মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সন্ধ্যা ৭:০৬
Home / ধারাবাহিক / জীবন্ত এক কিংবদন্তির বৈপ্লবিক কাহিনী (১)

জীবন্ত এক কিংবদন্তির বৈপ্লবিক কাহিনী (১)

প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান দাঃবাঃএর বিপ্লবী জীবনী।
ধারাবাহিক  (১)
শহরের উত্তপ্ত পীচঢালা কালো রাজপথ থেকে গ্রামের মেঠোপথ পর্যন্ত; সিলেটের মত একটি মফস্বল শহর থেকে ছাপ্পানো হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশ। তারপর মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় যিনি তার বিচরণকে করেছেন সাবলীল, দুরন্ত, দুর্বার এবং দীর্ঘদিন যাবৎ চৈতন্যে মরিচাধরা এ অঞ্চলের মুসলিম উম্মাহর চেতনাকে তৈরী করেছেন আপোষহীন, সাহসী ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে, তিনি প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান।
দৃঢ়তা, সাহসিকতা, বাগ্মীতা, লেখনী এবং জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়ার মত একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সর্বোপরি সকল ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের কারলে উম্মাহর একজন মেধাবী সন্তান ও অকুতোভয় সৈনিক হিসাবে ইতিমধ্যে তিনি তার স্বকীয় বলয় তৈরী করে নিয়েছেন-একথা বলাই বাহুল্য। আপন বলয়ে সংকুচিত হতে থাকা আলেম সমাজকে তিনি টেনে এনেছেন রাজপথের উন্মাতলে আন্দোলনে। দ্বীনের একজন দ্বায়ী’ হিসাবে শহরের গণ্ডী পেরিয়ে ছুটে চলে যান গ্রামের নিভৃত অঞ্চলে। দুঃস্থ মানবতার সেবায় যিনি পেরেশান। এমন একজন মানুষ নিঃসন্দেহে আমাদের গৌরবের বিষয়। মর্দে মুমিন শাহজালালের রূহানী ফয়েজে প্লাবিত এ সাহসী সিপাহসালারের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মত কিঞ্চিত পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।

 

ধারাবাহিক  (২)

মসজিদের ইমাম থেকে জননেতা
প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান ১৯৭৩ইংরেজীতে সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ঢাকা বোর্ডের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে কামিল (মোহাদ্দিস) ডিগ্রি লাখ করেন। তিনি কামিল পরীক্ষাকালীন সময় থেকে সিলেট শহরস্থ কাজির বাজার জামে মসজিদ কমিটির অনুরোধে ও মরহুম হযরত মাওলানা হাফিজ আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়ার নির্দেশে ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৫ মার্চ ৭৩ ইংরেজী তারিখে। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
প্রিন্সিপাল হাবীবের আজকের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষে অবস্থানের নেপথ্য কাহিনী অনুধাবন করতে, ইসলামের মসজিদ কেন্দ্রীক সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হলে মানতে কারো আপত্তি থাকবেনা। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান ছাত্রবস্থায় সিলেটের গৌরব শায়খে কৌড়িয়ার নির্দেশে মসজিদের ইমামতীর (বাংলাদেশের তৎকালীন বাস্তবতায় অতি নগন্য কাজ) দায়িত্ব আজ তাকে সিলেটের অবিসংবাদিত নেতা বা ইমামে পরিণত করেছে।
নেতা বা ইমামের কাজ হল সর্বাগ্রে সমাজের, সময়ের চাহিদা অনুধাবন ও তদনুযায়ী কাজ করা। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের মধ্যে এ সকল গুণের সমাহার বিদ্যমান। এর প্রমাণ জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার প্রতিষ্ঠা থেকে নিয়ে নাস্তিক মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন ও বিভাগ আন্দোলন, ধর্ম ও দেশ বিরোধী এনজিওদের অপতৎপরতার মোকাবেলা, সমাজ সেবামূলক ভূমিকা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর বিতর্কিত নামকরণ প্রত্যাহারের দাবীতে আন্দোলনের প্রতিটি পদে প্রতিটি বাঁকে তার সরব উপস্থিতি ও নেতৃত্ব প্রদান। যা এখন ইতিহাস হলেও বিস্মৃত নয়।
চলবে।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

প্যান্ডেলের বাইরে সাউন্ড ব্যবহার করা নাজায়েয!

মুহিউদ্দীন কাসেমী: কিছুদিন আগে কী এক কাজে যেন ঢাকায় গেলাম। এশার সময় ট্রেনে ফিরলাম। স্টেশনে ...