বিশ্বের বুকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ শুরু করেছিল ইসরাইল এবং এখনো লেবানন ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে ঐ সন্ত্রাসবাদ ব্যাপক মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে।” এমন বক্তব্য বিশ্বকে ভাবিয়েছে, করেছে আশাহত, সাথে লজ্জিত করেছে বিশ্বের মানচিত্রে মুসলমানদের।

ইসরাইল জন্মের পিছনে ইহুদীবাদ

ইহুদীবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যে বাস্তবতাটি তুলে ধরছে, তা হলো, ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদীবাদী সরকার এখন পর্যন্ত টিকে আছে সন্ত্রাস ও গণহত্যার মাধ্যমে। ইহুদী অর্থনীতিবিদ যোসেফ উইটস ১৯৪০ সালে অর্থাৎ ইসরাইলের অস্তিত্ব সৃষ্টির ৮ বছর আগে বলেছিল, “ফিলিস্তিনে দুটি জাতি বসবাস করতে পারে না। আরবরা ঐ ভূখণ্ড ত্যাগ করলে আমাদের বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু যদি আরবরা থেকে যায়, তবে আমরা একটি ছোট ও অগোছালো দেশ পাবো। এ কারণে, সবার আগে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড থেকে আরবদের বহিস্কার করতে হবে। ফিলিস্তিনে একটি আরব গোত্রকেও থাকতে দেয়া হবে না।” কথা হল ইসরাইল জন্মের বহু আগ থেকেই যে জাতি এই নেশায় মত্ত ছিল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বিন গোরিওন ১৯৪৮ সালে বলেছিল, সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে যে, ‘যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ রাষ্ট্র কখনো তার বর্তমান আয়তন ও সীমান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে না। নীল নদ থেকে ফোরাত উপকূল পর্যন্ত ইসরাইলের সীমানা বিস্তৃত হবে।’ ডেভিড বিন গোরিওনের ঐ ঘোষণার ৬ দশক পর এসে দেখা যাচ্ছে, ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের ব্যাল শহরে থিওডর হার্যেলের নেতৃত্বে এবং বৃটিশ পূঁজিপতিদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথম ইহুদীবাদী মতাদর্শের জন্ম হয়। ফিলিস্তিনে ষড়যন্ত্রের বীজবপন করে ঐ ভূখন্ড দখল করে সেখানে ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল ইহুদীবাদী গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য।
ইহুদীবাদী মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা ও জনক বলে পরিচিত থিওডর হায্যেল ব্যাল সম্মেলন শেষ হওয়ার পর তার ‘ইহুদী সরকার’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছে, “সুইজারল্যান্ডের ব্যাল সম্মেলনের ফলাফলকে এক কথায় বর্ণনা করতে বলা হলে আমি বলবো, আমি ব্যালে ইহুদী রাষ্ট্রের বীজ বপন করেছি। তবে আমি তা প্রকাশ্যে বলবো না, কারণ, এই মুহুর্তে একথা শুনলে বিশ্বের মানুষ হাসবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে না হলেও আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবেই।”
তৎকালীন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালফোর বৃটিশ ইহুদী ধনকুবের লর্ড রোচিল্ডকে লেখা ঐতিহাসিক পত্রে বলেছিলেন, ” আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ইহুদীবাদীদের লালিত বাসনা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে বৃটিশ সরকারের মন্ত্রীসভায় একটি বিল পাশ করা হয়েছে। বৃটিশ সাম্রাজ্য ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে পোষণ করছে এবং ইহুদীবাদীদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লন্ডন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। বৃটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা ইহুদীবাদী ইউনিয়নকে জানালে লন্ডন আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।”
এমন দৃষ্টতায় প্রায় দশ লাখ ফিলিস্তিনীকে তাদের আবাসভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়। ফিলিস্তিনীরা শরণার্থী হয়ে পার্শ্ববর্তী আরব রাষ্ট্রগুলোতে আশ্রয় নেয়ার পর ইহুদীবাদী সরকার ফিলিস্তিনীদের পতিত বাড়িঘর ও জায়গা অধিগ্রহণ করে তা অভিবাসন গ্রহণকারী ইহুদীদের মধ্যে বন্টন করে দিতে থাকে। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ লাখ ইহুদী, অর্থাৎ যে পরিমাণ ফিলিস্তিনীকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, সেই পরিমাণ ইহুদী ফিলিস্তিনে এসে বসতি গড়ে তোলে। এ সম্পর্কে ১৯৬০ এর দশকের ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী গোল্ডমেয়ার একাধিকবার যে উক্তি করেছিল, তা হচ্ছে- “সে সময় ফিলিস্তিনে কোন মানুষই ছিল না, যাদেরকে বিতাড়িত করে আমরা তাদের দেশ দখল করবো। কারণ, আমরা এই ভূখন্ডে আসার আগেই ফিলিস্তিনীদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।অনেক গভীরেই ছিল তাদের বীজ, মুসলিম বিতাড়নের প্রেরণায় উজ্জিবিত ছিল আজকের ইসরাইল, বাইতুল মোকাদ্দাসকে ইহুদিকরণে ঘৃণ্য পথচলা।

রক্ত ঝরছে মুসলিমের। রক্তাক্ত হচ্ছে ভুমি। কাদছে স্বজন হাসছে শত্রু। কম্পিত হচ্ছে আঘাত ভুমি। ভূলন্ঠিত হচ্ছে মাতৃত্বের সতীত্ব। অশান্ত হচ্ছে পরিবেশ। গাছ পালা ধুলোবালীতে লজ্জার চাদর ডেকে কাঁদছে। পাতর ফেটে সারা জিবনের কান্না করছে। অসহায় ভূমি যেন অপারগতা পেশ করছে।আরব অতন খুশিতে যেন আটলাট। বোমারু বিমানের আঘাতে প্রাণ হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর, গোটা বিশ্ব অসহায় আখিযুগলে অশ্রু ঝরাচ্ছে।। আমরা বন্দি ইহুদীদের কাছে। মাসজিদে আক্বসা মুসলিম বিশ্বের পানে মুক্তির ভিক্ষা করছে।
মেরাজের সময় হুজুর সা. আমার মাজে দুরাকাত নামাজ পড়েন।ইমামতি করেন সকল নবী ও রাসুলের। আমাকে প্রথম ইমারাত করেন হজরত ইব্রাহীম দ্বিতীয় বার ইসহাক এর পর ইয়াকুব সুলাইমান আ. ৬৩৬হিজরীতে ওমর আমায় মেরামত করে। আমি আল্লাহর ঘর। আমার মাঝে ইবাদত হবে। আমি গর্ব করব তা নিয়ে। কিন্তু কোথায় মুসলিম বিশ্ব।ওরাতো পারছেনা বলছি ফিলিস্তিনিরা। দেখছনা মেয়েরা বিবাহের বয়সের আগে বাবা কে বলছে আমাকে বিবাহ দিয়ে দাও।যেন আমি সন্তান জন্ম দিতে পারি আর সে জিহাদে যাবে।
এমন আকুতি তোমরা দেখছ না।
তাহলে কি দেখছ।
আমায় মুক্ত করনা।
আর কি জন্মাবেনা কোন সালাহুদ্দীন আয়ুবী।
আমি আর বন্দি থাকতে চাইনা।
এমন আহাজারি আজ বায়তুল মোকাদ্দাসের,
বাইতুল মোকাদ্দাস হচ্ছে ইসলাম,প্রথম ক্বিবলা,খ্রিষ্টান ইহুদীদের ও আবেগ ও ধর্মীয় আস্থাস্থল রয়েছে এই জায়গাটির প্রতি,  ইহুদীবাদীদদের কালো থাবার আঘাতি হয়ে আজ কাঁদছে আমাদের স্মৃতি বিজড়িত এই পবিত্র ভূমিটি ইহুদীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই এই শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানীতে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। ইসরাইলীরা ১৯৪৮ সালে বাইতুল মোকাদ্দাসের পশ্চিম অংশ এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে এর পূর্ব অংশ দখল করে নেয়।
১৯৮০ সালে ইহুদীবাদীরা একটি বিল পাশের মাধ্যমে বাইতুল মোকাদ্দাসকে অবৈধ ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়, যদিও  তারা তাদের দাবি অনুযায়ী এখনো পারেনি বায়তুল মাকদিসকে তাদের দখলে, কিন্তু তখন থেকেই ইহুদীবাদীরা বাইতুল মোকাদ্দাসের জনসংখ্যার কাঠামোর পাশাপাশি এর অবকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করে।
বাইতুল মোকাদ্দাসে ইহুদীরা জড়ো হতে লাগলে অন্যায় ভাবে সেখান থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসলমানদের বের করে দিতে লাগে,এমনকি তাদের সাথে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায় তাদের বাপ দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়ায়, এসবের নৈপত্য ছিল ইহুদীদের আক্রোশী নির্যাতনের ভয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইহুদীবাদীদের এ কাজের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। বাইতুল মোকাদ্দাসে ইহুদীবাদীদের এ আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং পোপের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়।
ইহুদীবাদী ইসরাইল বাইতুল মোকাদ্দাসের অবকাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সেখানকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের কাজে হাত দেয়। বহু মসজিদ ধ্বংসের পাশাপাশি মসজিদুল আকসারও ক্ষতিসাধন করা হয়। এমনকি খ্রিস্টানদের প্রার্থনার স্থান গীর্যাও ইহুদীবাদীদের ধ্বংসলীলার হাত থেকে রক্ষা পায় নি। ইহুদীবাদীরা বাইতুল মোকাদ্দাসে এসব আগ্রাসী তৎপরতা চালিয়ে ঐ শহরকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়। এছাড়া বাইতুল মোকাদ্দাসকে ইসলামি পরিচিতিকে বিলীন করতে নগ্ন খেলায় উন্মাদ ছিল ইহুদীরা, এইজন্যই ওরা চেয়েছিল প্রথম ক্বেবলা মসজিদুল আকসাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলতে চায়।

গত ৬০ বছরে ইহুদীবাদী ইসরাইল কয়েকবার বাইতুল মোকাদ্দাস ধ্বংসের কাজে হাত দেয়, ১৯৬৯ সালের ২১শে আগস্ট বাইতুল মোকাদ্দাসের চারপাশে একদল উগ্র ইহুদীবাদী  আগুন ধরিয়ে দেয়, মাইকেল রোহান নামে এক উগ্র ইহুদীবাদীর নেতৃত্বে একদল উগ্র লোক সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এবং ইসরাইল সরকারের সবুজ সংকেত নিয়ে মসজিদুল আকসায় আগুন ধরায়, এর ফলে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলার একাংশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ১৯৮২ সালের ১১ই এপ্রিল এল্যান জুদমান নামে এক ইসরাইলী সেনা মসজিদুল আকসায় নামাজরত হাজার হাজার মুসল্লির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালালে তার ব্রাশ ফায়ারে অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনী মুসল্লি শহীদ ও অপর ৬০ জনেরও বেশী মুসলমান আহত হন।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়েছে আল আকসা মসজিদের তলদেশে ইহুদীবাদীদের খনন প্রক্রিয়া। মসজিদটিকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করার লক্ষ্যে ইসরাইল সরকার ঐ খনন কাজ চালাচ্ছে এবং যার ফলে আল আকসা মসজিদের  অস্তিত্ব এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। ওপর দিকে বাইতুল মোকাদ্দাস শহরকে পাপিষ্ঠ ইসরাইলিদের রাজধানী করার যে নগ্ন পায়তারা এটি তারা অব্যাহত রেখেছে, এমনকি ইহুদীবাদী ইসরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনসহ পশ্চিমা সম্প্রতি তেলআবিবে নিযুক্ত বিদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোকে বাইতুল মোকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের থোপের মুখে এমন সিদ্বান্ত বাইতুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করা থেকে বিরত রয়েছে। ওপর দিকে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা বা ওআইসি বাইতুল মোকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কুদস কমিটি গঠন করেছে।  বিশ্ববাসীকে জানান দেয় যে, বাইতুল মোকাদ্দাস মুসলমানদের ভূমি এবং তা বর্তমানে ইহুদীবাদীরা দখল করে রেখেছে। বাইতুল মোকাদ্দাস উদ্ধারের এ তৎপরতার ফলে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।

২০০০ সালে তৎকালীন ইসরাইলী কর্মকর্তা, যিনি পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিললেন , সে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা মসজিদুল আকসায় প্রবেশের ধৃষ্ঠতা দেখায়। ফিলিস্তিনসহ গোটা মুসলিম বিশ্ব শ্যারনের ঐ ধৃষ্ঠতাকে আল আকসা মসজিদের অবমাননা বলে মনে করে যার ফলে তার এমন করুচি সপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি শেষ পর্যন্ত, তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে সদা,বাচাতে আমাদের প্রথম মাসজিদে ক্বিবলা, ইহুদীবাদের করুণ যাঁতাকলে জর্জরিত,মুক্তির জন্য আক্বসার ক্রন্দন, আমি মাসজিদে আক্বসা বলছি। আমার মক্তির জন্য, আর কি কোন সালাহুদ্দীন আয়ুবীর জন্ম হবেনা?

ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নীরবতার নেপথ্য

মুসলমানদের দুই নয়ন পবিত্র মক্কা ও মদীনার দেশ সৌদি আরবের প্রতি মুসলিম উম্মার আশার কোন শেষ নেই, সব বিগ্নতায় মুসলিম বিশ্ব তাদের অবস্থান চায় সোচ্চারের সারিতে, প্রতিবাদী দেখতে হিজায ভূমিকে, বাতিলের হৃদ স্পন্দন কাপবে যাদের হুংকারে, এটিই যৌক্তিকতার দাবিও বটে কেননা ইসলাম ধর্মেরডাক শুরু হয় সেই মক্কা মদিনার আরব থেকে, ওমরের খেলাফত কালে অর্ধজাহান বিজিত হয়েছিল আজকের ঘুমন্ত আরব থেকেই, যার ফলে আরবের প্রতি মুসলিম বিশ্বের আশারস্থল হয়ে থাকে একটু বেশির জায়গাই, পৃথিবীর মুসলমানেরা এখনো চায় আরব ভূমির নেতৃত্তর আদর করতে, কিন্তু বারংবার আশাহত আজ মুসলিম বিশ্ব,গোলামী তাবেদারীতে চিরনিদ্রায় আজকের আরব নিজ দেশে নির্যাতনের যাঁতাকলে পিস্ট হয়ে বিশ্বের মানচিত্র যাপন করছে এক শরণার্থী ভূখণ্ড রূপে, কিন্তু  পরিতাপের, ফিলিস্তিনিদের উপর দখলদার ইসরাইলের জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ কেন মুসলমানদের লালিত ভূমি সৌদি আরব? ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও এ রাষ্ট্র দুটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ মিত্র।
আজ ইসরায়েলের রয়েছে দখলদারিত্ব ও অস্ত্র বাণিজ্যের প্রসারের ষড়যন্ত্র, আর সৌদি আরবের আছে মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া মতবাদ ও রাজনৈতিক ইসলামের প্রসার রুখা এবং নিজের তখত জারি রাখার অভিপ্রায়। বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরাইল বিলুপ্তির হুমকি দাতা ইরানের মুছে ফেলা’র হুমকি দেওয়া “ইরানের” বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর অভিযোগ ইসরায়েল যেমন করছে, তেমনি সৌদি আরবও করছে। ইসরাইল ও সৌদি আরবের মানসিক সন্ধির আরও এক কারণ হল আল-কায়েদা। আল-কায়েদা ইহুদি রাষ্ট্রকে যেমন নির্মূল করতে চায়, তেমনি সৌদি রাজতন্ত্রকেও উৎখাত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল ও মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবের এক হয়ে দাঁড়ানোর পিছনে ভূমিকা রাখছে সিরিয়ার আজকের রাজনৈতিক গোলযোগ।
সাম্প্রতিক মিসরের ঘটনাও দেশ দুয়ের জন্য বিশাক্ত ভয়ের, কেননা রাজনৈতিক পরিসর আজকের গবেষণায় সৌদি পর্যন্ত পৌছলে সৌদি রাজতন্ত্র পড়বে বিলুপ্তির পথে, এই দুই দেশের সম্পর্ক এখন গোপন থেকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্য হতে চলছে। কয়েক মাস আগে লেবাননের আল-মানার টিভি চ্যানেলের ইন্টারনেট সংস্করণে এসেছে, “আরব জাতিগুলোকে মোকাবেলা করা, ইসলামপন্থী ও শিয়াপন্থী আরব দেশের সরকারগুলোকে দুর্বল করা ও সেসব দেশের সরকার বিরোধী গ্রুপকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে তেলআবিব ও রিয়াদ একজোট হয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছেন, সৌদি আরব ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সিরিয়ার সাথে ইসরাইলের গোলান মালভূমি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করবে” ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস এক প্রতিবেদনে তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজান সীমান্তে বৃহৎ গ্যাস ফিল্ড পরিচালনার জন্য ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে ২০১০ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ দৈনিক টাইমস জানিয়েছিল”, ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরব ইসরাইলকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেবে” কয়েক মাস আগে রেডিও তেহরানের ইন্টারনেট সংস্করণে এসেছে, “ইহুদিবাদী ইসরাইল বছর খানিক আগে সৌদি আরবের অর্থ সহায়তায় গোলান মালভূমিতে তাকফিরি ও আসাদ বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেখান থেকে তাদেরকে সিরিয়ায় পাঠাচ্ছে যুদ্ধের জন্য” ২০১৩ সালের অক্টোবরে তেল-আবিবে ইয়ালুনের অফিসে দুজন সৌদি কর্মকর্তা তার সঙ্গে ২ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছেন। নানা ক্ষেত্রে তেল-আবিব ও রিয়াদের সম্পর্ক জোরদার ছিল এই আলোচনার উদ্দেশ্য। উক্ত গোপন গোপন বৈঠকের খবর মধ্যপ্রাচ্যের পত্রিকাগুলোর শীর্ষস্থানীয় শিরোনামে পরিণত হয়েছে।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলি কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব সরকারের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাত করেছেন বলে ইসরাইলের চ্যানেল-টু টেলিভিশন জানিয়েছিল। একই সালে ফিলিস্তিন থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলমানার জানিয়েছিল যে, “ইতালির রাজধানী রোমে সৌদি ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা সিরিয়ার বিদ্রোহী জোটের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন। ওই গোপন বৈঠকে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরিয়ার সরকার বিরোধী যোদ্ধাদের ৭০ শতাংশেরও বেশি সদস্য রিয়াদের আর্থিক ও সামরিক সাহায্য পাচ্ছে এবং এইসব যোদ্ধারা সৌদি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন সুলতানের কমান্ড-কক্ষ থেকে পাওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে”
ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, “সৌদি আরব ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের পুরনো অস্ত্র কেনার এক চুক্তি সই করেছে। ৫ কোটি ডলার মূল্যের এই চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের কাছ থেকে কেনা ওই পুরনো অস্ত্রগুলো সিরিয়ার সরকার বিরোধী যোদ্ধাদের কাছে পাঠানো হয়। দ্য জেরুজালেম পোস্টসহ কয়েটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসেছে, “গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবকাশে ইসরাইলি আইনমন্ত্রী তাজিপি লিউনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাজপুত্র তুর্কি ফয়সাল। তুর্কি ফয়সাল ছিলেন সৌদি আরবের তথ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তরের প্রধান। এ ছাড়া, তিনি লন্ডন ও ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ধারনা করা হয় তাকেই রিয়াদ ও তেলআবিবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দখলদার ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সৌদি সরকারের সম্পর্ক রয়েছে বলে সম্প্রতি উইকিলিকসও এ তথ্য ফাঁস করে, মুসলমানরা যতদিন একই খিলাফতের অধীনে ছিল ততদিন শক্তিশালী ও সুরক্ষিত ছিল। খিলাফত ছিল ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল গঠনে বাধা। ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্রে করে মুসলিম বিশ্বকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত দুর্বল করে। আজ এক মুসলিম দেশের বিপদে আরেক দেশ এগিয়ে আসে না, কিংবা আসতে পারে না। কারণ এক দেশের সমস্যা অন্য দেশের কাছে এটা ‘তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’ যে ঐক্যের ফাটলের কারনে মুসলিম উম্মাহ আজ দুর্দশাগ্রস্থ সেই ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে দালালীর চাদর আবৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে মুসলিম দেশ গুলোকে, বিশেষ করে ইসরাইলিদের ঘনিষ্ঠ মিত্র আজকের সৌদিকে, তবে না হয় মুক্তি মিলবে, মুসলিম বিশ্বের।
পরিশেষঃ ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, মায়ানমার, চেচনিয়া, বসনিয়া,চিংচিয়াং, ভারতসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ আজ ইহুদীবাদের নির্যাতন প্রকস্টে। ফিলিস্তিনি মা বোনদের দেখে আমরা নীরবে শুধু কাদি, ভাইদের দেখে রীতিমত হতাশ হই, বেচে থাকার স্বার্থকতা খুজে পাইনা যখন ক্ষতবিক্ষত তাদের শরীর দেখি। শুধু নীরবতাই আমাদের হাতিয়ার হয় তখন, অস্ত্র হাতে নিতে পারিনা,আমদের উপর জঙ্গী তকমার ভয়ে, দূর্বল ঈমানের বুকে শুধু কাপতে থাকে। ওদের জন্য আমাদের অবস্থান হয়না তেমন প্রকট।
সালাহুদ্দীন আয়্যুবীর একটি কথা “যে মুসলিমের ভিতরে জিহাদের প্রেরণা নেই সেই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মুসলিম “। আমাদের ভিতরেও নেই সেই ওমরি ওয়ালীদি চেতনা,তাই আমরা সুখি, মুসলিম ভাইদের জন্য আমাদের কর্তব্য নিতান্তই থাকে শূন্যর কোটায়। তাদের মুক্তির তরে থাকেনা আমাদের সক্রিয় কোন ভূমিকা। কাশ্মীরি মাসউদ আযহার বলেছিলেন,যে মুহাদ্দিস ফক্বিহ সাহাবারা অনেকেই শহীদ হলেও, আজকের মুহাদ্দিস ফক্বিহদের মুখ থেকে জিহাদ শব্দ পর্যন্ত বের হয়না। আমাদের মুসলিম পাড়ার দূর্যোগ কালে আমাদের মুখে ইহুদীবাদের সন্ত্রাসী জঈি তকমার ভয়ে নিশ্চুপ থাকাতে হয়, কিন্তু ওরা যখন চীনে সাড়ে ৬ কোটি মানুষ হত্যা করল, সোভিয়েত রাশিয়ায় ২ কোটি মানুষ কারা হত্যা করেছে? কম্বোডিয়ায় ২০ লক্ষ মানুষ হত্যার যে মিছিল, উত্তর কোরিয়ায় ২০ লক্ষ মানুষ হত্যার নগ্ন পদচারণা, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ১৭ লক্ষ মানুষ হত্যা কাদের দ্বারা হয়েছিল? যখন ওরা আফগানিস্তানে ১৫ লক্ষ মুসলিম হত্যা নামক নিদন চালালো, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের হত্যা। ভিয়েতনামে ১০ লক্ষ মানুষ হত্যাকাণ্ড। লেটিন আমেরিকার দেশগুলোতে দেড় লক্ষ মানুষের খুন এসব তথ্য কি আমাদের?
(সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বই Black Book of Communism)
যারা আজ মুসলমানদের সন্ত্রাসবাদ তকমা দিতে ব্যতিব্যস্ত তাদের সোভিয়েত রাশিয়ায় লেলিন-স্টেলিনের যুগে চালানো নির্যাতন ও প্রাণহানীর চিত্রটা ভয়ে কেপে উঠে ইতিহাস পাঠকদের মনে,কিভাবে আজ সাধু সাজতে যায় লজ্জা লাগে আমাদের। দেখে নিতে হবে আরো কিছু!
১৯১৮-১৯২২ সালের মাঝামাঝি ‘বিপ্লব’ পরবর্তী সময়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক হত্যা করা হয় কৃষকদের উপর লেলিনের অত্যাচার ও কৃষি ব্যবস্থায় সমাজতান্ত্রিক দর্শন প্রয়োগের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে ১৯২১ সালে ৫০ লক্ষ লোকের মর্মান্তিক  প্রাণহানী। কারাগারগুলোতে১৯১৮-১৯৩০ সালের মাঝামাঝি হাজার হাজার বন্দিকে হত্যা। ‘৩০ দশকের শেষ দিকে সমাজতন্ত্র বিরোধী প্রায় ৬ লক্ষ ৯০ হাজার লোকের গণহত্যা। (১৯৮৮ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কের বাইরে প্রায় ৩০ হাজার লোকের একটি গণকবর আবিষ্কৃত হয়। জায়গাটিতে১৯৩৭-১৯৪১ সালে একটি সোভিয়েত রাজনৈতিক বন্দিশিবির ছিল।)
১৯৩০-১৯৩২ সালের মাঝামাঝি ২০-৩০ লক্ষ তথাকথিত ‘কুলাকদের’ নির্বাসন। ১৯৩২ এবং ১৯৩৩ এর দুর্ভিক্ষে ৪০ লক্ষ ইউক্রেনিয়ানসহ ৬০ লক্ষ লোকের মৃত্যু। ১৯৩৯-১৯৪১ এবং১৯৪৪-১৯৪৫ সালে ২ লক্ষ ইউক্রেনিয়ান, ২ লক্ষ ১০ হাজার পোলিশ এবং বাল্টিক সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ২ লক্ষ লোকের নির্বাসন। ১৯৪৩ সালে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ক্রিমিয়ান মুসলিম তাতারদের নির্বাসন। এদের মধ্যে ১ লক্ষ ৫০ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার তাতার নির্বাসনের প্রথম ২ বছরেই মারা যায়।
১৯৪৪ সালে ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার চেচেন মুসলমানদের নির্বাসন। ১৯৪৪ সালে ৯১ হাজার ইংগুশ মুসলমানদের নির্বাসন। (সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বই Black Book of Communism)
এটি ও আমাদের লিখিত দলীল নয়,তাদের দ্বারা তাদের সন্ত্রাসীর পরিসংখ্যান, আজ যারা একটি কথা বলতে সদা অস্তির হয়ে উঠে খুব সুন্দর করেই মহাবাক্যলাপ প্রস্রব করে বলে যে, “সকল মুসলমান সন্ত্রাসী নয়,কিন্তু সকল সন্ত্রাসী মুসলমান” তারা জবাব দিতে পারবে যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল? যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম? যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, ওদের পরিচয় কি মুসলিম দেয়া যায়? যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণুবোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম?
যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড-ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল? যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল। যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা যায় এবং তাদের মৃতদেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এই নিঃসংশয়তা কারা করেছিল? হিটলার, একজন নন মুসলিম যে ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিলো। মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খ্রিস্টান টেররিস্ট!
জোসেফ স্টাললিন, একজন নন মুসলিম। সে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, ইনক্লুডিং ১৪. ৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মরেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খ্রিস্টান সন্ত্রাসী ।
মাও সে তুং একজন নন মুসলিম। ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে ! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে জঈি। মুসলিনী (ইটালী) ৪০০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে ! সে কি মুসলিম ছিল? অন্ধ মিডিয়া  খ্রিস্টানদের  জঈি বলতে পায় কেন?
“অশোকা” (কালিঙ্গা বেটল) ১০০ হাজার মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খ্রিস্টান টেররিস্ট। জজ বুশ ইরাকে,আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া তো বলে না খ্রিস্টান টেররিস্ট! আর হায়দ্রাবাদের কসাই নাম পরিচিত নরেন্দ মোদি শতাধিক  মুসলিম নিধন করলেও সবাই স্বার্থান্ধ মিডিয়া বলে না হিন্দু টেররিস্ট। সাম্প্রতিক  মায়ানমারে প্রতিদিন মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, উচ্ছেদ করছে! তবুও কোনো স্বার্থান্ধ  মিডিয়া বলে না বৌদ্ধরা টেরোরিস্ট!
তাই আজ যারা মুসলমানদের জঙ্গী বলে পৃথিবীর বুকে কলঙ্কীত করতে চায়, ইসলামের জিহাদকে সন্ত্রাস বলে আখ্যায়ীত করতে চায়,তাদের উদ্দেশ্য মুসলিম জাতিদের কলঙ্ককর করে ইতিহাসের আস্থাকুড়ে নিক্ষেপ করা,তাদের সন্ত্রাসী তকমা কাদে নিয়ে ঘরে নয়,অপবাদের জবাবে অস্তিত্ব সংরক্ষণে প্রয়োজন জেগে উঠার।

লেখক : প্রাবন্ধিক

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

আদর্শ দাম্পত্য জীবনের উপমা

মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ শিক্ষক ও লেখক কিছু দিন আগে আমার এক প্রিয় তালিবে ইলম দেখা করতে ...