রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:২৬
Home / কমাশিসা স্কলার / ‘শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সবাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ভাইয়ের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করেন’

‘শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সবাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ভাইয়ের জন্য প্রাণখুলে দোয়া করেন’

:: নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আলেম- উলামার মূল্যায়ন জানা সবার জন্যই জরুরি। এই ভাবনা থেকেই মূলত নেয়া হয়েছে সাক্ষাতকারটি । ঢাকা- ১২ আসন ও সংসদীয়- ১৮৫আসনের টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আলহাজ্জ আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি সম্পর্কে জানতে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম ঐ এলাকার প্রসিদ্ধ আলেম, গবেষক ও শাইখুল হাদিস আল্লামা ড. মুশতাক আহমদ সাহেবের। বিষয়টি সানন্দে গ্রহণ করে খোলামেলা অনেক কথাই প্রাণখুলে বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য এর চুম্বকাংশ পয়েন্ট আকারে তুলে ধরেছেন তরুণ সাংবাদিক- আমিন মুনশি

কমাশিসা:  মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি তেজগাঁও থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আপনি সেই এলাকার ভোটার। একজন ভোটার হিসেবে এই জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ ও অভিমত জানতে চাই…

ড. মুশতাক আহমদ: সুন্দর প্রশ্ন করেছেন তাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ আসাদুজ্জামান কামাল এমপি-কে আমি চিনি আজ ২০বছর যাবত। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে তাঁকে খুব নিকট থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার বহুবার। আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয় জড়িত নই। আমি আসলে মসজিদ মাদরাসার লোক। যিকির আযকার, তালীম-তাদরীস আমার পেশা ও কর্মক্ষেত্র। তারপরেও আমার এ অঙ্গন থেকে আমি তাঁকে গভীরভাবে দেখতে চেষ্টা করেছি। তাতে আমি তাঁকে যে রকম পেয়েছি সেটা হল:

১. আমাদের এমপি কামাল ভাই একজন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, অমায়িক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ত্ব। আমার নিজের কর্মব্যস্ততার দরুণ যদিও আমি তাঁর কাছে খুব বেশী যাতায়াত করার সুযোগ করতে পারিনা; তবে যখনই তার কাছে গিয়েছি তখনই দেখেছি তিনি খুব অন্তরঙ্গ। নিজস্ব বহু ব্যস্ততার ফাঁকে আমাদেরকে কথা বলার সুযোগ দেন। খুব প্রফুল্লতা ও গভীর আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের কথাগুলো শোনেন এবং বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আমি খুব লক্ষ করেছি- তাঁর প্রচণ্ড কর্মব্যস্ততা, বিশ্রামের সুযোগ নেই;  ক্লান্তির ছাপ চেহারায় স্পষ্ট। এতদসত্ত্বেও নিরলস এই কর্মবীর নিজে বিশ্রাম নিচ্ছেন না। গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখ, অভিযোগ-অনুযোগ শ্রবণ করছেন। তড়িৎ সমাধান দিচ্ছেন। জটিল জটিল সমস্যা স্মিত হাসি দিয়ে নিমিষে সমাধান করছেন আর আগন্তুকদের চেহারায় নির্মল আনন্দ বিতরণ করে চলছেন।

২. কামাল ভাইয়ের সাথে আমার উঠাবসা আল্লাহর শোকর আজ অনেক দিনের। শুধু আমারই নয়; বহু আলেম-উলামার সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক। আলেমদের সঙ্গে তার মনে আছে গভীর সখ্যতা। এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগেও আমি তাকে দেখেছি; ছোট-বড় কাছের কিংবা দূরের কত আলিম তাঁর অফিসে আসেন। সকলের সাথে তার পরম হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ। সকলেই তাঁকে জানে- তিনি একজন আলেমপ্রিয় ভদ্রলোক। মুচকি হাসি, চেহারার প্রফুল্লতা ও মনের বিশালত্ব নিয়ে তিনি কথা বলেন। আর সকলকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পরশে মনের অতি গভীরে নিয়ে যান। তারপর একসময় তিনি এমপি নির্বাচিত হলেন। তখন স্থানীয় আলেমদের সাথে তার সখ্যতা আরো বৃদ্ধি পায়। তারপর মন্ত্রী হলেন, তখন সেই সম্পর্ক ও সম্প্রীতির গতিশীলতা আরো বিশালায়তনে বেড়ে যায়। এখানে একটা সুন্দর বিষয় আছে দেখার মত, সেটা হল; আমি নিজে অনেক সময় ভাবতাম যে, আলেমদের মধ্যে কামাল ভাইয়ের সাথে সখ্যতাটা সবচেয়ে বেশি সম্ভবত আমার। কিন্তু আসলে জিনিসটা এমন নয়। বাস্তব হলো- কামাল ভাইয়ের বিশেষ গুণের কারণে তাকে সবাই নিজের অতি কাছের বন্ধু মনে করে। আমি মনে করি, যে কোন মানুষের মধ্যে এই গুণ সেই মানুষের এক বিরাট চারিত্রিক যোগ্যতা। এই গুণ এই যোগ্যতা যে কোন সমাজকে সুন্দর বানিয়ে দেয়।

৩. আমাদের তেজগাঁয়ে আল্লাহর ফজলে অনেক মসজিদ আছে। ছোট-বড় অনেক মাদরাসাও আছে। সরকারী মাদরাসা, কওমি মাদরাসা সবই আছে। আমি কামাল ভাইকে দেখছি- তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আজও প্রতিটি মসজিদ মাদরাসার খোঁজখবর নেন। নিজ থেকেই খবর নেন। নিজ উদ্যোগে কখনো কখনো গিয়ে হাজির হন। মুসুল্লিদের যাতায়াতে কোন কষ্ট হয় কিনা, মসজিদ মাদরাসার পানি গ্যাস বিদ্যুত বিষয়ক কোন সমস্যা আছে কিনা, নির্মাণ বিষয়ক কোন অভাব-অনটন কিংবা জটিলতা আছে কিনা এগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন। সমাধানের ব্যবস্থা করেন। সামাজিক ও ধর্মীয় এ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মানুষ আরো কত বেশি উপকার লাভ করতে পারে- তিনি এ বিষয়গুলো খুব ভাবেন। আমি তো শুধু তেজগাঁয়ে থাকি, তেজগাঁয়ের খবরই জানি। বাইরে হয়তো তাঁর কর্মপরিধি আরো বিস্তৃত। তবে তেজগাঁয়ে এমন কোন মসজিদ কিংবা মাদরাসা বোধ করি অবশিষ্ট নেই- যেখানে তাঁর পদচারনা ঘটেনি। যেখানে তার অসামান্য অবদানের ছোঁয়া লাগেনি। অনেক মসজিদ কিংবা মাদরাসার তিনি স্বয়ং সভাপতি। কয়েকটি মসজিদের ক্ষেত্রে তিনি বিশাল বিশাল পরিসরে দৃষ্টিনন্দন ইমারত নির্মাণের কাজও নিজ তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহ তাঁর এই অবদান অব্যাহত রাখুন, আমি এই দোয়া করি।

৪. এলাকার পানি, বিদ্যুত, গ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ইত্যকার বিষয় নিয়ে লোকজন তাঁর কাছে ছুটে যায়। একাধিকবার সেসব প্রতিনিধি দলে আমারও থাকার সুযোগ হয়েছিল। তখন আমি দেখেছি, তিনি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য পাম্পের ব্যবস্থা, ভূমির ব্যবস্থা, যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ার ব্যবস্থা খুব সুন্দরভাবে তদারকি করছেন। তেজগাঁয়ের সামাজিক এ সব সমস্যাগুলি যেন তাঁর কাছে ছকে সাজানো বিষয়। দেখলাম তিনি মুখস্থভাবে নিজ থেকে প্রত্যেকটি বিষয়ের বিস্তারিত অগ্রগতি বলে যাচ্ছেন। মহল্লাবাসীকে কি করতে হবে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কি করবেন, সংশ্লিষ্ট অফিস কি করবে- সর্বোপরি তিনি নিজে কি করবেন সব ঠিক করে দিচ্ছেন। আমি তাঁর এই কর্মচৈতন্য খুব গভীরভাবে লক্ষ করলাম আর মনে মনে দুআ করতে থাকলাম যে, আসলে আমাদের দেশের সকল নেতৃবৃন্দ এরূপ নিরলস কাজ চালিয়ে গেলে আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ কত দ্রুত অগ্রসর হয়ে যাবে; আল্লাহু আকবার!

৫. এই কওমি মাদরাসার সনদ বিষয়ে আমার মনে হয় কামাল ভাইয়ের একটা বিরাট অবদান আছে। কওমী মাদ্রাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি অর্জন – এটা এ দেশের আলেম উলামার দাবী। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, এটা কোন অজানা কারনে বার বার বাঁধাগ্রস্থ হয়। বিধিবদ্ধতার নিয়মতান্ত্রিক রুটে আসতে পারে না। আসলে কেন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে সেই বিষয়ে আমার বিস্তারিত অবগতি নেই। কিন্তু আমি দেখলাম, কামাল ভাই বিষয়টি তাঁর মাথায় নিলেন। খুব দক্ষতা, পারদর্শিতা ও পারঙ্গমতার সাথে তিনি এই সনদের স্বীকৃতি বিষয়কে ক্রমে ক্রমে অগ্রসর করতে থাকলেন। আলেমদের সাথে বসলেন! তারা কী চান? কীভাবে চান? সবকিছু বুঝে নিয়ে স্বীকৃতিটা আলেম সমাজের আকাঙ্খা মোতাবেক সরকার থেকে মানিয়ে আনার কাজে চেষ্টা করতে থাকলেন। তিনি খুব খেয়াল রেখেছেন, সংখ্যাগরিষ্ট আলেম যেন সন্তুষ্ট হন; শীর্ষস্থানীয় আলেমগণের সবাই যেন অভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারেন- সেই প্রচেষ্টা তিনি করেছেন। আল্লাহর শোকর এখানেও আল্লাহ পাক তাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। তাই বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সবাই তাঁর প্রতি অত্যন্ত খুশি; এবং তাঁর জন্য প্রাণখুলে দোয়া করেন।

৬. এভাবে টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমার সময়ে হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেবকে কেন্দ্র করে একটা জটিলতা সৃষ্টির আশংকা দেখা দিয়েছিল। কামাল ভাই সেখানে খুব সাবধানতার সাথে বিষয়টি এমনভাবে সমাধান করে দিলেন যে, আলহামদুলিল্লাহ! বিশ্ব ইজতেমা সুচারুরূপে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। তারপর সারাদেশে যথানিয়মে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ অব্যাহত আছে। কিন্তু কোন হাঙ্গামা এ মহৎ কাজকে থামিয়ে দিতে পারেনি। এটাও কামাল ভাইয়ের উপর আল্লাহ পাকের অপরিসীম মেহেরবাণী যে, আল্লাহ তাঁকে এক্ষেত্রে কামিয়ামী দান করেছেন।

৭. একটি কথা আমি অকপটে বলতে চাই যে, দোষ গুণ সকলের আছে। দোষে গুণেই মানুষ। নবীগণ ছাড়া কেউ নিজকে নিষ্পাপ দাবি করতে পারে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে যে কোন মানুষের গুণকে দেখতে বেশী পছন্দ করি। গুণ খুঁজে বেড়াই। গুণের কদর করি। গুণচর্চাকে উৎসাহিত করি। সকলের মুখে সকলের গুণচর্চার প্র্যাকটিস ছড়িয়ে দিতে ভালোবাসি। আমার বিশ্বাস- কারো গুণের স্বীকৃতি দান করা,  গুণচর্চা করা, পরষ্পর গুণের প্রতিযোগিতায় মশগুল থাকা আমাদের সমাজকে নিশ্চিত গুণী সমাজ হিসেবে গড়ে তুলবে। শুধু কামাল ভাই কেন! দোষের উর্দ্ধে আমিও নই, আপনিও নন, দুনিয়ার কেউ নন।

আল্লাহর শোকর, আমাদের সমাজে এখনো অনেক মানুষ বিদ্যমান যারা সত্যিকার অর্থে গুণী ব্যক্তিত্ত্ব। যারা মন থেকেই নির্মোহ। যারা সমাজ নির্মাণের জন্য অবিরাম কাজ করে যান। যারা এদেশের সকল অনিয়ম, অনাচার, অভাব-অনটন, দুর্ভোগ-অশান্তি দূর করে দেশকে শান্তি, সম্প্রীতি, সুখ, সমৃদ্ধি, মানবতাবোধ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতিতে পরিণত করার চেষ্টায় নিরন্তর শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের এই মানুষগুলোই মূলত সমাজের আসল সম্পদ। তাঁদের মেহনত, ত্যাগ তিতিক্ষার বদৌলতে গোটা জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আমি কামাল ভাইকে মন থেকে ভালোবাসি। শ্রদ্ধা করি। তার জন্য হামেশা দোয়া করি। মহান আল্লাহ তাকে কবুল করুন। তাকে আরো দীর্ঘ হায়াত দান করুন। আমাদের দেশকে সাজানো এবং এগিয়ে নেয়ার জন্য তাকে আরো সুযোগ করে দেন। আমীন!

কমাশিসা: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ড. মুশতাক আহমদ: ধন্যবাদ আপনাকেও

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

‘দেওবন্দের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই স্বীকৃতি বাস্তবায়ন হচ্ছে’

কমাশিসা ডেস্ক: বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহকারী মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা ...