বুধবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ৯:০০
Home / অনুসন্ধান / সমকামিতা একটি জাতীয় অভিশাপ!

সমকামিতা একটি জাতীয় অভিশাপ!

আবুল হুসাইন আলেগাজী:

কওমে লূতের কাজের স্বাস্থ্য/জীবন বিনাশী দিক

ব্যাপারটা বুঝা একেবারে সহজ৷ একটি স্বভাবিক #পরিচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে আপনি একটি গাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন৷ আরেকজন একটি অস্বাভাবিক #নোংরা পথ দিয়ে গাড়ি টানছে৷ কমন সেন্স বা সাধারণ বুদ্ধি যার আছে, সে উভয় রাস্তার লাভ-ক্ষতি স্বাভাবিক ভাবেই বুঝতে পারবে৷ অস্বাভিক নোংরা পথে যে গাড়ি টানবে, সে নিশ্চয় অস্বাভাবিক #ক্লান্তি ও #জীবাণুবাহিত রোগের মুখোমুখি হবে৷ তবে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা ও দায়বদ্ধতার অভাবে যাদের স্বাভাবিক #বোধশক্তি লোপ পেয়েছে, তারা বিষয়টা কখনো উপলব্ধি করবে না এবং নোংরা পথ ছেড়ে স্বাভাবিক পরিচ্ছন্ন পথে #গাড়ি টানতে পারবে না৷
সত্য হলো, পায়ুকামিতা বা সমকামিতার বিষয়টা পুরোপুরি মাদক ও ধুমপানের (ধুয়া খাওয়া) মত৷ মাদকাসক্ত ও ধুমপায়ীরা যেমন মাদক ও ধুয়াকে ‘বিষপান’ তথা #ক্ষতিকর বলে জানা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকতে পারে না, তেমনি সমকামী ও চোরসহ অন্যান্য অপরাধীরাও৷ অবশ্য জাহান্নামের পাথেয় মাদক, #জেনা ও সমকামিতার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কও রয়েছে৷ আর সমকামীরা মলদ্বারাসক্তির বিষয়টাকে #স্বাভাবিক ও তাদের ব্যক্তিগত #স্বাধীনতা বলে যতই লাফালাফি করুক না কেন, সত্য হলো, তারা মাদকাসক্তদের মত সবসময় একটি অজানা #আতঙ্কেভূগে থাকে৷ কারণ, #চোর#ডাকাত ও #সন্ত্রাসীদের ন্যায় তারাও যে কোনো দেশ ও সমাজে #সংখ্যালঘু৷ এমনকি যেসব দেশে সমকামিতার মত নোংরা পথকে #মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত বলে আখ্যা দিয়ে হালাল/বৈধ করে দেয়া হয়েছে, সেসব দেশেও৷ আর যে কোনো আতঙ্ক মানুষকে ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে দুর্বল করে ফেলে৷ আর মানবদেহের সুস্থতা অনেকটা নির্ভর করে মানসিক অবস্থার উপর৷ যারা মানসিক ভাবে দুর্বল; তাদের #দেহে নানা ধরণের রোগ বাসা বাঁধে৷

এবার আসুন, সমকামিতার স্বাস্থ্যবিনাশী দিক নিয়ে কিছু তথ্য জানি৷
ইন্টারনেশনাল জার্নাল ও এপিডিওলজিতে প্রকাশিত ১৯৮৭ এর শেষ দিকে এবং ১৯৯২ এর প্রথম দিকে এক জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে সমকামী ও উভকামীরা অস্বাস্থ্যকর জীবণযাপন করে এবং তাদের গড় আয়ু স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
ইস্টার্ণ #সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত “Federal distortion of the homosexual footprint” এ ড: পল ক্যামেরুন দেখিয়েছেন, পুরুষ ও মেয়ের বিবাহসম্পর্ক যেখানে আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয়, সেখানে সমকামিদের ক্ষেত্রে আয়ুষ্কাল ২৪ বছর কম। পল ক্যামেরুন ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল, কানাডিয়ান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন জার্নাল, পোস্টগ্রাজুয়েট মেডিক্যাল জার্নাল এর সম্পাদনা করে থাকেন। তার নিজের ৪০ টার মত আর্টিকেল আছে সমকামিতার উপর। ১৯৯০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ডেনমাকর্কে স্বাভাবিক যৌনাচারীর গড় আয়ু যেখানে পাওয়া গেছে ৭৪, সেখানে ৫৬১ গে পার্টনার এর গড় আয়ু পাওয়া যায় ৫১! সমকামী মহিলাদের ক্ষেত্রেও এই গড় আয়ুর হার কম৷ আনুমানিক ২০ বছর কম!
স্বাভাবিক যৌনাচারের চেয়ে সমকামীদের #অবসাদ ও ড্রাগে আসক্তির সম্ভবনা প্রায় ৫০গুন বেশী। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামীদের মধ্যে আত্নহত্যার প্রবণতা ২০০ গুণ বেশী। সমকামী পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা আরো বেশী। তাদের নিজেদের ক্ষতি করার প্রবণতাও থাকে বেশী।
সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন এর মতে সমকামীদের মধ্যে #এইডসনামক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশী। ২০০৬ সালে এক জরিপে দেখা গেছে ৫৬০০০ নতুন এইচ আই ভি আক্রান্তের মধ্যে ৫৩% গে বা সমকামী। তাছাড়া সমকামীদের মধ্যে যারা এইডসে আক্রান্ত, তাদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যন্য এইডস আক্রান্তদের থেকে ১৩গুন বেশী।
সমকামিতা #সিফিলিসের মত রোগ ছড়াতেও ব্যাপকভাবে দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ২০০৮ সালে সিফিলিস ৪০ ভাগ বেড়ে যাবার কারণ উদঘাটনে সমকামিতার সম্পর্ক পাওয়া যায়। ২০০৮ সালে মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এ ১৫৯ টি সিফিলিসের ঘটনা পাওয়া যায়৷ এর মধ্যে ১৫৪টিই ঘটে পুরুষের মধ্যে আর এর মধ্যে ১৩৪ জনই সমকামী বলে স্বীকার করে।
কিছু কিছু রোগ আবার ‘গে রোগ’ নামের খ্যাতি ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে৷ এরকম একটি হল ‘স্টাপ স্টেইন’৷
সমকামিতা যৌনবাহিত আরো অনেক রোগের প্রসার ঘটানোর জন্য দায়ী। কারণটা উদ্ঘাটনে দেখা গেছে, ২৪ ভাগ গে’র গড়ে পার্টনারের সখ্যা ১০০, ৪৩ ভাগ গে’এর পার্টনার ৫০০’রও বেশী, ২৮ ভাগ গে’এর পার্টনার ১০০০ এরও বেশী।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে সমকামীদের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নামের দাজ্জালী সংস্থাটি রেজুলেশন পাশ করে৷ এরপর গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, ফেসবুক ও অ্যামাজনের মত অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান গেয়িজমকে সাপোর্ট করতে শুরু করে। পৃথিবীর কথিত মানবাধিকার ও সেক্যুলার রাষ্ট্রগুলোর প্রায় সবাই জাতিসংঘের এ প্রস্তাবে একমত হলেও মুসলিম দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে৷ সমকামিতার জন্য মৃত্যুদন্ড দেয়া মুসলিম দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, ইরান, সুদান, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়া। অপরদিকে বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশ মৃত্যুদন্ড না দিলেও তাদের আইনে সমকামিতায় লিপ্ত হলে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড পর্যন্ত দিতে পারে৷
আমাদের উচিত, পূজিবাদের পাগলা ঘোড়ার রক্ষক #কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে যখনই গেয়িজমের মত কোনো নোংরামিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবে, তখনই তাদেরকে বয়কটের ডাক দেওয়া৷
মহান রব আমাদেরকে জিন ও মানব শয়তানদের সকল ষড়যন্ত্র ও অনিষ্টতা থেকে সুরক্ষিত রাখুন৷
আবুল হুসাইন আলেগাজী
সদর লোহগাড়া, চট্টগ্রাম৷

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

বিলেতের চ্যারিটিতে দেওবন্দীরা খন্ড খন্ড জামাতিরা ঐক্যবদ্ধ!

কমাশিসা ইউরো চ্যারিটি নিউজ: বৃটেন সহ গোটা ইউরোপে জামাতি ঘরানার চ্যারিটি ও ইন্সটিটিউট গুলো খুবই ...