সোমবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ৬:৫১
Home / অর্থনীতি / কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ

খতিব তাজুল ইসলাম

ট্রাস্টের প্রয়োজনীয়তাঃ

কওমি অংগন একটি স্বীকৃত ও তৃণমূল প্লাটফর্ম। দেশ ও জাতির কল্যাণে আপামর জনসাধারণের শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদরাসা গুলোর অবদান অসামান্য। কিন্তু আর্থিক ভাবে তাদের ভিত্তি ততটা মজবুত না যতটুকু হওয়ার কথা ছিল। সরকারি সুবিধা যারা ভোগ করছেন তাদের তুলনায় জাতীয় স্বার্থে কওমি মাদরাসা গুলোর ত্যাগ কোন কমেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। কিন্তু তারপরও তারা অবহেলিত ও বঞ্চিত। অর্ধশতাব্দিকাল হাদীস অধ্যাপনার পর জীবনের শেষ সময়টুকু যাদের একটু শান্তিতে কাটানোর কথা থাকলেও ঘটে উল্টোটা। দুর্বল শারিরিক অক্ষমতা ও অসুস্থতা এবং পরিবার পরিচালনায় যখন তিনি কাতরাচ্ছেন তখন তার পাশে কেউ এসে দাঁড়াতে পারছেনা। সামান্য সহযোগিতা কেউ করলেও নিয়মিত ভাবে হয়না। এভাবে একজন আলেমে দীনের কালাতিপাত বিবেকবান কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। সীমিত পরিসরে হলেও এ ব্যাপারে আমাদের ভাবনা করা দরকার। দরকার সমাধানের কিছু পথ বের করা। আর এ থেকেই আজকের অবতারণা কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ।

চলমান বাস্তবতা ও সম্ভাবনাঃ

বয়স আপত বিপদ দুর্ঘটনাসহ নানান সময়ে মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এজন্য সরকারি বেসরকারি ভাবে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে পেনশন ভাতা ইমারজেন্সি স্কিম নামে নানান সহযোগিতা চালু আছে। আমাদের বাংলাদেশে ব্যক্তি উদ্যোগে সামাজিক ভাবে অনেক ট্রাস্ট বা সংস্থা চালু আছে। কিছু অচল কিছু সচল। অধিকাংশ সমিতি বা আর্থিক সংস্থা লুপাটের নিরাপদ আস্তানায় রূপান্তরীত হয়েছে। ফলে এসব সমিতি সংস্থা বা ট্রাস্ট নিয়ে মানুষের মাঝে বিরাট ভিতি কাজ করছে। কিন্তু শত নুকসান কিংবা অসততার মাঝে সততার কাজ তো থেমে যেতে পারেনা। কল্যাণের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালু রাখা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সাহসী ঈমানদারদের কাজ। সিলেটের বালাগঞ্জ থানাধীন বিলেত প্রবাসী সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত এডুকেশনাল ট্রাস্টের পুঁজি এখন ১৫ কোটির কাছাকাছি। একটি শরিয়ত সম্মত ইসলামি ব্যাংকিং দ্বারা পরিচালিত হিসাবে রাখা টাকা গুলো মাস প্রতি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা মুনাফা দেয়। প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশে গিয়ে অত্র এলাকার স্কুল কলেজ গুলোতে বৃত্তি বন্টন করে আসেন। হাজার হাজার শিক্ষর্থীরা লাভমান হচ্ছে। ট্রাস্টি সদস্য ফি হলো ১০০ পাউন্ড বা দশ হাজার টাকা। আজ ২০ বছরের উপরে হলো। দিনের দিন ট্রাস্টের ফান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুল ফান্ডের সাথে মুনাফাও যোগ হচ্ছে। সংবিধান ফান্ডের সংরক্ষণ করছে। পরিচালনা পরিষদ আগাইয়া নিচ্ছে। এই ট্রাস্ট থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। আমরা এমক কিছু বিধান প্রণয়ন করবো। এমন একটি স্ট্রাকচার নির্মাণ করবো। যেখানে থাকবে আমাদের জমা করা পুঁজি নিরাপদ। আর সেটা করবো আমাদের কওমি ফুজালা ও সম্মানিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য।

সম্ভাবনার নতুন দিগন্তঃ

যুগ পাল্টেছে সুবিধা অসুবিধার অনেক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। ডিজিটাল টেকনোলজির সুবিধা অর্জন করে আমরা আমাদের কাংখিত উদ্দেশ্যে পৌছা এখন বেশ সহজ। যোগাযোগ ও ডাটা সংগ্রহ এবং নিরাপদ ফান্ড কালেকশন ও সংরক্ষণ অনলাইন ব্যাংকিং খুলে দিয়েছে আমাদের মাঝে নতুন দিগন্ত। কোন ব্যক্তি নেতা বা দলের কাছে কেশ চেক লেনদেনের কোন প্রয়োজন বা ঝুকি নাই। আপনার টাকা আপনার একাউন্টে জমা রাখার মত সিস্টেম যখন চালু হবে। নিজে নিজের ফান্ড যখন ডিল করার ক্ষমতা আপনি পাবেন তখন আস্থার একটা পরিবেশ তৈরি হবে বলে আমাদের মজবুত বিশ্বাস।

যেভাবে কাজ করবেঃ

কাজ হবে ত্রিমাত্রিক। (ক) অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডাটা গ্রহন ও সংরক্ষণ। (খ) দেশীয় পরিচিত সুরক্ষীত ব্যাংকে হিসাব খুলে ইসলামি শরিয়া মোতাবিক হিসাব পরিচালনা। (গ) সকল সদস্যদের নিয়ে ট্রাস্টি পরিষদ গঠন। এবং ট্রাস্টিদের দ্বারা ট্রাস্ট পরিচালনা পরিষদ গঠন।

এই ত্রিমাত্রিক কাজের সমন্বয়ে চলবে পুরা ট্রাস্টের কাজ। সাংবিধানিক ভাবে ফান্ড সুরক্ষার আইন থাকবে। কোন ভাবেই কোন ট্রাস্টি কোন সদস্যের টাকা উত্তোলন কিংবা ট্রান্সফার অথবা তসরুপের ক্ষমতা পাবেন না। শুধুমাত্র সদস্য বা ট্রাস্টি শর্তমোতাবিক নিজের জমাকৃত ফান্ড উত্তোলন করার ক্ষমতা পাবেন। তবে ফান্ড উত্তোলনের একটা সময় সীমা থাকবে। দুই বছর বা তিন বছর বা পাঁচ বছর। এমনকি প্রয়োজনে বছরের শেষে উত্তোলন করার ক্ষমতা দেয়া যেতে পারে। যাদের ফান্ড জমা থাকবে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ব্যাংক সাধারণত ভাল মুনাফা দেয় মেয়াদ ভিত্তিক ডিপোজিটের জন্য।

যেভাবে পরিচালিত হবেঃ

সকল ট্রাস্টিগণ হবেন সমান ক্ষমতার অধিকারী। এখানে আলাদা ভাবে কেউই ডাইরেক্টর বা বিশেষ ক্ষমতা রাখার অধিকার পাবেন না। সকল ডাইরেক্টর সকল ট্রাস্টি। ট্রাস্টের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ট্রাস্টিদের ভোটের মাধ্যমে ট্রাস্ট পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে। যারা অনলাইন ভোট দিবেন তাদের সে সুবিধা প্রদান করা হবে। উপস্থিত হয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই পরিচালনা পরিষদ গঠন হবে। পরিচালনা পরিষদের ক্ষমতা সাংবিধানিক ভাবে বর্ণিত থাকবে। মনে রাখবেন ট্রাস্টির মুল ফান্ড উত্তোলন কিংবা খরচ কিংবা স্থান্তর করার ক্ষমতা কারো হাতে থাকবেনা। তবে মুনাফা থেকে কত অংশ ট্রাস্টির হিসাবে যাবে এবং কত অংশ ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে তা আগ থেকে সকল ট্রাস্টিকে অবহিত করতে হবে। অথবা সাংবিধানিক ভাবে তা লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। মুল ফান্ড তো নয়ই উপরন্তু মুনাফা প্রতিজন ট্রাস্টি বা সদস্যের আমানত। সেই আমানত ট্রাস্টি নিজে মালিক। তার অনুমিত ব্যতিত অন্য কারো অধিকার নেই খরচ করার। তাই সাংবিধানিক ভাবে সবকিছু পরিস্কার ভাবে বর্ণনা করে রাখা হবে।

ট্রাস্ট পরিচালনার খরচঃ

একটি ভাল কিছু গড়তে হলে কিছু মানুষের শ্রম ও ঘাম ঝরে। তাই শুরু ও দাঁড় করাতে গিয়ে যে খরচ আসবে এবং হবে তা ভলান্টিয়ার হিসাবে আমাদের মাঝে যারা স্বচ্ছল তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সদস্যের জমাকৃত ফান্ডের একটা কানাকড়ি খরচের অনুমিত নেই। একবছর পর যখন ট্রাস্ট দাঁড়িয়ে যাবে তখন শুধুমাত্র মুনাফা থেকে ততটুকু খরচ করবেন যতটুকু সাংবিধানিক ভাবে অনুমতি আছে। যদি তাতে ব্যয় সংকুলান না হয় আমাদের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে অথবা দাতাদের কাছহতে অনুদান নিয়ে সমাধা করতে হবে।

পরিচালনা ফান্ডের আরেকটি উৎসঃ

প্রতি দুই বা তিন বছর পর পর যে ইলেকশন হবে। সেই ইলেকশনে যারা নমিনেশন পেনেল জমা দিবেন তাদের পেনেলের সদস্যগণ নমিনেশন ফী জমা দিবেন। গঠিত হবে ইলেকশক কমিশন সাধারণ ট্রাস্টিদের মধ্য হতে যারা পেনেলে যোগদান করবেন না। সেই নমিনেশন ফি থেকে কিন্তু ভাল একটি এমাউন্ট চলে আসবে। কারা কারা কোন যোগ্যতা থাকলে এবং কতটি পেনেল জমা দিতে পারবেন কতটি পদের জন্য তা সংবিধানে লিপিব্ধ থাকবে। অতএব ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য এই ফান্ডও একটি সম্ভাবনা। তথাপি ট্রাস্টিগনের ভাল পরামর্শ ও প্রপোজাল গ্রহন করা যেতে পারে।

একজন ট্রাস্টি যে ডকুমেন্ট পাবেনঃ

কওমি কল্যাণ ট্রাস্টের ওয়েব সাইটে লগইন হবেন। ফরম পুরণ করে রেজিস্টার হবেন প্রথম। সর্বশেষ পেইজ প্রিন্ট করবেন। পাবেন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। এই ফরম ও নাম্বার সহ ব্যাংকে গিয়ে ফান্ড জমা দেয়ার পর একাউন্ট এক্টিভ হবে। কনফারমেশন ইমেইল পাবেন। মুবাইলে টেক্সট পাবেন। পরিশেষে হেড অফিস থেকে আপনার ফটো সহ সিরিয়াল নাম্বার সহ নাম সহ পুর্ণ তথ্য সম্বলিত কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট কার্ড পাবেন। কার্ড ও রেজিস্ট্রি ফরম ও টাকা জমা দেয়ার রিসিট গুলো হেফাজতে রাখতে হবে প্রতি সদস্যের।

ট্রাস্টিদের ক্ষমতা ও ফান্ড ও সদস্য পদঃ

সকল ট্রাস্টির সমান অধিকার। ভোটের অধিকার । নিজের ফান্ড বা টাকা নিজে উত্তোলন করার অধিকার। পরিচালনা পরিষদে অংশ গ্রহন। ট্রাস্টের গৃহিত সকল সুবিধাগুলো সমান ভাবে ভোগ করার অধিকার রাখবেন। পরিচালনা পরিষদ কিংবা অন্য কারো অধিকার নেই কোন ট্রাস্টির সদস্য পদ বাতিল করার।

যদতিন ট্রাস্টির ফান্ড জমা থাকবে ততদিন সদস্য থাকবেন। এমনকি ফান্ড উত্তোলন করার পরও সদস্য পদ বাতিল হবেনা। যতক্ষণ না নিজে বাতিল করেছেন। তবে কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট দেশ ও শরিয়ত বিরোধী কোন কাজে জড়িত হলে এবং কোর্ট দ্বারা অপরাধী প্রমাণিত হলে সদস্যপদ বাতিল হবে।

আমরা যেভাবে উপকৃত হতে পারিঃ

প্রাথমিক সদস্য যদি এক লাখ সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। আর প্রতিজন সদস্য যদি ১০০০ টাকা করে প্রথম বৎসর জমা রাখেন। তাহলে ১০ কোটি ফান্ড হবে প্রথম বছর। পরের বছর যদি আরো ১ লাখ সদস্য হন তখন ফান্ড হবে ২০ কোটি। আমাদের টার্গেট ৫ লাখ সদস্য গ্রহন। তখন ফান্ড হবে ৫০ কোটি। এই ফান্ড গুলো যখন বছরি মেয়াদে ব্যাংকে জমা থাকবে তখন শুধু মুনাফা আসবে ১০ কোটিতে ১০ লাখ। ২০ কোটিতে ২০ লাখ। ৫০ কোটিতে ৫০ লাখ। উদাহরন স্বরূপ আমরা প্রথম বছরেই ৫ লাখ সদস্য নিতে সক্ষম হলাম। তো পরের বছর শুধু মুনাফা আসবে ৫০ লাখ টাকা। এদিকে ৫ লাখ সদস্যের ২য় বছরের ফান্ড আরো আসলো ৫০ কোটি। মোট কথা ৩টা বছর যদি আমরা অপেক্ষা করি তাহলে ১৫০ কোটি টাকা শুধু মুনাফা আসবে। আমাদের টার্গেট হবে প্রতিটি বিভাগে মুনাফার ফান্ড দিয়ে একটি করে আধুনিক হাসপাতাল ও বিজনেস পার্ক নির্মাণ। কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। আধুনিক অফিস ও শিক্ষা উপকরণে সহায়তা প্রদান। প্রতি সদস্যপ্রতি মাসিক বোনাসের ব্যবস্থা। অথবা কোন প্রকার ইনভেস্ট না করেই সদস্যদের বোনাস ভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহন। তাদের সহায়তা ও সাপোর্টের পরিকল্পনা গ্রহন। তাদের সন্তানদের নিয়মিত বৃত্তি প্রদান। এসব হবে শুধু মুনাফা থেকে। মুল ধনে হাত দেয়ার অধিকার কারো নেই।

চামড়া শিল্পকে সম্ভবানময় করা যেতে পারেঃ

শুধুমাত্র চামড়া শিল্পকে ধরে রাখতে পারলে কওমি মাদরাসা গুলো প্রতিটি চামড়ার মুল্য গড় দুই হাজার টাকা হতে তিন হাজার টাকা লাভ করতে পারে। মনে করুন ফান্ডের মুনাফা থেকে এককোটি টাকা দিয়ে সর্বাধুনিক একটা টেনারি স্থাপন করা হলো। টেনাররির সাথে চামড়া প্রক্রিয়া জাত করণ সুবিধা ও রাখা হলো। সকল কওমি মাদরাসা যদি কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত টেনারিতে সকল চামড়া জমা দিয়ে দেয়। পরে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর টাকা নেয় তখন অনেক চড়া দাম পাবে। বিদেশিরা লাইন বেধে চামড়ার অর্ডার দিয়ে রাখবে। এমনিক দেশি কোম্পানি গুলো পাগল হয়ে যাবে চামড়া কেনার জন্য। তখন এক কোটি টাকা মুল্যের টেনারি দাড়াবে দু কোটি টাকায়। এভাবে মুনাফা গিয়ে ডবল হওয়ার সম্ভানা আছে। কারণ চামড়ার সাপ্লাই আমাদের কাছে। তাই ভাবনার কিছু নাই। ঠিক তদ্রুপ রিসক কম এমন খাতে মুনাফর টাকা লগ্নি করা যেতে পারে। অথাব না করেই আমার লাভমান হতে পারবো।

সামর্থ ও শক্তি সঞ্চিত হবে যেভাবেঃ

কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট যদি আমরা গঠন করে চালু করে নিতে সক্ষম হই তখন আমাদের অংগনে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে তেমনি বিরাট একটি শক্তিমত্তা তৈরি হবে কওমি উলামাদের।  সরকার উলামাদের ন্যায্য দাবী কখনো উপেক্ষা করবেনা। আর্ত সামাজিক কাজে কওমি উলামাদের বলিষ্ট ভুমিকা থাকবে। এই ট্রাস্ট একদিন দেশের নীতি নির্ধারণী ভুমিকা পালনে সক্ষম হবে। আজ ব্রাক গ্রামীন ব্যাংক যেভাবে শক্তি ও জনসমর্থন লাভে সক্ষম হয়েছে তদ্রুপ কওমি ট্রাস্ট সে পর্যায়ে উন্নিত হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমরা নিজেদের মতকরে নিজস্ব মেডিকেল কলেজ নিজস্ব মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব আরবি বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে সক্ষম হবো। আজ পর্দা ও হিজাব নিয়ে যেখানে আমরা শংকিত সেখানে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মদের আমরা হেফাজত ও সুরক্ষা দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

কাজটা খুব কঠিন নয় যদি ঠিকমত করা যায়ঃ

যে কোন কাজ শুরুতে কঠিন ও দুরুহ মনে হলেও চালু হয়ে গেলে এবং সুচারু রূপে পরিচালিত করলে তা সহজ হয়ে যায়। আমাদের প্রথম লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো সকল সদস্যের ফান্ডের সুরক্ষা। ২য় কাজ হবে ট্রাস্টের মজবুত কাঠামো তৈরি করে তা সুষ্টু রূপে পরিচালনা করার জন্য প্লান তৈরি ও আগাইয়া নেয়া। ৩য় কাজ হলো সদস্যদের উপকৃত করা বা তাদের কাছে উপকার পৌছানো। দেখাযায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্ষক হয় ভক্ষক। এই দরজা চিরতরে বন্ধ করার জন্য যত আইন যত পথ আছে সবই আমরা অনুসরণ করবো। যাতে কোন কালে কোন সময়ই যেন কেউ সদস্যদের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে বা তাদের বঞ্চিত না করে। লেনদেন হবে র্ব্যাংকের মাধ্যমে। ট্রাস্ট পরিচালনা কিংবা অফিস খরচের নামে বা ইনভেস্টের নামে ফান্ড উঠানোর সকল পথ রুদ্ধ করা হবে। তবে সদস্যদের অনুমতি সাপেক্ষ রেজুলেশনের মাধ্যমে দুই তৃতিয়াংশের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেলে একটা নির্দ্রিষ্ট পরিমাণ মুনাফা ফান্ড নিরাপদ ইনভেস্টের জন্য তুলতে পারবেন। ফতোয়া বোর্ডের অনুমতি যেমন লাগবে তেমনি ট্রাস্টিদের মধ্যহতে অধিকার সংরক্ষণ নামে একটা উপদেষ্টা কমিটি থাকবে তাদের অনুমতিও লাগবে। মোট কথা ট্রাস্টিদের নিজের টাকা নিজের হাতে রাখার ক্ষমতা রেখে একটা ট্রাাস্ট আমার গঠন করতে চাই যাতে কেউ নিজেকে অসহায় বোধ না করে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

তাজুল ইসলাম ।

লন্ডন ৩রা এপ্রিল ২০২০ ঈসায়ী। ১০ শাবান ১৪৪১ হিজরি।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে?

শাইখ মিজানুর রাহমান আজহারী: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা ...