শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ দুপুর ১২:২৭
Home / অনুসন্ধান / কে সেই আনাস মাদানি? কি তার পরিচয়?

কে সেই আনাস মাদানি? কি তার পরিচয়?

কমাশিসা ডেস্ক: ১৬ সেপ্টেম্বের ২০২০ইং ঘটনার সুত্রপাত। বাংলাদেশের প্রাচিনতম ও বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটাজারি চট্টগ্রামে দানা বাঁধে ছাত্র আন্দোলন। মাত্র কয়েক ঘন্টার আন্দোলনে তছনছ হয়ে যায় সকল তাসের ঘর। বালির বাঁধের মত ভেঙ্গে পড়ে আনাস মাদানির কুকরমের রাজপ্রাসাদ। মজলিশে শুরা আগামি শনিবার ছাত্রদের বাকি দাবিগুলো পুরণ করবে এই মর্মে অঙ্গিকার নামা দিয়ে শুধু আনাস মাদানির স্থায়ি বহিষ্কারাদেশ বাস্তবায়ন করে সকলেই চলে যান যারতার পথে।

কিভাবে কি হয়েছিলো ইনসাফ ডটকমের নিউজটি তাহলে দেখুন:

আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবির মুখে আল্লামা শফির পুত্র ও দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সহকারি শিক্ষাপরিচালক মাওলানা আনাস মাদানিকে মাদরাসা থেকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সারে নয়টার দিকে হাটহাজারী মাদরাসার শূরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়জি এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এক বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারীর শিক্ষক মাওলানা শেখ আহমদ, শূরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়জি, শূরা সদস্য মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা ওমর ফারুক প্রমুখ। মাওলানা আনাস মাদানীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও ছাত্রদের ওপর কোন ধরণের হয়রানি করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বাকি তিনটি দাবী হাটহাজারী মাদরাসার শূরার বৈঠকের পর মেনে নেওয়া হবে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ওটা ছিল নাটকের শুরুমাত্র। আনাস সাহেব ঢাকা থেকে গুটি চালাতে আরম্ভ করেন। যোগাযোগ শুরু করেন সরকারের বিভিন্ন উচ্চ মহলে। যাদের তিনি এতোদিন রুস্ট বিরিয়ানি খাইয়ে খুশি রাখতেন। সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলি স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ উদ্ধারে তিনি সক্ষম হোন। যাতে কিছু কারণ দেখিয়ে হাটাজারি মাদ্রাসা পরবর্তি ঘোষনার আগপর্যন্ত বন্ধের বিবৃতি দেয়া হলো। সাথে সাথে পরদিন সকাল থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে। ছাত্ররা বললো কওমি মাদ্রাসা বন্ধ হবে কিনা সেটা সরকার দিবার কে? মজলিশে শুরা যদি সেই ঘোষণা দেয় তাহলে আমরা বাড়ি চলে যাবো। মাইকে থেমে থেমে চলছে তাকবিরের আওয়াজ। ১৬ তারিখ চ্যাঙ্গ ধুলাই খায় রুহি চামচা। তাকে আচ্ছা করে পেটায় ছাত্ররা। এমনকি শাহ আহমদ শফি হুজুর তিনির মতও নাকি পাল্টান। বলতে থাকেন যে, আমার আনাসের কি দোষ? একটা দোষ আমাকে এনে দেখাও! অনেকের আশংকা ছিলো যে হজরতের মত পাল্টে যাবার সমূহ সম্ভাবনা বিরাজমান ছিল। কারণ তাকে যারা ঘিরে রেখেছে তারা সর্বক্ষণ কানমন্ত্র দিতো বাস্তবতার বিপরীত।

আন্দোলনকারী ছাত্ররা জরুরি ভিত্তিতে মজলিশে শুরা আহব্বানের জন্য কর্তৃপক্ষকে চাপ দেয়। এলোপাতাড়ি কিছুটা ভাংচুরও করেছে উত্তেজিত ছাত্ররা। তখন পরিস্থিতি প্রচন্ড খারাপের দিকে যেতে থাকে। কারণ আনাস চাচ্ছে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় কেম্পাসে ঢুকতে। এমতাবস্থায় মজলিশে শুরার বৈঠক আবার বসে।  বৈঠকে তখন শাইখুল হাদিস ও মহাপরিচালক হজরত শাহ আহমদ শফি সাহেব নিজে পদত্যাগ করেন। এবং আনাসের বহিষ্কারাদেশ বহাল রাখেন। মজলিশে শুরু নিজ হাতে রাখে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষমতা। এবং হজরতকে তারা সদরে মুহতামিম হিসাবে সম্মান প্রদান করেন।

১৭ তারিখ সন্ধ্যার সময় শাহ আহমদ শফি হজরতের শ্বাস কষ্ট বৃদ্ধি পেলে তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরো খারাপ হলেপর এয়ার এম্বুলেন্সে নেয়া হয় ঢাকায়। পরদিন ১৮ তারিখ শুক্রবার সন্ধ্যার সময় তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ইন্তেকাল করেন।

কে সেই আনাস?

আনাস মাদানি খুব বড় মাপের কোন আলেম না। হজরতের সাহেবজাদা হিসাবে গুরুত্ব তার। প্রায় ৪০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তারা বাবা। কালক্রমে বাবার কর্তৃত্বের প্রভাব নিয়ে তিনি হয়ে উঠেন যেন এক মাফিয়া ডন। ব্যাপক ভাবে উত্থান হয়ে হেফাজতের পর থেকে। হেফাজতের গণজোয়ার তার জন্য ছিল আর্শিবাদ। দেশ বিদেশের কোটি কোটি টাকা হাতে পেয়ে হয়ে যান বেসামাল। শাপলা চত্বরের ঘটনার খলনায়কও ছিলেন তিনি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো শাপলায় ঘাপলা করে সকলকে গুলির মুখে রেখে তিনি তার পিতাকে নিয়ে নিরাপদে চলে যান চট্টলায় ফিরে। সেখানে ঘটনার পর ভিকটিমদের অনেকে দেখা করতে চাইলে তাদের সাথে করাহয় দুর্বব্যবহার। এমনকি তাদের তিরস্কার করা হয়েছিল যে কেন তারা শাপলায় গেল? সরকারের সাথে আপষ করে এবং হেফাজতকে নিষ্ক্রীয় করে আনাস হয়ে যান সরকারে প্রিয়ভাজন। অপরদিকে একই মাদ্রাসার শিক্ষক, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরি পচেঁন কারাগারে। তার পক্ষে নুন্যতম সহমর্মিতা দেখানো হয়নি। হেফাজত তখন বাহ্যত দু-টুকরো। এক টুকরো আনাস মাদানির হাতে আর অপর টুকরো জুনাইদ বাবু নগরির হাতে। এই হেফাজত থেকেই কিন্তু তাদের মাঝে তৈরিহয় বৈরিতা। ধীরে ধীরে তা আরো খারাপ হতে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাবুনগরিকে ভালবাসে। অপরদিকে আনাস বাবুনগরিকে কুন্ঠাসা করে রাখতে সচেষ্ট। তাকে জামাতের এজেন্ট সহ নানা অভিধায় দিয়ে সে কলংকিত করে। হাটাজারি মাদ্রাসায় বাবু নগরির পক্ষে যত ছাত্র শিক্ষক আছেন তাদের সকলকে অপমাণ করে বের করে দিচ্ছিল সে। বেফাক হাইয়ায় আযাচিত হস্তক্ষেপ । বেফাকের মহাসচিব এবং হাইয়ার কু চেয়ারম্যান হলেন মাওলানা আবদুল কুদ্দুস সাহেব। দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে তিনিও এখন আছেন লাইনে। উনারা হলেন আনাস সিন্ডিকেট কোম্পানির ডাইরেক্টর। হাটাজারি মাদ্রসায় ছিল আনাসের বালাখানা সম আস্তানা যা ছাত্ররা গুড়িয়ে দিয়েছে। বেফাকের লুটপাটে সমান তালে তারা অংশগ্রহন করছে।

আনাস যে তাসের ঘর নির্মাণ করেছিল আজ তা সামাান্য বাতাসেই উড়ে যায়। আসলে সচেতনরা জাগলে এভাবেই দুর্নীতিবাজরা পলায়ন করে। সময় থাকতে নুরুল আমিন ও আবদুল কুদ্দুস সাহেবদের বলছি পদত্যাগ করুন। অন্যতায় আপনাদের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন জেগে উঠবে। শাহ আহমদ শফি রাহ. ছিলেন  একজন মুখলিস ঈমানদার রাহবর। কিন্তু তার বয়স ও অসুস্থতার সুযোগে তাকে সামনে রেখে অনেক শয়তানি কাজ এতোদিন করা হয়েছে। এখন আর সহ্য করা হবেনা। আমরা হজরতের দারাজাত বুলন্দির দোয়ার সাথে দুর্নীতিবাজদের কড়া হুশিয়ারি জানাতে চাই যে, সোজা হয়ে যান।

হাটাজারির ১৯ তারিখের সিদ্ধান্ত সমূহ:

দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারীর শুরা সদস্যদের সিদ্ধান্ত।
মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব নাযিমে তালিমাত এবং প্রধান শায়খুল হাদীস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিন সদস্য বিশিষ্ট গ্রুপ মাদরাসার সকল কাজের তত্ত্বাবধান করবেন।
১) মুফতী আবদুস সালাম সাহেব দাঃবাঃ
২) মাওলানা শেখ আহমদ সাহেব দাঃবাঃ
৩) মাওলানা ইয়াহহিয়া সাহেব দাঃবাঃ।
সুত্র: অনলাইন মিডিয়া

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

কওমীর নিউ ভার্সন এবং রাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন!

সৈয়দ শামছুল হুদা: বাংলাদেশের একটি আলোচিত অন্যতম রাজনৈতিক দলের নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সরকারে থাকা ...