শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ২:১৯
Home / ইতিহাস ঐতিহ্য / আধুনিক তুরস্কের রূপকার বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসির নিরব বিপ্লব

আধুনিক তুরস্কের রূপকার বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসির নিরব বিপ্লব

তাঁর সহপাঠি সকলকে হত্যা করা হয়েছে। বিচারিক হত্যার সাথে গুম ও আঁততায়িদের হাতে হত্যাকাণ্ড ছিলো স্বাভাবিক ব্যাপার। আতাতুর্কের বিপ্লবী সন্ত্রাস বাহিনী গোটা জনপদ চষে কায়েম করেছিলো খুনের রাজত্ব।
কিন্তু তিনি যেন অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন। যুদ্ধ পরিচালনার সময় রুশদের হাতে বন্দী হন। সেখানে প্রাণদণ্ড পেয়েও রেহাই পান। কামাল আতাতুর্ক ও তার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীরা তাঁকে বার বার সামরিক ট্রাইবুনালে তুলেছে। কিন্তু কুদরতি কারিশমায় প্রতিবার নির্দোষ প্রমাণিত হন। তারপরও তারা শান্তি পেলনা। নির্বাসন, বিতাড়ান ও কারাগারে বন্দী রেখেও তাকে নত করতে পারেনি। শেষ জীবনের প্রায় চল্লিশটি বসন্ত এভাবে তাঁকে কাটাতে হয়েছে। জেল নির্বাসন, যেখানে গেছেন সেখানে গিয়েও সমান কর্ম। সবাই তাঁর জন্য পাগলপারা হয়ে যায়। সেনা অফিসার, গুপ্তঘাতক সবাই তাঁর আচরণে জ্ঞানে মুগ্ধ ছিলো। এজন্য গোপনে হত্যার মিশন বার বার ভেস্তে গেছে। তিনি বলতেন- মৃত্যু একবারই আসবে। আমি এরজন্য তৈরি আছি। তাই মৃত্যুর ভয়ে সত্য বলা থেকে বিরত থাকতে পারি না।

তাঁর বয়ান ও লিখনিতে কারিশমা ছিলো?

তিনি ভুলেও কামাল আতাতুর্কের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজি করেননি। তাকে বা তার সহচরদের উদ্দেশ্য করে কোন প্রকার বাক্যব্যয় ব্যতিরেকে শুধু পবিত্র কুরআনের মহাত্ম বর্ণনা করতেন। উন্নতি, প্রগতি, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে কুৃরআনের ভুমিকা ও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি বলতেন- কুরআনে সবকিছু আছে। কেন আমরা বিজাতীয় সংস্কৃতির দ্বারস্থ হবো? ইসলাম তথা কুরআন প্রগতির অন্তরায় নয়।
তিনি স্যাকুলার বিপ্লবীদের সরাসরি আঘাত না করে বুদ্ধিবৃত্তিক দার্শনিক আন্দোলনের সুচনা করেন। বিপ্লবীদের সাথে সরাসরি সংঘাত না করতে, স্বশস্ত্র বিদ্রহের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে আতাতুর্করা ভাবলো তিনি আমাদেরই একজন। কিন্তু রিসালে নূরের আলোচ্চটায় তারা বিভ্রান্তিতে পড়তো বিধায় জেল জুলুম নির্যাতন নির্বাসন।

নূরসির এই কৌশল ভাল ফলাফল নিয়ে আসে। রিসালে নূরের মাধ্যমে কুরআনের দর্শন পড়ে সর্বস্তরের মানুষ ইসলামের ভালবাসায় সিক্ত হতে থাকে। নারী পুরুষ যুবক সকলে গোপনে গোপনে তাঁর লিখিত পত্রগুলো কপি করে জনে জনে পৌছে দিতো। কারার অন্ধকার প্রকোস্টে কখনো কাগজ কলম থাকত না। কিংবা বয়স ও অসুস্থতার কারণে সেখানে বসে মুখে বলতেন কেউ লিখে নিতো। তাঁর সাথে মোলাকাতেও ছিলো কড়াকড়ি। এভাবে সাক্ষাত ধংস থেকে একটি জাতিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
জামায়াতে ইসলাম, ইখওয়ান, ব্রাদারহুড, হাসানুল বান্না ও সৈয়দ কুতুব শহীদের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার বড় একটা কারণ হলো স্যাকুলারদের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া। পৃথিবীর সকল কুফর শক্তি তাদের পিছনে। সেখানে নিজেদের গোমরাহ ভাইদের সাথে রক্তারক্তি কোন সমাধান নয়। কুরআনের ভালবাসা জাতির হৃদয়ে আগে পুঁতে দিতে হবে। নাস্তিক মুর্তাদ গালাগালি দূরত্ব আরো বাড়ায়।
খোদ বাংলাদেশে এরপরিণতি আমরা দেখলাম। জাগতিক উন্নয়নের চাকচিক্য দেখিয়ে পশ্চিমারা বলতো যে, দেখো আমরা ধর্ম থেকে আলাদা হয়ে কি সুখে আছি! কি উন্নতি লাভ করেছি। অতএব তোমরাও ধর্ম ছাড় আর উন্নতি কর। বিষয়টা খুব সিরিয়াস। ইসলাম এবং খৃস্টবাদ সম্পুর্ণ আলাদা। তারা ধর্ম নয়- যাজকতন্ত্রের যাঁতাকল থেকে বেরিয়েছে, মুক্তির স্বাদ নিচ্ছে। অথচ ইসলামে যাজকতন্ত্র বলতে কিছু নেই। ইসলামের সর্বাধুনিক সমাজ ব্যবস্থার কথা আমরা না জাতিকে বুঝাতে পেরেছি, না বিশ্বকে। নিজেদের দুর্বলতার সুযোগ তারা কাজে লাগাচ্ছে। আর আমরা সন্তোষজনক কোন সমাধান ও জবাব না দিয়ে আছি দোষারোপ ও বিদ্রোহের মিনার তৈরিতে ব্যস্ত।
সৈয়দ কুতুব শহীদ যদি কঠোরতা অবলম্বন না করে জামাল নাসেরের সাথে কাজ করে কৌশলে কুরআনের দার্শনিক জ্যোতি ছড়াতেন, অবশ্যই সফল হতেন।

বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী জেহালত ও বিএনপি অন্ধকার থেকে বেরুতে হলে বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসির পথ ধরেই হাঁটতে হবে। কঠোরতা, দোষারোপ, গালাগাল কোন সমাধান নয়; বরং মুসিবত আরো বাড়িয়ে তুলছে।

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

স্বতন্ত্র কওমি বিশ্ববিদ্যালয় নয় হাইআতুল উলইয়াকেই ইউজিসির মান দেয়া চাই : মুফতি মুহাম্মদ আলী

কওমি অঙ্গনে বর্তমানে স্বীকৃতি একটি প্রধান ইস্যু৷ স্বীকৃতি নিয়ে কম জল ঘোলা করা হয়নি। চলমান ...